বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিষ্ণু হাতে পেয়েছিল

"গ্রাম্য লোককথা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ছোটবেলায় যে চাঁদখানা বিষ্ণু হাতে পেয়েছিল, বড় হয়ে দেখল তাতে দাগ ধরা। স্কুলের বইতে চাঁদের গায়ে কলঙ্কের কথা পড়েছিল। এখন মনে হল চাঁদে সত্যিই বুঝি কলঙ্ক আছে, সে কলঙ্কশূন্য নয়। বিষ্ণু তখন স্কুলের উঁচু ক্লাসের ছাত্র। বলা নেই, কওয়া নেই, এক বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে দেখল ছোটকাকা নীচের দরদালানে শুয়ে। সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা। লোকের ভীড়ে বাড়ি উপচে পড়ছে। কে বা কারা যেন ছোটকাকাকে বইপাড়ায় খুন করেছে। তাদের বাড়ির একটা সুনাম ছিল চিরদিন। তাহলে এমন ঘটনা ঘটল কেন? সেই শুরু। কলেজে ওঠার সময় বড়দি, জ্যাঠামশাইয়ের মেয়ে, তাদের সব ভাইবোনেদের মধ্যে সকলের বড়, সেই বড়দি একদিন কলেজ গিয়ে আর বাড়ি ফিরল না। বিস্তর খোঁজাখুজির পর জানা গেল কলেজ থেকে ফিরতি পথে কারা যেন তুলে নিয়ে গেছে, কিন্তু আর কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। এ কি হল! কি যেন এক অন্ধকার ছায়া তাদের বাড়ির উপরে ধেয়ে আসছে। এই ঘটনার বহুদিন পর বাড়ির এক কাজের লোকের কাছে সংবাদ পাওয়া গেল, সে বড়দির মত একজনকে দেখেছে গিরিডির দিকে এক রেলগাড়ির কামরায়, সঙ্গে মোটা মত ভারি চেহারার মুখে বসন্তের দাগ ধরা এক ভদ্রলোক, তিনটে বাচ্চাও সঙ্গে ছিল ওদের। বড়দিকে কি কেউ ভুলিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, নাকি বড়দি নিজেই চলে গিয়েছিল! সেই লোকটার সঙ্গে বড়দি কি গিরিডিতেই থাকে? এর উত্তর আজও পায়নি বিষ্ণু। বড়দি চলে যাবার মাসখানেক পর রন্টু, জ্যাঠামশায়ের ছেলে, কলেজের হয়ে খেলতে গিয়েছিল, সেখান থেকে ফিরতি পথে গাড়ি এক্সিডেন্ট করে মারা গেল। অন্যমনস্ক ছিল, একটা গাড়ি এসে ধাক্কা মারে, মাথার খুলি একেবারে ফেটে চৌচির। বাড়িটা যেন কেমন হয়ে গেল। শুধু বিষ্ণুর বাবা-মায়ের এত কিছুর মধ্যেও খারাপ কিছু যে ঘটেনি সেটাই সান্ত্বনা। যদিও তাঁদের কাছ থেকে কোন সংবাদও পাওয়া গেল না। ততদিনে মেয়ে এবং ছেলের শোকে জ্যাঠাইমা শয্যাশায়ী, জ্যাঠামশাই হাসপাতালে, যাবার অবস্থায়। রন্টু মারা যাবার পর একটা বছরও কাটল না, জ্যাঠামশাই চলে গেলেন। জ্যাঠাইমা গেলেন না, কিন্তু গেলেই বোধহয় ভাল ছিল। তাঁর দুঃখ চোখে দেখা যায় না। কাকিমাও তাঁর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কোনরকমে বেঁচে রয়েছেন। ঠিক এইসময়েই খবর এল মা অসুস্থ। বাড়িতে তখন যা অবস্থা, মা’কে দেখার কেউ নেই, তবু মা’কে বাড়িতে নিয়ে আসা হল। মা সেই যে এলেন, আর ফিরে গেলেন না। বাবাও মা’কে আর ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন না। বড় হয়ে অনেক পরে বিষ্ণু বুঝেছিল মায়ের রোগটা ছিল আরোপিত। মা অসুস্থ হয়ে ফিরে না এলে বাবা আবার একটা নতুন জীবনে প্রবেশ করতে পারতেন না। জ্যাঠামশাই নেই, কাকা নেই, বাবার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার মত কেউ ছিল না তখন সংসারে। মা চলে যাবার আগে এবং মা চলে যাবার পরেও বাবার সঙ্গে বিষ্ণুর আর কোন যোগাযোগ নেই, বিষ্ণু রাখার চেষ্টাও করেনি কোনদিন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিষ্ণু হাতে পেয়েছিল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now