বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কথা শেষ করতে পারল না সালিহা সানেম। আবেগে
তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল। অশ্রুসিক্ত চোখ তার
অশুতে আবার ভরে গেল।
ড্রইংরুমে প্রবেশ করল এক পরিচারিকা। বলল সালিহা
সানেমকে, ‘ছোট ম্যাডাম, সাহেব এসেছেন।
আসছেন তিনি।’
চলে গেল পরিচারিকা। সালিহা সানেম তাড়াতাড়ি চোখ
মুছল।
ঘরে ঢুকল জেনারেল মেডিন মেসুদ।
জেনারেলের পোষাক তার পরনে। আহমদ মুসা
উঠে দাঁড়াল তার সাথে হ্যান্ডশেক করার জন্যে।
কিন্তু জেনারেল মেডিন মেসুদ হ্যান্ডশেক নয়,
জড়িয়ে ধরল আহমদ মুসাকে। বলল, ‘আপনি
আত্মীয়ের চেয়ে বড় আত্মীয় আমার।
আপনাকে স্বাগত।’
সোফায় বসতে বসতে জেনারেল মেডিন মেসুদ
বলল, ‘দুঃখিত আমি, মি. আবু আহমদ। আমি সময়
দিয়েও থাকতে পারিনি। অফিসে জরুরি কাজ
পড়েছিল।’
বলেই তাকাল মেয়ে সালিহা সানেমের দিকে।
বলল, ‘ধন্যবাদ মা, তুমি মেহমানকে এ্যাটেন্ড
করেছ। চা-টা দিয়েছ মেহমানকে?’
‘জ্বী, আমি নিষেধ করেছি। আমি আপনার
অপেক্ষা করছি।’ আহমদ মুসা বলল।
উঠে দাঁড়াল সালিহা সানেম। বলল, ‘বাবা তোমরা কথা
বল। আমি ওদিকে দেখছি।’ ড্রইং থেকে
বেরিয়ে গেল সালিহা সানেম।
‘ধন্যবাদ স্যার। আমাকে সময় দেবার জন্যে।’ বলল
আহমদ মুসা।
‘মি. আবু আহমদ এই সৌজন্যের দরকার নেই।
বলেছি, আপনি আমার আত্মীয় হয়ে গেছেন।
আপনি আমার পরিবারের একজন।’ জেনারেল
মেডিন মেসুদ বলল।
‘ধন্যবাদ আপনার এই শুভেচ্ছার জন্যে।’ বলল
আহমদ মুসা।
‘নিশ্চয় আপনার কিছু কথা আছে। বলুন মি. আবু
আহমদ।’ জেনারেল মেডিন মেসুদ বলল।
সংগে সংগেই আহমদ মুসা কিছু বলল না। ভাবল, সরাসরি
কথাটা পাড়বে, না কৌশলের আশ্রয় নিয়ে সবকিছু
জানার চেষ্টা করবে। আহমদ মুসার মন বলল,
জেনারেলের মন যে অবস্থায় আছে, তাতে
সরাসরি কথায় আসা যায়। সত্যের একটা শক্তি আছে।
এসব ভেবে আহমদ মুসা বলল, ‘স্যার, কিছু জানার
আগে আমার সম্পর্কে বলতে চাই। আমি পুলিশের
লোক নই, আমি সেনাবাহিনীর লোক নই,
কোন গোয়েন্দা বিভাগের লোকও নই। আমি
শখের গোয়েন্দাও নই। আমি একজন স্বাধীন
মানুষ। তবে নিজ ইচ্ছায় অথবা কোন আহবানে সাড়া
দিয়ে কাউকে বা কোন দেশকে সাহায্য করতে
আমি ভালোবাসি। এ রকম একটা কাজ নিয়ে আমার
এখানে আসা।’
‘সত্য ও সুন্দর পরিচয়ের জন্যে আপনাকে
ধন্যবাদ। বলুন কী কাজে এসেছেন? আমি কী
সাহায্য করতে পারি?’ বলল জেনারেল মেডিন
মেসুদ।
‘আপনার সম্পর্কে কিছু কথা জানতে চাই।’ বলল
আহমদ মুসা।
‘বলুন কী কথা?’ জিজ্ঞাসা জেনারেল মেডিন
মেসুদের।
‘এক বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে তুরস্কের শত্রু
একটা সন্ত্রাসী সংগঠনের ট্র্যাপে পড়েছেন
আপনি।’ ধীর, শান্ত, শক্ত কণ্ঠে বলল আহমদ
মুসা।
কথাটা শুনে চমকে উঠল না জেনারেল মেডিন
মেসুদ। ধীরে ধীরে চোখ তুলে একবার
তাকাল আহমদ মুসার দিকে। দেখল তার মুখভাবে
তেমন কোন পরিবর্তন নেই। আবার মুখ নিচু করল
মেডিন মেসুদ।
বেশ সময় নিল সে কথা বলতে। একসময় মুখ
তুলে সে বলল, ‘আমার উত্তর ‘না’ হলে আপনার
কাজ কি হবে, আর ‘হ্যাঁ’ হলে আপনি কী
করবেন?’
‘উত্তর ‘না’ হলে আমাকে আরও অনুসন্ধান করতে
হবে। আর ‘হ্যাঁ’ হলে আমি পরবর্তী কাজে হাত
দেবার চেষ্টা করবো।’ আহমদ মুসা বলল।
‘আমার কথা জানার আগে আপনি কি বলবেন, আপনি
কতটা জানতে পেরেছেন?’ জিজ্ঞাসা জেনারেল
মেডিন মেসুদের।
‘মি. জেনারেল স্যার, মিসেস অ্যানোস আব্দুল্লাহ
গাজেনের ডায়েরি থেকে আমি সবকিছুই জানতে
পেরেছি। ডায়েরিতে আপনার নাম ছিল না। সে
নামও যোগাড় হয়েছে।’ আহমদ মুসা বলল।
‘তাহলে তো আপনার সবকিছুই জানা হয়ে গেছে।
আর কী জানতে চান?’ বলল জেনারেল মেডিন
মেসুদ।
‘স্যার, দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে আপনার সাহায্য
চাই।’ আহমদ মুসা বলল।
‘সেটা কী?’ জেনারেল মেডিন মেসুদ বলল।
‘উল্কি চিহ্নধারী, যারা মিসেস অ্যানোস আব্দুল্লাহ
গাজেনকে তাদের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য
করেছিল, যারা আপনাকে ট্র্যাপে ফেলেছিল, যারা
এখন মাউন্ট আরারাত অঞ্চলে, বলতে গেলে
গোটা পূর্ব আনাতোলিয়া জুড়ে এক শ্রেণীর
লোককে উচ্ছেদ করে, অস্থানীয় এক
শ্রেণীর লোককে বসাচ্ছে, তারা কারা? এটাই
আমার প্রথম জানার বিষয়।’ আহমদ মুসা বলল।
ভাবছিল জেনারেল মেডিন মেসুদ। তার কপালে
কয়েকটা ভাঁজের সৃষ্টি হয়েছে। একটা
দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল মুখ দিয়ে। বলল, ‘মানবিক
দুর্বলতার কারণেই আমি ওদের ট্র্যাপে পড়ি। আমি
মিসেস আ্যানোস আব্দুল্লাহর অসহায়ত্ব দেখে
সব বুঝেছিলাম। আমি তাকেও বাঁচাতে পারিনি, আমিও
বাঁচতে পারিনি। চাকুরীকে আমি ভয় করি না,
শাস্তিকেও নয়। কিন্তু ভয় করেছি আমার পরিবারের
বিপর্যয়কে। আমি ওদের বিরুদ্ধে কোন
এ্যাকশনে যেতে পারিনি এ কারণেই। ওরা আমাকে
ওদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে।
আমার অফিসে, আমার চার পাশেও অনেক দালাল
সৃষ্টি করেছে। আমি ভয় করছি, আপনি এখানে
এসেছেন, এটাও ওদের নজরে পড়বে।’ থামল
জেনারেল মেডিন মেসুদ।
ভ্রু কুচকে গেল আহমদ মুসার। বলল, ‘আমি
এখানে এটাও কি ওদের নজরদারিতে পড়বে?
এতটাই ক্লোজভাবে ওরা ওয়াচ করছে
আপনাকে?’
‘শুধু আমাকে নয়, যাদেরকে ওরা ব্যবহার করে
প্রত্যেককেই ওয়াচে রাখে। অতি সম্প্রতি আমার
প্রতি ওয়াচ তাদের বেড়েছে। আমি তাদের
অনেক কিছু জানি বলেই হয়তো অথবা ওরা বড় কিছু
করতে যাচ্ছে। সে কারণেই তাদের এই বাড়তি
সতর্কতা।’
একটু থামল জেনারেল মেডিন মেসুদ। টিপয়ে রাখা
গ্লাসের পানি থেকে এক ঢোক পানি গিলে বলল,
‘আপনাকে কি ওরা চেনে?’
‘চেনাই স্বাভাবিক। অনেক কয়টা এনকাউন্টার ওদের
সাথে আমার হয়েছে। তবে কতটুকু জানে, সবাই
চেনে কিনা, তা আমি জানি না।’ আহমদ মুসা বলল।
‘তাহলে আপনার পরিচয় ওদের সবার কাছে আছে
অবশ্যই। এটাই ওদের নিয়ম।’ বলল জেনারেল
মেডিন মেসুদ।
‘তাহলে আমি এখানে এসেছি তা ওদের নজরে
পড়েছে বলছেন?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার।
‘আমার তাই মনে হয়।’ জেনারেল মেডিন মেসুদ
বলল।
‘ঠিক আছে। এতোটা আমি ভাবিনি। সাবধান হতে
হবে। এবার প্লিজ বলুন আমি যা জানতে চেয়েছি।’
বলল আহমদ মুসা।
মুহূর্তের জন্য চোখ বুজল জেনারেল মেসুদ।
তারপর সোজা হয়ে সোফায় বসল। বলল, ‘ওরা
ওদের পরিচয় সম্পর্কে কোন সময়ই কিছু
বলেনি। তবে আব্দুল্লাহ গাজেনের কাছ থেকে
আমি জেনেছি, এখন ওরা দুই সংগঠন এক সাথে
কাজ করছে। একটা হলো ‘সোহা’, মানে Son of
Holy Ararat (SOHA), আর একটা ‘Lover of
Holy Ararat’, সংক্ষেপে, ‘হোলি আর্ক গ্রুপ’
বলে এরা নিজেদের পরিচয় দেয়। এদের মধ্যে
‘সোহা’ সংগঠনটি কোন একটা রাজনৈতিক লক্ষ্যে
কাজ করছে। আর ‘হোলি আরারাত’ বা ‘আর্ক’
গ্রুপটা ক্রিমিনাল সংগঠন। শুনেছি নুহ (আঃ)- এর নৌকার
গুপ্তধন উদ্ধারের জন্যে এরা কাজ করছে। এই
দুই সংগঠন কেন একত্রিত হলো, এটা অজানা রহস্য।
‘সোহা’ কী রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্যে
কাজ করছে, এটাও আমার কাছে স্পষ্ট নয়।’
‘পূর্ব আনাতোলিয়ার কয়েকটি প্রদেশে বিশেষ
করে মাউন্ট আরারাত অঞ্চলে মাদক ব্যবসার ফাঁদ
পেতে ওরা শত-শত সৎ ও দেশপ্রেমিক
মানুষকে জেলে পুরেছে, বহু পরিবারকে তারা
বিরান করেছে এবং নতুন বসতি নিয়ে আসছে তারা
এই অঞ্চলে। এ সম্পর্কে, এর উদ্দেশ্য
সম্পর্কে আপনি কী জানেন?’ জিজ্ঞেস করল
আহমদ মুসা।
‘এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ভ্যান অঞ্চলে
আমি বেশ কিছু দিন যাই নি।’ বলল জেনারেল
মেডিন মেসুদ।
‘ওদের সাথে সর্বশেষ যোগাযোগ আপনার
কবে হয়েছে?’ জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা।
সংগে সংগে জবাব দিল না জেনারেল মেডিন
মেসুদ। নতুন একটা ভাবনার রেখা তার চোখে-
মুখে। বলল একটু সময় নিয়ে, ‘সাত দিন আগে ওরা
এসেছিল।’
‘কোথায় এসেছিল? বাসায় না অফিসে?’ বলল
আহমদ মুসা।
‘ওরা অফিসে যায় না। বাসায় এসেছিল।’ জেনারেল
মেডিন মেসুদ বলল।
‘এই সময় তো ওদের ক্রাইসিস ঐ অঞ্চলে। সে
সব কোন বিষয় নিয়ে কি তারা এসেছিল?’ আহমদ
মুসার জিজ্ঞাসা।
‘ওরা এসেছিল একটা গুরুত্বপূর্ণ দাবী নিয়ে।’
জেনারেল মেডিন মেসুদ বলল।
‘কী সেটা?’ বলল আহমদ মুসা।
‘তারা ইজদির, আগ্রি, ভ্যান, কারস প্রভৃতি প্রদেশে
মোতায়েন করা সেনা অফিসারদের একটা তালিকা
নিয়ে এসেছিল। এই মুহূর্তে ওদের ট্রন্সফার
চেয়েছিল এই প্রদেশগুলোএ বাইরে কোথাও।
সেই সাথে তারা এসেছিল সেনা অফিসারদের
আরেকটি তালিকা। তাদের দাবী ছিল ওদের
ট্রান্সফার করার পর ঐ শূন্য স্থানগুলো তাদের
মনোনীত সেনা অফিসারদের দ্বারা পূরণ
করতে।’ ভ্রূ কুচকে গেল আহমদ মুসার।
‘কেন তারা চেয়েছে এটা? কিছু বলেছে তারা?’
‘না বলেনি।’ জবাব জেনারেল মেডিন মেসুদের।
‘বদলি এবং নতুন নিয়োগগুলো কি হয়ে গেছে?’
জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার।
‘না, আমি সব ট্রান্সফারে রাজী হইনি। তাদের
প্রচন্ড চাপ ও ভয় দেখানো সত্বেও আমি ইজদির
প্রদেশ সব এবং আগ্রি ও কারস প্রদেশের
দু’একটা ট্রান্সফারে রাজী হয়েছি।’ জেনারেল
মেডিন মেসুদ বলল।
‘তাহলে ওদের দেয়া তালিকা অনুসারে ইজদির
প্রদেশের সব ট্রান্সফার হয়ে গেছে?’ বলল
আহমদ মুসা।
‘না, তারা কোন টাইম লিমিট দেয়নি। কিন্তু
‘অবিলম্বে’ করতে হবে এই দাবী ছিল।’
আহমদ মুসার কপালের ভাঁজ আরও গভীর হলো।
ভাবছিল আহমদ মুসা। তাদের এই ট্রান্সফার চাওয়া এবং
তাদের পছন্দমত লোক বসানোর অর্থ হলো
সেনা বিরোধিতা পরিহার করা অথবা সেনা সহায়তা লাভ
করা। কিন্তু কেন? তারা পুলিশের ক্ষেত্রে এমন
ধরনের কিছু করেনি তা নিশ্চিত। কিন্তু কেন
করেনি? হঠাৎ আহমদ মুসার অবচেতন মনের
কোন অতল থেকে একটা প্রবল জিজ্ঞাসা
ভেনে এলো। তাহলে কি বড় ধরনের এমন কিছু
করতে চাচ্ছে যাতে সেনা সহযোগিতা অপরিহার্য?
সেটা বিদ্রোহ ধরনের কোন কিছু যেখানে
পুলিশের তেমন কিছু ভূমিকা পালনের নেই? চিন্তার
মধ্যে ডুবে গিয়েছিল আহমদ মুসা।
জেনারেল মেডিন মেসুদ বলল, ‘কী ভাবছেন
মি. আবু আহমদ?’
‘ভাবছি, ওরা অপছন্দের সেনা অফিসারদের ট্রান্সফার
ও পছন্দের সেনা অফিসারদের সেখানে এনে
কী করতে চায়, কী তাদের টার্গেট, এটাই
ভাবছিলাম।’ বলল আহমদ মুসা।
‘এলাকায় কিছু কাজ তারা বাগিয়ে নিতে চায়, এটাই আমি
মনে করেছিলাম।’ বলল জেনারেল মেডিন
মেসুদ।
‘সেটাই ভাবা যেত যদি ট্রান্সফার ও
রিপ্লেসমেন্টের ঘটনা এক, দুই বা কিছু জায়গায়
হতো বিচ্ছিন্নভাবে। কিন্তু তা হয়নি। তারা দেশের
একটা অঞ্চলের চার-পাঁচটি প্রদেশ থেকে
সরিয়ে দেশপ্রমিক সেনা অফিসারদের একখানে
আনতে চায়, তাদের আজ্ঞাবহদের এলাকায়। এ
ধরনের আয়োজন কিছু কাজ বাগিয়ে নেয়ার
জন্যে হতে পারে না। আমার ধারণা, এর সাথে
রাজনৈতিক বা ভূখন্ডগত স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে।’
আহমদ মুসা বলল।
চমকে উঠল জেনারেল মেডিন মেসুদ।
তার চোখের দৃষ্টিও চঞ্চল হয়ে উঠেছে।
বলল, ‘মি. আবু আহমদ, আপনি সাংঘাতিক বিষয়ের
দিকে ইংগিত করেছেন। তারা যে দাবী করেছে,
একটা প্রদেশে তারা সে দাবী আদায় করে
নিয়েছে। তার লক্ষ্য যে, আপনি যা বলেছেন,
ঐ ধরনের কিছু হতে পারে তা আমি ভাবতেও পারিনি।
আপনি ঠিকই বলেছেন। কিন্তু সেটা কী? তারা
তো কোন রাজনৈতিক দল নয়। কোন রাজনৈতিক
দলের সাথে তাদের সম্পর্ক আছে বলেও জানি
না। আর ভূখন্ডগত লক্ষ্য অর্জনের ব্যপারটাতো
আরও বড়।’ জেনারেল মেডিন মেসুদের কণ্ঠে
চিন্তার সুর। মুখে তার উদ্বেগের চিহ্ন।
‘কিন্তু এমন হতে পারে আমরা হয়তো যা চিন্তা
করতে পারছি না, এমন কিছু তো থাকতে পরে,
ঘটতেও পারে। মাদক ব্যবসায়ের ফাঁদে ফেলে
যাদের জেলে পাঠানো হচ্ছে, যাদের উচ্ছেদ
করা হচ্ছে এবং যাদের সেখানে বসানো হচ্ছে,
দেখা যাচ্ছে তারা দুই শ্রেণীর মানুষ। ‘সোহা’ ও
‘হোলি আর্ক গ্রুপ’ সংগঠনগুলোর লোকজন এবং
যাদের মাউন্ট আরারাত অঞ্চলে বসানো হচ্ছে,
তারা দেখা যাচ্ছে আর্মেনীয় অরিজিন। তারপর তারা
মাউন্ট আরারাতের উল্কি পরে। কিন্তু কেন? এই
‘কেন’-এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের
যেতে হবে সীমান্তের ওপারে আর্মেনিয়ায়।
আর্মেনীয়দের ধর্মীয় জীবন শুধু মাউন্ট
আরারাত কেন্দ্রিক নয়, মাউন্ট আরারাত কেন্দ্রিক
তাদের একটা রাজনৈতিক দর্শনও আছে।
আর্মেনীয়রা বলে প্লাবন সরে গেলে হযরত
নূহ (আঃ)- এর কিস্তি যখন মাউন্ট আরাতের উপর
এসে দাঁড়ালো, তখন প্লাবন থেকে জেগে ওঠা
প্রথম ভূখণ্ড হিসাবে আর্মেনিয়ার রাজধানী
‘ইয়েরেভেন’কে তিনি দেখতে
পেয়েছিলেন। এই দেখতে পাওয়া থেকেই
হযরত নূহ (আঃ)-এর নাম দিয়েছেন
‘ইয়েরেভেন’। ‘ইয়েরেভেন’ অর্থ ‘দেখা
গেছে’। আর্মেনীয়রা মনে করে থাকে,
হযরত নূহ (আঃ) নিজেই মাউন্ট আরারাত ও
আর্মেনিয়াকে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ করে
গেছেন। এ ছাড়া তারা বলে মাউন্ট আরারাত সন্নিহিত
গোটা অঞ্চল নিয়ে ছিল আর্মেনীয়দের
‘ওরারতু’ সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের নাম থেকে
মাউন্ট আরারাতের নামকরণ করা হয়। সুতরাং ধর্মীয় ও
রাজনৈতিক উভয় দিক দিয়েই মাউন্ট আরারাত সন্নিহিত
গোটা অঞ্চল আর্মেনীয়দের। তারা নিজেদের
সেই ‘ওরারতু’ সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী মনে
করে। কে জানে আপনার কথিত ‘সোহা’ ও
‘হোলি আর্ক গ্রুপ’ কোন লক্ষ্যে কাজ
করছে। তবে আমি এটুকু জানি উল্কিওয়ালারা
আর্মেনিয়ার অতিপ্রাচীন উগ্র জাতীয়তাবাদী
একটা গ্রুপ। তারা গ্রেটার আর্মেনিয়ার জন্যে কাজ
করে আসছিল। আমি জানি না, ‘সোহা’ ও ‘হোলি
আর্ক গ্রুপ’ এর উল্কিওয়ালারা সেই উল্কিওয়ালাদের
উত্তরসূরী কিনা!’ দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে থামল
আহমদ মুসা।
জেনারেল মেডিন মেসুদ স্তম্ভিত চোখে
চেয়েছিল আহমদ মুসার দিকে। বলল, মি. আবু
আহমদ, আপনি অদ্ভুত এক ইকুয়েশন করেছেন।
যা মিলে গেছে উদ্ভুত পরিস্থিতির সাথে। আমি
বিস্মিত হয়েছি। আপনি তুরস্কের সাথে আর্মেনিয়ার
সংঘাতের অত্যন্ত গভীরে প্রবেশ করেছেন।
প্রফেশনাল প্রয়োজনেই সামরিক একাডেমিতে
আমাকে দেশের ইতিহাস ও প্রতিবেশীদের
সাথে সম্পর্কের ইতিহাস পড়তে হয়েছে। কিন্তু
ইকুয়েশনটা এভাবে আমাদের সামনে আসেনি।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। মাউন্ট আরারাত ও
আর্মেনিয়া সম্পর্কে যা বলেছেন তাতো
সত্যই। ওরারতু সাম্রাজ্য সম্পর্কে যা বলেছেন তা
যে সত্য তার প্রমাণ আমাদের সামনেই রয়েছে।
‘হোলি আর্ক গ্রুপ’- এর তুরস্কের চীফ যিনি তার
নাম ‘ওরান্ত ওরারতু’। অর্থাৎ, ‘ওরারতু সাম্রাজ্য তারা
ফিরিয়ে আনতে চায়’- আপনার এ কথা সত্য।’ বলে
একটু থামল জেনারেল মেডিন মেসুদ।
গম্ভীর হয়ে উঠল তার মুখ। সে মুখে
অপরাধবোধের একটা চিহ্ন। বলল ধীর কণ্ঠে,
‘আমি জানি না তারা দেশের কী সর্বনাশ করার
জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে। আমি তাদের সহযোগিতা
করেছি, এখনও করছি। এখন বলুন আমি কী
করতে পারি?’
‘জেনারেল মেডিন মেসুদ, শুধু আপনি কেন,
এমন শত শত মানুষকে বিভিন্নভাবে ট্রাপে ফেলে
ওরা ব্ল্যাকমেইলিং করছে। ওদের ষড়যন্ত্র বানচাল
করে ওদের শাস্তি দেয়ার মাধ্যমেই শুধু ওদের
এই কালো থাবা থেকে দেশের মানুষকে
বাঁচানো সম্ভব। আপনি সাহায্য করেছেন। ওদের
পরিচয় আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। এখন
ওদের কোন ঠিকানা অথবা ওদের কোন
কনট্যাক্ট সূত্র আমাদের পাওয়া দরকার যাতে বড়
কিছু ঘটে যাওয়ার আগেই ওদের পাকড়াও করা যায়।’
আহমদ মুসা বলল।
‘আমি ওদের কোন ঠিকানা কোন দিন পাইনি।
টেলিফোন নাম্বারও না। তবে অ্যানোস
আব্দুল্লাহ্ গাজেন কি এক প্রেক্ষাপটে আমাকে
ওদের একটা কনট্যাক্ট পয়েন্ট দিয়েছিলেন। আমি
কোন দিন সেটা খতিয়ে দেখতে চেষ্টা করিনি।
সেটা হলো…।’
কথা শেষ করতে পারলো না জেনারেল মেডিন
মেসুদ।
‘বাবা, তোমরা সাবধান! সাবধান! ওরা প্রহরীদের
মেরে ফে…।’ চিৎকার করে কথাগুলো বলতে
বলতে ড্রইংরুমে প্রবেশ করল সালিহা সানেম।
কিন্তু সে কথা শেষ করতে পারল না। তার আগেই
প্রচণ্ড শব্দে খুলে গেল দরজা। হুড়মুড় করে
ঘরে প্রবেশ করল জনা পাঁচেক লোক। ওদের
হাতে উদ্যত রিভলভার।
ওদের রিভলভার তাক করেছে জেনারেল মেডিন
মেসুদ ও আহমদ মুসা দু’জনকেই।
আহমদ মুসা ও জেনারেল মেডিন মেসুদ দু’জনেই
উঠে দাঁড়িয়েছিল।
ঘটনাটা তাদের কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতই
আকস্মিক।
আহমদ মুসার হাত দু’টি মাথা পর্যন্ত উঠেছিল। ওরা হাত
তুলতে নির্দেশ দেয়নি তখনও। মনে হবে যেন
আহমদ মুসা ভয়েই আগাম হাত তুলে ফেলেছে।
আসল ব্যাপার হলো, আহমদ মুসার সাথের একমাত্র
রিভলভারটা রয়েছে মাথার পছনে জ্যাকেটের
গোপন পকেটে আটকানো। আরও একটা
রিভলভার পকেটে ছিল। সেটা সিকিউরিটির লোকজন
গেটেই রেখে দিয়েছে।
ড্রইংয়ে ঢুকেই ওদের একজন চিৎকার করে
জেনারেল মেডিন মেসুদকে লক্ষ্য করে
বলল, ‘বিশ্বাসঘাতক, আমাদের সাথেও গাদ্দারী
করলি? আমাদের শত্রু এক শয়তানকে আমাদের সব
কথা বলে দিলি? এতক্ষণ তোর লাশ ফেলে দিতাম।
কিন্তু সময় নিলাম এই কথা বলার জন্যে যে, তুই
আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলি, কিন্তু তাতে
লাভ হলো না। কারণ যে শয়তানকে সব কথা
বলেছিস, তাকেও তোর সাথেই যেতে হবে
পরপারে।’
বলে হো হো করে হেসে উঠল লোকটি।
বলল, ‘মনে করেছিলি চারদেয়ালের ভেতর
ষড়যন্ত্র করবি, কেউ জানতে পারবে না। কিন্তু
জানিস না তোকেও আমরা সার্বক্ষণিক পাহারায়
রেখেছি। তোর বাড়ির ড্রইংরুমসহ কয়েকটি
স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাসহ ট্রান্সমিটার পতা
রয়েছে। তোর সব কথা সব দৃশ্যই আমাদের
কাছে পৌঁছে যায়।’ একটু থামল লোকটি।
তাকাল সে ড্রইং রুমের ভেতরের দরজায় দাঁড়ানো
সালিহা সানেমের দিকে। বলল, ‘ভালোই হলো
জেনারেল। তোর প্রাণ-ভোমরা অতিব আদরের
একমাত্র সন্তানও হাজির। সেই প্রাণ-ভোমরা
চোখের সামনে গুলি খেয়ে ঢলে পড়তে
দেখলে তোর কেমন লাগবে?’ বলেই
রিভলভারের নল সে সালিহা সানেমের দিকে
ঘুরিয়ে নিল।
‘নিরস্ত্র একজন মহিলাকে মারতে আপনাদের
লজ্জা হচ্ছে না।’ বলল আহমদ মুসা।
‘তাহলে শয়তান তোকে দিয়েই শুরু করি।’ বলে
রিভলভারের নল সে ঘুরিয়ে নিচ্ছিল।
আহমদ মুসার মাথা পর্যন্ত তোলা হাত দু’টো মাথার
পেছন পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। লোকটির কথার
রেশ বাতাসে মেলাবার আগেই তার ডান হাত মাথার
পেছন থেকে রিভলভার টেনে নিয়েই হাতটা
সামনে এনেই গুলি করল লোকটির ঠিক কপাল
লক্ষ্য করে।
গুলি করেই আহমদ মুসা বাঁ দিকে মেঝের উপর
ঝাঁপিয়ে পড়ল। কিন্তু তার চোখ এবং রিভলভার ধরা
হাতটা লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি।
অন্য চারজন ইতিমধ্যে আহমদ মুসাকে টার্গেট
করে ফেলেছিল। গুলি তারা করল। কিন্তু ততক্ষণে
আহমদ মুসার দেহটা মাটিতে গিয়ে পড়েছে। চারটি
গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পেছনের দেয়ালে গিয়ে
আঘাত করল।
আহমদ মুসা মাটিতে পড়েই রিভলভারের ট্রিগার
চেপে ধরেছিল। স্বয়ংক্রিয় রিভলভার থেকে
একের পর এক বেরুতে লাগল গুলি। আহমদ মুসা
শুধু তার রিভলভারের নলটাকে অবশিষ্ট চারজনের
উপর দিয়ে ঘুরিয়ে নিল। ওদিকে ওরা চারজন প্রথম
গুলি করার পর দ্বিতীয় গুলির জন্যে রিভলভারের
নল ঘুরিয়ে নিচ্ছিল নতুন টার্গেটের দিকে। কিন্তু
দ্বিতীয় গুলি করার পজিশনে পৌঁছার আগেই আহমদ
মুসার স্বয়ংক্রিয় রিভলভারের চারটি গুলি ওদের
চারজনকে শিকার করে ফেলল।
ড্রইংরুমের ভেতরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা সালিহা
সানেম যেন পাথর হয়ে গিয়েছিল।
আর বিমূঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল জেনারেল মেডিন
মেসুদ। তার পরনে জেনারেলের ইউনিফর্ম।
কিন্তু সে সশস্ত্র ছিল না। আহমদ মুসার সাথে
আলোচনায় বসার আগেই রিভলভার রেখে
এসেছিল।
গুলি খেয়ে শেষ চারজনকে পড়ে যেতে
দেখল জেনারেল মেডিন মেসুদ। তাকাল সে
আহমদ মুসার দিকে। আহমদ মুসাএ হাতে রিভলভার।
তখনও মেঝে থেকে ওঠেনি সে।
জেনারেল মেডিন মেসুদ ছুটে গেল আহমদ
মুসার কাছে। বলল, ‘আমি ঠিক আছেন তো মি.
আবু আহমদ?’
‘আল হামদুলিল্লাহ। আমি ঠিক আছি জেনারেল।’
জেনারেল মেডিন মেসুদ জড়িয়ে ধরল আহমদ
মুসাকে। বলল, ‘ধন্যবাদ আবু আহমদ। গতকাল আমার
মেয়েকে বাঁচিয়েছেন। আজ আবার আমাদের
দুজনকেই বাঁচালেন। আল্লাহ্’র হাজার শোকর।’
জেনারেল মেডিন মেসুদ আহমদ মুসাকে
টেনে এনে বসাল সোফায়।
এই সময় সিকিউরিটির লোকেরা দৌড়ে এসে ঘরে
ঢকল। একজন অফিসার পাঁচটি লাশের দিকে একবার
তাকিয়ে বলল, ‘স্যার, আপনারা ভলো আছেন
তো? স্যার, গেটের তিন জন সিকিউরিটিকে
মারতে ওরা সাইলেন্সার লাগানো রিভলভার ব্যবহার
করেছে। রাস্তায় গাড়িতে থাকা আমরা কিছুই বুঝতে
পারিনি।’
‘হ্যাঁ, আমরা ভালো আছি। এই ভালো থাকার কৃতিত্ব
তাঁর। মি. আবু আহমদের কাছে রিভলভার না থাকলে
এবং তিনি বিস্ময়কর ধরনের ক্ষীপ্র না হলে
ওদের বদলে আমাদের লাশই পড়ে থাকতো।’
বলল জেনারেল মেডিন মেসুদ।
‘স্যরি, ইট ইজ এ গ্রেট ল্যাপস অন আওয়ার পার্ট,
স্যার।’ সেই অফিসারটি বলল।
‘ল্যাপস কিছু হয়নি তোমাদের। বল, ওরা সফল
হয়েছিল।’ বলল জেনারেল মেডিন মেসুদ। সে
একটু থেমেই আবার বলল, ‘লাশগুলোর ব্যবস্থা
কর অফিসার।’
‘স্যার, পুলিশকে ইনফর্ম করেছি। ওরা আসছে।
স্যার, আপনারা একটু ওদিকে বসুন। আমরা এদিকটা
দেখছি।’ অফিসারটি বলল।
‘ওকে নিয়ে তুমি এসো বাবা ভেতরের
লাউঞ্জে। আমি দেখছি ওদিকে।’ বলেই সালিহা
সানেম ভেতরে ঢুকে গেল।
‘চলুন মি. আবু আহমদ। আমরা ওদিকে বসি।’ বলল
জেনারেল মেডিন মেসুদ।
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, ‘মি.
জেনারেল, ওদের বলুন ওরা লাশগুলোকে
ভালোভাবে যেন সার্চ করে। ওদের পরিচয়,
ঠিকানা আমাদের দরকার।’
জেনারেল তাকাল অফিসারের দিকে। অফিসার স্যালুট
দিয়ে বলল, ‘আমরা সবকিছু ভালোভাবে দেখব
স্যার।’
‘আচ্ছা মি. আবু আব্দুল্লাহ, আপনার কাছে তো
রিভলভার থাকার কথা নয়। ওটা তো সিকিউরিটরা
গেটেই রেখে দেয়ার কথা।’ চলতে চলতে
বলল জেনারেল মেডিন মেসুদ।
‘আমার পকেটের রিভলভারটা ওদের দিয়েছিলাম।
কিন্তু লুকানো দ্বিতীয় রিভলভার আমি দেইনি।’
বলল আহমদ মুসা।
‘গোপন করলেন কেন? আপনি কি জানতেন এ
ধরনের ঘটনা ঘটবে?’ বলল সালিহা সানেম।
‘জানার কথা অবশ্যই নয়। আমি আমার অভ্যাস বশতই
আমার গোপন অস্ত্রটি আমার কাছে রেখেছিলাম।’
আহমদ মুসা বলল।
‘ধন্যবাদ। মি. আবু আব্দুল্লাহ। আপনার এই অভ্যেস
আজ আমাদের বাঁচিয়েছে।’ বলল জেনারেল
মেডিন মেসুদ।
‘আচ্ছা ধরুন স্যার, যদি আপনার কাছে রিভলভার না
থাকতো, তাহলে কী করতেন আজ?’ জিজ্ঞাসা
সালিহা সানেমের।
‘কী করতাম ঘটনা ঘটার পর বলা মুষ্কিল। তবে প্রথম
সুযোগেই ওদের একজনের অস্ত্র দখল করার
চেষ্টা করতাম। আল্লাহর সাহায্য চাইতাম…’
‘ধন্যবাদ মি. আবু আহমদ। সব বিষয়ই আল্লাহ্
আপনাকে অকৃপণ হাতে দিয়েছেন। তাঁর হাজার
শোকর।’ বলল জেনারেল মেডিন মেসুদ।
আহমদ মুসা কিছু বলার জন্য মুখ খুলেছিল। কিন্তু তার
আগেই সালিহা সানেম বলল, ‘আমরা এসে গেছি।
আসুন, বসেই আমরা কথা বলি।’
সবাই এগোলো বসার জন্যে সোফার দিকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now