বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিঘাত
শোভন নবী
স্পাই থ্রিলার
পর্ব ৪ (শেষ পর্ব)
হারুন আর রুদ্র গাড়িতে বসে আছে। ঘড়িতে বিকেল তিনটা। রুদ্রের মুখ পরিস্কার করে শেভ করা। একই অবস্থা হারুনেরও। দুজনের পরনে ফায়ারফাইটিং কস্টিউম। ইসলামাবাদের ব্যস্ত সড়কের এক পাশে ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসির পার্কিং লটে এই মুহুর্তে বসে আছে তারা। রুদ্রের হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। চার্লি বাইরে গেছেন প্রায় দশ মিনিট আগে।
হারুনের প্রচন্ড রকম চিন্তা হচ্ছে। সে ডাকলো, “রুদ্র ভাই। ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসির ভেতরে ধরা পড়লে কি হবে?”
রুদ্র নাক মুখ দিয়ে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল, “কিছুই না। ওরা জাস্ট আমাদের ফায়ারিং স্কোয়াড বা ফাসিতে ঝোলাবে। তবে তার আগে এমন টর্চার করবে যে তুমি ভাববে এর চেয়ে মরে যাওয়াও ভাল ছিল।”
রুদ্র শার্টের বুক পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা কাগজের পুটলি বের করে হারুনকে দিল। বলল, যদি মনে হয় যে পালানোর আর কোন রাস্তা নেই ধরা পড়ে যাবে। তখন একটা খেয়ে নিবে।”
“কি এটা?”, অবাক গলায় বলল হারুন।
-পটাশিয়াম সায়ানাইড ক্যাপসুল।
মুখ বিকৃত করে রুদ্রের হাত থেকে কাগজের পুটলিটা নিয়ে পকেটে ঢোকাল হারুন। তার কোলে একটা ব্রিফকেস। তার ওপরে একটা ল্যাপটপ কম্পিউটার রাখা। তার চারপাশে সার্ভেইল্যান্স মনিটর। তাতে কোন ছবি এখনো আসছে না। একটু আগে একটা ফোন এসেছিল। দুপুর বারোটায় ইসলামাবাদ পৌছেছে তারা। রুদ্র ঢুকেছিল এম্ব্যাসির ভেতরে। প্রায় আধঘন্টা পরে ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসি থেকে একটা ফোন আসে। তাদের সিকিউরিটি ক্যামেরা হঠাৎ সমস্যা করছে। আজ সন্ধায় পার্টি আছে। যত দ্রুত সম্ভব মেইনটেইন্যান্সের লোক চাই তাদের। ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসির ফোন থেকে করা কলটা ডাইভার্টেড হয়ে তাদের কাছে আসে। চার্লি তার ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যান সাথে সাথে। রুদ্র ফিরে এসে ফায়ার ফাইটার কস্টিউম পড়ে নেয়। তারপর অপেক্ষা করছে তারা এখনো।
রুদ্র আরেকটা সিগারেট ধরাতেই ভ্যানের ভেতরের সার্ভেইল্যান্স মনিটরগুলো হঠাৎ সিগন্যাল পেয়ে গেল। একে একে এম্ব্যাসির প্রতিটা সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ চলে এল হারুনের হাতে। ৭ নাম্বার ক্যামেরাটায় কবীড় চৌধুরীকে দেখা গেল। ক্যামেরার দিকে তাকালেন। হারুনের মনে হল লোকটা তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। এটা ছিল সিগন্যাল। হারুন রুদ্রকে ইশারা দিয়ে সবগুলো ক্যামেরা ফ্রিজ করে দিয়ে ফায়ার এলার্ম চালু করে দিল।
রুদ্র আর হারুন লাফিয়ে ভ্যান থেকে নামল। পার্কিঙ্গয়ের শেষ মাথায় একটা দরজা আছে। পেছন দিয়ে এমব্যাসিতে ঢোকা যায় এই দরজা দিয়ে। দরজাটায় ইলেক্টিক লক লাগানো। হারুনের হাতে একটা ট্যাব। দ্রুত হাতে কাজ করে চলেছে সে। খুট করে দরজাটা আনলক হতেই তারা ভেতরে ঢুকল। ঢোকার পর সোজা গিয়ে ডানদিকে ফায়ারফাইটার স্টেশন। সেখানে তুলকালাম চলছে। হই হল্লার মধ্যে অচেনা দুজনকে কেউ লক্ষ্যই করলো না। রুদ্র আর হারুন হেলমেট আর ফায়ারঅ্যাক্স তুলে নিল স্টোর থেকে। ছুটে বের হতে থাকা লোকেদের মধ্যে চার্লিকেও দেখল তারা। আগুনের উৎস এম্ব্যাসির দ্বিতীয় তলা। ফায়ারফাইটারদের সাথে দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিড়ির নিচে সন্তপর্ণে আলাদা হয়ে গেল দুজন। ছুটে চলল, এমব্যাসির নিচতলার বাথরুমের দিকে। হারুনের ফায়ারফাইটার পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রগুলো নিয়ে ছুটতে তার অসুবিধা হচ্ছে। রুদ্রের স্বাভাবিক সাবলীল গতি দেখে তার ওপর হিংসেই হল তার।
চার্লির দিকে তাকিয়ে তামিল টানের ইংরেজিতে চেচাচ্ছেন ভদ্রলোক। লোকটা ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসির এইড। রমেশ নাগরাজন। ফলস এলার্ম ইগনিশনের কারণে যে হইচই হল সেটার জন্য চার্লিকেই দুষছেন ভদ্রলোক। দোতলার বাথরুমে একটা সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গেছে। চার্লির দাবি কেউ সিগারেট খাচ্ছিল। সেন্সরে ধোয়া যাওয়াতেই এই অবস্থা। কাজের প্রয়োজনে ক্যামেরা ফ্রিজ করায় ক্ষেপেছেন উনি। কে এই কাজ করেছে তাকে পেলে এক হাত দেখে নিতে পারেননি তিনি।
চার্লি বললেন, “যাই হোক স্যার। আমার সাথে চেচিয়ে লাভ নেই। আমি আসি।”
এম্বাস্যাডর বললেন, “লোকটা তো ঠিকই বলছে রমেশ। এতে তো ওর কোন হাত নেই। ডোন্ট এম্ব্যারাস হিম অর মেক এ ফুল অফ আস। যেতে দাও ওকে।”
রামলিঙ্গম হাত মেলালেন চার্লির সাথে। লোকটার হাতে লুবরিক্যান্ট টাইপের কিছু একটা লেগে আছে। হাত ছেড়ে দিলেন তিনি।
“থ্যাংক ইউ স্যার।” বলে বের হয়ে গেলেন চার্লি।
রামলিঙ্গম নাকের কাছে হাত নিলেন। মিষ্টি গন্ধ। শীতের শুরু এখন। সস্তা কোল্ডক্রিম হবে। ভাবলেন তিনি।
১৩
মাশিয়াতের পার্টি খুবই অপছন্দ। তার কান একটা ছোট্ট রেডিও ট্রান্সমিটার লাগানো। কামিজে আটকানো আছে মাইক। সমস্যা হচ্ছে জেনারেল ইসহাকের নার্ড ছেলে মুয়াজ তার সাথে আঠার মত লেগে আছে। তার পছন্দ অপছন্দ সবকিছু একদিনের মধ্যে নিজের সাথে মেলাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে সে।
সে বলল, “মুয়াজ, আপ মুঝে এক কোল্ড ড্রিংক দিলায়েঙ্গে?”
মুয়াজ দাত বের করে বিগলিত ভঙ্গি করে চলে গেল। সে দাত খিচিয়ে বলল, “চার্লি দ্রুত এই সার্কাস শেষ কর।”
হারুনের গলার আওয়াজ পেল সে, “কেন? ভালই তো মানিয়েছে দুজনকে।”
কিছুটা দুরেই হারুনকে দেখতে পেল সে। রুদ্র আছে আরো খানিকটা দূরে। কালো কোট প্যান্টের সাথে লাল টাইয়ে চমৎকার লাগছে তাকে। পাকিস্তানের একমাত্র নারী মন্ত্রীর সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। মন্ত্রী ডাকসাইটে সুন্দরী। বয়স রুদ্রের চেয়ে খানিকটা বেশীই হবে। তার সাথে এত কথা কিসের তার? ঈর্ষার সূক্ষ্ম খোচা অনুভব করলো সে।
চার্লির গলার আওয়াজ পেল সে। তিনি বললেন, “গেট রেডি।”
রুদ্রকে নড়ে উঠতে দেখা গেল। হলের মূল দরজার দিকে হাটতে শুরু করলো সে। আলতাফ বেগের সাথে হালকা ধাক্কা খেল সে। মাশিয়াতের মা তখন তাকে ডাকলেন। তার মা ও বিগ্রেডিয়ার পাশাকে জেনারেল ইসহাক দম্পতির সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো সে। মুয়াজও আছে সেখানে। সে হতাশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেদিকে এগিয়ে গেল। রুদ্র নিজের পকেটে হাত দিতেই সেখানে একটা চাবি আর ছোট একটা টর্চ অনুভব করলো। হল থেকে বের হবার পর বাম দিকে করিডোর বরাবর গেলেই এম্বাস্যাডরের অফিস। এম্বাস্যাডর অফিসের সামনেই ওয়াশরুম। সে একজন গার্ডকে প্রশ্ন করলো, “শুনো, ইয়াহা পে ওয়াশরুম কিধার হ্যায়?”
সে করিডোরের দিকে ইশারা করলো। রুদ্র করিডোরের দিকে এগোতেই পেছনে হারুনের গলার আওয়াজ শুনতে পেল সে। সেও একই প্রশ্ন করছে গার্ডকে।
রুদ্র বাথরুমের একটা কাউন্টারে ঢুকে বসে পড়লো। পাশের কাউন্টারে আরেকজনের ঢোকার শব্দ পেতেই কলারের কাছে মুখ নিয়ে বলল। ক্যামেরা ২৬, ২৭ ফ্রিজ।
চার্লির গলার আওয়াজ খড়খড় করে উঠল এয়ারপিসে, ডান গো। রুদ্র দ্রুত ফ্লাশের ঢাকনাটা খুলে ফেলল। পানিতে একটা প্লাস্টিকের এয়ারটাইট ব্যাগ। তার ভেতর একটা পিস্তল আর তিনটা সাবানের বারের মতো দেখতে বস্তু। সি৪।
সবকিছু পকেটে ভরে বের হয়ে গেল সে। হারুনও বের হয়ে এসেছে। তার হাতে আরো দুটো পিস্তল। রুদ্রর হাতে দুটো স্পেয়ার ম্যাগাজিন গুজে দিল সে। রুদ্র বলল, নাম্বার ২ এন্ড নাম্বার ফোর ইজ ইন পজিশন। নাম্বার ৩ কাম ইন।
চার্লি বললেন, “২, ৩, ৪, ৫ দেয়ার ইজ এ লিটল প্রবলেম। উলফস আর ইন দ্য এম্বাস্যাডরস অফিস।”
হারুনের মুখ সাদা হয়ে গেল। রুদ্র বলল, “ফাক”
নাম্বার থ্রি হচ্ছে মাশিয়াত। সে ফ্যামিলি গেটটুগেদারে ব্যস্ত। তার মার দিকে সে বিরক্ত চোখে তাকাল। তার মা মনোযোগ দিয়ে মুয়াজের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গল্প শুনছেন। মাশিয়াত উঠে দাঁড়াল। বলল, “আমাকে একটু ওয়াশরুমে যেতে হবে। এক্সকিউজ মি।”
ততক্ষণে সেখানে চলে এসেছেন ইন্ডিয়ান এম্বাস্যাডর রামালিঙ্গম। “হ্যালো লেডিজ এন্ড জেন্টলম্যান।”
দুমিনিট পর মাশিয়াত তোম্বামুখে হলরুম হেকে বের হল। মুয়াজ দুবছর এই এমব্যাসিতে ইন্টার্ন করেছে। সুতরাং তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এম্ব্যাসি ঘুরিয়ে দেখাবার। মাশিয়াত হল থেকে বের হবার পর হঠাৎ তার বাহু জড়িয়ে ধরে বলল, “এম্বাস্যাডরের অফিসটা দেখার আমার খুব শখ। আপনি কি আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে পারবেন?”
মুয়াজকে সঙ্গে করে নিয়ে এম্ব্যাসেডরের অফিসের দিকে এগোল মাশিয়াত।
চার্লি সবই শুনছিলেন। তিনি রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “নাম্বার টু স্লাইট চেঞ্জ ইন প্ল্যানস......
রুদ্র পুরোটা শুনে বলল, “ওকে।”
করিডোরে ঢোকার পর এম্বাসেডরের অফিসে যাবার আগে একটা মোড় ঘুরতে হয়। সেখানে রুদ্র দাঁড়িয়ে ছিল। একটা পার্টিশনের পেছনে। মুয়াজকে নিয়ে মাশিয়াত মোড়টা ঘুরতেই রুদ্র পিস্তলের বাট দিয়ে প্রচন্ড জোরে মারল মুয়াজের মাথায়। মাপা মার। মুয়াজ কোন শব্দ না করে ধুপ করে মাটিতে পড়ল। পাশ থেকে এসে হারুন আর রুদ্র দুজন ওকে ধরে নিয়ে গেল এম্বাস্যাডরের অফিসের সামনে। চীৎকার করে বলল, “হি ইজ নট ফিলিং ওয়েল। গিভ আস সাম স্পেস। ওপেন দ্য ডোর।”
গার্ড দুজন মুয়াজকে চেনে। তার কিছুক্ষণ পরস্পরের মুখের দিকে তাকিয়ে দরজা খুলে দিল। রুদ্র আর হারুন মুয়াজকে টেনে নিয়ে গেল অফিসের ভেতরে। যে চেয়ারটায় ওকে বসাল তার পাশেই একটা বড় সেইফ। কম্বিনেশন লক দিয়ে আটকানো।
রুদ্র গার্ডদের দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমরা একজন যেয়ে পানি নিয়ে আসো। আর একজন যাও ডাক্তারের কাছে। হি নীডস মেডিক্যাল এটেনশান। গার্ড দুজন মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে।”
রুদ্র ধমকে উঠলো, “এখনই যাও।”
গার্ড দুজন ছুটে বের হয়ে গেল।
চার্লি বললেন, “নাম্বার ফাইভ। এপ্রোচ টু টার্গেট ওয়ান। মেক হিম ডিলে।”
নাম্বার ফাইভ হচ্ছে, আফতাব বেগ। তিনি কপালটা মুছলেন রুমাল দিয়ে। বিগ্রেডিয়ার পাশা জেনারেল ইসহাক আর কর্ণেল জামশেদের সাথে আলাপ করছেন। তিনিও এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে।
গার্ড পানি নিয়ে এসে দেখতে পেল রুদ্র ঝুকে আছে এম্বাসেডরের সেফের ওপর। সে বিরক্ত গলায় বলল, স্যার কি করছেন?
রুদ্র বলল, “ডিজাইনটা দেখছিলাম। ইটস নাইস।”
মুয়াজের মুখে পানির ছিটা দিল গার্ড। প্রশ্ন করলো, “আপনি ঠিক আছেন স্যার?”
মুয়াজ হতভম্ব চোখে তাকিয়ে রইল। “আপনি আমার সাথে পা বেধে করিডোরে পড়ে গিয়েছিলেন, মি মুয়াজ। আই এপোলোজাইজ।” রুদ্রের গলায় নিখাদ আন্তরিকতা।
সে আবার বলল, “আপনি কি হাটতে পারবেন?”
রুদ্র একটা হাত বাড়িয়ে দিল মুয়াজের দিকে।
ওরা সবাই বের হবার আগ মুহুর্তে এম্বাসেডরের সামনে পড়ে গেল। উনি অফিসের দিকেই আসছিলেন। ওদের চারজনকে একসাথে দেখে তিনি প্রশ্ন করলেন, “হোয়াট হ্যাপেন্ড হেয়ার?”
মাশিয়াত এগিয়ে এল। আহ্লাদি গলায় বলল, “ওহ ইটস নাথিং এম্বাস্যাডর। মুয়াজ ওয়াজ ফীলিং আনওয়েল দেজ পিপল হেল্পড হিম।”
“ওহ!” বললেন এম্বাস্যাডর রামালিঙ্গম। “ইউ শুড টেক হিম এট দ্য মেডিক্যাল সেন্টার আপস্টেয়ারস।”
তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবার হাটতে শুরু করলো তারা।
চার্লি বললেন, “নাম্বার টু, নাম্বার ফোর এক্সট্র্যাক্ট দ্য প্লেস।”
কামাল পাশা মাশিয়াত আর মুয়াজকে আরও দুজন লোকের সাথে দোতলার সিড়ি বেয়ে উঠতে দেখলেন। তাদের মধ্যে একজনকে বেশ পরিচিত লাগলো তার। কিন্তু তাকে কোথায় দেখেছেন মনে করতে পারলেন না তিনি।
এম্বাসেডরের অফিসের দিকে রওনা হলেন। অনেক জরুরি কাজ আছে তাদের।
ঠিক বিশ মিনিট পর যখন ভয়াবহ বিস্ফোরণে এম্বাস্যাডরের অফিসটা উড়ে গেল তখন রুদ্র আর হারুন প্রায় দুব্লক দূরে। চার্লির দাড় করে রাখা ভ্যানটার কাছাকাছি চলে গেছে তারা ততক্ষণে।
রুদ্র বলল, “রান্নাঘর আর মেডিকেল সেন্টারটা একটু দূরে ছিল বলে রক্ষা। নাহলে এত দ্রুত কোনভাবেই সেফের ভেতরে বোমাটা লাগাতে পারতাম না।”
চার্লি বাইরে বের হয়ে এসেছেন। রুদ্র পেনড্রাইভটা তুলে দিল তার হাতে।
পরিশিষ্টঃ
বোমা হামলায় আইএসআই চীফ আর ইন্ডিয়ান এম্বাস্যাডরের মৃত্যুর ঘটনাটা নিয়ে কিছুদিন কাদা ছোড়াছুড়ি হল তারপর পুরো ব্যাপারটা ধামাচাপা পরে গেল। আলতাফ বেগ এখন বিগ্রেডিয়ার। সেই সাথে তিনি ভারপ্রাপ্ত আইএসআই চীফ।
ঠিক পনেরদিন পর চার্লি বাংলাদেশের বিমানে উঠে বসলেন। তার কাছে একটা মাইক্রোফিল্মে আইএসআই আর রয়ের কয়েকহাজার গোপন নথি। মেমোরিকার্ডে করে মোবাইলে ভরে রাখা আছে সেগুলো।
বোমা হামলার তৃতীয় দিন করাচিতে অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে সিআইএর স্টেশন চীফ প্যাট্রিক রবিনসন মারা যায়।
মাশিয়াতকে অর্ডার করা হয়েছে মুয়াজকে বিয়ে করে ফেলবার জন্য। তাহলে সে জেনারেল ইসহাকের কাছাকাছি থাকতে পারবে। কিন্তু সে রেজিগনেশন লেটার জমা দিয়ে দিয়েছে।
চার্লি ফিরে যাচ্ছেন দেশে। আবার প্রস্তুতি নিতে হবে তাকে। বাংলাদেশের কালপ্রিটদের যাদের নাম এই পেনড্রাইভগুলোতে আছে তাদের ব্যবস্থা করতে হবে তাকে। রুদ্রকে আবারও দরকার হবে তার।
*সমাপ্ত*
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now