বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বইপোকা
..
..
- মামা তুই তো অম্যবস্যার চাঁদ হয়ে গেছিস। তোকে তো আর চোখেই দেখিনারে। (সাদিক)
- তাহলে কি আমাকে এখন কান দিয়ে দেখছিস নাকি নাক দিয়ে? (আমি)
- ধূর বেটা কথা পেঁচাবি না। শোন তোর সাথে জরুরি কথা আছে।
- কান খোলা আছে বলে ফেল।
- আমার এক খালাতো বোনকে পড়াতে হবে। ক্লাস নাইনে পড়ে।
- নারে মামা সম্ভব না। এমনিতেই সারাদিন টিউশনি করতে করতে জীবন তামার খনিতে পরিণত হয়ে গেছে। আর কাউকে পড়ানোর সময় বের করতে পারবো না।
- এই কথা বলিস না দোস্ত। আমার সম্মানটা রাখিস। আমি খালাকে কথা দিয়ে ফেলেছি। তোকে পড়াতে যেতেই হবে।
- থাবড়াইয়া তোর বত্রিশটা দাঁত ঝরিয়ে ফেলব। হারামী আমাকে না জীজ্ঞেস করে কথা দিয়েছিস কোন দুঃখে? এখন যা মুড়ি খা।
- মামা এমন করিস কেন? তুই একটু সময় বের কর মামা।
- আচ্ছা ভেবে দেখি। এখন চল চা খেয়ে আসি।
..
রাগে শরীরে এখন আমার আগুন জ্বলছে। আমার একমাত্র হারামী বন্ধু সাদিক ছোটবেলা থেকেই এমন। আমাকে চিপায় ফেলে দিয়ে কেটে পড়াটাই তার স্বভাব। এখন যেমন আমাকে কিছু না জানিয়েই তার খালাকে কথা দিয়ে ফেলেছে যে আমি পড়াতে যাবো।
এখন আর কি করা? বন্ধুর নাকি সম্মানের ব্যাপার। বন্ধুর জন্য জান কোরবান।
..
মাসের আজ এক তারিখ। আজ সাদিকের খালাতো বোনকে পড়াতে যাচ্ছি। সাদিকের দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী এখন আমি সাদিকের খালার বাসার দরজায় দাঁড়িয়ে আছি।
টানা সাতবার দরজায় টোকা দেওয়ার পর কেউ একজন দরজা খুলে দিল। যে দরজা খুলে দিল তাকে দেখে আমার সবার প্রথম এই কথাটাই মনে হলো ' এত বড় মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে কিভাবে? এটা কেমনে সম্ভব? '
..
- কাকে চাই? (মেয়েটা)
- জী আমি আরমান।
- হুম বুঝলাম আপনি আরমান। কিন্তু কাকে চান?
- মানে আমি সাদিকের বন্ধু।
- তো কি হয়েছে?
- মানে আমাকে সাদিক বলেছিল আপনাকে আজ থেকে পড়াতে।
আমার এই কথা শুনে মেয়েটা চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর দরজা খোলা রেখেই ভেতরে চলে গেল।
আমি দরজার সামনে আবুল হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। ভেতরে ঢুকবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি চলে যাবো?
এসব ভাবছি এমন সময় দেখলাম একজন মধ্যবয়সী মহিলা আসছেন। তিনি এসেই আমাকে বললেন,
- বাবা তুমি এখনো বাইরে দাঁড়িয়ে আছো কেন? আসো আসো ভিতরে আসো। আমিই সাদিকের খালা।
- ও আচ্ছা।
..
আমি মহিলাকে অনূসরন করলাম। এবং একটু পরেই একটা সোফা দেখিয়ে দিয়ে মহিলা বললো,
- বাবা তুমি এখানে বসো। আমি তোমার ছাত্রীকে নিয়ে আসছি।
- আচ্ছা ঠিক আছে আন্টি।
খালা চলে গেল। আমি তখন ঘরের চারদিকে চোখ বুলাতে লাগলাম। ঘরের একপাশে একটা বইয়ের তাক, জানালার পাশে একটা ফ্রীজ আর আমার বরাবর একটা টিভি। আর কিছুই চোখে পড়লো না।
আমি আবার বই পড়তে পাগল। তাই উঠে বইয়ের তাকের সামনে দাঁড়ালাম। অনেক বই রয়েছে সেখানে। যার বেশিরভাগই রহস্য গল্পের বই। বোমক্যাশ বক্সি সমগ্র, ফেলুদা সিরিজ, পান্ডব গোয়েন্দা সহ অনেক বই। আমি গ্যাংটকে গন্ডগোল বইটা সবেমাত্র ধরবো তখনই পায়ের শব্দ শুনে পেছনে তাকালাম। খালা ফিরে এসেছেন।
সাথে আরেকটা মেয়ে। মেয়েটা আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।
- এগুলো সব আমার বড় মেয়ের বই। ও আবার এসব বই পড়তে বড় ভালবাসে।
- ও আচ্ছা।
- আর এইযে আমার ছোট মেয়ে। বই একেবারেই ধরে না। ওকে একটু ভাল করে পড়িও। না পড়লে মেরে তক্তা বানিয়ে দেবে। কোন সমস্য নেই।
- আচ্ছা ঠিক আছে আন্টি।
- চলো তোমাকে পড়ার ঘরে নিয়ে যাই।
..
মনের মধ্যে যে খটকা ছিল সেটা কেটে গেছে। আসলে যাকে আমি আমার ছাত্রী মনে করেছিলাম সে আসলে ছাত্রীর বড় বোন।
ইশ কি ভূলটাই না হয়ে গেছে।
..
আমার নতুন ছাত্রীর মাথাটা অনেক পরিষ্কার। যাকে বলে একেবারে দিগুন গতির মস্তিষ্ক। একটা পড়া দুবার পড়লেই হয়ে গেল। আর পড়াতে হয় না। ইশ আমার যদি এমন মাথা থাকতো তাহলে হয়তো জীবনে একটা কিছু হয়েই যেতাম।
আমার ছাত্রীর নাম মারুফা জাহান মিষ্টি। একটু দুষ্টু টাইপের, কিন্তু সেটা কোন ব্যাপার না। মিষ্টির জন্য সাতখুন মাফ।
তবে একটা জিনিস বড়ই অদ্ভুত। প্রথম দিনের পরে এখন পর্যন্ত মিষ্টির বোনকে আর দেখিনি। ওর মুখটা ভালমত দেখিনি। তবে যতটুকু দেখেছি তাতে মনে হয়েছে মুখটা খুবই মায়াবি, আর চোখদুটো মায়ার সাগর। তবে সেটা আমার মনের ভূলও হতে পারে।
..
- মিষ্টি তোমার কি কোন ভাই নেই?
- নাহ আমার কোন ভাই নেই। শুধু মহিমা আপু আর আমি।
- এই মহিমা আপুটা কে?
- ওমা মহিমা আপু হচ্ছে আমার বড় আপু।
- ও আচ্ছা। কিন্তু তাকে তো এখন পর্যন্ত দেখিনি কখনো।
- আপু সারাদিন নিজের ঘরে বসে বসে বই পড়ে। বাইরে বের হয় না।
- ও আচ্ছা। এক্সের উপর কিউব ঠিকমতো দাও। ওটাকে দেখে তো শুয়োপোকার মত মনে হয়।
..
তাহলে তার নাম মহিমা। সারাদিন নাকি বই পড়ে। তারমানে বইপোকা। আমিও এককালে বইপোকা ছিলাম। এখন সেই নেশা কেটে গেছে।
হঠাৎ একদিন মহিমার সাথে দেখা হয়েই গেল। সেদিন পড়াতে গেলাম। দরজায় অনেকগুলো টোকা দেওয়ার পর মহিমা এসে দরজা খুলে দিল।
আমি ভেতরে প্রবেশ করতেই,
- মাষ্টারমশাই আজ মনে হয় আপনার ছুটি। (মহিমা)
মাষ্টারমশাই ডাক শুনেই ভারী চশমা, সাদা ধূতি পরা আমাদের বিখ্যাত মজুমদার স্যারের কথা মনে পড়ে গেল। নিজেকে মাষ্টার মশাই ভাবতেই কেমন যেন লাগছে।
- ছুটি? কি কারনে জানতে পারি? (আমি)
- আপনার মহাপাজী ছাত্রী অসুস্থ। আম্মু তাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছে।
- অসুস্থ মানে? কি হয়েছে ওর? কালকে তো সুস্থই দেখে গেলাম।
- হালকা জ্বর আর ঠান্ডা। না পড়তে পারার মত কিছু হয়নি। কিন্তু ফাঁকিবাজ একটা। তাই বললো আজ পড়বে না।
- ও আচ্ছা। কখন আসবে বলতে পারেন?
- আধাঘন্টার মতো লাগতে পারে।
- তাহলে আমি একটু অপেক্ষা করি। মিষ্টিকে একটু দেখে যাই।
- আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি বসুন আমি চা নিয়ে আসছি।
..
নাহ মহিমাকে যতটা ঘরকুনো টাইপের মেয়ে মনে করেছিলাম আসলে সে ততটা নয়।
দুই মিনিটের মাথায় মহিমা চা নিয়ে হাজির। এত তাড়াতাড়ি চা বানালো কিভাবে?
- এত তাড়াতাড়ি চা আনলেন কিভাবে?
- লিকার আগে তেখেই ফ্লাক্সে ছিল। শুধু একটু দুধ চিনি মিশিয়ে দিলাম। আমার আবার একটু পরপর চা খাওয়ার অভ্যাস। তাই সবসময় চা তৈরী থাকে।
- ও আচ্ছা!
- আপনি নাকি সেদিন আমার কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন?
সবেমাত্র চায়ে চুমুক দিয়েছি। এমন সময় একথা শুনে বিষম খেলাম। এবং একটু লজ্জাও পেলাম।
নিজেকে কোনমতে সামলে নিয়ে বললাম,
- ইয়ে মানে প্রথম দিন তো আমার দ্বারা একটা ভূল হয়েছিল। তারপর থেকে আর আপনাকে দেখিনি। ভাবলাম আপনি হয়তো রেগে আছেন আমার উপর।
- একেবারেই না। আমি রাগ করিনি, শুধুি আপনার বুদ্ধি সম্পর্কে একটু সন্দেহ হয়েছিল। আপনি কি করে ভাবলেন যে আমিই আপনার ছাত্রী?
- না মানে ছোটবেলা থেকেই আমার মাথার স্ক্রু একটু ঢিলা। তাই ভূল হয়ে গেল আরকি।
- হা হা হা হা।
..
মহিমা হাসলে ওর গালে টোল পড়ে। এতক্ষন লক্ষ করিনি যে মহিমার ডানগালে একটা তিল আছে।
এই ছিল আমাদের প্রথম আলাপ।
..
তারপর মাঝে মাঝেই মহিমার সাথে আমার কথা হতো। বেশিরভাগই বই নিয়ে।
ও বই পড়তে খুবই ভালবাসে। সারাদিন একটানা বই পড়ে। এবং যদি কোন বই ভাল লেগে যায় তাহলে সেইবই কয়েকবার পড়ে। আসলেই বইপোকা।
..
বর্তমানে আমি এক অন্য জগতে চলে গেছি। সে জগতে শুধুই মহিমার ছবি। যেদিকে যাই শুদু মহিমাকেই দেখতে পাই। সামনে, পেছনে, উপরে, নীচে সবখানেই শুধু সে। আমাকে আমি হয়তো বিলীন করে দিয়েছি মহিমায় মাঝে।
এভাবে যে হঠাৎ করেই মহিমার প্রেমে পড়ে যাবো তা বুঝতে পারিনি।
আমার বন্ধুদের প্রেমের গল্প শুনতাম আর হেসে গড়াগড়ি দিতাম। কিন্তু আজ আমি নিজেই সে প্রেমের খপ্পরে পড়ে একেবারে দিশেহারা অবস্থা। প্রেমে পড়লে যে মানুষের এমন অনূভুতি হয় তা জানলে কখনোই হয়তো প্রেমে পড়তে চাইতাম না।
তবে মানুষ না চাইলেও অনেক কিছু ঘটে যায় মনের অজান্তেই।
..
- স্যার বলুনতো আজকে কয় তারিখ?
- আজ এগারোই নভেম্বর, হঠাৎ এই প্রশ্ন?
- স্যার আজ আমার জন্মদিন।
- ওহ তাই নাকি? হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। তা চলো আজ একটু পড়া ফাঁকি দেই।
- কেন স্যার?
- চলো তোমার জন্মদিন উপলক্ষে তোমাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসি।
- সত্যি?
- হুম সত্যি।
- কিন্তু আম্মু?
- সেটা আমি দেখছি। তুমি তৈরী হও।
..
আন্টির কাছথেকে এত সহজে অনুমতি পেয়ে যাবো ভাবতে পারিনি। হয়তো আন্টি আমাকে একয়দিনে অনেকটাই আপন করে নিয়েছিলেন।
তবে মিষ্টি আমার সাথে একা যাবে না। মহিমাও সাথে যাবে। এটা নাকি মিষ্টিই মহিমাকে বলেছে। যাক একটু তো কথা বলা যাবে।
..
- আমরা কোথায় যাচ্ছি স্যার?
- জানিনা। তবে চিন্তা করছি কোথায় যাওয়া যায়।
- আপু তুই বলনা কোথায় গেলে ভাল হয়?
- তোর স্যারকেই জিজ্ঞেস কর। আমি কোন জায়গার নাম জানিনা।
..
ঠিক করলাম ড্রীম হলিডে পার্কে যাবো। পার্কটা কিছুদিন হলো তৈরী হয়েছে। ঘুরে আসা যাক।
- চটপটি খেলে কেমন হয়? (মহিমাকে উদ্দেশ্য করে বললাম।)
- আপনার ইচ্ছা মাষ্টারমশাই। (হালকা মুচকি হাসি)
- নাহ আমার ইচ্ছায় তো হবে না। আপনার ইচ্ছায় হবে।
- বললাম না আপনার ইচ্ছা।
- ঠিক আছে চলুন চটপটি খাই।
..
শেষমেষ চটপটির বদলে ফুচকা খেলাম। মহিমার ফুচকা খাওয়া দেখে আমার অবস্থা পুরো খারাপ। কাউকে ফুচকা খেতে দেখাও যে একটা অানন্দের বিষয় তা আজ বুঝতে পারলাম।
নাহ হৃদস্পন্দনটা আর ঠিক রাখতে পারছি না। মহিমার দিকে চোখ পড়লেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। ভয় হয়, যদি মহিমা শুনে ফেলে?
..
অনেক ঘোরাঘুরির ইচ্ছা ছিল। কিন্তু মিষ্টির নাকি শরীর খারাপ লাগছে। তাই চলে আসলাম তাড়াতাড়ি। তবে এরই ফাঁকে মহিমা আমার ফোন নাম্বারটা চেয়ে নিল। কেন নিল তা জানিনা। মনে একটা অদ্ভুত ভাললাগা কাজ করছে। এর আগে কখনো এমন অনূভুতি হয়নি।
এখন শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
..
রাত তখন দশটা ত্রিশ। সবেমাত্র অদৃশ্য ত্রিকোন গল্পটা পড়ে শেষ করেছি এমন সময় বিকট শব্দে ফোন বেজে উঠলো। নাম্বারটা অপরিচিত, মহিমার নাম্বার নয়তো? বুকটা হঠাৎ কোন ইঙ্গিত ছাড়াই ধুকপুক করতে শুরু করলো। হাত কাঁপতে শুরু করলো।
আশ্চর্য! আমার এখনই এমন লাগছে কেন? এটাতো মহিমার কল নাও হতে পারে। এখনই এত উত্তেজিত হওয়ার কি আছে? আমি আসলেই একটা গেছো গাধা।
- হ্যালো আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন? (আমি)
- আচ্ছা মাষ্টার মশাই বলুনতো পথের পাঁচালি উপন্যাসের লেখক কে?
আমার হৃদপিন্ডটা হঠাৎই লাফিয়ে গলার কাছে চলে এসেছে মনে হচ্ছে। এটাযে মহিমার কন্ঠ।
- কি ব্যাপার কথা বলছেন না কেন? প্রশ্ন করলাম, উত্তর কই?
আমার গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না কেন? একটু ঝেড়ে কাশতে হচ্ছে।
- জী কি প্রশ্ন করলেন আবার করুন মহিমা মশাই।
- এই আপনি আমাকে মহিমা মশাই বললেন কেন?
- তো কি বলবো? আপনি আমায় মাষ্টারমশাই ডাকপন। আমিও আপনাকে মহিমা মশাই ডাকবো।
- খবরদার আমার নামের সাথপ মশাই লাগাবেন না। মহিমা বলেই ডাকুন।
- যথাআজ্ঞা মহিমা। তা কি প্রশ্ন করলেন ভুলে গেছি।
- থাক আর বলতে হবেনা। আপনি কি কখনো প্রেম করেছেন?
- (অবাক কন্ঠে) হঠাৎ এই প্রশ্ন?
- আমার মনে হচ্ছে কিছুদিন আগেই হয়তো আপনি কারো প্রেমে পড়েছেন। কথাটা সত্যি কিনা বলুন।
- ইয়ে মানে আমি.........
- থাক বুঝতে পেরেছি আর বলতে হবেনা। তা সেই মহাভাগ্যবতী মেয়েটা কে যার প্রেমে আপনার মত স্ক্রু ঢিলা ছেলে হাবুডুবু খাচ্ছে?
- ( আমি নিরব। কি বলবো তাই ভাবছি।)
- কি ব্যাপার মহারাজ? এখানেই কি কবি নিরব হয়ে গেছে নাকি?
- আপনি।
- মানে?
- যার প্রেমে আমি হাবুডুবু খাচ্ছি সে হচ্ছেন আপনি নিজেই।
- কিহ?
- হ্যা, আপনিই সেই ভাগ্যবতী। যাকে প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল আমার ছাত্রী। কিন্তু তখন কি জানতাম যে একদিন সেই হবে আমার রাতের ঘুম হরনকারী? ভালবাসি আপনাকে আমার নিজের থেকেও বেশি।
- ( নিস্তব্ধতা)
- হ্যালো মহিমা শুনতে পাচ্ছেন আমার কথা?
- ( এখনো নিরবতা। ঝড় ওঠার পূর্ব লক্ষন)
- হ্যালো হ্যালো হ্যালো। লাইনটা কি কেটে গেল?
..
হঠাৎই ফোনের অপরপাশ থেকে মহিমার হাসির শব্দ ভেসে এলো। মনে হচ্ছে কোন স্বর্গীয় সুর বহুদূর থেকে ভেসে আসছে। কলিজাটা একেবারে ঠান্ডায় জমে আইসক্রীম হয়ে গেছে।
- বুদ্ধু কোথাকার।
- কে? আমি বুদ্ধু?
- নয়তো কি? দেড়মাস লাগলো তোমার এই কথাটা বলতে? আমি হলে তো সাতদিনের মাথায় বলে দিতাম।
- মানে তুমি কি হবে আমার বই পড়ার সাথী? তুমি হবে রাজা আর আমি রানী। রাখবে কি আমায় মনের কোঠরে?
- বাহ ভালই তো কবিতা বানাতে পারো।
- পারবোই তো। কারণ স্ক্রু ঢিলা কেউ একজন যে আমার প্রেমে পড়েছে। কবিতা না বানালে তো চলবে না।
- ওহ তাই বুঝি?
- হ্যা আমার হাদারাম।
..
জীবনটা বড়ই আনন্দের। আমি ভালই আছি আমার বইয়ের পোকাকে নিয়ে।
..
লেখক : আরমান হোসেন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now