বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে চায়ের দোকান থেকে ৭ টাকা দামের মধুবন রুটি খেয়ে ক্লাসে যেতাম।সাথে আরো ১০ টাকা নিয়ে যেতাম টিফিনে খাবার জন্য।বাসার ফিরে ভুলে যেতাম বাবা নামের কোন মানুষ এ বাসায় বসবাস করে, সারা দিন পর ঠিক রাতে রান্না করার সময় আম্মুর মুখে তোর আব্বুর জন্য রান্না করতেছি শব্দ-টা শোনার পর মনে পরে যায় 'বাবা' নামের কোন মানুষ আমাদের বাসায় থাকে। এমন কোন রাত ছিলো না বাবা আমাকে জিজ্ঞাস করে নি আম্মু তুমি খেয়েছো, যদিও আম্মু বলতো খেয়েছে তার পরেও বাবা ডেকে তুলতো তার সাথে খাওয়ার জন্য।তখন জেদ ধরে মুর্তিমান হয়ে বাবার সাথে একটু দুর্ব্যবহার করাম করে ঘুমিয়ে যেতাম।এভাবেই দিন-কাল চলতেছিলো হঠাৎ একদিন রাত্রি বেলায় আম্মু ডেকে তুল্লো, জলদি এম্বুলেন্সে কল দিলাম, সাথে আশে-পাশের পরিচিত সবাইকে কল দিলাম একএক-জন একএক ধরনের অজুহাত দিলো। যে মানুষ গুলোর কাছে একটা চকলেট চাইলে এক প্যাকেট চকলেট এনে দিতো তাদেরও কোন আশানুরূপ বাক্য শুনতে পেলাম না।শুধু মাত্র এক দুর্সম্পকের মামা আর এক বন্ধু আর আম্মু.আমি এই চারজন আব্বুকে নিয়ে হসপিটাল নিয়ে গেলাম, সেই প্রথম আমার ঢাকা মেডিকালের মধ্য যাওয়া ইমারজেন্সি তে চিকিৎসা দেএয়ার পর ওয়াডে শিফট করলো, কোহাও কোন ঠাই নেই শেষ-মেশ ফ্লোরেই শোয়াতে হল।সকালে একজন ডাক্তার আসলো আম্মুকে ঠিক এ ভাবে বল্লো আন্টি আংকেলের রিপট এই এই টেস্ট গুলো করাতে হবে। তার কথা শুনে মনে হল যাক এই হসপিটালের যতো দুর্নাম শুনেছি সব মনে হয় মিথ্যা। সেই তার পর থেকে যতো ডাক্তার আব্বুকে দেখেছে কেউ রুগী ছাড়া ডাকে নি। যে মানুষটা কে কখনো আব্বু ছাড়া ডাকতে পারি নি সে মানুষটা কে আজ রুগী বলতে/শুনতে হচ্ছে। যাই হোক হসপিটালে থাকা কালিন প্রতিদিন সবাইকে কল দিতাম আসার জন্য সবাই অজুহাত দেখিয়ে দিতো আর মিথ্যা আশ্বাস দিতো আর আমি অপেক্ষায় থাকতাম। আব্বু কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরে কাকরাইলের ইসলামি হসপিটালে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে ডাক্তারের সিরিয়াল নিয়ে আব্বুকে দেখালাম। ঠিক তিন মাস পর আব্বু আবার স্টোক করলো আবার সেই এম্বুলেন্সে কল দিলাম, কল লিস্টে থাকা সবাইকে কল দিলাম সবাই আবার মিথ্যা আশ্বাস দিলো দুই দিন চিকিৎসা চলার পর ডাক্তার বাসায় ফিরিয়ে দিলেন। সকালে বাসায় নিয়ে এসে সবাইকে শেষ দেখে দেখে যেতে বললাম এবার আর মানুষের অভাভ হল না কখনো দেখনি এমন মানুষও এসেছে আব্বুকে দেখতে। দেখতে দেখতেই দুপুরের দিকে আব্বুর নিশ্বাস বন্ধ করে দিলেন। তার পর থেকে আর কাউকে বিশ্বাস করি না, কারো আশায় থাকি না।
হয়তো অনেক কস্টের মাঝে আছি তবে বেঁচে আছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now