বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিকলাঙ্গ
# দিপু
-------
আজ ৪ বছর আমার পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই আমার। তাদের দেখানো পাত্রের সাথেই বিয়ে হয় আমার।
তাহলে যোগাযোগ নেই, এটা কেমন কথা?
দাঁড়ান, বুঝিয়ে বলছি।
------ আমি নিহা, মা বাবার দুই মাত্র মেয়ে। আমার বড় একটা ভাই আছে। সে এখন নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
----- আজ থেকে ৪ বছর আগে ছেলে পক্ষ আমাকে দেখতে আসে।
আর দশ টা সাধারণ মেয়েকে যেমন বাসার সবাই শাড়ি পড়িয়ে পাত্র পক্ষের সামনে আনা হয়, তেমনি আমাকেও আনা হয় পাত্রপক্ষের সামনে। স্বভাব সুলভ যেভাবে কনে কে প্রশ্ন করে! তারাও বাদ যায় নি।
আমাকে দেখে ছেলে ও তার মায়ের পছন্দ হয়। যাওয়ার আগে ছেলের মা আমার হাতে ৫ টা ৫০০ টাকার নোট ধরিয়ে দেই।
বাসা থেকে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয়। দুজনের পরিবারে খুশির জোয়ার বইতে শুরু করে। তাদের সাথে আমাদের পরিবারের নিয়োমিত কথা চলতে থাকে। দুজনের পরিবারের সবাই খুশি। আমার কারে সাথে রিলেশন ছিল না, কিন্তু নিজের কাছে খুব ছোট মনে হতে লাগলো।
এমনি একদিন আননোন নাম্বার থেকে কল আসে। ১ বার ২ বার ৫ বার করেও যখন দেখলো কল রিসিভ হচ্ছে না। তখন একটা ছোট্ট মেসেজ টন বাজতেই সিন করে দেখতে পাই,
" আমি দিপু, আপনার ভবিষ্যৎ স্বামী। কল টা রিসিভ করুন প্লিজ"!
সে আবার কল করে, আমি রিসিভ করে কথা বলি। সে দেখা করার কথা বললে বাসায় বলে তার সাথে দেখা করি, কথা হয় দুজনার। একটা সময় দুজনে খুব ভাল সম্পর্কের বাধনে ছড়িয়ে পড়ি। সব কাপল দের মতো আমরাও রাত দিন কথা বলতে থাকি। দুজন দুজন কে বুঝতে ও ভালবাসতে শুরু করি। আর এটা আমার আর দিপুর পরিবার সবই জানতো, কিছু বলতো না। কারন সামনে তো আমাদের বিয়ে।
একদিন আমি কলেজ শেষ করে বাসার দিকে আসছি। দিপুকে কল দিয়ে মোড়ের উপর দাঁড়াতে বলছি আগেই। সে আগেই এসে দাড়িয়ে আছে, বললো মোড়ের উপরেই আছে। আমি তার কাছে তড়িঘড়ি করে যাওয়ার জন্য হাইওয়ে দিয়ে হাটতে শুরু করি। হঠাৎ কিছু একটার ধাক্কায় ছিটকে পড়ি, রাস্তার নিচে। কি হলো বুঝতে না পারাই ওপরে আসতেই দেখি দিপু রাস্তার উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। রক্তে ভরে গেছে রাস্তা।
কিছু লোকের সাহায্যে দিপু কে তুলে হাসপাতালে নিয়ে আসি আমি। দ্রুত এই-সি-ইউ তে তৈরি করনো হয় দিপু কে।
দিপু ও আমার পরিবারের সবাই হাসপাতালে আসে। ডাক্তার বেরিয়ে এসে বলে!
" তেমন কিছু হয় নি রুগির। কিন্তু তার একটা হাত বিকলাঙ্গ হয়ে গেছে এক্সিডেন্টে। এই হাত না কেটে ফেললে নিউকেমিয়াই আক্রান্ত হতে পারে। সবার অনুমিত নিয়ে দিপুর হাত কাটা হয়।
হাসপাতাল থেকে এসেই আমার বাবা দিপুর বাবার সাথে কথা বলে বিয়ে ভেঙে দেই।
সেদিন কি হয়েছিল ভাবতেই মনে পড়ে যায় আমার। সেদিন যখন দিপুর সাথে কথা বলে তড়িঘড়ি করে হাইওয়ে দিয়ে হাটতে শুরু করতেই আমার ভাই কল দেই আমায়। ভাইয়ার সাথে আনমনা হয়ে কথা বলার সময় কে যেনো বার বার আমাকে সরে আসতে বলেছিল। কিন্তু আমি সরছি না দেখে আগিয়ে আসে সে। আমি তার দিকে ফিরে তাকাতেই দেখি সেই টা দিপু ছিল। কিন্তু আমার সামনে যে একটা মাইক্রো ছিল। এটা আমি খেয়াল করছিলাম না। সাথে সাথেই দিপু আমাকে ধাক্কা মারে আর নিজে মাইক্রোর সাথে এক্সিডেন্ট করে চিৎকার দেই। তার বা হাতে প্রচণ্ড আঘাত লাগায় ডাক্তার তার হাত কেটে ফেলে। হয়ে যায় সে বিকলাঙ্গ।
তার সাথে আমার বিয়ে ভেঙে যায়। হঠাৎ কয়েকদিন পরে দিপু ও ফোন করে আমার মতামত জানতে চাই। আমি কিছু বলছি না দেখে সে বলেছিল,!
" আমাকে ভুলে যাও নিহা। খুঁজে নিও অন্য জন কে। যে আমার মতো বিকলাঙ্গ না। যে তোমাকে তোমার চেয়ে বেশি ভালবাসতে পারবে"।
সেদিন আমি দিপুর সাথে কোনো কথায় বলতে পারি নি। কেনো জানি না।
এর কিছুদিন পর শুরু হয় আমার অনার্স ফাইনাল পরিক্ষা। দিপুর সাথে প্রায় আজ ২৩ দিন কথাই বলি না। মানুষ টা কেমন? যে আমার সাথে কথা না বললে তার দিনই কাটতো না। আর আজ সে ২৩ দিন কথাই বলে না।
আমার পরিক্ষার রেজাল্ট বের হয়। আমি এপ্লাস নিয়ে পাশ করছি। ছুটে চলে আসি দিপুর বাড়ি। দিপু আমাকে বিকলাঙ্গ বলে ফিরিয়ে দিতে চাইলো বারবার। কিন্তু আমার জোড়াজোড়িতে হাল ছেড়ে দেই। অবশেষে আমার আর দিপুর বিয়ে টা হয়েই যায়।
বিয়ের পর আমার বাসায় বলতেই তারা আমাই ত্যাজ্য করে দেই। সেই থেকে আজ ৪ বছর আর কথাও হয় নি বাবা মা ভায়ের সাথে।
সেদিন যদি দিপু আমাকে ধাক্কা না মারতো তাহলে আমি হয় তো বেচে থাকতাম না বা ওর মতো আমার অবস্থা হতো। যেহেতু আমার জন্য ওর সমস্যা হয়ছে। আর আমিই যদি ওকে ছেড়ে দিই। তাহলে ভালবাসার মানে কি? কি থাকতে পারে এই মিথ্যে আবেগময় অনুভূতি দিয়ে।
আজ আমার পাশে আমার পরিবার নেই, তো কি হয়েছে। আমার ভালবাসা আছে। হয় তো ওর একটা হাত নেই, কিন্তু আমি তো আছি।
আমি যে তার অর্ধাঙ্গিনী।
নিজের সব কষ্ট না হয় দিপুর বুকের মাঝেই লুকিয়ে রাখবো। মেয়েদের তো বিয়ের পর নিজের বাবা মা ভায়ের সাথে তেমন যোগাযোগ থাকেই না বলা যায়। আমার না হয় আর কখনো দেখাও হবে না আমার পরিবারের সাথে।
তবু আমি ভাল থাকবো!
কেনোনা দিপু একদিন আমাকে বলেছিল, খুজে নাও তাকে, যে তোমাকে তোমার চেয়েও বেশি ভালবাসে।
আর আমি জানি, দিপুর চেয়ে বেশি আমি আমাকেও ভালবাসি না। আমি কোনো রাজ কন্যা না হলেও দিপু আমাকে রানী করেই রেখেছে তার ভালবাসার বাহুডোরে।
,
, ভাল থাকুক সকলের ভালবাসা।⌚
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now