বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিরক্তি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X -কি হল ? বারবার ফোন দিচ্ছো কেন ? ও পাশ থেকে কোন আওয়াজ পাওয়া গেল না কিছু সময় । আমি জানতাম নিহিন কথা বলবেও না । আমার গলার আওয়াজ যখন একটু উচু হয় তখনও কখনও কথা বলে না । চুপচাপ শুনে যায় । এটা তো আজ কালকার প্রেমিকাদের ভেতরে দেখাই যায় না । প্রেমিকা ! শব্দটা মনে হতেই নিজেই খানিকটা হেসে উঠলাম । নিহিন তখনও ফোনের ওপাশেই রয়েছে । আমি বললাম -কি ব্যাপার কথা বলছো না কেন ? -না মানে .... -একবার দেখলে না ফোন কেটে দিলাম । এর অর্থ কি ? ওপাশ থেকে আবারও কোন কথা নেই । আমি বললাম -আগে কতবার বলেছি যে যখন ফোন কেটে দিবো তার মানে আমি বিজি বারবার এতো ফোন দেওয়া কিছু নেই । -আচ্ছা ! আচ্ছা শব্দটা শুনেই মনে হল নিহিনের চোখে পানি চলে এসেছে । এই মেয়েটাকে আমি মাঝে মাঝে কিছুতেই বুঝতে পারি না । এমন মেয়ে আমি এর আগে দেখিও নি । এমন কেন এই মেয়েটা । একটু খারাপ লাগলো । এটো কঠিন কথা না বললেও হয়তো চলতো । কি্তু কাজের সময় মানুষ জন ফোন দিলে আমার কেন জানি খুব মেজাজ গরম হয়ে ওঠে ! আমি বললাম -আমি কাজ করছি । -আচ্ছা কাজ শেষ করে ফোন দিও । -আচ্ছা দিবো । কিন্তু তুমি ঘুমিয়ে পড় । অনেক রাত হবে । -আচ্ছা । -আচ্ছা না । তুমি জেগে থাকবে না । ঘুমিয়ে পড় । -আচ্ছা ! নিহিন যদিও বলল যে আচ্ছা আমি খুব নিশ্চিত জানি যে নিহিন ততক্ষন পর্যন্ত জেগে থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত আমি ওকে ফোন না দিবো । এই মেয়েটা এমনই । এমন কাজই করে যাবে । নিজে যা বুঝবে তেমনই করবে । অন্যেরা কি বলছে কেন বলছে সেটার দিকে কোন লক্ষ্য নেই । আমার সাথে পরিচয়টাও এমন ভাবেই হয়েছিলো । মোবাইলে কথা হত । আসলে একটা সময়ে আমার এমন কাউকে দরকার ছিল যার সাথে আমি ওকে শেয়ার করতে পারি । ওর সাথে পরিচয়ের পর থেকে ওর সাথে অনেক কথা হত । আস্তে আস্তে ওর সব কিছুই আমি জানতে পারি ঠিক তেমনি ও আমার সব কিছু জানতো । একদিন হঠাৎ করেই ও বলে বসলো যে ও আমাকে পছন্দ করে । খুব করে ধমক দিলাম । এমন না যে আমি কারো সাথে প্রেম-ট্রেম করবো না কিংবা করি নি আসল ব্যাপাটা হচ্ছে মেয়েটা আমার থেকে বেশ ছোট । আমার স্টুডেন্টও ওর থেকে এক বছরের সিনিয়র । বয়সের পার্থক্যটা প্রায় ৮/৯ বছর । আমি যতই মানা করতে চাইলাম নিহিন যেন ততই জেদ চেপে ধরে বসে রইলো । একদিন এমন একটা কাজ করে বসলো যে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না । আমার কখন কোথায় যাই কি করি সেটা ও জানতো । বিশেষ করে যে সময়টাতে আমি খুব ডিপ্রেস ছিলাম কারো সাথে কথা বলার দরকার ছিল তখন নিহিনের সাথে কথা বলতাম । অনেক কথা বলতাম । এই কথাটা আসলে আমি কোন ভাবেই অস্বীকার করতে পারবো না যে আমার খারাপ সময়ে সে আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়েছে । সেখান থেকেই অনেক কথাই নিহিনের সাথে শেয়ার করা হত । একদিন টিউশনী যাচ্ছি । পরিবাগের ওভার ব্রীজের মাঝখানে এসেছি এমন সময়ই কেউ একজন আমার পেছন থেকে আমার নাম ধরে ডাক দিল । তাকিয়েই প্রথমে কাউকে চিনতে পারলাম না কিন্তু একজনকে দেখতে পেলাম । ধবধবে সাদা রংয়ের কামিজ আর সাদা লেগিংস পরা । চুল খোলা । মেয়েটা হাত দিয়ে নিজের চুল গুলো একপাশে সরিয়ে দিতে দিতে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো । মেয়েটার হাতে তাজা মেহেদীর রং দেখতে পেলাম । নিহিন ! আমি সত্যি অবাক না হয়ে পারলাম না । এই মেয়েটার সাথে আমার কোন দিন আগে দেখা হয় নি । কেবল ফোনেই কথাই হয়েছে । আর আজকে সরাসরি আমার সামনে । আমি কোন কথা না বলে কেবল তাকিয়েই রইলাম মেয়েটার দিকে । নিহিন আমার কাছে এসে বলল -পছন্দ হয়েছে ? -কি ! -আমাকে ? -মানে ? -মানে মনে নেই । তুমি একদিন বলেছিলে মনে নেই, সাদা সেলোয়ার কামিজ পরা হাতে মেহেদি আর চুল খোলা অবস্থায় কোন মেয়ে যডি আমাকে এসে প্রোপোজ করে তাহলে তুমি তার প্রেমে পড়ে যাবে । -নিহিন ! তুমি.....। -পাগল আমি..... আমি কোন কথা বলতে পারলাম না । মেয়েটা আসলেই পাগল হয়ে গেছে । নিহিন বলল -তোমার সাথে মিন্টু রোডে হাটবো একটু ! হাটবে ? নিহিনের দিকে তাকিয়ে আমি মানা করতে পারলাম না । কোন ভাবেই এমন আহবান মানা করার উপায় নেই । সেদিন থেকেই শুরু । মেয়েটা আমার সাথে প্রায় প্রতিদিনই দেখা করতে আসতো । আমার ভেতরে সে কি দেখেছিলো আমার জানা নেই । আমাকে ছাড়া যেন তার চলবেই না এমন একটা ভাব । আমার দিকে তাকিয়ে এমন ভাবে সে কথা বলতো যেন আমি ছাড়া আসে পাশে আর কেউ নেই ! আমি এই ব্যাপারটা কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারতাম না । তবে আমি কেন জানি ভয় পেতাম । আমি ভয় পেতাম নতুন কোন সম্পর্কে জড়াতে । কিন্তু নিহিনকে ইগনোর করতে পারতাম না । কোন ভাবেই । হাতের কাজটা শেষ করতে প্রায় রাত দুইটা বেজে গেল । আমি নিশ্চিত জানি এখনও নিহিন জেগেই আছে । ওকে ফোন করতে গিয়েও কেন জানি করলাম না । হঠাৎই একটা কথা মনে হল । কাজটা যদিও খানিকটা পাগলামো হয়ে যাবে তবুও কেন জানি করতে ইচ্ছা হল কাজটা ! -হ্যালো ! নিহিনও হ্যালো বলে কিছুটা সময় চুপ করে রইলো । আমি বললাম -আছো ? -হুম ! কাজ শেষ ? -হু । তুমি এখনও জেগে আছো ? -হুম । তোমার সাথে কথা না বললে ঘুম আসতো না । -কেন আসতো না ? আমি কি ঘুমের ঔষধ ? নিহিন হেসে উঠলো । তারপর বলল -আমার জন্য তুমি যে কি সেটা যদি তুমি বুঝতে । -এখন ঘুম আসবে ? -আসবে ! -আচ্ছা এখনও তোমার ঘরের লাইট জ্বলছে । ওটা অফ করে দাও । কিছু সময় কোন কথা হল না । তারপরই হঠাৎই নিহিন বলল -তুমি কোথায় ? আমার হোস্টেলর সামনে ? ওর গলাতে আশ্চার্য একটা উত্তেজনা শুনতে পেলাম । -তুমি সত্যিই আমার হোস্টেলর সামনে ? -হ্যা । -আমি আসছি । -খবরদার না । এতো রাতে হোস্টেলের বাইরে বের হলে তোমাকে রাস্টিকেট করে দিবে । তুমি কেবল জানলার সামনে এসো, তাহলেই আমাকে দেখতে পাবে । -দিক । জাহান্নামে যাক সব কিছু ! ঠিক মিনিট তিনেকের মাথায় আমি ওদের হোস্টেলর গেট খোলার আওয়াজ শুনতে পেলাম । তাকিয়ে দেখি নিহিন দরজা খুলে বের হয়ে আসছে । ঠিক বের হয়ে না, ও দৌড়ে আসছে । আমি জানি, ও আমাকে ঠিক ঠিক এসে জড়িয়ে ধরবে । মাঝ রাতের বেলা, নির্জন রাস্তাতে একটা মেয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দাড়িয়ে থাকা একটা ছেলে দিকে । অদ্ভুদ একটা দৃশ্য । কেন জানি আমার আবারও ভয় করতে লাগলো । কারো সাথে জড়িয়ে যাওয়ার ভয় !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিরক্তি
→ বৃষ্টি বিরক্তি
→ একটি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now