বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তাহলে একা থাকা তো
আমার জন্য অনেক
বড় বিপদ। আমি যদি
অন্য রাজ্যে বসে
বিপদে পড়ি আমাকে
উদ্ধার করবে কে ?
: তুমি খবর পাঠাবে।
তোমার পিতাজি লোক
পাঠাবেন।
: সেটা তো সম্ভবপর
নাও হতে পারে। তখন
আমার কী হবে ?
রানী সাফায়্যারকে চুমু
খেয়ে বললেন, তোমার
কোনো বিপদ হবে না,
বাছা, আমার
আশীর্বাদ তোমার
সাথে থাকবে।
রাজমহলেরপাশে যে
পাঠশালাটা ছিল
সেটার পাঠ সাফায়্যার
শেষ করল। আরো
পড়াশোনা করার জন্য
তাকে কুন্দিলন রাজ্যে
পাঠানো হল।
কুন্দিলনের সভাসদ
জাউজানের কাছে
রাজা শুনেছিলেন যে
ওখানে ভালো শিক্ষক
আছেন। তাছাড়া
ওখানকার রাজা যে
তার ছেলের জন্য
অনেক উপহার
পাঠিয়েছিলেন তাও
তিনি ভোলেননি। তিনি
ভোলেননি জাউজানের
উদারতার কথাও।
পানসীতে করে
সাফায়্যার যাচ্ছে
কুন্দিলন। জোয়ারের
পানি যেদিকে যাচ্ছে
তাদের গন্তব্যও
সেদিকে। মাঝিরা
ভাবল যে সবার কষ্ট
করার দরকার নেই,
একজন বসে হাল
ধরলেই হল। পানসী
বাইতে বাইতে মাঝিরা
একটু ক্লান্ত হয়েও
পড়েছিল। তারা সবাই
বৈঠা রেখে শুয়ে পড়ল।
ক্লান্ত মানুষের শুয়ে
থাকা মানেই চোখ বন্ধ
করে রাখা।
জোয়ারের ¯স্রোতে
পানসী চলছে। একজন
মাঝি হাল ধরে আছে।
সেও বেশির ভাগ সময়
চোখ বন্ধ করে রাখে।
মাঝে-মাঝে তাকিয়ে
দেখে নিশানা ঠিক
আছে কিনা।
হঠাৎ হাল ধরা মাঝি
পানিতে পড়ে গেল।
তাকে বিশাল এক লগি
দিয়ে আঘাত করা
হয়েছে। তাদের
পানসীর দু’পাশে দুটো
পানসী এলো।
পানসীদুটো থেকে লোক
এসে সাফায়্যারের
পানসীতে উঠেছে।
রাজপানসী তো অনেক
বড়। একটা ঘরের মতো।
সাফায়্যার ছিল ঘরের
ভেতরে। তার কান খাড়া
ছিল। সে বুঝতে
পেরেছিল যে তার
মাঝিকে ফেলে দেওয়া
হয়েছে এবং তার
পানসীতে অন্য লোক
উঠেছে। সে
জানালারফাঁকা দিয়ে
দেখল যে তার
পানসীরদু’পাশে দুটো বড়
পানসী। সে রাজপোষাক
খুলে সাধারন পোষাক
পরল। তরবারিগুলোকোষ
থেকে বের করল।
তারপর দরজা খুলে বের
হল। দেখল যে তার
লোকেরা অসহায়
অব¯থায় বসে আছে।
দস্যুরা কয়েকজন
তরবারি নিয়ে দাঁড়িয়ে
আছে আর একজনের
হাতেহাল। পানসীর
অপর প্রান্তেও
কয়েকজন তরবারি
হাতে। পাশের
পানসীদুটোতেও অনেক
তরবারিধারী লোক।
সবাই সাফায়্যারের
মুখের দিকে তাকানো।
সাফায়্যার আকাশের
দিকে তাকাল।
কী করা যায় ভাবতে
লাগল। তার চোখের মণি
দুটো জ্বল জ্বল করে
উঠল। দস্যুরা সবাই
সাফায়্যারের চোখ
থেকে চোখ নামিয়ে
লাফিয়ে লাফিয়ে
নিজেদের পানসীতে
চলে গেল।
সাফায়্যার পেছন
ফিরল। এবার ওপাশের
লোকগুলোও নিজেদের
পানসীতে চলে গেল।
পানসীদুটো ক্রমশ সরে
যেতে লাগল।
সাফায়্যারের পানসীর
ওপরে ছোট একটা ডিঙি
ছিল। মাঝিদেরকে
বলল, ডিঙি নিয়ে
পেছনে যাও। সুজরকে
জীবীত বা মৃত
অব¯থায় তুলে আন।
সুজর হচ্ছে সেই মাঝি
দস্যুরা যাকে পানিতে
ফেলে দিয়েছিল।
মাঝিরা তাকে
ডিঙিতে করে নিয়ে
এলো। অনেক পানি
খেয়েছে। পেট ফুলে
গিয়েছে। বেঁচে আছে
কিনা বোঝা যাচ্ছে না।
তাকে রাজপানসীতে
তোলা হল। ডিঙিওওপরে
রাখা হল। সাফায়্যার
বলল, ওর পেটে জোরে
চাপ দাও। পানি বের
করে ফেল।
পেটেরপানি বের করার
পরে সুজর শ্বাস করতে
লাগল। সাফায়্যার
মাঝিদেরকে কোনো
ধরনের তিরস্কার তো
করলই না বরং বলল,
ভয় পেও না, আমাদের
কাছে যথেষ্ট তরবারি
আছে। কেউ যদি
দাঁড়াতে চায় আমরা
ফেলে দেব।
মাঝিরা সবাই প্রাণে
বাঁচল যেন। এর আগে
কারো মুখে কথা ছিল
না, হাসি ছিল না।
ভেবেছিল, বিশ্রাম
নেওয়ার অপরাধে
সাফায়্যার তাদেরকে
শাস্তি দেবে। এবার
এক জন মুখ খুলল।
বলল, শাহজাদা,
ওরাআপনাকে দেখেই
চলে গেল কেন ?
: অত্যাচারিদের মন
সব সময়ই দুর্বল
থাকে। মন দুর্বল
থাকলে তরবারি
চালাবে কী করে ? ওরা
আমাকে দেখেই
বুঝেছিল আমি ভয়
পাইনি। যার ভয় নেই
তার শরীরেও শক্তি
থাকে।
কুন্দিলনে যাওয়ার পরে
রাজা ও জাউজানের
সঙ্গে দেখা করার জন্য
সাফায়্যারের সৌজন্যে
এক নৈশ ভোজের
আয়োজন করা হল।
সাফায়্যার উপস্থিত
হলে তাকে অভ্যর্থনা
জানাল কুন্দিলনের
রাজপুত্র তুরিন।
নৈশ ভোজের মধ্যে
তুরিন সাফায়্যারকে
বলল, আমি হব তোমার
সহপাঠী, তুমি কি তা
জানো ?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now