বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম এমন সময় কে যেন পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল " ভাইয়া, আমাকে বাঁচান ভাইয়া"।মেয়েলী কণ্ঠস্বর শুনেই আমার মনের মধ্যে বলে উঠলো " ওরে আল্লাহ, মাইয়া!" কোনো পুরুষ এইভাবে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলে নির্ঘাত বলতাম "ঐ ছাড় বলতেছি, শালা গায়ে কিছু মাখিস না। ঘামের গন্ধে মরে গেলাম"। কিন্তু যেখানে মেয়ে ধরেছে সেখানে ঘামের গন্ধ হচ্ছে গিয়ে ছোটখাটো ব্যাপার।
আমিও টাইটানিক সিনেমার নায়কের মতন ওভাবেই কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললাম " এবার ছাড়ুন আপু, আমার হার্টের সমস্যা আছে"। মেয়েটা ছেড়ে দিলে পিছনে তাকিয়ে দেখি বলিউড নায়িকা বিদ্যা বালানের মতন একটা সুন্দরী মেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে। বিদ্যা বালানকে দেখলে আমার মনের মধ্যে যে গানটা বেজে উঠে এই মেয়েকে দেখেও সেই গানটা বেজে উঠলো " উলালা উলালা, তু হি মেরি ফ্যান্টাসি "। নিজের আবেগ কে কন্ট্রোল করে বললাম "ব্যাপার কি আপু? কিছু হয়েছে?
এবার মেয়েটি বলল " আর বইলেন না ভাই, রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম এমন সময় একটা পাগলা কুকুর ধাওয়া করেছে। তাই ভয়ে দৌড়ে এসে আপনাকে জড়িয়ে ধরেছি।"
ছোটবেলা থেকে আমিও কুত্তাকে প্রচণ্ড রকম ভয় পাই। এর মধ্যে পাগলা কুত্তার কথা শুনে "উসেইন বোল্ডের" থেকে জোরে দৌড়ে মেয়েটাকে রেখে পালাতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু একটা মেয়েকে এভাবে পাগলা কুকুরের সামনে রেখে দৌড় দিলে পুরুষ জাতির সম্মান থাকবে না। এসব যখন ভাবছি ঠিক তখনি মনের মধ্যে বিদ্রোহী কবি বলে উঠলো "
যায় যাবে এ প্রাণ,
তবুও বাঁচাবো এই নারীর সামনে পুরুষ জাতির সম্মান।
সাহস করে সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখি একটা বাচ্চা কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে। মনে মনে আল্লাহকে ডেকে যেইনা কুকুরটাকে একটা ধমক দিলাম। তখনি কুকুরটা লেজ গুটিয়ে পালালো। আমিও বেশ গর্ব করে মেয়েটাকে বললাম " দেখলেন আমার ভয়ে কুকুরটা কিভাবে দৌড় দিলো "। আমার সাহস দেখে মেয়েটা বলল "আপনার মতন সাহসী ছেলে আমি খুব কম দেখেছি। আপনার মতন সাহসী আর কিছু ছেলে থাকলে আমেরিকাও আমাদের সাথে যুদ্ধে হেরে যেতো। আপনি বীরদের বীর, দেশ ও জাতীর গর্ব। আপনার ফোন নাম্বার টা দিবেন যদি কোনো সমস্যা না হয়"? আমি সাথে সাথে মেয়েটাকে আমার নাম্বার দিয়ে দিলাম। সুন্দরী মেয়ে বলে কথা।
একটু পর মেয়েটাকে একটা রিকশায় তুলে দিয়ে যখন বাসার দিকে যাচ্ছি। তখন কেন যেন পিছনের পকেট টা খুব হালকা হালকা লাগছিল। হাত দিয়ে দেখি সেখানে আমার মানিব্যাগ নেই। একটু আগেই টিউশনির বেতন পাওয়া তিনটে ১ হাজার টাকার কড়কড়া নোট। আহা! আমার টাকা!
তখনি ফোনে একটা অচেনা নাম্বার থেকে মেসেজ এলো।
" ওরে বলদ রে। তোর মতন বলদ এই শহরে চলে কিভাবে? আর গায়ে কিছু মাখিস না। তোকে জড়িয়ে ধরার সময় তোর গায়ের গন্ধে আমার বমি আইছিল।অনেক কষ্টে আটকে রাখছি। এরপর থেকে ভালো একটা পারফিউম মাখবি। এই শুন "ফগ" খুব ভালো।
আর শুন মাইয়া মানুষ দেখলে কি মাথা ঠিক থাকেনা? কতক্ষণ জড়িয়ে ধরে ছিলাম শালা তোরে? সিনেমার নায়কদের মতন চুপচাপ থাকলি কেন? পকেটেও তো বেশি মাল রাখো না। এর পর থেকে বেশি করে রাখবা। বুঝছ সোনা? "
মেয়ের মেসেজ পড়ে কলিজা পুড়ে গেলো। "কোথায় বীর আর কোথায় বলদ"? মেয়েটা এইভাবে বীর থেকে বলদ বানিয়ে দিলো!
বীর বলদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now