বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিঘাত-০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বিঘাত শোভন নবী স্পাই থ্রিলার পর্ব ১ ১. কবীর চৌধুরী চায়ে চিনি খান না। তার ডায়াবেটিসের সমস্যা নেই। তিনি খুব বেশী স্বাস্থ্যসচেতনও না। আসল কারণ সম্ভবত তিনি মিষ্টি পছন্দ করেন না। তার সামনে এক কাপ চা রাখা আছে। তিনি একবারই চুমুক দিয়ে মুখ বিকৃত করেছেন। চায়ে প্রায় চার চামচ চিনি দেওয়া। অবশ্য তার মুখ বিকৃত করার মূল কারণ অতিরিক্ত মিষ্টি চা নয়। তার সামনে টেবিলের অপরপ্রান্তে বসে থাকা লোকটা তার বিরক্তির অন্যতম কারণ। ভদ্রলোকের নাম আলতাফ বেগ। কর্ণেল আলতাফ বেগ। আইএসআইয়ের ইন্টার্নাল সিকিউরিটি ডিভিশন চীফ। কবীর চৌধুরী বেশ কষ্ট করে তার মনের ভাব লুকালেন। এই লোক তার সাথে যোগাযোগ করায় তাকে এই সময়ে করাচীর এই ঘিঞ্জি গলিতে ঢুকতে হয়েছে। এবোটাবাদের ঘটনার পর থেকে আইএসআই শতগুণ বেশী সতর্ক। এটুকু রাস্তা আসতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কবীর চৌধুরী তার স্বভাব সুলভ ঠান্ডা গলায় আলতাফ বেগের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি কিন্তু আমাদের আজকের এই সাক্ষাতের কারণটা এখনো বলেন নাই।” আলতাফ বেগ জবাবে যা বললেন তা শোনার মানসিক প্রস্তুতি চৌধুরী সাহেবের ছিল না। আলতাফ বেগ বললেন, “আমি পাকিস্তান থেকে বের হতে চাই।” কবীর চৌধুরী অবাক হলেও কন্ঠ যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রেখে বললেন, “কর্ণেল আমি কি জানতে পারি আপনার এই সিদ্ধান্তের কারণটা কি?” কবীর খুব ভালভাবেই জানেন যে এই লোক ডবল এজেন্ট। পাকিস্তানী ইন্টেলিজেন্সের ভেতরে সিআইএর চর। এই লোক নিজের সিআইএর কন্ট্যাক্টের সাথে যোগাযোগ না করে তার কাছে কেন? তিনি মুখে বললেন, “কর্ণেল এই জন্য এই অধম কেন? আপনার পশ্চিমা বন্ধুরাই কি যথেষ্ট ছিল না?” -কবীর তুমি বুঝতে পারছো না। আই ওয়ান্ট এ টোটাল ওয়ে আউট অফ হেয়ার। ওদের কাছে গেলেই ওরা আমাকে সোনামুখ করে বের করে নিয়ে যাবে না। কবীর চৌধুরী ভ্রূ কোঁচকালেন। বললেন, “কর্ণেল আপনি ঝেড়ে কাশেন। আমাকে বললেই আমি আপনাকে সোনামুখ করে পাকিস্তানের বাইরে বের করে নিয়ে যাব এটা আপনি ভাবলেন কিভাবে?” কর্ণেল কাঁধ ঝাকিয়ে বললেন, “আফ্রিকায় তুমি দুহাতে ছাই মেখে আমার পেছনে লেগেছিলে। তুমি জানতে আমি এলআরএর কাছে অস্ত্র সাপ্লাই করতাম। তখনই সিআইএ আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে রিক্রুট করে। তুমি নিজেই তখন ওদের সাহায্য করেছিলে আমাকে ব্ল্যাকমেইলের জন্য।” -আপনার অতি লোভের কারণে আমি তো আমাদের শান্তিমিশনের ছেলেদের বিপদ হতে দিতে পারি না। আপনার পাঠানো অস্ত্র ওখানকার শিশুযোদ্ধাদের হাতে যাছিল। আমাকে সেটা থামাতেই হত। -পুরনো কথা বাদ দাও। আমার কাছে একটা জিনিষ আছে কবীর। ফর ইয়োর আইজ অনলি। কবীর চৌধুরী ঝুকে এলেন কর্ণেল বেগের দিকে। বেগ বিড়বিড় করে কবীরের কাছে নিজের অফারটা তুলে ধরলেন। ২ -চার্লি তোমার মাথা ঠিক আছে? তোমার এই কাজের ফলাফল কি হবে তা কি বুঝতে পারছো? চার্লি কবীর চৌধুরীর ডাক নাম। তার ঘণিষ্ঠ বন্ধুরা ছাড়া এই নামে এখন আর কেউই তাকে ডাকেন না। তাদের মধ্যেই একজনের সামনে এখন তিনি বসে আছেন। ভদ্রলোকের নাম মাহমুদ ইব্রাহীম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই প্রাক্তন কর্ণেল এখন ডিজিএফআইয়ের কোভার্ট অপস ডিভিশন চালান। একসময় তারা দুজন একসাথেই কাজ করতেন। বর্তমানে কবির আছেন সেক্টর-১২তে আর কর্ণেল ডিজিএফআইয়ে। বন্ধুত্ব কমেনি একটুও। কবীর চৌধুরীকে আমরাও এখন থেকে চার্লি নামেই ডাকব। চার্লি বললেন, “কর্ণেল সে আমাদের সাথে এককালীন একটা চুক্তি করবে।” -চুক্তি? -হ্যা। তার শর্ত হচ্ছে তাকে পাকিস্তান থেকে বের করে নিতে হবে। গোপনে। বিনিময়ে সে আইএসআইয়ের বাংলাদেশ সংক্রান্ত সকল গোপন ফাইল আর সেই সাথে বাংলাদেশে একটিভ সব আইএসআই আর র এজেন্ট সেই সাথে সব টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশনের অপারেটিভদের সন্ধান দেবে। কর্ণেল চুপ। চার্লি আবার বললেন, “কিন্তু আমার একটা বেটার আইডিয়া আছে। সেই জন্যই আমার তোমার সাহায্য লাগবে।” কবীর চৌধুরী নিজের বেটার আইডিয়াটা ব্যাখ্যা করলেন কর্ণেলের কাছে। কর্ণেল সব শুনলেন। তারপর বললেন, “এটা কিভাবে সম্ভব? চার্লি, ঝামেলা হলে আমরা সবাই শেষ।” -খুব সম্ভব। এই অপারেশন শেষ হবার আগে আমরা কোন ফাইল সংরক্ষণ করবো না। কিন্তু অপারেশন সফল হবার পর আমরা নতুন একটা ফাইল খুলবো। এই অপারেশনে আমাদের শুধু লাভই আছে। -কিন্তু যদি ব্যর্থ হও। -আমরা সবাই তাহলে শেষ। কিন্তু আমি ব্যর্থতার কথা চিন্তা করছি না। আমার শুধু একটা ছেলেকে লাগবে। তোমার ডিপার্টমেন্টের বেস্ট অপারেটর। -ওকে। কিন্তু সিআইএ? -পাকিস্তান স্টেশন চীফ প্যাট্রিক রবিনসন ঘোড়েল লোক। সেই এখন বেগের হ্যান্ডলার। আমাদের এখন বেগকে ইনএকটিভ বানিয়ে ফেলতে হবে। তোমার ছেলেটাকে আমার এ কারণেই দরকার। ইব্রাহীম চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। দুতাবাসের জানালা দিয়ে বাইরে করাচির জনাকীর্ন সড়কের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমার এজেন্ট পৌছে যাবে। ইউ নো দিস গেম। হেরে গেলে কিন্তু সর্বনাশ। সিআইএর পাছায় আঙুল দেবার চেষ্টা করছো তুমি। ব্যার্থ হলে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনেও দাঁড়াতে হতে পারে।” কবির কোন উত্তর দিলেন না। ইবরাহিম বের হয়ে গেলেন। বিকেল তিনটায় বাংলাদেশগামী পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের বিমানে ওঠার আগে তিনি একটা ফোন দিলেন। একটা যার পরনাই মিষ্টি কন্ঠের মেয়ে ফোন উঠালো, “হ্যালো স্করপিও সিকিউরিটিস......... কর্ণেল বললেন, “বরযাত্রী তৈরি। বর কোথায়? কনে অপেক্ষা করছে। লগ্ন পেরিয়ে গেল যে।” কর্ণেল কল ডিসকানেক্ট করে দিলেন। যার যা বোঝার সে বুঝে নিবে। ৩ মাশিয়াতের বাবা বাঙালী হলেও মা ছিলেন পাকিস্তানী। বাবার রোড এক্সিডেন্টে মৃত্যুর পর যখন ওর মা পাকিস্তানে ফিরে আসেন তখন তার হাতেও অন্য কোন উপায় ছিল না। এখানকার কালচারের সাথে সে মানিয়ে নিতে পারেনি কোন কালেই। তাই সে চলে যায় তার চাচার কাছে লন্ডনে। তার চাচা ছিলেন ইনস্যুরেন্স এজেন্ট। তার বাসায় প্রায়ই আসতো অল্প বয়সী এক যুবক। তার চাচার সাথে নানা বিষয়ে কথাবার্তা বলতো। যুবকের নাম চার্লি। অন্তত তার চাচা তাকে চাই ডাকতেন। বাঙালী যুবক। নম্র ভদ্র। মাশিয়াত তখন সবে হাইস্কুলে উঠেছে। চার্লি আর চাচা যখন বসে গল্প করতেন তখন মাশিয়াতও ওদের সাথে বসতো। হা করে গিলতো চার্লির কথা। তখনই মাশিয়াতের জীবনে প্রেম এল প্রথমবারের মত। চার্লি। টিনেজ প্রেম গুলো হয় চারা গাছের মত। রোদ আর পানি না পড়লে একাই কিছুদিন পর মারা যায়। মাশিয়াতের প্রেম মরেনি। চার্লি একদিন এক বাঙালী তরুণীকে নিয়ে এল চাচার বাসায়। মাশিয়াত ধরেই নিল এটা চার্লির বান্ধবী হবে। কিন্তু না। মেয়েটা ছিল ওর বাগদত্তা। মাশিয়াত সেদিন ইনসমনিয়ার রোগী চাচীর ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিল এক পাতা। মরার জন্যই খেয়েছিল হয়তোবা। কিন্তু লাভ হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে পেট ওয়াশ করানো হয় ওর। চার্লি সেই মেয়েটাকে নিয়ে এসেছিল হাসপাতালে। মেয়েটি ওর পাশে বসে অনেক গল্প করেছিল। অনেক বোঝাল। তাকে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু সে বুঝে গিয়েছিল সত্যটা। চার্লির বিয়েতেও মাশিয়াত ছিল। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে চার্লি দেশে চলে যায়। এই চার্লির সাথে মাশিয়াতের আবার দেখা হয় আফগানিস্তানে। ৯/১১ এর পরবর্তী সময়। আমেরিকা তখন ফুল স্কেল ইনভেশন চালাচ্ছে সেখানে। চব্বিশটা ঘন্টা মৃত্যুভয়। একটা মেডিক্যাল ক্যাম্পে ভলান্টিয়ার হিসেবে ছিল মাশিয়াত। সে তখন অক্সফোর্ডে এপ্লায়েড কেমিস্ট্রির ছাত্রী। দাঁড়ি গজিয়ে হুলস্থুল হয়ে থাকা চার্লিকে সে একবার দেখেই চিনে গিয়েছিল। চার্লি তাকে প্রথমে চিনতে পারেনি। চার্লির জীবনও ততদিনে এগিয়ে গেছে। ওর স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে সে এখন তার কাজ নিয়েই ব্যস্ত। দুবছর আগে তার স্ত্রী মারা গেছে দুরারোগ্য ক্যান্সারে। চার্লি ওকে একদিন হুট করে একটা কাজের প্রস্তাব দিয়ে বসে। কাজটা অদ্ভুত। ওদের ক্যাম্প থেকে নিয়মিত নাকি ওষুধ পাচার হয়। ওষুধগুলো মূলত রিউম্যাটিক ফিভারের। সেই ওষুধ কে পাচার করছে তার কাছে সেটা খোজ নেবার ভার দেয় চার্লি তাকে। ওষুধের খোজ নিতে গিয়ে সে জানতে পারলো যে তাদের ক্যাম্পের একজন ওয়ার্ডবয় নিয়মিত ফার্মাসি থেকে ওষুধ সরায়। ছেলেটাকে ফলো করে সে চলে যায় খাইবারপাখতুনখাওয়ার উপত্যকায়। ওষুধগুলো যায় আল কায়েদার একজন লোকাল চীফ নাজির হিশামের কাছে। তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে সবাই সবাইকে চেনে। মাশিয়াত কিছু ছবি তুলে নিয়ে চলে আসে সেখান থেকে। সেই ছবিগুলো পৌছে দেয় চার্লির কাছে। চার্লি কেন ছবি চেয়েছিল তা জানা নেই মাশিয়াতের। কিন্তু চারদিন পর পত্রিকার একটা খবর তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নাজির হিশামের ছবি সহ এসেছিল খবরটা। আল কায়েদার লোকাল চীফ খুন। অজ্ঞাত আততায়ী লং রেঞ্জ রাইফেল দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে তাকে। সেদিন সন্ধ্যায় চার্লি কফির দাওয়াত করেছিলেন তাকে। সে গিয়েছিলও। চার্লি তাকে সব খুলে বলেন। সেক্টর-১২ নামের বাংলাদেশ সরকারের গোপন সংস্থার জন্য কাজ করার প্রস্তাব দেন। এক প্রকার চার্লির কাছাকাছি থাকার জন্যই রাজি হয়েছিল সে। পরদিনই একটা ফ্লাইটে ইংল্যান্ড ফিরে যায় সে। চার্লি সেখানেই গোপনে তাকে ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেন। পুরো সময়টা অনেক চেষ্টার পরও চার্লির সাথে নিজের দুরত্বটুকু কমাতে পারেনি। সেই থেকে শুরু। মাশিয়াত এখন চার্লির সবচেয়ে পুরনো আর বিশ্বস্ত ইন্টেলিজেন্স অফিসার। মাশিয়াতের মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। ভদ্রলোকেরও এটা দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তার নাম লেফটেন্যান্ট কর্ণেল কামাল পাশা। চার্লি মাশিয়াতকে বলে কামাল পাশার ওপর নজর রাখতে। কামাল পাশা কঠিন জিনিষ। তাকে রিক্রুট করতে নিষেধ করে দেয় চার্লি। শুধু নজরদারি আর চোখ কান খোলা রাখো। গত পাচ বছর ধরে কামাল পাশার ওপর সার্ভেইল্যান্সের পুরো কাজটা মাশিয়াতই সামলায়। জরুরি কিছু পেলে সে চার্লির কাছে খবর পাঠায়। চার্লি চলে আসে তার সাথে দেখা করতে। কয়েকমাস আগে কামাল পাশা যখন আইএসআইয়ের নতুন চীফ হিসেবে নিয়োগ পান তখন প্রায় সাথে সাথেই মাশিয়াতের কাজ এক লাফে অনেক বেড়ে যায়। রিসেন্টলি কামাল পাশা আইএসআইয়ে একটা তদন্ত কমিশন বসিয়েছেন। আইএসআইয়ের অফিসারদের দুর্নীতির ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য। করাপ্ট অফিসারদের লিস্টের একটা কপি মাশিয়াত পাঠিয়ে দিয়েছে চার্লির হাতে। সেটার রেসপন্স এত দ্রুত আসবে সেটার ধারণা ছিল না তার। আজ সকালে অচেনা নাম্বার থেকে একটা ফোন পেয়েছিল সে। একটা মেয়ে কল করেছিল, “বরযাত্রী রওনা দিয়ে দিয়েছে। গেট রেডি।” ৪. মিশনের অর্ডারগুলো খুব সাধারণ ছিল। লো প্রোফাইলে চলো, কারো নজরে পড়া যাবে না, টার্গেটের কাছ থেকে যতটা সম্ভব দুরত্ব বজায় রাখো। গুপ্তচর আর সাধারণ সৈনিকদের কাজের পদ্ধতি সাধারণত একরকম হয় না। কিন্তু এজেন্ট বিশপের রেপুটেশন অনুযায়ী অর্ডার ফলো করা তার পক্ষে সম্ভব না। তাই যখন সে ব্রিফিঙয়ে অনুপস্থিত ছিল তখনই চার্লি বুঝে গেলেন যে এই ছেলেকে দিয়ে নিজের পছন্দমত কাজ আদায় করতে তার খবর হয়ে যাবে। অপারেশনের হিসেব খুব পরিস্কার। চারজন এজেন্ট। অপারেশন কন্ট্রোল, ইন্টেল আর এক্সপ্লোসিভ এক্সপার্ট মাশিয়াত আনোয়ার। যানবাহনের দায়িত্বে হারুন। ব্যাংকিং, আর ফাইন্যান্সিয়াল দিক সামলানোর জন্য ফারাহ নামে এক ব্যাংকিং এক্সপার্টকে রিক্রুট করেছেন চার্লি। মেয়েটার বয়স ২১ কি ২২। ভয়ে ছোট্ট হয়ে আছে। তার কাজ মূল টীমের সাথে না সে চার্লির সাথে থাকবে। আর আশফাক রুদ্র নামের এক যুবক। তার কাজটা এখনও চার্লি বলেননি কাউকে। প্রথম ব্রিফিঙয়ের সময় সে অনুপস্থিত ছিল। পরদিন সেফহাউজে রিপোর্ট করার পর থেকে সে সারাদিন খায়দায় আর ঘুমায়। মাঝে মাঝে সন্ধ্যার দিকে বাইরে যায়। পরেরদিন সকালে ফিরে আসে। হারুন একদিন বলেই বসলো, “বস, প্রতিরাতে কই যান আপনি?” -আমার করাচিতে আরেকটা সেইফহাউজ আছে। “ও আচ্ছা” হারুন আর কথা বাড়াল না। আইএসআই চীফ বিগ্রেডিয়ার কামাল পাশা গোসলের সময় বিলাসিতা করেন একটু। তিনি প্রায় পনের মিনিট সময় নেন গোসল করতে। তার মোবাইল সবসময় খাটের সাইড টেবিলে রাখা থাকে। মাশিয়াতের ঘরটা বেশ দূরে। মাশিয়াত এটাই পছন্দ করে আর সে সবসময় বাসাতেও থাকে না। মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে বা বাবা হিসেবে কর্ণেল বেগ কোনটাই সে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। এটা নিয়ে তার মা সুফিয়া পাশা খানিকটা চিন্তিত। মাশিয়াত গত রাতে বাড়ি ফিরেছে। এবার প্রায় একমাস পর। তিনি বিগ্রেডিয়ার পাশাকে বললেন, “মেয়েটা তো এসেছে। তোমার কি উচিত না মাঝে মাঝে ওর সাথে একটু কথাবার্তা বলা?” কামাল পাশা নাস্তার টেবিলে বসে ডনের পাতা উলটে যাচ্ছিলেন। স্ত্রীর কথা শুনে খানিকটা বিরক্ত হয়েই বললেন, “কথা আর কি বলবো? তোমার মেয়ে তো আমাকে সহ্যই করতে পারে না।” -তবুও তোমার পরিকল্পনাটা ওকে জানানো উচিত ছিল? -যা বলার তুমিই বলবে। আমি বললে ফল খারাপও হতে পারে। জেনারেল ইসহাকের ছেলের সাথে বিয়ের প্রস্তাব পাগল ছাড়া আর কেউ ফেলে দেবে না। ওর রাজি না হবার কোন কারণ নেই। যখন তারা দুজন কথা বলছিলেন। তখন মাশিয়াত বিগ্রেডিয়ার পাশার রুমে রেডিও ট্রান্সমিটার লাগাচ্ছে। বেডের কোনায়, ল্যাম্পের কোনে বেশ কয়েকটা ট্রান্সমিটার বসাল সে। ভেন্টিলেটরের ভেতরে চেপেচুপে ঢুকিয়ে দিল একটা গোপন ক্যামেরা। কাজ শেষে এবং একই কাজ হচ্ছে করাচীর আইএসআই হেডকোয়ার্টারে। কর্ণেল বেগ এই মুহুর্তে দাঁড়িয়ে আছেন তার অফিসের করিডোরে। তার পরের অফিসটাই বিগ্রেডিয়ার পাশার। সেখানে ডু নট এন্টার লেখা একটা সাইন ঝুলছে। ভেতরে পেস্ট কন্ট্রোলের কাজ চলছে। বেগের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তিনি একবার গিয়ে উকি দিলেন ভেতরে। হারুন নামের যুবকটি খেকিয়ে উঠলো। তিনি বাইরে বের হয়ে এলেন। পুরো অফিসটাতে গোপন ক্যামেরা আর রেডিও ট্রান্সমিটার লাগানো হচ্ছে। বেগের হাত পা কাপছে তার মনে হচ্ছে তার গর্দান গিলোটিনে রেখে দেওয়া আছে। যেকোন সময় দুটুকরো হবে। তিনি রুমাল বের করে কপালে জমে থাকা ঘাম মুছলেন। ঠিক সেই সময়েই বিগ্রেডিয়ার পাশার পুরো বাড়িটার লাইভ ভিডিও আর শব্দ করাচীর কোরাঞ্জি টাউনে চার্লির সেফহাউজের কম্পিউটার মনিটরে ফুটে উঠল। রুদ্র অপারেটরের দায়িত্বে ছিল। তার কানে হেডসেট। সে বলল, “অডিও ক্লিয়ার।” চার্লিও একটা হেডসেট তুলে নিলেন। নারী কন্ঠের তীব্র বাকবিতন্ডা শোনা যাচ্ছে। মাশিয়াত আর তার মা ঝগড়া করছে। চার্লি শোনার আগ্রহ বোধ করলেন না। হেডফোন খুলে নামিয়ে রাখলেন। কর্ণেলের শোবার ঘর দেখা যাচ্ছে। কর্ণেল তালে হাতে বাথরুমের দিকে যাচ্ছেন। চার্লি দ্রুত হাতে মাশিয়াতের নাম্বারে মেসেজ দিলেন। একটাই শব্দ, “গো।” একটু পরে মাশিয়াতকে ঘরের ভেতরে দেখা গেল। এদিক ওদিক তাকিয়ে সে কামাল পাশার মোবাইলটা তুলে নিয়ে তাতে একটা কেবলের জ্যাক লাগালো। ওটা একটা সিম ক্লোনিং ডিভাইস। এখন থেকে কামাল পাশার মোবাইলের নিয়ন্ত্রণটাও তাদের হাতে থাকবে। তিনি এজেন্ট ব্রিফিঙয়ের পর দেখা করলেন আলতাফ বেগের সাথে। ইসলামাবাদের একটা ক্যাফেতে। কর্ণেল বেগ নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দশ মিনিট পরে হাজির হলেন। চার্লি বললেন, “কফি?” -না ধন্যবাদ। তোমরা কি ঠিক করলে? -আমরা আপনার প্রমোশন দিচ্ছি। -মানে? চার্লি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলেন কর্ণেলের কাছে। কর্ণেল সব শুনলেন। কথা শেষ হলে কর্ণেল মুখ খুললেন, “দেখ চৌধুরী। আমি তোমার ওপর ভরসা করছি। কিন্তু তুমি মনে হচ্ছে আমাকে নিয়ে ডুববা।” চার্লি হাসলেন, “ট্রাস্ট মি কর্ণেল।” -আর সিআইএ? -ডবল এজেন্টের হ্যান্ডলার যদি ফিল্ডে আর না থাকে তাহলে কি হবে? -এজেন্ট স্লীপার সেল হয়ে যাবে। -আর স্লিপার সেল যদি এমন একটা পজিশনে হুট করে চলে যায় যেখান থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব না বা করলেও কোন লাভ হবে না তখন? -এজেন্ট পার্মানেন্টলি ইনএকটিভ। -আপনার ক্ষেত্রেও তাই হবে। এতক্ষণে হাসলেন কর্ণেল। চার্লিও হাসলেন। হাসতে হাসতেই বললেন, “আমি কি তাহলে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ইনটেলিজেন্স চীফের সাথে হাত মেলাতে পারি?”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিঘাত-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now