বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিঘাত-০২

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বিঘাত শোভন নবী স্পাই থ্রিলার পর্ব ২ ৫ রুদ্রের সেইফ হাউজটা হচ্ছে করাচীর কোরাঞ্জি টাউনের পতিতালয়। সেখানে সুরাইয়া নামের একটা মেয়ের কাছে যায় সে। অবশ্য এবার এর পেছনে আরেকটা কারণও আছে। সুরাইয়ার পাশের রুমে তার বান্ধবী নার্গিসের কাছে একজন খদ্দের নিয়মিত আসে। অসম্ভব গোপনীয়তা বজায় রাখে লোকটা। লোকটার নাম প্যাট্রিক রবার্টসন। রাতে বিছানায় শুয়ে রুদ্র সুরাইয়াকে বলল, “একটা সাহায্য করতে পারবা?” -বিনিময়ে কি পাবো? -বেশ বড় অংকের একটা টাকা পাবে। -টাকা তাই না? হ্যা সব তো টাকার জন্যই করি আমি। এই যেমন তুমি টাকা দাও বলে তোমার সাথে শুয়েছি। রুদ্র সুরাইয়াকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল। তাকে ছেড়ে দিয়ে উঠে বসলো বিছানায়। সুরাইয়া উঠে বসতেই তার দিকে তাকাল রুদ্র। মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী। সমস্ত শরীরে খুত মাত্র একটা। ওর মুখের বাম দিকটা পোড়া। ভয়াবহভাবে বিকৃত। বাম চোখটাও অন্ধ। কিন্তু মুখের বাকি অর্ধেকটাতে পৃথিবীর সমস্ত রূপ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। রুদ্রের দৃষ্টি বুঝতে পেরে মুখের বিকৃত অর্ধেকটা চুল দিয়ে ঢেকে দিল। রুদ্র বলল, “আমি ওভাবে বলতে চাইনি।” -ঠিকই আছে। মিথ্যে কিছুতো আর বলোনি। তবে কাজটার বিনিময়ে আমি টাকা চাই না। -কি চাও তাহলে? -এখান থেকে বের হয়ে যেতে চাই। এমন কোথাও যেখানে আমাকে কেউ চিনবে না। আমি নিজের মতো করে থাকতে পারবো। আমার দিকে বাঁকা করে কেউ তাকাবে না। কেউ একজন থাকবে যে শুধু এসে আমার সাথে শুয়ে চলে যাবে না। তোমার মতো কেউ। যে কখনো মিছে কথা বলবে না রুদ্র চুপ করে রইল। সুরাইয়া বলল, “দিতে পারবা না এই জীবনটা তাইতো?” -সুরাইয়া আমি আসলে... -লাগবে না। এমনিই বললাম। সেটা অসম্ভব আমি জানি। শুধু একটা কথা রেখো। তুমি মাঝে মাঝে আমার কাছে এসো। তোমার কাজ আমি করে দেব। কি করতে হবে? রুদ্র দুহাতে মেয়েটার মুখ তুলে নিয়ে চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে বলল, “তোমার বান্ধবী নার্গিসের কাছে যে আমেরিকান কাস্টোমার আসে তার মোবাইলটা পাচ মিনিটের জন্য চাই আমি।” সুরাইয়া চুপ হয়ে গেল। রুদ্র বলল, “কেউ যেন জানতে না পারে। খুব গোপনে করতে হবে কাজটা।” সুরাইয়া বলল, “আজ তো পারবো না। তুমি কাল একবার এসো।” রুদ্র আবার জড়িয়ে ধরলো সুরাইয়াকে। রুদ্রের জীবনটাও আহামরি ধরণের কিছু ছিল না। রংপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্র রুদ্র নেভীতে যোগ দেয়। সেখান থেকে সোয়াডস তারপর ডিজিএফআই। কর্নেল ইবরাহিম রিক্রুট করেছিলেন তাকে। তারপর থেকেই সে তার সাথেই কাজ করছে। এই পল্লীতে সে আস্তানা করেছে দুবছর আগে। মাসচারেক আগে এখান থেকে সকালে বের হবার সময় তার পাশের ঘর থেকেই এক শ্বেতাঙ্গ লোককে বের হতে দেখে। লোকটার একটা স্কেচ পাঠায় সে কর্ণেল ইবরাহিমের কাছে। ইবরাহিম লোকটাকে চিনতে পারেন। সে ছিল সিআইএর পাকিস্তান সেকশনের ইন্টেলিজেন্স অফিসার প্যাট্রিক রবার্টস। সে প্রায়ই লোকটাকে দেখতো সুরাইয়ার পাশের ঘরে। নার্গিস নামের মেয়েটার কাছে প্রায়ই আসতো সে। ৬ প্রায় দুসপ্তাহ ধরে ওরা আছে করাচিতে। রুদ্র বলল, “আমাদের কিছু অস্ত্রের প্রয়োজন হবে। বেশী কিছু না। স্মল আর্মস আর বিশেষ দরকারের জন্য কিছু এক্সপ্লোসিভ। সি-৪ হলে ভাল।” হারুন ছবছর ধরে করাচি আছে। সে বলল, “ম্যানেজ করে ফেলব বস। চিন্তা কইরেন না।” -অস্ত্র কেনার সময় আমি সাথে যাব। -আচ্ছা সমস্যা নাই। মাশিয়াত কখনোই গ্রুপে থাকা অবস্থায় বেশী কথা বলে না। সে বলল, “প্রাইমারী টার্গেটকে একটা সেন্টারে নিতে হবে। কাজটা কিভাবে করা হবে?” চার্লি বললেন, “সার্ভেইল্যান্স হতে থাক। সেটা দেখা যাবে। মাশিয়াত ইউ আর আউট অফ ফিল্ড।” মাশিয়াত অবাক হল, “কেন?” -আমাকে এবং তোমাকে করাচিতেই থাকতে হবে। অন্তত পরিস্থিতি ঠান্ডা হবার আগ পর্যন্ত। ফিল্ডে শুধু রুদ্র আর হারুন যাবে। ফারাহ গতকাল রাতে সুইজারল্যান্ড থেকে ফিরেছে। ওর দুচোখ জোড়া ঘুম। সে একটা ফাইল এগিয়ে দিয়ে বলল, “স্যার কর্ণেল বেগের ফাইন্যান্সিয়াল ডকুমেন্টগুলো। লোকটা খুব বেশী বুদ্ধি খরচ করেনি এগুলো দেশের বাইরে নিতে। প্রথমে বুঝতে একটু ঝামেলা হয়েছিল পরে সব ক্লিয়ার হয়ে গেছে।” -কিভাবে? -স্যার বেগ টাকাটা প্রথমে তার কন্যার নামে ডিপোজিট করেছিলেন। শায়রা বানু। তারপর তার কন্যা ইংল্যান্ডে চলে যায়। সেখানে তার নামে মূল টাকার প্রায় বিশ পার্সেন্ট ট্রান্সফার করা হয়। বাকিটা ট্রান্সফার করা হয় ইফতেখার মাহমুদ খানের একাউন্টে যিনি দশ বছর আগেই মারা গেছেন। -উনি কে? -কর্ণেল বেগের শ্বশুর। -তার একাউন্ট ক্লোজ করা হয়নি? -না স্যার স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে তো আর ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করানো হয় না। সেক্ষেত্রে নমিনি দাবী না করলে একাউন্ট ক্লোজ হবে কিভাবে? মাশিয়াত একটা সিগারেট ধরাল। চার্লি ভ্রূ কুচকে তাকালেন তার দিকে। মাশিয়াত চার্লিকে উপেক্ষা করে ফারাহকে বলল, “তারপর?” ফারাহ চার্লির দৃষ্টি অনুসরণ করে মাশিয়াতের দিকে তাকিয়েছিল। আবার সে বলতে শুরু করলো, “স্যার পেপারসগুলোতে সব ডিটেইলস দেওয়া আছে। আপনি দেখে নিয়েন। ইফতেখার মাহমুদের পুরো টাকাটা দশটা ছোট ছোট অংশে ভাগ হয়ে দশটা দেশের দশটা ব্যাংকে ট্রান্সফার করা হয়েছে। পরবর্তি কয়েকবছরে একাউন্টগুলোর টাকা সাউথ আফ্রিকার একটা ব্যাংকে এক এক করে একটা একাউন্টে জমা করা হয়। দুবছর আগে সেই একাউন্ট ডিসমিস করে পুরো টাকাটা তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোন ট্রেস নাই সেই টাকার।” চার্লি আনন্দিত গলায় বললেন, “গুড জব ফারাহ। এটুকুই যথেষ্ট বেগকে ব্ল্যাকমেইল করার আর পাশাকে টোপ দেবার জন্য। কাগজগুলোর মূল কপি স্ক্যান করাও। মূল কপিগুলো নিয়ে তুমি কাল রাতের ফ্লাইটে বাংলাদেশ ফিরছো। তোমার কাজ আপাতত এখানেই শেষ।” -জ্বি স্যার। -যাও রেস্ট নাও। রুদ্র উঠে পড়লো। আজ তার সুরাইয়ার ওখানে যেতে হবে। রাস্তায় নেমে যখন সে অটোরিক্সা খুজছে তখনও সে টের পায়নি যে এক জোড়া কৌতুহলী চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। ৭ সুরাইয়া বলল, “কই যাস?” নার্গিস তার ওড়না ঠিক করে পড়তে পড়তে বলল, “আজ রাতে সাহেব আসবে। ওর জন্য বিদেশী জিনিষ এনে রাখতে হবে। ভাইয়ার কাছে যাচ্ছি।” ভাইয়া এই পল্লীর মূল দালাল। পাশাপাশি তার বিদেশী মদের ব্যাবসা আছে। মেয়েদের খদ্দেরদের প্রয়োজনে মদ সেই সাপ্লাই দেয়। গত রাতে সুরাইয়া একটা বড় বোতল কিনে এনেছে ভাইয়ার কাছ থেকে। সুরাইয়া বলল, “তোর না টাকার সমস্যার কথা বলছিলি?” -হ্যাঁ। খানিকটা সমস্যা তো চলছেই। -তুই দাড়া এখানে। সুরাইয়া ভেতরে চলে গেল। খানিক বাদেই ফিরে এল বোতল হাতে। বলল, “আমারজন এটা কিনে এনেছিল। একবার মাত্র খেয়েছে। পুরোটাই রয়ে গেছে। শুধু ছিপিটা খোলা। চলবে?” -তোর কাস্টোমারটা রাগবে না? -নাহ। ও এমন না। -তোর ভাগ্যটা ভালরে। তোর ঘরের ভাড়া দিয়ে দেয়। কেনাকাটা করে দেয়, খরচের টাকাও দেয়। আমারটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। জানোয়ার একটা। সুরাইয়া মাথা নাড়ল। খোলা মুখ দিয়ে সে আফিম মিশিয়ে দিয়েছে মদের বোতলে। পরিমাণটা ভালই। খাওয়ার পর তুলে নিয়ে গেলেও কেউ টের পাবে না। অন্তত ছয় থেকে দশঘন্টার জন্য নিশ্চিন্ত। সুরাইয়া নিজের ঘরে গেল। নার্গিসের ঘরে একটা ঝামেলা আছে। ওর ঘরের জানালার শিকগুলো ভাঙা। রুদ্রের কাজ খানিকটা সহজ করে দেবার জন্যই হয়তো। ৮. ঘুম থেকে উঠে হারুনকে ঘুমাতে পাঠিয়ে দিলেন চার্লি এখন তার ডিউটি। সকাল প্রায় আটটা বাজে। চার্লি চারঘন্টা ধরে চেয়ারে বসে মনিটরের দিকে তাকিয়ে আছেন। কামাল পাশা এখন বাড়িতে আছেন। বেডে বসে কিছু ফাইল দেখছেন। মিসেস পাশা ঘরে ঢুকলেন। মনোযোগ দিয়ে দুজনের কথা হেডফোনে শুনলেন চার্লি। তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। দ্রুত হাতে মোবাইলটা তুলে নিলেন তিনি। রুদ্র শোবার সময় পুরো সরলরেখা হয়ে থাকে। সুরাইয়া ওর পাশেই শুয়ে আছে। সুরাইয়ার একটা হাত রুদ্রের বুকের ওপর। মোবাইলের ভাইব্রেশনে ঘুম ভাঙল তার। বালিশের পাশ থেকে মোবাইলটা তুলে কানে ঠেকালো। অপর পাশে কবির চৌধুরী কথা বলছেন। -রুদ্র। ইমিডিয়েটলি কাম টু সেইফহাউজ। উই গট পাশা। রুদ্র উঠে পড়লো। সুরাইয়ার ঘুম ভেঙেছে। সে প্রশ্ন করলো, “কোথায় যাচ্ছো?” -কাজে। করাচীর পালা হল শেষ। -চলে যাচ্ছো? -হ্যাঁ। -আবার কবে আসবে? রুদ্র চুপ করে রইলো। সুরাইয়া হয়তো নিজেই বুঝে নেবে যে আজই তার শেষ দিন। আজকের খেলায় মন্ত্রী সে। আজকের পর আর দেখা হবে না হয়তো। রুদ্র সুরাইয়ার বালিশের পাশে নোটের বড় একটা বান্ডিল রাখলো। সুরাইয়া লক্ষ্য করলো একটা কাগজও ইলাস্টিক ব্যান্ড দিয়ে টাকার সাথে পেচানো। রুদ্র বলল, “টাকাটা রাখো। গতকাল আমাকে ফলো করছিল ওরা। আজ রাতের পর ওরা হয়তো তোমার খোজও পেয়ে যাবে। তুমি আজ দিনের মধ্যে এই কাগজে লেখা ঠিকানায় চলে যাবে। এই লোকটা তোমাকে করাচীর বাইরে নিয়ে যাবে। নিরাপদ কোথাও।” -কেন? কি করেছো তুমি? -যত কম জানবে ততই ভাল। তোমার জন্যও আমার জন্যও। ধরা পড়লে তোমাকে ওরা ভয়ানক টর্চার করবে তারপর নৃশংস ভাবে খুন করবে। সুতরাং সাবধান। রুদ্র বের হয়ে গেল। বাইরে যাবার পথে ভাইয়ার সামনে পড়ে গেল রুদ্র। ভাইয়া তাকে দেখেই বলল, “আরে ভাইয়া কাল কেউ একজন আপনার কথা খুব পুছ করছিল।” -কে? -পাতা নাই হ্যাঁ। লেকিন ইয়াহাকা থা। তেভার পুলিশওয়ালোকে জ্যায়সা। পাশ দিয়ে একটা লোক চলে গেল বাইরের দিকে। প্যাট্রিক রবার্টসন। রুদ্রের গায়ে ধাক্কা লাগায় ঘুরে সরি বলল। রুদ্র হাত উঠিয়ে তাকে থামাল। তাকেও দ্রুত বের হতে হবে। অটোতে কোরাঞ্জি টাউনের দিকে যাবার সময় রুদ্র লক্ষ্য করলো আরেকটা অটোরিকশা তাকে ফলো করছে। রুদ্র কাধের ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে পিস্তলটা শক্ত করে চেপে ধরলো। রিকশা মফস্বলের দিকে যেতে শুরু করলো। অটোওয়ালাকে রুদ্র বলল, “ইস এরিয়াকো পেহচানতে হো?” -হাঁ জী ঘার হ্যাঁ হামারা ইস মাহল্লেমে। -গুড। কুছ এক্সট্রা প্যায়সে কামানা চাহোগে? -জরুর জনাব। কিউ নেহি? -তো শুনো। সামনে একটা গলির মুখে রুদ্র লাফিয়ে নামলো। তারপর গলিতে ঢুকে গেল। কিছুক্ষণ পর অনুসরণকরা অটোটাও একই জায়গায় থামলো। দুজন লোক নামলো সেটা থেকে। রুদ্র হাটা থামালো না। পিছনেও তাকালো না। পিছনে তাকালে দেখতো দুজনের হাতই কুর্তার পকেটে কিছু একটা চেপে ধরে আছে। ৯ মাশিয়াত হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকেই বলল, “চার্লি......... চার্লি হেডফোন নামালেন, “আমি জানি সুইটহার্ট। তোমার সাথে আমরাও যাচ্ছি। বাসর রাতেই বেড়াল মারা হবে।” মাশিয়াত বলল, “রুদ্র কোথায়?” -হি ইজ অন হিজ ওয়ে। এভরিওয়ান গেট রেডি ফর অপারেশন ফেজ টু। হারুন? -একটা ভ্যান রেডি আছে স্যার। চার্লি উঠে দাঁড়ালেন। মাশিয়াতের দিকে ফিরে বললেন, “মাশিয়াত তুমি বস এখানে। ভ্যানে সার্ভেইল্যান্স আর কমিউনিকেশনের ইকুইপমেন্ট লাগাতে হবে।” মাশিয়াত কানে হেডফোন লাগিয়ে বসলো। চার্লি হারুনের সাথে রওনা হলেন। মাশিয়াত আসবার আগেও মায়ের সাথে ঝগড়া করে এসেছে। তার মা তাকে না জানিয়েই তার বিয়ে ঠিক করেছে। পার্টিতে তার মা বাবা তাকে নিয়ে যাচ্ছেন ছেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যই। সেখানে না গিয়েও তার উপায় নেই। তারা সেখানেই হিটটা নিতে যাচ্ছে। বিগ্রেডিয়ার পাশা অফিসে ঢুকেছেন। সে স্ক্রিণের দিকে মনোযোগ দিল। পার্টিটা হচ্ছে ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসিতে। নতুন এম্বাসেডর প্রকাশ রামলিঙ্গমের জয়েনিং উপলক্ষ্যে। পাকিস্তান আর্মির প্রথম সারির সব অফিসারেরা সপরিবারে আমন্ত্রিত। রামলিঙ্গমের আরেকটা পরিচয় আছে। এম্বাস্যাডর হিসেবে জয়েন করার আগে তিনি র তে ছিলেন। পাকিস্তান এর রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার ভাল ধারণা আছে। যেটা কেউ জানে না সেটা হচ্ছে রামলিঙ্গমকে কামাল পাশা প্রায় পনের বছর আগে রিক্রুট করেছিলেন। তখন রামলিঙ্গম ছিলেন পাকিস্তানে কর্মরত র’য়ের ইন্টেলিজেন্স অফিসার। র’য়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইনফিলট্রেশনের ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন কামাল পাশা। তার খুশি হওয়া উচিত কিন্তু কোন কারণে তিনি খুশি হতে পারছে না। সিআইএর ইনটেল লীকের পর কোল্ডওয়ারের পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় লিক সম্ভবত এটাই। রামলিঙ্গম নিজের সাথে পাকিস্তান আর বাংলাদেশে কর্মরত সব র, এনএসআই আর ডিজিএফআইয়ের গোয়েন্দা ও এজেন্টদের একটা লিস্ট আনছেন সঙ্গে করে। পার্টির মাঝেই এটা তার হাতে তুলে দিচ্ছেন তিনি। তার প্ল্যান মূলত অনেক বড়। বাংলাদেশের প্রাইম মিনিস্টারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। যখন তিনি বাংলাদেশ ডিভিশনের চীফ ছিলেন তখন থেকেই চেষ্টাটা চালাচ্ছেন। একমাত্র বাংলাদেশ থেকেই এজেন্টদের ভারতে ঢোকানো সহজ। ওই দেশটাতে টাকায় সব হয়। কিন্তু এখন বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা সরকারের অবস্থান পাকিস্তানবিরোধী হওয়ায় তারা বেশ বেকায়দায় আছেন। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে তারা যে সেইফ প্যাসেজ তৈরি করেছিলেন সেটা ভেঙে পড়েছে। ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিন বছর আগে তিনি নতুন একটা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। অপারেশন লেডি মিডডে। এই অপারেশনে বর্তমান প্রাইম মিনিস্টারের পতন ত্বরান্বিত হবে। অলরেডি পনের সদস্যের একটা দল বাংলাদেশে ঢুকে বসে গেছে। বাংলাদেশের প্রাইম মিনিস্টারের প্রতিরক্ষা ব্যুহের ভেতর ঢুকে তাকে হত্যা করা হবে। দেশে শুরু হবে চরম বিশৃঙ্খলা। এই অবস্থায় সেনাবাহিনী ক্ষমতা হাতে নেবে। তখন মাথাচাড়া দেবে পাকিস্তানের মনোনীত রাজনৈতিক দলটা। তারা এমনিতেও এখন প্রধান বিরোধী দল। অল্প কিছু ব্যাবধানে জনপ্রিয়তায় সরকারি দল থেকে পিছিয়ে আছে। সুতরাং প্রাইম মিনিস্টার না থাকলে তার দলে ক্ষমতা নিয়ে দলাদলির সুযোগে অন্য দলটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ আইএসআই দিচ্ছে। সুতরাং ভুল হবার কোন সুযোগ নেই। যে ব্যাপারটা তাকে খোচাচ্ছে সেটা হল করাচীর বেশ্যাপল্লীতে একজন বাংলাদেশী এজেন্টকে দেখা গেছে। তার ডোশিয়ে এই মুহুর্তে তার টেবিলে। এই ছেলে কাজ করে ইবরাহিমের সাথে। বাংলাদেশে কাজ করার সময় এই ডিজিএফআই চীফের সাথে তার বেশ ভালই পরিচয় ছিল। যদি ইবরাহিম ওকে পাঠিয়ে থাকে তাহলে একে নিয়ে চিন্তা করার অবশ্যই অনেক কারণ আছে। নিজের এজেন্সির লোকদেরও তিনি বিশ্বাস করেন না। যদি এই অপারেশনের ইনফর্মেশন লিক হয়ে যায় তাহলে সাড়ে সর্বনাশ। যেটা তিনি ইন্ডিয়ায় করতে চাইছেন সেটা এখানে হয়ে যাবে। দ্রুত রামলিঙ্গমের নাম্বার ডায়াল করলেন তিনি। রামলিঙ্গম ফোন ধরলেন। তার গলা শংকিত। এটা রামলিঙ্গমের প্রাইভেট নাম্বার এটা র ট্রেস করে না। তবুও সাবধানের মার নেই। -প্রকাশ রামলিঙ্গম? -স্পীকিং। -ওরাকল। রিক্রুটমেন্টের সময় তাদের কনট্যাক্ট কোড ছিল ওরাকল। পনের বছর ধরে এই কোডটাই ব্যবহার করে আসছেন তারা। প্রকাশের গলায় শংকা আর আনন্দ একসাথে। তিনি বললেন, “হ্যালো ওল্ড স্পোর্ট। বলো কি খবর? -আজ রাতের এপয়েন্টমেন্ট ঠিক আছে তো? -অবশ্যই। ইউ মীট মাই ডিমান্ড আই মীট ইয়োরস। -তোমার জিনিষ পৌছে যাবে কিন্তু তার আগে আমি আমারটা হাতে চাই। -সে তো অবশ্যই। -সী ইউ টুনাইট। -প্লেজার। দরজায় নকের শব্দ হল। কামাল পাশা গলা উচু করে ডাকলেন, “কাম ইন।” একজন যুবক ঢুকে স্যালুট করলো তাকে। বলল, “স্যার আমরা মেয়েটাকে ধরে এনেছি। সে যার কাছে যাচ্ছিল তাকেও ধরে আনার জন্য লোক গিয়েছে। মেয়েটার কাছের ঠিকানা লেখা কাগজ ছিল একটা।” “মেয়েটা কোথায়?” বললেন কামাল পাশা। -ইন্টারোগেশন রুমে। -আমি আসছি। পাশা উঠে দাঁড়ালেন। ছেলেটা তখনও বলছে, “সেই এজেন্টের পেছনে লোক গেছে। ওকে ধরে নিয়েই আসবে ইনশাআল্লাহ। প্রায় বারো মাইল দূরে কোরাঞ্জি টাউনে সেইফহাউজে মাশিয়াত হতভম্ব হয়ে বসে আছে। সে কোনমতে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। ছুটে বাইরে বের হল। চার্লি ভ্যানের পেছনে সার্ভেইল্যান্স ইকুইপমেন্ট তুলে রাখছেন। সে কোনমতে ডাকল, “চার্লি...... ওর গলায় এমন কিছু একটা ছিল যা চার্লি উপেক্ষা করতে পারলেন না। হাতের ইকুইপমেন্ট নামিয়ে রেখে এগিয়ে গেলেন। মাশিয়াতের কাধে হাত রেখে বললেন, “কি হয়েছে?” -রুদ্র হ্যাজ বীন ব্লৌন। চার্লি বেশ কিছুক্ষণের জন্য বোবা হয়ে গেলেন। সম্বিত ফিরতেই বলে উঠলেন, “ফাক!” আবার বললেন, “ফাক! ফাক! ফাক!”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিঘাত-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now