বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত ১০ টা বেজে ১৯ মিনিট...
ম্যাডামকে রুমে পৌঁছে দিয়ে তাসনিফ নিচে হোটেল ম্যানাজারের সাথে দেখা করতে গেলো,কারন আর কিছুই নয় আজ সারাদিনে হোটেলের কোন কামরা খালি হয়েছে কিনা সেটা জানাই তার উদ্দেশ্য, তাসনিফের পকেটে এখন এক ফুটিকড়িও নেই যে নিজের জন্য একটা কামরা বুক করবে,যদি ঝড়ে বকে কোন কামরা খালি পেয়ে যায় তাহলে এজেন্সিরর সাথে কোনভাবে মুলাকাত করে সেই কামরা নিজের জন্য বুক করে নেবে,এটাই এখন তাসনিফের অন্তরে প্রবল বাতাসে দুলতে থাকা নিভু নিভু চেরাগের শিখার ন্যায় খানিকটা আশার আলো,হোটেলের নিচ তলায় হলরুমে এসে তাসনিফ দেখতে পেলো ম্যানাজার রিসিপসন ডেস্কে বসে ফোনে কার সাথে যেন বারতালাপে মগ্ন আছেন,তাসনিফ ডেস্কে গিয়ে ম্যানাজারের ফোনের বারতালাপ শেষ হবার প্রতিক্ষা করতে লাগলো,তাসনিফের উপস্থিতি টের পেয়ে ম্যানাজার ফোনের রিসিভার নামিয়ে তাসনিফকে জিজ্ঞাসা করলো..
ম্যানাজার:How can i help you sir?
তাসনিফ:আপনাদের হোটেলে আজ রাত্রি অতিবাহিত করার জন্য কোন কামরা খালি হবে কি?
ম্যানাজার:দয়াকরে সাময়িক সময় অপেক্ষা করুন কম্পিউটারে চেক করে আপনাকে জানাচ্ছি,..
ম্যানাজার তাসনিফের সাথে কথা শেষ করে কম্পিউটারের কিবোর্ডে কিছুক্ষন চাপাচাপি করে তাসনিফকে জানালো যে আজ দুপরের দিকে একটা কামরা খালি হয়েছিলো,কিন্তু.....
ম্যানাজারের প্রথমদিকের কথা শুনে তাসনিফের মুখ কিছুটা উজ্জ্বল হলেও পরে ম্যানাজারের মুখে কিন্তু শব্দটি শোনার পর মনে হলো যেন কেউ তাসনিফের
চেহারায় এক বালতী কালি ছুড়ে মেরেছে! মুখটা অন্ধকার করে তাসনিফ ম্যানাজারের কাছে জানতে চাইলো কিন্তু বলে আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন?
ম্যানাজার: আই এম ভ্যারি সরি স্যার! আপনি আসার ৫ মিনিট পূর্বেই হোটেলের শেষ কামরাটিও বুকিং হয়ে গিয়েছে!সুতরাং আমি যদি আপনার অন্যকোন উপকারে আসতে পারি তাহলে বলতে পারেন?
ঠিক এই ভয় টাই তাসনিফ মনে মনে করেছিলো, বিধাতা যেন তাকে কাঠপুতলির মতো নাকে দড়ি দিয়ে নাচাচ্ছেন,তাসনিফ অবশেষে আর কোন উপায়ন্তর না দেখে ম্যানাজার কে জিজ্ঞাসা করলো....
তাসনিফ:তাহলে আশেপাশে এমন কোন হোটেল আছে কি যেখানে কোন কামরা খালি পাওয়া যাবে?
ম্যানাজার:এটা বলতে একটু সময় লাগবে,আপনি এক কাজ করুন এই খাতায় আপনার নাম এবং নাম্বার লিখে দিয়ে যান ১০ মিনিট পর আপনাকে ফোন করে জানিয়ে দেয়া হবে।
তাসনিফ ম্যানাজারের এগিয়ে দেয়া খাতায় নিজের নাম এবং ফোন নাম্বার লিখে দিয়ে এলো,
ম্যানাজারের সাথে কথা শেষ করে ম্যাডামের দখলকৃত তাসনিফের কামরার দিকে পা বাড়াতেই তাসনিফের পকেটে থাকা ভাঙ্গা নোকিয়া ১১০০ মডেলের মোবাইলটা বেসুরো গলায় চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলো,এক সময় হয়তো এই ফোন দিয়ে ঢিল দিয়ে আমের মৌসুমে কাঁচা আম পেড়ে লবন মরিচ দিয়ে আ..রা..ম..সে খাওয়া যেতো! কিন্তু এখন এটার এমন অবস্থা হয়েছে যে কোনমতে এটা একবার হাত থেকে পড়তে পারলেই কালেমা শরিফ পড়তে পড়তে ইন্তেকাল ফর্মাবে!
মোবাইল হাতে নিয়ে দেখতে পেলো যে স্ক্রিনে ম্যাডামের নাম জ্বলজ্বল করছে,ফোনটা রিসিভ করে কানের সামনে আনতেই ম্যাডামের কথারঝুড়ি যেন কানে শেলের ন্যায় আঘাত হানতে লাগলো!
ম্যাডাম:তাসনিফ কোথায় তুমি?
সেই কখন বাহিরে গিয়েছো এখনো রুমে আসার নাম নেই?
তাসনিফ:না ম্যাডাম একটু হোটেল ম্যানাজারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম,আমি নিচেই আছি কোন দরকার থাকলে বলুন!
ম্যাডাম:ম্যানাজারের সাথে এমন কি দরকারে দেখা করতে গিয়েছিলে?
তাসনিফ:না...ইয়ে..মানে...হোটেলে কোন কামরা খালি আছে কিনা সেটাই একটু খোঁজ লাগাতে গিয়েছি আর কি!
ম্যাডাম:কেন?আমার সাথে ঘুমোলে সমস্যা কোথায় তোমার?
তাসনিফ ম্যাডামের চেহারা না দেখলেও বুঝতে পারলো যে ম্যাডামের চাহারা রাগে লাল হয়ে আছে।তাই সে কৈফিয়তের সুরে ম্যাডামকে জানালো আসলে ম্যাডাম! কাল রাতে ভালো করে ঘুমুতে পারিনি তাই আজকের রাতটা একটু আরাম করে ঘুমুতে চেয়েছিলাম,তা ছাড়াও সিংগেল খাটে দুজন ঘুমালে খাটের সংকীর্ণতার কারণে ২জনেরই ঘুমাতে কষ্ট হবে তার উপর কাল আপনি স্বদেশে চলে যাচ্ছেন তাই আমি চাচ্ছিনা রাতে আমার কারনে আপনার কোন প্রকার কষ্ট হোক!
ম্যাডাম:অতশত বুঝিনা তাড়াতাড়ি কামরায় চলে এসো আমি খাবারের অর্ডার দিয়ে দিয়েছি আজ দুজনে এক সাথে খাবো...টুট..টুট..টুট
তাসনিফ কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ম্যাডাম অপর পাশ থেকে লাইন কেটে দিলেন।
দির্ঘ একটি শ্বাস ফেলে তাসনিফ রিসিপসন ডেস্কে আবার ফিরে গেলো হোটেলের কামরার ব্যাপারে কথা বলতে, তবে যা ভেবেছিল ঠিক তাই হয়েছে,তাসনিফ ম্যানাজারের কাছে জানতে পারলো আশেপাশের হোটেলে টুরিস্ট সিজন থাকার কারনে সেগুলো সম্পূর্ণ ফুল, তাই
আশেপাশের কোন হোটেল এর কামরা খালি পাওয়াটা এখন একদম না..মুনকিন ব্যাপার!!
আর এমনিতেও সে যদি অন্যকোন হোটেলে কামরা পেয়েও যায় তাহলে ম্যাডাম যে তাকে আস্ত ছাড়বেন না সেটাও তাসনিফ হারে হারে বুঝে গেছে,এমনিতে পাঁচ মাসের মেসভাড়া বাকি তার উপর এখন যদি তাসনিফের ব্যাপারে ম্যাডাম এজেন্সিতে কোন অভিযোগ দায়ের করেন তাহলে তার কারনে তাসনিফ ভালোই মসিবতে পরবে,অবশেষে কোন আর রাস্তা খোলা না পেয়ে তাসনিফ ম্যাডামের দখলকৃত কামরার দিকেই পা বাড়ালো।
কথায় আছে বিধাতা যা করেন তা মানবের ভালোর জন্যই করেন,অবশেষে তাসনিফের ভাগ্যের লিখনে খারাপ দিন গুলো অতিবাহিত হয়ে ভালো দিনের স্বপ্নিল আভা যেন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতে লাগলো..
রাত ১০ বেজে ৪৫ মিনিট...
তাসনিফ কামরায় এসে ম্যাডামকে কোথাও দেখতে পেলোনা,শুধু শুনতে পেলো বাথরুম থেকে ঝর্ণারর কল কল করে পানি পড়ার শব্দ আর সেই সাথে ম্যাডামের মুখ থেকে মৃদুলয়ে গানের কলি ভেতর থেকে ভেসে আসছে,তাসনিফ বুঝতে পারলো ম্যাডাম জি এখন বাতরুমে মহানন্দে
বাথ শাওয়ার নিচ্ছেন।হঠাৎ তাসনিফ জানালার বাহিরে লক্ষ করে দেখলো আকাশে ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, তাসনিফ বুঝতে পারলো যে আজ রাতে মুসুলধারে বৃষ্টি পড়তে যাচ্ছে, কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিকট শব্দে কোথাও বজ্রপাত পড়লো সেই সাথে পুরো এলাকায় বজ্রপাতের কারনে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গিয়ে গোটা এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পরলো,এই অন্ধকারের মাঝে তাসনিফ কি করবে কিছুই বুঝতে না পেরে বোবার মতো এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো,এদিকে প্রচণ্ড বজ্রপাতের শব্দে বাথরুমেই ম্যাডাম প্রচণ্ড জোরে চিৎকার করে উঠলেন,সেই সাথে ইলেক্ট্রিসিটি চলে যাবার কারনে ম্যাডাম আতংকিত হয়ে সেই অবস্থাতেই বাথরুম থেকে বের হয়ে এলেন।এদিকে বিদ্যুৎ চলে যাবার কারনে কিছুক্ষণের মাঝেই হোটেলের সয়ংক্রিয় জেনারেটর চালু হয়ে গেলো,সেইসাথে সমস্ত হোটেল আবার ফিরে পেলো তার নিজস্ব আলো , এদিকে আলো আসার পর ম্যাডাম তাসনিফকে রুমের মাঝে আবিষ্কার করে একদম হতবিহব্বল হয়ে সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন সেই সাথে তাসনিফও ম্যাডাম কে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঘোরলাগা দৃষ্টিতে ম্যাডামের দিকে এক নজরে তাকিয়ে রইলো... তাসনিফের মনে হলো যেন তার মধ্যহতে বিবেক বুদ্ধি ধিরে ধিরে লোপ পেয়ে যাচ্ছে, .
হঠাৎ তাসনিফ অনুভব করলো তার মাঝে ঘুমিয়ে থাকা হিংস্র পশুটা আস্তে আস্তে জেগে উঠেছে,যেন যেকোন সময় শুরু হয়ে যেতে পারে প্রাচিনকাল থেকে চলতে থাকা এমন এক আদিম খেল........ যা প্রাচিনকাল থেকে যুগ থেকে যুগান্তর ভাবে ধারাবাহিকতার সাথে চলে আসছে......(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now