বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩
আংকারা এয়ারপোর্ট।
ভি.ভি.আই.পি. পার্কিং-এ গাড়ি থেকে নামল আহমদ
মুসা।
একজন সামরিক অফিসার ছুটে এসে বলল, ‘স্যার
আসুন।’
আহমদ মুসাকে নিয়ে অফিসারটি লিফটে প্রবেশ
করল।
লিফট তাদেরকে ভি.ভি.আই.পি. লাউঞ্জে নিয়ে
এল।
অফিসারটি আহমদ মুসাকে একটা সোফায় বসিয়ে তার
তিন-চার গজ পেছনে গিয়ে এ্যাটেনশন হয়ে
দাঁড়াল।
মিনিট খানেকের মধ্যেই জেনারেল মেডিন
মেসুদ সেখানে এল। সেনা অফিসারকে যেতে
বলে আহমদ মুসার কাছে এল সে।
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়িয়ে তার সাথে হ্যান্ডশেক
করল। বলল, ‘সালিহা সানেম আসেনি?’
ম্লান হাসল জেনারেল মেডিন মেসুদ। বলল,
‘একদম ছেলে মানুষ। জেদ ধরে বসে আছে।
আমাকে বলেছে, আমি স্যারকে বিদায় দিতে
পারবো না। আমি যাব না এয়ারপোর্টে। এই জেদ
থেকে তাকে নড়াতে পারিনি।’
বলে জেনারেল মেডিন মেসুদ পকেট থেকে
একটা ফোল্ডার বের করে আহমদ মুসার হাতে
দিয়ে বলল, ‘এতে আপনার টিকেট ও বোর্ডিং
কার্ড রয়েছে।’
‘ধন্যবাদ!’ বলে ফোল্ডারটি নিয়ে আহমদ মুসা
হ্যান্ড ব্যাগের পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল,
‘আমার সাথে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের
বৈঠক হয়েছে। সেখানে জেনারেল মোস্তফা
এবং সেনাপ্রধানও ছিলেন। আপনার বিষয়টি নিয়েও
আমি আলোচনা করেছি। আপনি পদত্যাগ করতে
চান, সে কথাও আমি আলোচনা করেছি। তারা
পদত্যাগের সাথে একমত হননি। প্রধানমন্ত্রী
বলেছেন যে, তার তত্বাবধানে সেনা, পুলিশ ও
বাছাইকরা কিছু গোয়েন্দা অফিসারকে নিয়ে ‘অ্যান্টি
টেরোরিস্ট ব্যুরো’ (ATB) নামে একটা
‘অপারেশন সেল’ হচ্ছে, সেখানেই আপনাকে
কো-ডাইরেক্টর হিসাবে নিতে চান। আমি এটাকে
খুব ভালো মনে করেছি।’
‘আমি পদত্যাগ অফার করেছি আমার বিবেকের
তাড়নায়। তবে আমার জন্যে তাঁরা যা ভালো মনে
করছেন, আপনি যা ভালো মনে করছেন, তার
মধ্যেই আমার কল্যাণ আছে বলে আমি মনে
করছি।’ বলল জেনারেল মেডিন মেসুদ।
‘ধন্যবাদ জেনারেল। প্রধানমন্ত্রী শিঘ্রই
আপনাকে ডাকবেন।’ আহমদ মুসা বলল।
জেনারেল মেডিন মেসুদ কিছু বলতে যাচ্ছিল,
কিন্তু বলা হলো না। সালিহা সানেম গট গট করে পা
ফেলে সেখানে এসে হাজির হলো। তার
পরনে তুর্কি সুলতান পরিবারের ঐতিহ্যিক পোষাক।
মুখের একাংশে পাতলা একটা নেকাব।
খুশি হলো আহমদ মুসা। বলল, ‘ধন্যবাদ সালিহা সানেম,
তুমি এসেছ সেজন্য।’
সালিহা সানেম নিজেকে সোফার উপর ছুঁড়ে
দেবার মত ধপ করে বসে বলল, ‘ওয়েলকাম,
স্যার। আমি এসেছি, কিন্তু বিদায় দেবার জন্যে নয়।
একটা কথা বলার জন্যে এসেছি।’
‘কী কথা?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার।
‘আপনি কবে আসবেন, এ ওয়াদা নেবার জন্যে
আমি এসেছি।’ বলল সালিহা সানেম।
হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘ভ্যান অঞ্চলে যে আমি
আসব কখনও ভাবিনি, গতকাল আমি আংকারার আংগোরায়
এসেছি, এটাও আমার ভাবনার অতীত ছিল। এভাবেই
আবার একদিন হয়তো আংকারায় এসে পড়ব। ওয়াদা
আমার নিও না বোন।’
বোন সম্বোধনে কেমন যেন ছায়া নেমে
এসেই যেন আবার মিলিয়ে গেল।
একটু দেরি করল উত্তর দিতে। একটু ম্লান হাসি
ফুটে উঠল মিস সালিহা সানেমের মুখে। বলল সে,
‘বোন বললে তো আসা মাস্ট হয়ে গেল।
তাহলে তো ওয়াদা করতেই হবে।’
‘ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়াটাও বোনের জন্যে মাস্ট।
আমি তোমাকে, জেনারেল সাহেব ও ম্যাডামকে
মদীনায় আমার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এবারই
হজ্জ্বে আসুন। অথবা ওমরার জন্যেও আসতে
পারেন। আমরা খুশি হবো।’ বলল আহমদ মুসা।
‘ভাইয়া ঠিক বলেছেন বাবা। আমরা যাব। তুমি
প্রোগ্রাম কর।’ সালিহা সানেম বলল।
‘আলহামদুলিল্লাহ্। ওর আমন্ত্রণ খুবই মূল্যবান মা।
খুবই আনন্দের হবে আমাদের জন্যে।
হজ্জ্বের স্বপ্ন আমাদের মনে ছিল। সে স্বপ্ন
উনি বাস্তবতায় নিয়ে এলেন। আমরা শীঘ্রই
পারিবারিকভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেব।’ বলল
জেনারেল মেডিন মেসুদ।
‘ওয়েলকাম জেনারেল। আমরা খুবই খুশি হবো।
আমাকে প্লীজ আপনি জানাবেন।’ আহমদ মুসা
বলল।
একটু থেমেই আবার মুখ খুলল আহমদ মুসা। বলল,
‘একটা বিষয় আমি ভেবেছিলাম, কিন্তু বলতে ভুলে
গেছি।’
‘আমি কি সানেম মাকে একটু ঘুরে আসতে বলব?’
জিজ্ঞাসা জেনারেল মেডিন মেসুদের।
‘না, ও থাকলে ক্ষতি নেই। বিষয়টা তেমন কিছু নয়।’
আহমদ মুসা বলল।
বলে একটু থামল আহমদ মুসা। শুরু করল আবার,
‘আপনি কি ভেবেছেন আপনার বৈঠকখানায় আমাদের
আলোচনা ওরা সংগে সংগেই জানতে পারে, যার
ফলে সংগে সংগেই ওরা আক্রমণ করে আমাদের
হত্যার জন্যে। কিভাবে এটা সম্ভর হয়েছে?’
জেনারেল মেডিন মেসুদ বলল, ‘বাড়ির কেউ এটা
ওদের জানিয়েছে বলে সন্দেহ করেন?
কিন্তু…’
জেনারেল মেডিন মেসুদের কথার মাঝখানেই
বলে উঠল আহমদ মুসা, ‘কিন্তু আপনার কথা ঠিকই,
বড়ির কেউ সব কথা শোনেনি। শুনলেও একই
সবকিছু শোনা ও বলা সম্ভব নয়।’
‘তাহলে?’ জিজ্ঞাসা জেনারেল মেডিন
মেসুদের।
‘আমি মনে করি আপনার বাসায় ওরা সিসিটিভি ক্যামেরা ও
ট্রান্সমিটার বসিয়ে রেখেছে। আপনাকে সবসময়
ওরা ওয়াচে রেখেছে এবং আপনার সব কথা-
বার্তাও মনিটর করছে।’
মুখ মলিন হয়ে গেল জেনারেল মেডিন
মেসুদের। বিস্ময়ও নামল তার চোখে-মুখে।
বলল, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন, এটাই ঘটেছে।
ধন্যবাদ আপনাকে। আমি আজই এসব খুঁজে বের
করব। এখনি খবর দিচ্ছি সেনাবাহিনীর আলট্রা
সেন্সর টিমকে।’
‘ওরা কারা বাবা? ওরা তোমাকে অনেক কথা
বলেছে।’ বলল সালিহা সনেম।
বিব্রত জেনারেল মেডিন মেসুদ কিছু বলার
আগেই আহমদ মুসা বলল, ‘ওরা দেশের শত্রু
বোন।’
আহমদ মুসার কথা শেষ হতেই জেনারেল মেডিন
মেসুদ বলল, ‘আর একটা কথা বলতে ভুলে গেছি
মি. আবু আহমদ। মাউন্ট আরারাত অঞ্চলের যে
সেনা অফিসারদের ট্রান্সফার করা হয়েছিল এবং
তাদের জায়গায় যাদের রিপ্লেস করা হয়েছিল,
সেই ট্রান্সফার ও রিপ্লেসমেন্ট বাতিল করার
অর্ডার তৈরি করেছি। কালকেই এটা কার্যকরী
হবে।’
‘না মি. জেনারেল এটা করবেন না। ওদেরকে
আমরা ওদের মত করে চলতে দিতে চাই।
ট্রান্সফার ও রিপ্লেসমেন্ট বাতিল করলে ওরা
বুঝতে পারবে যে, ওদের ষড়যন্ত্র আমরা
ধরতে পেরেছি। তাদের এই ষড়যন্ত্র ধরা
পড়েছে এটা ওদের আমরা জানতে দিতে চাই না।
আমরা দেখতে চাই, কী ষড়যন্ত্র ওরা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান জেনারেল মোস্তফা
সবাই আমার সাথে একমত। এটা আমাদের জন্যে
একটা সুযোগ। এই সুযোগ আপনিই সৃষ্টি করে
দিয়েছেন মি. জেনারেল।’ বলল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসার কথা শেষ হতেই এয়ার লাইন্সের
একজন অফিসার এসে জেনারেল মেডিন
মেসুদকে বলল, ‘স্যার, বোর্ডিং শেষ। স্যারকে
নিতে এসেছি।’
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘চলুন অফিসার।’
হ্যান্ডশেকের জন্য আহমদ মুসা হাত বাড়িয়ে দিল
জেনারেল মেডিন মেসুদের দিকে।
‘সময় খুব তাড়াতাড়িই চলে গেল। আমি কৃতজ্ঞ মি.
আবু আহমদ। আপনার হতে আমার নতুন জন্ম
হয়েছে।’ হ্যান্ডশেক করতে করতে বলল
জেনারেল মেডিন মেসুদ।
‘আমি কিছুই করিনি জেনারেল। যেটা ঘটেছে,
সেটা আপনার তকদির। আল্লাহ্ মানুষের জন্যে
খেদমত চান। আল্লাহ্ আপনার সহায় হোন।’
বলেই আহমদ মুসা তাকাল সালিহা সানেমের দিকে।
হসল। বলল, ‘এবার তুমি বিদায় না জানালেও আমি বিদায়
নেব।’
‘আমি বিদায় জানাব না। তবে বলব আসুন।’ বলল সালিহা
সানেম।
‘এটা বিদায় জানাবারই ভাষা।’ বলল আহমদ মুসা।
হাসল সালিহা সানেম। বলল, ‘আমি পরাজয় স্বীকার
করলাম। জানেন তো মেয়েদের মন নরম।’
‘আল্লাহ্ নরম মন পছন্দ করেন। আল্লাহ্ হাফেজ
বোন।’
বলে সকলের উদ্দেশ্যে সালাম দিয়ে আহমদ
মুসা ঘুরে দাঁড়িয়ে চলতে শুরু করল।
আহমদ মুসার পেছনে চলল এয়ার লাইন্সের
অফিসার। আহমদ মুসা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে।
এরপরও সেদিকে সম্মোহিতের মত তাকিয়ে
আছে সালিহা সানেম।
জেনারেল মেডিন মেসুদ ধীরে ধীরে হাত
রাখল মেয়ের কাঁধে। বলল, ‘চল মা।’
চমকে উঠে পেছন ফিরে তাকাল সালিহা সানেম।
সেই সাথে চোখের অশ্রু মোছার চেষ্টা
করল। বলল, ‘বাবা, ওকে না দখলে আমাদের
পৃথিবী দেখা অসম্পুর্ণ থেকে যেত। পৃথিবীর
মানুষ সম্পর্কে আমার ধারণা পাল্টাতো না। অর্থ ও
এনজয়মেন্টের বাইরে আজকের মানুষ কিছুই
ভাবে না। আমি ওকে বিদায় জানাব কি করে, উনি যে
আমাকে নতুন জীবন দিয়ে গেলেন।’
আবেগে জড়িয়ে গেল শেষের কথাগুলো
সালিহা সানেমের। নতুন করে সিক্ত হলো তার
চোখ দু’টি অশ্রুতে।
‘মা, আমিও জীবনে প্রথম বারের মত এমন
মানুষের মুখোমুখি হলাম। তুমি সব কথা জান না মা। উনি
ইচ্ছে করলে আমার জীবন ধ্বংস করে দিতে
পারতেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি আমাকে নতুন
জীবন দিয়ে গেলেন। কুরআন শরীফে
পড়েছি, আল্লাহ্ বান্দার জন্যে তার দয়াকে
অবশ্যকর্তব্য করে নিয়েছেন। ইনি আল্লাহর সে
ইচ্ছারই একজন সাক্ষাত দূত। অপরাধীরা এদের
স্পর্শেই সোনার মানুষ হয়ে যান। আল্লাহ্ ওকে
দীর্ঘজীবী করুন।’ বলল জেনারেল মেডিন
মেসুদ।
‘ওর পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানি না। কে উনি, ওর
পরিচয় কী?’ জিজ্ঞাসা সালিহা সানেমের।
‘আমিও জানিনা মা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী,
প্রেসিডেন্টও ওকে সমীহ করেন, শ্রদ্ধা
করেন। তার যে কোন কথাই মেনে নেন।
বিস্ময়কর এই মানুষ। তার পরিচয় সম্পর্কে আমিও
কিছুই জানি না।’ বলল জেনারেল মেডিন মেসুদ।
‘এ কারণে আরও কষ্ট লাগছে বাবা।’ বলল সালিহা
সানেম।
‘আমাদের এই কষ্টই ওদের জীবনের সার্থকতা
মা। মানুষকে এভাবে জয় করতে পারার চেয়ে বড়
সার্থকতা আর নেই মা।’
কথা শেষ করেই বলল, ‘চল মা।’ বাবা-মেয়ে
দু’জনেই হাঁটা শুরু করল। আকাশে উড়ল আহমদ মুসার
প্লেন।
‘বাবা, এ প্লেন কি ইস্কান্দারুন হয়ে ভ্যান যাবে?’
বলল সালিহা সানেম।
‘না মা, ভ্যানের জন্যে এটা বিশেষ ফ্লাইট। মি. আবু
আহমদের জন্যে এই ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা
হয়েছে। ভ্যানকে এটা জানিয়েও দেয়া হয়েছে
মি. আবু আহমদ নামে একজন বিশেষ মেহমান
যাচ্ছে এই ফ্লাইটে।’
‘আলহমদুলিল্লাহ্। আল্লাহ্ তার সম্মান বাড়িয়ে দিন।’
বলল সালিহা সানেম। লিফট থেকে নেমে তারা
গাড়ির দিকে এগোলো।
ইজদির-ভ্যান হাইওয়ে ধরে একটা ব্রান্ড নিউ
মাইক্রো ছুটে যাচ্ছে ভ্যানের দিকে।
মাইক্রোটি সেনাবাহিনীর। গাড়ির নাম্বার বলছে
মাইক্রোটি ইজদির সেনা-ডিভিশনের। নাম্বার জিরো
থারটিন।
মাইক্রোতে আরোহী পাঁচজন। ড্রাইভিং আসনে
একজন সেনা ড্রাইভার। মাঝের সীটে দু’জন,
সাধারণ পোষাক পরা লোক।
আর একদম পেছনের সীটে দু’জন সামরিক
অফিসার। চলছে গাড়ি। মাঝের সীটে সাধারণ
পোষাক পরা দু’জন কথা বলছিল। দু’জনের
একজনের পরনে কমপ্লিট স্যুট। অন্যজন
প্যান্টের সাথে জ্যাকেট পরেছে।
স্যুট পরা লোকটি পেছন দিকে সামরিক অফিসারের
পোষাক পরা দু’জনকে লক্ষ্য করে বলল,
‘সাইমন, সোরেন শোন, এটা চুড়ান্ত একটা মিশন।
এতে ব্যর্থ হওয়া যাবে না। তোমরা তাকে মারতে
না পারলে, হয় সে মারবে তোমাদের, না হয়
আমরা মারব তোমাদর। তোমাদের দু’জনের
কোমরের বেল্টে বোমা পাতা আছে। তার
রিমোট কন্ট্রোল আছে আমাদের হাতে।
তোমরা তাকে মারতে ব্যর্থ হলেই তোমাদের
দেহ উড়ে যাবে। আর যদি মারতে পার, তাহলে
শুধু নতুন জীবন পাবে না, পাবে অঢেল টাকা,
দুইজনে পাঁচ মিলিয়ন করে দশ মিলিয়ন ডলার।’
‘স্যার। আমরা মারতে যাচ্ছি, মরতে নয়। এটা নিশ্চিত
হলেই হয় যে, তিনি এই ফ্লাইটে আসছেন। ভ্যান
এয়ারপোর্টে নামছেন, ভিভিআইপি কার পার্কিং-এ তিনি
আসছেন গাড়িতে ওঠার জন্যে। তাহলে সে
নির্ঘাত আমাদের হাতে মরবে যদি ভিভিআইপি কার
পার্কিং-এ ঢোকার আমরা সুযোগ পাই।’ বলল সেনা
অফিসারের পোষাক পরা দু’জনের একজন।
সুটধারীই আবার কথা বলল, ‘যা নিশ্চিত হতে
চাইছো, তা সবই নিশ্চিত। মি. আবু আহমদ এই
ফ্লাইটেই আসছেন। কারণ এ বিশেষ ফ্লাইটটি আবু
আহমদের জন্যেই। এয়ারপোর্টের কী
পয়েন্টে বসা আমাদের লোক আজ সকালেই
এই নিশ্চিত খবরটা দিয়েছে। ক’মিনিট আগেও
জানিয়েছে বিশেষ প্লেনটি এখন মধ্য পথে।
আর ভিভিআইপি লাউঞ্জ থেকে তারা যে এক্সিট
প্ল্যান করেছে এয়ারপোর্টের সিকিউরিটির
লোকরা, সেটাও আমাদের সেই লোকই
যোগাড় করে দিয়েছে। তাকে স্বাগত জানানোর
জন্যে ভিভিআইপি লাউঞ্জে তার সাথে মিলিত হবেন
ভ্যানের পুলিশ প্রধান মাহির হারুন, ড. আজদা, ড. সাহাব
নূরী, সাবিহা সাবিত। তাকে নিয়ে নাম্বার ওয়ান
ভিভিআইপি কার পার্কিং-এ আসবে। এক নাম্বার ট্রাকে
প্রস্তুত আছে তার জন্য গাড়ি। লিফট থেকে তারা
বের হয়ে গাড়ির দিকে এগোবে গাড়িতে ওঠার
জন্যে।
এই এক্সিট প্ল্যানটা নিশ্চিত। আর তোমাদের
এয়ারপোর্টে ঢুকতে কোন অসুবিধা হবে না।
ইজদির পদেশের সেনা ডিভিশনের একজন
জেনারেল কমান্ডিং অফিসারের চিঠি তোমাদের
কাছে থাকবে। চিঠিতে লেখা আছে তিনি তার
একজন আত্শয়াকে রিসিভ করার জন্যে তোমাদের
পাঠিয়েছেন। একজন ভিভিআইপি প্যাসেঞ্জারের
নামও যোগাড় করা হয়েছে প্লেনের যাত্রী
লিস্ট থেকে। ঐ যাত্রীকে যারা রিসিভ করতে
যাবেন, এয়ারপোর্টে ঢোকার মুখে তাদের গাড়ি
আটকাবার ভিন্ন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুতরাং
ভিভিআইপি কার পার্কিং-এ ঢুকতে পারার ব্যাপারটাও
নিশ্চিত।’
‘তাহলে স্যার, আবু আহমদের মৃত্যুর ব্যাপারটাও
নিশ্চিত।’ বলল পেছন থেকে সামরিক অফিসারের
পোষাক পা দ্বিতীয় লোকটি।
‘ধন্যবাদ, এই রকম ডিটারমিনেশনই তো চাই। তবে
আবার সাবধান করে দিচ্ছি, আবু আহমদের রিভলভার
অসম্ভব ক্ষীপ্র। তোমরা যদি আগে তার
চোখে পড়ো, তাহলে তোমরা কিছুই করতে
পারবে না তাকে।’ বলল স্যুট পরা লোকটিই আবার।
‘ধন্যবাদ স্যার। অবশ্যই আমরা সাবধান থাকবো। তবে
জেনে রাখবেন স্যার, স্নেক গ্রুপের আমরা
যারা, তাদের গুলি কখনো মিস হয় না।’ সেনা
অফিসারের পোষাক পরা অন্যজন বলল।
‘ধন্যবাদ!’ বলল মাঝের আসনের স্যুট পরা সেই
লোকটি। সীটে এবার সোজা হয়ে বসল
মাঝের আসনের লোকটি।
ছুটে চলেছে গাড়ি। নিরবতা কয়েক মুহূর্তের।
নিরবতা ভাঙল মাঝের আসনের লোকটি। বলল একটু
ছোট স্বরে, ‘আমি বুঝতে পারছি না আংকারায়
আমাদের পাঁচজন লোক জেনারেল মেডিন
মেসুদের বাড়িতে ঐভারে বেঘোরে মারা পড়ল
কী করে? জেনারেল মেসুদ কি আমাদের
হাতের বাইরে চলে গেল?’
‘সর্বনাশের হোতা এখানেও সেই আবু আহমদ
নামের শয়তান লোকটা। আমাদের লোক যারা
জেনারেলের উপর চোখ রাখছিল, তারা গত পরশু
আমাদের জানায়, আবু আহমদকে জেনারেলের
মেয়ের সাথে জেনারেলের বাড়িতে ঢুকতে
দেখা গেছে। আমরা তখনই বিপদের গন্ধ পাই এবং
ঘটনা মনিটর করতে বলি। পরে রাতেই তারা আবার
যোগাযোগ করে। তারা জানায় যে, আবু আহমদ
জেনারেলের মেয়েকে গুন্ডাদের হাত
থেকে রক্ষা করে তাকে পৌঁছে দেবার
জন্যেই জেনারেলের বাড়িতে এসেছে।
জেনারেলের মেয়েকে কিডন্যাপ করা
হয়েছিল। জেনারেলের সাথে আবু আহমদের
যে কথা-বর্তা হয়েছিল তার বিষয়বস্তু ছিল
গুন্ডাদের হাত থেকে তার মেয়েকে উদ্ধার
সম্পর্কে। এথেকে প্রাথমিক আশংকা আমাদের
কেটে যায়। আরপর কি হলো আর জানা যায়নি।
কিন্তু হঠাৎই গতকাল বেলা ১২ টার দিকে খবর
আসে, আমাদের পাঁচজন লোক জেনারেলের
বাসভবনে নিহত হয়েছে। তাঁরা জানায়, আমাদের
আংগোরা ঘাঁটি প্রধানের নেতৃত্বে ঘাঁটির চারজন
লোক তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যায় সকাল সাড়ে ১০
টার দিকে। তাদের নিহত হবার খবর আসে বেলা ১২
টায়। পরে রহস্য পরিষ্কার হয়ে যায়। ক্লোজ
সার্কিট ক্যামেরা ও ট্রান্সমিটার মনিটর থেকে জানা
গেছে সব ব্যাপার। জেনারেলের সাথে
আমাদের গোপন সম্পর্কের বিষয়টি আবু আহমদ
জানতে পেরেছিল আগেই। আবু আহমদের
সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদে জেনারেল সব কিছু স্বীকার
করে বসে। এটুকুই শুধু জানা গেছে। তবে
সিসিটিভিতে দেখা গেছে, আমাদের লোকদের
আবু আহমদ কিভাবে খুন করেছে। সম্ভবতঃ
জেনারেল আবু আহমদের জিজ্ঞাসাবাদে সব ফাঁস
করে দিলে আমাদের লোকরা জেনারেল ও
আবু আহমদকে হত্যার জন্যেই ওখানে তাড়াহুড়া
করে ছুটে যায়। সিসিটিভি’র রিপোর্টে দেখা
গেছে, আমাদের লোকরা আবু আহমদ,
জেনারেল ও ওখানে উপস্থিত সবাইকেই টার্গেট
করেছিল।’ দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে থামল স্যুট পরা
লোকটি।
‘তাহলে জেনারেল বিশ্বাসঘাতকতা করেছেই
দেখা যাচ্ছে।’ বলল জ্যাকেট পরা লোকটি।
‘আবু আহমদের কাছে ধরা পড়ার পর সে গড় গড়
করে সব বলে দিয়েছে।’ স্যুট পরা লোকটি
বলল।
‘আবু আহমদকে জেনারেলের ওখানেই মারতে
পারলে ভালো হতো। আমাদের লোকরা সে
চেষ্টাই করেছিল। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ
হয়েছে। আবু আহমদ নিশ্চয় ইতিমধ্যেই জানতে
পেরেছে সব কিছু এবং তা সরকারকে জানিয়ে
দিয়েছে। এখন তাকে মেরে সেই ফলতো
আমরা পাবো না।’ বলল জ্যাকেটওয়ালা।
‘আবু আহমদ দুনিয়ায় না থাকলে সরকার সবকিছু
জানলেও আমাদের কোন ক্ষতি হবে না। সরকার
আমাদের কিনে ফেলা ও দুর্নীতিবাজ সেনা, পুলিশ
ও গোয়েন্দাদের দিয়ে আমাদের আট-ঘাট বাধা
পরিকল্পনাকে বাধা দিতে পারবে না। শুধু চাই আমরা
এখন আবু আহমদের মৃত্যু।’ স্যুট পরা লোকটি
বলল।
এয়ারপোর্টের প্রবেশ পথে এসে পড়েছে
গাড়ি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now