বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিজলী

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হোমায়রা ইয়াসমিন (০ পয়েন্ট)

X বিজলীর যেদিন জন্ম হয় সেদিন আসমানে ছিল বিজলীর ঝলকানি।তাই মেয়েটার নাম রেখেছিলাম বিজলী।বিজলী আমর তৃতীয় মেয়ে পরপর কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার কারনে স্বামী আমাকে তালাক দেয়। মেয়ে তিনটাসহ আমি বাবার বাড়ি চলে আসি।(কথাগুলো একসাথে বলে জোরে নিঃশ্বাস নেয় বিজলীর মা) :তারপর কি হলো? :বাবা আমাকে আবার বিয়ে দিলো।আমার কিছু বলার সুযোগ ছিল না।বিজলীকে আমার সাথেই নিয়ে যাই।বাপ ভাইরা মিলে বড় মেয়ে দুইটাকে বিয়ে দেয়।আর বিজলী আমার শ্বশুর বাড়ির মানুষের নানারকম কথা শুনে বড় হতে থাকে।মেয়েটাকে পড়ানোর খুব ইচ্ছে ছিল কিন্তু তা সম্ভব হলো না।কিশোরী বয়সেই সবার চাপে বিয়ে দিতে হয় বিজলীকে।মেয়েটা ভালোই সংসার করছিল জমজ ছেলেও হলো।একটা ছেলে মারা যায় জন্মের পরই।কপালে সুখ ছিল না মেয়েটার স্বামীটা আবার বিয়ে করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় বিজলীর সাথে।বিজলীকে ছেলেসহ নিয়ে আসি আমাদের বাড়িতে।কিন্তু দুইটা মানুষের খরচ চালানোর সামর্থ্য ছিল না আমাদের।বিজলী জীবিকার তাগিদে ঢাকায় যায় দুধের ছেলেটা আমার কাছে দিয়ে।যাবার সময় মেয়েটার মুখটা আমার কাছে একটু আশ্রয় চাইছিল আমি তা দিতে পারি নাই।(বিজলীর মা কান্নায় ভেঙে পরে) gjকান্না থামিয়ে)ঢাকায় একটা গার্মেন্টসে কাজ পায় বিজলী।ফোনে কথা হতো আর ছয়মাস পরপর বাড়িতে আসতো।বছর দুই পর....হঠাৎ একদিন বিজলী ফোন দিয়ে বলে ও আবার বিয়ে করেছে।কখাটা শোনার পর বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে অজানা আশংকায়। :বিয়ের পর বিজলী বাড়িতে চলে আসে? :হুম,বিজলী যখন বুঝতে পারে ও আবার মা হতে যাচ্ছে তখন বাড়িতে চলে আসে।বাড়িতে আসার কিছুদিন পর বিজলীর শাশুড়ি বিজলীকে নিয়ে যায় ওদের বাড়িতে।কয়েকমাস পর আমি বিজলীর সাথে দেখা করতে যাই।যাওয়ার পর যা দেখলাম তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।পোয়াতি মেয়েটাকে দিয়ে ঘরের সব কাজ করায়।এই ব্যাপারে আমি বিজলীর শাশুড়ির সাথে কথা বলি সে বলে... পোয়াতি অবস্থায় আমরা কি কাজ করি নাই,আমগো তো কিছু হয় নাই।বিজলীর শাশুড়ি উল্টো আমাকে অপমান করে। আমি চলে আসি,বিজলীকে নিয়ে যেতে চাইছি কিন্তু ওরা দিলো না।(বিজলীর মা চুপ হয়ে একদৃষ্টিতে আসমানের দিক তাকিয়ে থাকে) :তারপর? : তারপর বিজলীর প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসে।জামাই হঠাৎ একদিন আমাকে নিতে আসে।সবকিছু ভুলে আবারও যাই ওই বাড়িতে মায়ের মন তো কেমনে বুঝাই।যাওয়ার পর শুনি বিজলী ঘরের কোনো কাজ করতে পারে না সবকিছু আমাকে করতে হবে না হয় কাজের লোক রাখার খরচ দিতে হবে।খরচ দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমার ছিলো না, তাই নিজেই মেয়ের বাড়িতে কাজ করি।এটা যে কতটা লজ্জার তা বলে বুঝাতে পারবোনা।আশেপাশের মানুষজন হাসাহাসি করতো।মেয়েটার মন সবসময় খারাপ থাকতো,কান্না করতো, আমাকে চলে যেতে বলতো।ওই অবস্থায় কেমনে ওরে রাইখা আসি।একদিন আমাদের বাড়িতে যাই জরুরি কাজে।কিন্তু রাতেই জামাই ফোন দিয়ে বলে বিজলীকে হাসপাতাল নিছে অবস্থা অনেক খারাপ।আমার মনটা কেমন অস্থির লাগে রাতেই আসি....দেখি আমার মা আর নাই।হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মা আমার চইলা গেছে। পেটের বাচ্চাটাও আর দুনিয়া দেখতে পারলো না।মায়ের গর্ভেই ওর কবর হইলো।ওরা আমার মায়ের জন্য নতুন সাদা কাপড় আনছে,নতুন ঘর করছে।আমার মায়রে বরই পাতার গরম পানিতে গোসল করাইয়া শেষবারের মতো সাজাইছে। (এমন সময় বহিরে থেকে কেউ বলল...বিজলীরে গোরস্থানে নেয়) (বিজলীর মা জোরে চিৎকার দিয়ে বাহিরে আসে.....)আমার মায়রে কই নেও তোমরা।আসার মায় অন্ধকারে থাকতে পারে না।ওরে একলারে নিও না আমারেও নেও।(বিজলীর মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সবাই ধরাধরি করে ঘরে নিয়ে যায়) :আমি তাকিয়ে আছি বিজলীর শেষ বিদায়ের দিকে।আস্তে আস্তে বিজলীর শেষ বিদায়ের পালকিটা আর দেখা যায় না।বিজলী তুমি সত্যি আসমানের বিজলী জ্বলে ওঠার আগেই নিভে গেলে।.....ওড়নাটা কখন চোখের পানিতে ভিজে গেছে খেয়াল করি নাই।চোখেটা মুছে সামনের দিক তাকিয়ে দেখি বিজলীর ছয়-সাত বছরের ছেলেটা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কচু পাতার পানির দিকে হয়তো ভাবছে কচু পাতার পানির মতো নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎতের কথা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিজলী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now