বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পটির শুরু অনেক আগে থেকেই।তাদের দুজনের মধ্যে দেখা হয় ফেসবুকের মাধ্যমেই।আজকাল এই ফেসবুকই সিঙ্গেলদের মিঙ্গেল করে দিচ্ছে।ঠিক এমনটাই হয়েছে এদের মাঝেও।সকলের প্রেম কতটা খাটি তা বলতে পারব না।কিন্তু এদের প্রেমের মধ্যে কোনো রকমের ফাঁক নেই।একদম ভালেবাসা দিয়ে পূর্ণ করা।
সব ভালোবাসার প্রথম কাহিনী একই রকমের হয় প্রায়।তাই সেই কাহিনী আর বললাম না।
যাইহোক, যাদের নিয়ে এত কথা বললাম তাদের নামই বলা হয়নি।আসলে ইচ্ছে করেই বলিনি।কারণ এটা কোনো গল্প নয়।বাস্তব একটা কাহিনী।যাদের নিয়ে লিখছি তারা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে বলেছে।তাই তাদের নামটা গোপনই রাখলাম।নাম ছাড়া গল্প সম্ভব নয়।তাই তাদের নাম দিয়েছি জয় আর নিথু।তো চলুন মূল গল্পটা শুরু করি......।
জয় আর নিথুর প্রেমের জীবন অনেক সুন্দর আর সুখেই চলছিলো।ফোনে মিষ্টি মিষ্টি কথা, মাঝে মাঝে দেখা করা, ঘুরতে যাওয়া সবই হয় তাদের মাঝে।কোনো রকমের ঝগড়া নামের শব্দ নেই তাদের সম্পর্কের মাঝে। হঠাৎ করে একদিন নিথু জয়কে ফোন দেয়!
- জয়! তোমাকে কিছু বলার আছে। (নিথু)
- হ্যা বলো। যা বলতে চাও। (জয়)
- আমার বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে।কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে পারব না।বিয়ে তো বাদ দাও, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। (নিথু)
- আমিও তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।আমি বেঁচে থাকতে তোমার বিয়ে অন্য কারো সাথে হতে দিবো না (জয়)
- কিছু একটা করো। (নিথু)
- হুম অবশ্যই করব।আমার জানকে অন্যের হাতে তুলে দেবার পাত্র আমি না। (জয়)
- আমাকে কিছু দিনের মধ্যেই বিয়ে করো। তাছাড়া আমরা কোনোদিন এক হতে পারব না। (নিথু)
- তোমাকে পাওয়ার জন্য আমার জীবনটাও দিতে রাজি আছি। আমাদের বিয়ে তোমার বা আমার বাবা-মা কখনো মেনে নিবে না। তাই আমাদের পালিয়ে বিয়ে করা ছাড়া উপায় নেই। (জয়)
- কিন্তু পালিয়ে বিয়ে করা কি ঠিক হবে ? (নিথু)
- যদি আমরা পালিয়ে বিয়ে না করি তাহলে তোমাকে চিরদিনের মতো হারিয়ে ফেলব।আর তোমাকে ছাড়া আমার জীবন মূল্যহীন।তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকার মানেটাই হারিয়ে ফেলব।তুমি কি চাও যে আমি তিলে তিলে কষ্ট পেয়ে মারা যাই?? (জয়)
- এমন কথা বলনা প্লীজ। তোমার যদি কিছু হয় তাহলে জানবে পৃথিবীতে নিথু নামের একটি মেয়ে ছিল আজ আর সে এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই। (নিথু)
- তোমার মুখে টেপ লাগিয়ে আটকে রাখব যাতে এমন কথা আর বলতে না পারো। (জয়)
- দুষ্টু! এমন সময়ও মজা করতে হবে ? (নিথু)
- আমার জানের সাথে আমি মজা করছি। যখন ইচ্ছা মজা করব। তাতে তোমার কি হুম?? (জয়)
- তাই..... না !!! (নিথু)
- হুমম জানপাখি আমার। (জয়)
- আচ্ছা অনেক মজা করছো। এখন আমাদের ব্যপারে ভাবো। (নিথু)
- হুম ভাববো তো। আচ্ছা কার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করছে তোমার বাবা ?? (জয়)
- কেনো, সেটা জেনে কি করবে? (নিথু)
- তোমার হবু বরেরও তো একটা ব্যবস্থা করতে হবে নাকি?? (জয়)
- নাহ। এরকম কিছুই করবে না। ও আমার চাচাতো ভাই। (নিথু)
- আচ্ছা ঠিক আছে।কিছু করব না।আমার জানপাখির কথা তো আর ফেলতে পারিনা। (জয়)
- হইছে। এতো রোমান্টিক হতে হবে না। যা করার তাড়াতাড়ি করো। আমার টেনশন হচ্ছে। (নিথু)
- আচ্ছা জানপাখি। (জয়)
- ভালো থেকো জান। (নিথু)
- ভালো বোধহয় থাকতে পারব না। (জয়)
- কেনো? (নিথু)
- আমার জানপাখি আমায় সুন্দর একটি পাপ্পি দিতে ভুলে গেছে। এখন তুমিই বলো কিভাবে ভালো থাকি ? (জয়)
- আচ্ছা সরি। উম্মা..............!!! এবার খুশি ? (নিথু)
- হুম অনেক খুশি। এবার ভালো থাকতে পারব ইনশাআল্লাহ। (জয়)
জয়ের মাথায় চেপে গেল টেনশন। যতই সে নিজেকে খুশি বলুক তবুও একটা টেনশন আছেই।
বিয়ে যেভাবেই হোক তাকে করতেই হবে, নাহলে হয়তো তার প্রাণের টুকরা নিথুকে সে হারিয়ে ফেলবে।
নিথুকে হারালে সে পাগল হয়ে যাবে।তাই এই ব্যাপারে সে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে লাগল যে কিভাবে কি করা যায়। অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিলো যে সে বিয়ের দিনে নিথুকে নিয়ে পালাবে।কারণ ঐ দিনে বিয়ে বাড়িতে অনেক লোক থাকে।আর সবাই প্রায় ব্যস্তই থাকে।তাই সেই সময়টাই উত্তম।
আবার মাথায় আনেক টেনশনও আছে।তাদের বিয়ে তার পরিবার মেনে নিবে না।হয়তো রেগে গিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিবে। তখন সে নিথুকে নিয়ে কোথায় যাবে, কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। এদিকে সে কোনো চাকরিও করেনা। বরং সে লেখাপড়া করছে।
টেনশনে পড়ে সে আমাকে ফোন দিলো....
- দোস্ত জীবন। কোথায় তুই ? (জয়)
- বাসায় আছি। কেনো কি হয়ছে ? (আমি)
- আমার সাথে একটু দেখা কর তো। জরুরি কিছু কথা আছে। (জয়)
- আচ্ছা, ঠিক আছে আমার বাসার নিচে আয়। তারপর দুজনে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলব। (আমি)
- আচ্ছা। আমি যাচ্ছি। (জয়)
কিছুক্ষণ পর জয় আসলো। হাঁটতে হাঁটতে ওর কাছ থেকে সব ঘটনা শুনলাম।
- এখন তুই বল আমি নিথুকে নিয়ে কোথায় যাবো, কি করব? (জয়)
- আরে তুই টেনশন নিচ্ছিস কেনো ? আঙ্কেল কে বুঝিয়ে বল। দেখবি আঙ্কেল ঠিক মেনে নিবেন। (আমি)
- বুঝছি। এতক্ষন একটা ছায়ারর সাথে কথা বলছি। (জয়)
- তোর মনের অবস্থা বুঝতে পারছি। কিন্তু তবুও একবার আঙ্কেলকে বলে তো দেখ। আমার মনে হয় আঙ্কেল না করবে না। (আমি)
- আচ্ছা ঠিক আছে। তোর কথা শুনলাম। যদি বিপরীত কিছু ঘটে তাহলে....... (জয়)
- আরে নাহ। পজিটিভ কিছুই ঘটবে। (আমি)
তারপর ওখান থেকে জয় বাসায় চলে গেল। ২ দিন পর নিথুর বিয়ে। মাথায় অনেক বড় টেনশন। এদিকে তার বাবাকে বিয়ের কথা বলতে হবে। না জানি কি বলবে তার বাবা। টেনশনে তার মাথাটা কেমন জানি ভারি হয়ে গেল।
হঠাৎ করে তার চোখে ঘুম চলে আসে। সে ঘুমিয়ে পড়ে। সে যখন ঘুম থেকে উঠল তখন মাগরিব এর আজান শোনা যাচ্ছে চারিদিকে। ঘুম থেকে উঠে চলে গেল বাবার রুমে।
- বাবা, তোমাকে কিছু বলার আছে। (জয়)
- হ্যাঁ বল। (বাবা)
- বাবা, আসলে আমি একজনকে ভালোবাসি। হঠাৎ করে তার বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছে। এখন যদি আমি ওকে বিয়ে না করি তাহলে আমি ওকে চিরদিনের মতো হারিয়ে ফেলব। ওকে ছাড়া আমি বাঁচব না। (জয়)
- যাক,,, মাথা থেকে একটা ভূত নামলো। (বাবা)
- বুঝলাম না বাবা। (জয়)
- বললি যে ওকে ছাড়া বাঁচবি না। তাহলে তো মারা যাবি। তোর হাত থেকে মুক্তি পেলাম। (বাবা)
- তার মানে আমাদের বিয়ে দিবে না? (জয়)
- কখনো না। কারণ তোকে কেউ মেয়ে দিবে না। কারণ তুই বেকার। আর বেকার ছেলেকে কে মেয়ে দিবে ? (বাবা)
- কিন্তু বাবা.... (জয়)
- জানি কি বলবি। বলবি এই যে আমি এখন লেখাপড়া করছি। লেখাপড়া শেষ হলেই একটা না একটা চাকরি পেয়েই যাবো। কিন্তু তোর লেখাপড়া দেখে মনে হয়না কোনো ভালো চাকরি পাবি। সুতরাং আমি কোনো ভালো ঘরের মেয়ের জীবনটা নষ্ট হতে দিব না। (বাবা)
- আমি কিন্তু ওকে না পেলে মরে যাবো। (জয়)
- তো আমি কখন না করলাম। (বাবা)
- বাবা !!! একটুও মায়া হচ্ছে না ? (জয়)
- নাহ। যা মর গিয়ে। (বাবা)
ওখান থেকে জয় রাগ করে নিজের রুমে চলে গেল। মনে মনে বাবাকে গালি দিতে লাগল। এদিকে জয়ের মা জয়ের বাবার সাথে কথা বলছিল।
- তুমি কি হ্যাঁ ? নিজের ছেলেকে এভাবে বলতে পারলে? যদি ও কিছু করে বসে ? (জয়ের মা)
- আরে নাহ। ও কিছু করবে না। ওকে আমি ভালো করে চিনি। আর ওকে ওসব কথা বলেছি কারন ও যাতে বুঝে যে ওর আর ওর ভবিষ্যতের জন্য লেখাপড়াটা কত জরুরি। আমি তো ওর বিয়েতে একবারে না করিনি। ও যেন ওর ভবিষ্যত নিয়ে একটু ভাবে তাই ওসব বলেছি। আমারও তো ওসব বলতে কষ্ট হয় নাকি!! (জয়ের বাবা)
- তাহলে ঠিক আছে। আমি আবার ভাবলাম......(জয়ের মা)
এদিকে এসব কথা জয় শুনে ফেলল। সব শুনে জয়ের চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল।
নিজের বাবাকে না জানি কি কি আজে বাজে কথা বলেছে। এসব ভাবছে আর কাঁদছে সে।
পরের দিনটাও এভাবেই কাটলো। আজ নিথুর বিয়ে। যা করার আজই করতে হবে। দিনের বেলা কিছু করা সম্ভব না। তাই রাতের বেলা নিথুকে নিয়ে পালাতে হবে।
সেইদিন রাতে.......
- বাবা আমার কিছু টাকা লাগবে। (জয়)
- টাকা কি করবি? (বাবা)
- এই বাড়িতে তো আর থাকতে দিবেনা আমাদের। তাই নিথুকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে যাবো। (জয়)
- চুপ হারামজাদা। তোকে একটা টাকাও দিবো না। যা আমার চোখের সামনে থেকে। (বাবা)
জয় মনে মনে ভাবতে লাগলো, " আমি জানি বাবা, এটা তোমার মনের কথা না। তুমি ঠিকই আমাদের মেনে নিবে। আগে নিথুকে নিয় আসতে দাও।"
- কি হলো কথা কানে যায়নি? (বাবা)
- চলে যাচ্ছি। (জয়)
জয় আর দেরি না করে চলে গেল নিথুর বাসার নিচে। তারপর নিথুকে ফোন করলো।
- আমি চলে এসেছি। তুমি নিচে চলে আসো। (জয়)
- আচ্ছা আমি আসছি। তুমি ওখানেই অপেক্ষা করো। (নিথু)
কিছুক্ষণ পর নিথু আসলো।
- আচ্ছা, আমরা এখন যাবো কোথায়? (নিথু)
- কেনো, তোমার শশুর বাড়িতে। (জয়)
- মানে? তোমার বাবা কি আমাদের মেনে নিবে? (নিথু)
- হুমম। বাবা রাজি। এখন চলো। কেউ দেখে ফেলবে। (জয়)
- একটু ভুল বললে। কেউ দেখে ফেলবে না, দেখে ফেলেছে। (নিথুর বাবা)
- আসলে আঙ্কেল....... (জয়)
- আমার মেয়েকে ভালোবাসো তাইতো? (নিথুর বাবা)
- না মানে.. জ্বী আঙ্কেল। অনেক ভালোবাসি। আমার জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসি। (জয়)
- তুমি তো চাও যে আমার মেয়ে খুশি থাকুক। তাইনা? (নিথুর বাবা)
- হ্যাঁ অবশ্যই। ওর খুশি মানেই আমার খুশি। (জয়)
- দেখো আমি বেশি কথা বলা পছন্দ করিনা। এক কথায় বলছি, আমার মেয়েকে ভুলে যাও। আমি যার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিচ্ছি তার সাথে আমার মেয়ে অনেক খুশি থাকবে। আর নিথুর খুশি মানেই তো তোমার খুশি নাকি? (নিথুর বাবা)
- বাবা...........!! (নিথু)
- নিথু....! তুই চুপ কর। (নিথুর বাবা)
- আঙ্কেল আপনি ঠিকই বলেছেন। নিথু খুশি থাকলে আমিও খুশি। কিন্তু নিথুকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখুনন তো যে, সে কি এই বিয়েতে খুশি? খুশি না। কারণ আমাকে ছাড়া সে কখনও থাকতে পারবে না। যদি সে এই বিয়েতে খুশি থাকতো তাহলে কেনো সে আমার সাথে পালিয়ে যাচ্ছিলো? আপনার মেয়ে খুব ভালো করে জানে কোথায় তার সুখের ঠিকানা। কোথায় গেলে সে খুশি থাকতে পারবে। আমরা যদি পালিয়ে যাই তাহলে হয়তো আপনার সম্মান হানি হবে। কিন্তু আপনার মেয়ে সুখে থাকবে। (জয়)
- সাউথ ইন্ডিয়ার মুভি দেখে এসেছো, তাই এরকম কথা বলছো। কিন্তু এটা কোনো মুভি না। এটা বাস্তব। (নিথুর বাবা)
- আমি জানি আঙ্কেল। হয়তো এটা মুভি না। কিন্তু কাহিনী একই রকম। এখন আপনি ভাবুন নিজের চোখে কি দেখতে চান, মেয়েরর চোখের জল নাকি মেয়ের হাসি মুখ। (জয়)
- পালিয়ে যাও। (নিথুর বাবা)
- কি...? (জয়)
- বেশি কথা বলোনা। ঠিকই শুনেছো। মেয়ের হাসি মুখটাই আমি দেখতে চাই। তার জন্য যাক না একটু সম্মান, তাতে কি হইছে। আমার মেয়ের সুখের জন্য তো এতটুকু করতেই পারি। (নিথুর বাবা)
তৎক্ষণাৎ জয় আর নিথু নিথুর বাবাকে সালাম করে।
- আমরা তাহলে আসি আঙ্কেল। কেউ দেখে ফেলতে পারে। (জয়)
- আচ্ছা। আর হ্যাঁ তোমার বাসার ঠিকানাটা দিয়ে যাও। কাল তোমাদের ওখানে গিয়ে তোমার বাবার সাথে তো কথা বলতে হবে। (নিথুর বাবা)
জয় তার ঠিকানা দিয়ে দিলো। তারপর জয় আর নিথু নিথুর বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলো।
বাকিটুকু আশা করি বুঝতে পেরেছেন......!
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now