বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিয়ে ও পরিকল্পনা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X আমি সাবিহা, আজকে আমার প্রথম যৌবনের প্রথম ভালোবাসা পুরুষের বিয়েতে এসেছি। সবাই কন্যাকে বধু সাজে সাজায়, কিন্তু আমার শেষ চাওয়া ছিলো, রায়হান কে বর বেসে সাজাবো, নিজে বরপক্ষ হয়ে তাকে নিয়ে যাবো কন্যাদের বাড়ি। লাল টুকটুক এক লালচে পরীর হাতে তুলে দিবো আমার ভালোবাসা, আমার স্বপ্ন কে। জানিনা সমাজে এমন নারী আছে কিনা, যে তার ভালোবাসার মানুষকে অন্যের হাতে তুলে দিতে চাইবে কিন্তু কিছু জীবন গল্প রয়েছে যা চলচিত্রকেও হার মানাবে। আমার গল্পটি শুরু হয়েছিলো তখন, যখন আমার বয়স পনেরো কি ষোলো। বয়সটাই এমন যে কোন বাধা মানতে চায়না। স্বপ্ন ভুবন, পুতুল বিয়ে নিয়ে যে জীবন টি শুরু হয়েছে, সেই জীবনে পুতুল সংসার এর মত নিজ সংসার গুছাতে ব্যস্ত পাগল মন। মনের জোয়ার কতদুর, কোন নদীর ভাটা, কোন জোয়ারের মোহ, তা নিয়ে এই বসন্ত আমেজ এর বয়স পনেরো কি ষোলো। নতুন কলেজ এ উঠেছি স্কুলের গন্ডি পেড়িয়ে। চারিদিকে নতুন মুখ, নতুন জায়গা নতুন নিয়ম। নিজেকে অপরিচিত মনে হলেও মনেতে এক আনন্দের রেশ ছড়িয়ে ছিলো। আমিও হয়ত বড় হয়ে গিয়েছি। এখন থেকে বাবা মা কে দূরে রেখে কলেজ ছাত্রী হিসেবে জীবন যাপন করতে হবে। নিত্যনতুন মানুষদের সাথে নিজেকে তাদের মত করেই চালাতে হবে। অনেক দায়ীত্ব যেন এক ঝাটকায় মাথার উপর চলে এসেছিলো। মা বার বার বলেছিলো ছেলেদের থেকে দূরে থাকবি, এমন কোন কাজ করবিনা যেন সমাজে মুখ হারাতে হয়। বয়স পনেরোষোলো তে এত দায়ীত্ব বুঝি মেয়েদেরকেই নিতে হয়। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজ, নিজের সাফল্য সবকিছুর এক দায়ীত্ব চলে আসে এই বয়সেই। দায়ীত্ব যতই থাকুক বয়সটা কিন্তু বসন্তের। ঋতু বসন্তের মত আমাদের বয়সের বসন্তেও কোকিল কুহু কুহু ডাকে। সাদাকালো ক্যানভাসে জীবনের সবচাইতে রংগিন স্বপ্নটি আঁকাতে ব্যস্ত। প্রথম যেদিন চোখে বড় বড় চশমা আর গ্রাম্যমেয়েদের মত চুলগুলো বেলী করে কলেজ ক্যাম্পাসে গেলাম। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো, তারা হয়ত কোন এলিয়েন দেখেছিলো, তাদের মুখে ছিলো দুষ্টু হাসির প্রলাপ। একটু লজ্জা লাগতেছিলো, ক্যাম্পাসের হিজল গাছের পাশে গিয়ে সবার থেকে আড়াল হতে চেয়েছিলাম। সেদিন আমি সবার থেকে আড়াল হতে পারলেও একটি ছেলের নজর থেকে আড়াল হতে পারিনি। সেই ছেলেটিই হচ্ছে রায়হান। বসে বসে বই খাতা গুলো উলটিয়ে পালটিয়ে দেখতেছিলাম, ছেলেটি আমার পাশে এসে বসলে একটু ভয় পেয়ে দূরে সরে যেতে লাগলাম। আমি একটু দূরে গেলে সে আরেকটু এগিয়ে বসে। উঠে যেতে চাইলাম, হাতের ইশারায় আমাকে বসতে বললো। প্রথম কলেজ এ এসেছি তাই অবাদ্ধ হলাম না, বসে পড়লাম। সে খাতা কলম বের করে সেখানে কি যেন লিখলো, খাতার অংশটা ছিড়ে আমাকে দিলো হাতে নিয়ে দেখলাম "নাম কি তোমার?" আমি তাকে বললাম "সাবিহা" সে আমাকে ইশারা দিয়ে বললো, লিখে দিতে। আমার মনে হচ্ছিলো, সে কানে শুনেনা সাথে বলতেও পারেনা, তাই তাকে লিখে দিতে লাগলাম। অনেক কথা হলো আমাদের, একে অপরের সাথে। আমার নতুন খাতা প্রায় শেষের পথে। কিন্তু তার সাথে কথা বলতে খুবই ভালো লাগছিলো। খুব গুছিয়ে লিখতো সে। যখন আমাদের ক্লাসের সময় হলো হঠাৎ সে মুখ ফুটে "তো নতুন কলেজে বড় ভাইয়ের র্যাগিং টা কেমন হলো জানাতে কিন্তু ভুলবে না" নিজের কান আর চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তাহলে এই ছেলেটা কথা বলতে এবং শুনতে পারে আর আমি তার র্যাগিং এর একটি বস্তু ছিলাম। দেখতে দেখতে সে ক্লাসে ঢুকে গেলো। তার চলে যাবার পর মুখে হাসি নিয়ে মনে মনে বললাম, "এমন র্যাগিং যদি প্রতিদিন হয়, তাতেও মন্দ না।" সেখান থেকেই আমার আর রায়হান এর সম্পর্ক ভালো বন্ধুতে পরিনত হলো। সারা কলেজ তাকে নিয়ে হাসি আড্ডায় মেতে থাকতাম। এক মুহুর্তের জন্য কখনো মনে হয়নি আমি একা আছি। সর্বদা ছায়ার মত সে আমার সাথে থাকতো, এক প্রকৃত বন্ধু হয়ে, এক সহপাঠী হয়ে। সে খুব ভালো লিখতেও পারতো। একদিন আমার খাতায় রায়হান চুপিসারে একটি কবিতা লিখেছিলো, ছোট হলেও বেশ রোমান্টিক ছিলো। সেই কবিতা থেকেই যেন আমার বসন্তের বয়সে প্রেমের দোলা দিলো। । ২ । আমাদের বছর পেড়িয়ে গেলো, সময় যে কিভাবে চলে গেলো বুঝতেই পারলাম না। রায়হানের মত একটি বন্ধু পাশে থাকলে এই সময় কি আর আমাদের আনন্দ বেধে রাখতে পারে। ধরতে গেলে অল ইন ওয়ান একটা সুখের প্যাকেজ ছিলো রায়হান। আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবার আগে থেকেই কেন জানি রায়হান আমাকে এড়িয়ে চলতে লাগলো। তার এই এড়িয়ে চলা আমি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। আমি বার বার চেষ্টা করতাম তার কাছে আসতে, তার সাথে আড্ডা দিতে, কিন্তু সে সর্বদা আমাকে দেখলেই চলে যেতো। মাঝে মধ্যে ইচ্ছে করতো তাকে খুন করে ফেলি। তার এড়িয়ে চলায় আমি কেন কষ্ট পাবো, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলাতে পারছিলাম না। এমনিতেই ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলে আর কবে দেখা হবে কে বা জানে, কিন্তু রায়হান কে এক পলকের জন্য আড়াল করতে যেন হৃদয় ফেটে যায়। হিজল গাছের নীচে বসে রায়হানের কথাই ভাবছিলাম, সে আমাকে দেখে এড়িয়ে চলে যেতে লাগলো, এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে শার্টের কলার ধরে টান দিলাম, হয়ত একটু বেশী জোরে দিয়েছিলাম। রায়হান ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলো। সে পড়ে গেছে এতে আমার দুঃখ ছিলোনা, সে কেন আমাকে এড়িয়ে চলে আগে সেটাই জানতে হবে, চোখ বড় করে রায়হান কে জিজ্ঞেস করলাম -- তুই আমাকে এড়িয়ে চলিস কেন? ০- আমি কোথায় এড়িয়ে চলি? -- আমাকে দেখলে উঠে যাস, আমার সাথে কথা বলিস না। কেন এমন করিস। রায়হান মাটিতে শুয়েই চুপ করে রইলো এদিকে কলেজের সবাই এসে বান্দর খেলা হচ্ছে তা ভেবে গোল হয়ে দাঁড়ালো। মধ্যখানে আমি আর রায়হান খেলা প্রদর্শন করতেছি। মাটিতে শুয়েই রায়হান খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো, সে হাসছে আর মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আজকাল রায়হানের হাসিতে বড্ড মেজাজ খারাপ হয় সাবিহার ইচ্ছা করতেছিলো, তাকে লাঠি দিয়া ইচ্ছা মত পিটাই। কিন্তু তা করতে পারলাম না। চোখ গরম করেই জিজ্ঞেস করলাম, "তুই আমাকে এড়িয়ে চলিস কেন? " ০- আমি কোথায় এড়িয়ে চলি, নতুন প্রেম করতেছি গার্লফ্রেন্ড বলেছে কোন মেয়ের সাথে যেন না মিশি। তাই কথা কম বলি। রায়হানের মুখে কথাটি শুনতে বুকের মধ্যে এক ঝড় বয়ে গেলো। অজানা এক কষ্ট যেন ঘিরে রাখতে চাইলো। কিন্তু মেয়ে মানুষের মনের কথা জানতে পারা এতই সোজা নাকি। তাদের বুক ফেটে গেলেও মুখ ফাটে না। কোনভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে "ওহ আচ্ছা" কথাটি বলে সেখান থেকে চলে আসলাম। একটু দূরে আসতেই লক্ষ্য করলাম। চোখের পানির ঝলকানি। ওড়নার আচল দিয়ে পানি মুছে মিথ্যে হাসির প্রলেপ মুখে একে ক্লাসে ঢুকলাম। সেদিনের পর থেকে কলেজ যেন আমার কাছে বিষাক্ত হয়ে উঠলো। কোনভাবেই মন মানাতে পারছিলাম না। কলেজ এ যেতে। রায়হানের কথাই বার বার মনে হতো, কিন্তু কোনভাবে তার সাথে যোগাযোগ করা যাবে না। তার এখন প্রেমিকা আছে। যত পারি তার থেকে গুটিয়ে নিয়ে যাবো। কিন্তু আমার কাছে তা অসাধ্য মনে হচ্ছিলো। কলেজে গেলেই রায়হান আর মিথিলার হাত ধরে ঘুরাঘুরি একদম সহ্য হতোনা। প্রথম যে হিজল গাছের আড়ালে নিজেকে লুকিয়েছিলাম। সেই হিজল গাছ এখন রায়হান আর মিথিলার আড্ডাখানা। কোলে মাথা রেখে, হাতে হাত দিয়ে তারা কি যে বলে কিসের যে এত প্রেম বুঝিনা। কিন্তু আমার প্রানে যেন সয়না। মিথিলা থেকে দেখতে আমিও কোন অংশে কম না। তবে আমাকে কেন রায়হান ভালোবাসতে পারেনা। সেদিন আমি বুঝলাম, এক নারী হয়েও কেন অন্য নারীকে সহ্য করা যায়না। কলেজ পরীক্ষা শেষ হতেই বাড়ি ফিরে আসলাম। কারো সাথে কথা বলার দরকার নেই আমি কোথায় যাচ্ছি কাউকে জানতে হবেনা। সবার থেকে নিজেকে আড়াল করে চলে গেলাম বাবা মায়ের কাছে। । ৩ । একদিন বাড়ির মধ্যে খুব হৈ-চৈ লেগে আছে। সবার হৈ-চৈতে ঘুমটাই নষ্ট হয়ে গেলো। বাড়ি আসার পর সেদিনই একটু ভালোমত ঘুমাতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমার কপালে কিছুই সয়না, ভালোবাসাও না ঘুমও না। খিটখিটে মেজাজ নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে খুব জোরেশোরে বললাম, "হচ্ছেটা কি এখানে, মানুষকে কি ঘুমাতেও দিবে না তোমরা। আমার কথার উত্তর দিতে যে সামনে এসে দাড়ালো, তা কেবলই এক স্বপ্ন মনে হয়েছিলো, এ তো রায়হান। তখন নিজেকে মেনেই নিয়েছিলাম আমি ঘুমের মধ্যে আছি আর এটা কেবলই এক স্বপ্ন রায়হান এখানে আসবে কি করে। নিজের শরীরে চিমটি কাটলাম খুব বেথা লাগলো, এরই মধ্যে রায়হান সামনে এসে আমার পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে বলতে লাগলো, আহা আপনারা কি যে করেন, মেমসাহেব এর ঘুম ভেংগে গেলো যে। কথাটি বলে আমার মাথায় এক থাপ্পড় দিলো, তখন আমার বাস্তবিক জ্ঞান ফিরে আসলো, আরে এ তো স্বপ্ন না। রায়হান আমাদের বাড়িতে এসেছে, এটা কি করে সম্ভব? আমি মাকে জিজ্ঞেস করলাম, মা। মা আমার চোখের ভাষা পড়ে ফেললো, আমার প্রশ্ন বুঝে গেলো। আমার কিছু জিজ্ঞেস করতে হয়নি কষ্ট করে মা নিজেই বলতে লাগলো, "ওর নাম রায়হান, তোর মেজ কাকার কথা মনে আছে যে আমেরিকাতে চলে গিয়েছিলো বিয়ে করে। রায়হান তার ছেলে।" তখন জানতে পারলাম রায়হান আমার কাজিন। এখন যেন কষ্ট আরো দ্বিগুন হয়ে গেলো। আমি যাকে ভালোবাসি সে আমার চোখের সামনে থাকবে চিরকাল, মিথিলাকে নিয়ে হয়ত সংসার করবে, আর আমাকে এই নিরব যন্ত্রনা শয়ে যেতে হবে চিরকাল। প্রতিবারের নামাজে যে দোয়াটি আমি করতাম, "রায়হান যেন আমার সামনে কোনদিন না আসে, তাহলে নিজেকে এবার ধরে রাখতে পারবোনা। কিন্তু আমাদের নিয়তি অন্যভাবেই লিখেছিলো আমাদের জীবন। কোন কথা না বলে ঘরে ঢুকে গেলাম, রায়হান পিছু পিছু আসলো, "কিরে ক্ষেত আমার সাথে কথা বলবি না।" -- কেন বলবো তোর মিথিলা আছেনা তার সাথে কথা বল। ০- ওরে রে আমার বোনটার কি রাগ রে। রায়হানের মুখে বোন কথা শুনতেই মাথায় আগুন জেলে গেলো, বোন হবে তোর শত্রু খবরদার আমাকে বোন বলে ডাকবিনা। ০- তাহলে কি জান বলে ডাকবো? এভার আমার দম বন্ধ হয়ে আসার মত। কিছুই মাথায় ছিলোনা, পুরো মস্তিষ্ক যেন খালি হয়ে গেলো। কি বলবো বুঝে উঠতে পারিনি। মুখ ফসকে সত্য কথা বলে ফেললাম "কেউ নিষেধ করছে নাকি ডাকতে" রায়হান মুচকি হেসে দিলো, লজ্জায় আমার মুখ লাল হয়ে উঠলো। এত লজ্জা এর আগে কোনদিন পাইনি। নিজেই ভাবতে লাগলাম কি বলে ফেললাম। রায়হান আমার হাতে একটি কাগজের পটলা ধরিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। প্যাকেট টা খুলতে সেখানে কিছু বাদাম পেলাম, সাথে একটি চিঠি। চিঠিতে লেখা ছিলো, "দুই টাকার বাদাম কিনে এনেছি, বাদাম গুলোর খোসা ছাড়িয়ে দেবার সংগী হবি, তাহলে উত্তরঘাটের পুকুর পাড়ে আয়" দৌড় দিয়ে পুকুর পাড়ে চলে গেলাম। সেই প্রথম প্রেম আমি আমার স্বপ্নকে কে জড়িয়ে ধরে কেদেই দিলাম। মিথিলার কথা জানতে চাইলে সে বললো, "মিথিলা তার বাবার বন্ধুর মেয়ে। আমি তাকে ভালোবাসি কিনা জানতেই তারা এতদিন নাটক করেছিলো। আমার সুখের সীমা ছিলোনা, ভালোবাসার মানুষের সাথে রাগ অভিমান খুনসুটি ঝগড়ায় নিজেকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট সুখী মানবী মনে হয়েছিলো। । ৪ । ভাগ্য বড় নির্মম আমাদের ভালোবাসায় না জানি কোন কালমুখীর নজর লেগেছিলো। দুই পরিবার আমাদের কথা জেনে গেলে আমার পড়ালেখা বন্ধ করিয়ে দেয়। কলেজ যাওয়া আসা বন্ধ। রায়হানের সাথে কথা বলা বন্ধ দুই আত্মীয়ের ভিতরে আত্মীয়তা কখনোই করবে না আমার পরিবার। সিদ্ধান্ত নেই রায়হান কে নিয়ে পালিয়ে যাবো। রায়হান ও আমার কথায় রাজি হয়। পরের দিন সকাল বেলা, আমরা কাজী অফিসে দেখা করার পরিকল্পনা করি। আমি নিজেকে সেদিন খুব সুন্দর করে বধু সাজে সাজিয়ে, কাজী অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। এরইমধ্যে রায়হানের ফোন আসলো, তার বাবা নাকি এক্সিডেন্ট করছে, আমার বাবা মা ও সেখানে যাচ্ছে আমিও যেন খুব দ্রুত সেখানে চলে আসি। আম দ্রুত অটো ভাড়া করে হাসপাতাল এর উদ্দেশ্যে রওনা দেই। আমি সেখানে যাবার আগেই কাকা মারা যান। কাকার শেষ ইচ্ছা ছিলো, রায়হানের বিয়ে যেন তার বন্ধুর মেয়ে মিথিলার সাথে হয়। যেখানে কাকা মারা যাবার শোকে আমরা সবাই শোকায়িত সেখানেই রায়হানের বিয়ের কথা তুললেন। রায়হান বাবার শেষ ইচ্ছা যা ছিলো সেটাই মেনে নিলো। আমার কাছে আর কোন রাস্তা ছিলোনা, নীরবে কষ্ট পাওয়া ছাড়া। দুচোখের পানি ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে গেলাম। এই পানি কিসের জন্য ছিলো, রায়হান কে হারানোর ভয়ে নাকি কাকা চলে যাবার কষ্টে? । ৫ । ধীরে ধীরে জনশুন্য বাড়িতে মেহমানে ভরে গেলো। চারিদিক থেকে আত্মীয়স্বজন আসতে লাগলো। কষ্টের মাত্রাটাও বাড়তে লাগলো রায়হান কে হারানোর কষ্টে। আমি নিজে থেকে রায়হান কে হলুদ লাগিয়েছি, তার পাঞ্জাবী, পাগরী, জুতা সব কিছু নিজ পছন্দে কিনে দিয়েছি। আজ রায়হান কে একদম রাজপুত্রের মত লাগছে। কিন্তু রাজপুত্র আজ অন্যকোন রাজরানীর জন্য সেজেছে। বর যাত্রী এগিয়ে যাচ্ছে কন্যাদের বাড়িতে। বাড়ির পাশে এসে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। রায়হান কে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসি রে রায়হান তোকে খুব ভালোবাসি বলে, কাদতে কাদতে সেখান থেকে দৌড়ে চলে আসলাম। বাসায় এসে একটি ভুল পদক্ষেপ নিয়ে বসেছি, আত্মহত্যা করতে চেয়েছি। বিষের বোতল পুরো খালি করে ফেলেছি। মেঝের উপর শিশিটা পড়ে রয়েছে। ধীরে ধীরে সমস্ত শরীরে বিষের ধাঁজ ছড়াতে লাগলো। আমার দু চোখের স্বপ্ন ধীরে ধীরে অন্ধকারে লুটিয়ে পড়তে লাগলো। ভালোবাসার যন্ত্রনার থেকে জীবন কে হারানোর কষ্ট বেশী নাকি কম বুঝতে পারিনি। আমার নিথর দেহ মাটিতে পরে রয়েছে। দেহটি তে প্রান নেই, প্রানটা বাহির হয়ে গেছে। এখন আমি আমার দেহকে দেখতে পারছি কিন্তু কেউ আমাকে দেখতে পারছে না। এরই মধ্যে পাগলের মত ছুটে আসলো রায়হান। আমার মৃত দেহখানা জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদছে। আর বলতেছে সাবিহা কি করলি তুই, আমি বিয়ে ভেংগে দিয়ে তোর কাছে ছুটে আসলাম, আর তুই আমাকে একা রেখে কেন চলে গেলি। তখন আমার নিজের মৃত্যুর জন্য আফসোস হচ্ছিলো। ইচ্ছে করছিলো, আরেকবার শুধু একবার আমি আবার এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাই। কিন্তু সে অনেক দেরী হয়ে গেছে। আর কোন রাস্তা নেই ফিরে আসার। সব রাস্তা নিজের হাতে বন্ধ করে দিয়েছি। সবাই আমার জন্য কাঁদছে সবাই আমাকে কত ভালোবাসে। বাবা মা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন আমার স্বপ্ন, আমার ভালোবাসার মানুষ রায়হান ও তো ফিরে এসেছে আমার ভালোবাসার টানে। আমি এটুকু অপেক্ষা করতে পারলাম না। এই পৃথিবীর মানুষ যেন আমার মত ভুল না করে। আত্মহত্যা ভালোবাসার প্রমান না। ভালোবাসা ফিরে পাবার জন্য অপেক্ষা করাটাই ভালোবাসা। আমি পরবাসী সাবিহা বলছি, আমি যে ভুল করেছি সে ভুল আর কেউ করিওনা। একটু ডিপ্রেশন আর একটুতেই যারা আত্মহত্যা বেছে নাও, তারাও আমার মত নিশ্বাস শেষ হলে বুঝবে কতটা ভালোবাসা রয়েছে এই পৃথিবীতে। এক বোতল বিষ খেয়ে তুমি সব কিছুর সমাধান করতে পারবে না। আরো সাজানো গুছানো সংসার কে তছনছ করে দিয়ে যাবে। এখানেই শেষ না পরজীবন অনন্তকাল সে জীবনেও শান্তি পাবেনা। মহান আল্লাহ বলেছেন "যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করিলো, তার জন্য জান্নাত হারাম"। ভালোবাসুন, ভালোবাসা পবিত্র, তাকে পবিত্র রাখুন ভালোবাসায় অপেক্ষা মানায়, আত্মহত্যা না প্রতারনা না। এইতো আমার বয়স পনেরো কি ষোলোর জীবন কথা। এই তো পনেরোষোলো তে নেওয়া সবচেয়ে বড় ভুলের গল্প।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিয়ে ও পরিকল্পনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now