বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিস্ময়কর রাজপুত্র সাফায়্যার– (২য় পর্ব)

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X রানী হাসলেন। বললেন, কাছাকাছি পাঠশালা থাকলে সাফায়্যারের জন্য ভালোই হবে। সাফায়্যারেরবয়স যখন দুই বছর তখন আরো একটা ছেলে হল রাজার। তার নাম রাখা হল রিকশিম। সাফায়্যারের যতই তার মা বেশি দিন নিতে পারেননি। কারণ তিনি মা হতে যাচ্ছিলেন। মা হওয়ার আগে শরীর খুব খারাপ থাকে। তখন অন্যের যতই তো দূরের কথা, নিজের যতই ঠিকমতো নেওয়া হয় না। তার নিজের সন্তান যখন পুত্রসন্তান হল তখন তো তাকে নিয়েই তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। সাফায়্যারের দায়িত্ব দাসীর ওপরই থেকে গেল। রাজার মৃত্যুর পরে উত্তরাধিকারসূত্রে রাজা হবে সাফায়্যার। কারণ সে বড় ছেলে। এটা রানী সহ্য করতে পারছেন না। তিনি সাফায়্যারকে পুষ্টিকর খাবার খেতে উৎসাহ দেন না, আনন্দে থাকতে সাহায্য করেন না। সব সময় ভাবতে থাকেন কী করে পরবর্তী রাজা হিসেবে রিকশিমকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। তার এভাবনাটা তিনি কারো কাছেই প্রকাশ করেন না, না রাজার কাছে, না রিকশিমের কাছে, না অন্য কারো কাছে। কারণ রাজা রানীকে বলে দিয়েছেন, আমার পুত্ররা যেন কোনো দিন জানতে না পারে যে তারা দুজন ভিন্ন মাতার সন্তান। সৎ মা হিসেবে তুমি সাফায়্যারের রাজা হওয়ার বিষয়টা নাও মানতে পার তবে সেটা যেন শুধু তোমার মনের মধ্যেই থাকে। কোনোভাবে যদি প্রকাশ পেয়ে যায় তাহলে এ রাজ্যে তোমার ঠাঁই হবে না। রানী বলেছেন, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন, মহারাজ। আমি কখনো দুই পুত্রকে দুই নজরে দেখি না। আপনার এ ধরণের কথায় আমি কষ্ট পেলাম। কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই, রানী। যেটা স্বাভাবিক আমি সেটাই বললাম, রাজার সহজ-সরল কথা। পাঠশালায়সাফ্যায়ার অনেক নাম করে ফেলেছে। রাজপুত্র বলে কোনো অহংকার নেই। সবার সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করেছে। সবাইকে সব ধরণের সাহায্য করছে। রাজার কানেও মাঝে-মধ্যে এসব কথা আসছে। তিনি রাতে খাবার সময় রানীর সাথে এসব কথা বললেন। সাফায়্যার মিট মিট করে হাসছিল। রিকশিমও ছিল সেখানে। পরের দিন রিকশিম রানীকে বললেন, মাতাজি, পাঠশালার ছাত্রদেরকে সাহায্য করলে যদি পিতাজি খুশি হন তাহলে আমিও ওদেরকে সাহায্য করব। পাঠশালার সব ছাত্রকে আমি স্বর্ণমুদ্রা দেব। যে কথা সে কাজ। রিকশিম পাঠশালায় গিয়ে ছাত্র- ছাত্রীদেরকে বলল, আমি তোমাদেরকে কিছু সাহায্য করতে চাই। সবাই তার দিকে তাকাল। সে ব্যাগ খুলে একটা মুদ্রা বের করে একটা ছাত্রকে দিল। ছাত্রটা বলল, কী এটা ? : স্বর্ণমুদ্রা। : আমাকে কেন ? : বললাম না ? আমি তোমাদের সবাইকে সাহায্য করব। : কিন্তু আমার তো সাহায্য দরকার নেই। : আমি তোমাদের বন্ধু। : তবুও… : তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না এটা স্বর্ণমুদ্রা ? : বিশ্বাস হচ্ছে বলেই তো নেব না। : কেন ? : আমি ভিখিরির ছেলে নই। রিকশিম অন্য একটা ছাত্রকে বলল, তুমি নাও। : ও যেটা নেবে না সেটা আমি নেব কেন ? আমি কি ভিখিরির ছেলে ? : তোমরা আমার সাথে এ রকম করছ কেন ? : আমরা কি তোমার কাছে সাহায্য চেয়েছি ? : তোমরা আমার ভাইয়ের কাছ থেকে সাহায্য নাও কেন ? তার কাছে কি তোমরা চাও ? : তোমার ভাইয়ের কাছ থেকে আমি কোনো দিন সাহায্য নিইনি। আমার পিতার যা আছে তাতে আমাদের হয়ে যায়। আমরা অন্যের সাহায্য নিই না। তুমি রাজপুত্র বলে আমাদেরকে অপমান করতে পার না। রিকশিম সবার উদ্দেশে বলল, আমি অনেকগুলো স্বর্ণমুদ্রা এনেছি। তোমরা যে যে নিতে চাও নিতে পার। কেউকথা বলল না। রিকশিম মন খারাপ করে বাড়ি চলে গেল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিস্ময়কর রাজপুত্র সাফায়্যার– (২য় পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now