বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিস্ময়কর রাজপুত্র সাফায়্যার– (১ম পর্ব)

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X গল্পটা অনেক আগের। ঘোরানিয়া রাজ্যে জন্ম নিল এক অপূর্ব সুন্দর রাজপুত্র। তার চোখের মণি দুটো ছিল নীল। দেখামাত্রই সবাই অবাক হয়ে যেত। এ রকম চোখ তারা আগে কখনো দেখেনি। রাজপুত্রের জন্মের পরে রাজা চার দিকে খবর নিয়ে জানলেন যে কুন্দিলন রাজ্যের রাজসভায় একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি আছেন। তার নাম জাউজান। তিনি মানুষ দেখেই তার ভেতরটা পড়ে ফেলতে পারেন। রাজা তাকে আনার জন্য রাজপানসি পাঠালেন এবং চিঠি লিখে দিলেন। জাউজানএকজন নিরহংকার মানুষ। রাজার চিঠি পেয়ে তিনি খুশি হলেন এবং কুন্দিলনের রাজার কাছে অনুমতি চাইলেন। রাজা অনুমতি দিলেন এবং রাজপানসি বোঝাই করে ঘোরানিয়া রাজ্যের রাজপুত্রের জন্য উপহারসামগ্রী পাঠালেন। উপহারসামগ্রী গেল কুন্দিলনের রাজপানসীতে এবং জাউজান গেলেন ঘোরানিয়ার রাজপানসীতে। উপহারসামগ্রীদেখে ঘোরানিয়ার রাজা তো মহাখুশি। তিনিও কুিন্দলনের রাজার জন্য এক পানসী উপহার পাঠালেন। বিশ্রামশেষে জাউজানকে জানানো হল যে তাদের রাজপানসী চলে গিয়েছে। তার বেড়ানো শেষ হলে তাকে ঘোরানিয়ার রাজপানসীতে করে পাঠানো হবে। ঘোরানিয়াররাজা তার ছেলেকে কোলে নিয়ে জাউজানের সামনে বসলেন। জাউজান রাজপুত্রকে দেখে এক গাল হাসলেন, বললেন, আমি কি একটু কোলে নিতে পারি ? রাজা বললেন, কী যে বলেন ! আপনি যে এসেছেন সেটা তো আপনার মেহেরবানি। রাজাতার ছেলেকে জাউজানের কোলে দিলেন। জাউজান বললেন, এ রকম চোখ আমিও কখনো দেখিনি। নীল রংয়ের মণি। নীলকান্তমণি। রাজকুমার দীর্ঘজীবী হবে, যতদিন বাঁচবে তার দৃষ্টিশক্তি ততদিন থাকবে, অনেক মেধাবী আর বুদ্ধিমান হবে। ও মরে গেলেও ওর চোখের মণি পঁচবে না। আমি কি ওর একটা নাম রাখতে পারি ? রাজা বললেন, আপনি নাম রাখলে তো আমি অনেক খুশি হব। রাখুন। আপনার মন থেকে যে শব্দটা বের হতে চাচ্ছে বলে ফেলুন। জাউজান আনন্দের সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, সাফায়্যার। রাজা হেসে বললেন, বাহ ! খুব সুন্দর নাম। সাফায়্যারেরজন্মের সময় মারা গেলেন রানী। রাজা আবার বিয়ে করলেন। বিয়ের পক্ষে তার কাছে দুটো যুক্তি, একটা হচ্ছে সন্তানের দেখা-শোনা অন্যটা হচ্ছে পরবর্তী সন্তানের জন্মদান। একটা ছেলে জন্ম নিয়েছে। সে বাঁচবে কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া একজন রাজার জন্য একটা ছেলে যথেষ্ট নয়। যে কোনো সময় যে কোনো দেশ থেকে আক্রমন আসতে পারে। তখন নিজস্ব কিছু মানুষ থাকা দরকার, যেমন- ভাই বা ছেলে। এরা হল রাজার প্রকৃত সম্পদ বা বন্ধু। যেহেতু রাজার কোনো ভাই নেই তাই একটা ছেলের ওপর তিনি ভরসা করতে পারছেন না। মায়ের পেটে থাকা অব¯থায়সাফায়্যার কখনো লাথি মারেনি। জন্মের পরেও অহেতুক কান্না-কাটি করেনি কখনো। তার কান্নার কারণ ছিল গোসল, খাওয়া আর পায়খানা- প্রসাবের কাপড় পরিবর্তন করে দেওয়া। ছোটবেলা থেকেই সব কথা বুঝত। মা-হারা এই বাচ্চাটাকে রাজা কাছে নিয়ে ঘুমুতেন। এক দিন রাতে ঘুমুতে গিয়ে তিনি বললেন, আজ আমার শরীরটা ভালো নেই, বাছা, চুপ করে ঘুমিয়ে থেকো। সত্যিই ঘুমিয়ে রইল সাফায়্যার। রাজা- রানীওঘুমিয়ে রইলেন। ভোর বেলা ঘুম থেকে জেগে রানী দেখলেন যে সাফায়্যার পায়খানা- প্রসাব কিছুই করেনি। তিনি বললেন, এতবড় একটা রাত গেল, তুমি পায়খানা-প্রসাব কিছুই করলে না ? কেন ? তুমি ভালো নেই ? কবিরাজ ডাকব ? সাথে সাথেই পায়খানা- প্রসাব করে দিল সাফায়্যার। রানী অবাক হয়ে গেলেন। রাজাকে বললেন, দেখলেন, মহারাজ ? আপনার ছেলে সব কথা বোঝে। : দেখলাম তো, রানী। আমি যে ওকে রাতে বলেছিলাম আমার শরীর ভালো নেই সে জন্যই ও পায়খানা- প্রসাব করেনি। : আপনি ঠিকই বলেছেন, মহারাজ। রাজাএক দিন রাজপুত্রকে বললেন, আমি রাজমহলের কাছাকাছি একটা পাঠশালা খুলতে চাই। তুমি সেই পাঠশালায় অন্য সবার সাথে বসে পাঠ শিখবে। রাজি আছ ? রাজপুত্র আনন্দে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে লাগল। রাজা রানীকে বললেন, আমার পুত্র রাজি আছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিস্ময়কর রাজপুত্র সাফায়্যার– (১ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now