বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিধির লিখন ৩য় পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান emtiaztaib (০ পয়েন্ট)

X সকাল ১১ বেজে ৩০ মিনিট... তাসনিফ আর ম্যাডাম হোটেল থেকে বের হয়ে কোলাহল পূর্ন এক বাসষ্টপে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।কাল বিকেল পাঁচটায় ম্যাডাম তার স্বদেশের উদ্দেশ্যে বিমানের মাধ্যমে ডানামেলে আকাশে উড়াল দেবেন, আজকের দিনটা কোনমতে সহ্য করে থাকতে পারলে কাল এজেন্সি থেকে তাসনিফ ভালো অংকের কমিশন পাবে,এতো কিছুর মাঝে এটাই এখন তাসনিফের জন্য একমাত্র সান্ত্বনার বাণী।তাসনিফ চাইছিলো যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ম্যাডাম কে ঘুরিয়ে হোটেলে ফিরিয়ে আনতে,যাতে করে হোটেলে নিজের জন্য অন্যকোন কামরা বুক করে নিতে পারে। অন্যান্য দিন হয়তো ম্যাডামকে ট্যাক্সি অথবা প্রাইভেট কারে করেই তাসনিফ বিভিন্ন জায়াগায় ঘুরাতে নিয়ে যেতো কিন্ত আজ শেষ দিনে এসে ম্যাডাম বায়না ধরেছেন যে লোকাল বাসে করে যতোটুকু সম্ভব ঢাকা শহরটা শেষ বারের মতো ঘুরেফিরে দেখবেন,এ ক্ষেত্রে আড়ালে দির্ঘশ্বাস খরচ করা ব্যাতিত তাসনিফের কোন কিছুই আর করার নেই, কারন ম্যাডাম যদি তাসনিফের ব্যাপারে এজেন্সিতে কোন প্রকার অভিযোগ দায়ের করেন তাহলে সেই অভিযোগের উপর ভিত্তি করে সেই অনুপাতে তার মাইনে থেকে কমিশন কেটে নেয়া হবে।তাসনিফ কিছুক্ষণ পূর্বে ম্যাডামের ব্যাপারে এজেন্সিতে আলাপ করেছে যে ম্যাডাম আজ হোটেলে নিজের রুম চেকআউট করে তাসনিফের কামরায় রাত অতিবাহিত করতে চান সে কারনে তাসনিফ চাইছিলো যাতে এজেন্সির পক্ষ থেকে যেন তার জন্য অন্যকোন কামরা বরাদ্দ করে দেয়া হয়,কিন্তু এজেন্সি থেকে পই পই করে তাকে বলে দেয়া হলো যে ম্যাডাম যদি রাতে তার কামরায় থাকতে চান তাহলে সেটা একান্তই ম্যাডামের ব্যাক্তিগত ব্যাপার।যদি তাসনিফ চায় তাহলে একরাতের জন্য নিজের পকেট থেকে টাকা খসিয়ে অন্য কোন কামরা নিজের জন্য বুক করে নিতে,তাছাড়া যদি এজেন্সি থেকে তার জন্য কোন কামরার ব্যাবস্থা করেও দেয়া হয় তাহলে পরবর্তীতে সেই অনুপাতে তার কমিশন থেকে কেটে নেয়া হবে কারন তাসনিফের হোটেলে থাকা খাওয়া বাবদ ম্যাডাম থেকে আলাদা চার্জ করা হয়েছিলো তাছাড়া শুধুমাত্র একরাতের জন্য তাসনিফের এজেন্সি কোনক্রমেই চাইছিলোনা যে নিজথেকে টাকা খসাতে।এদিকে টুরিস্ট সিজন থাকার কারনে আশেপাশের কোন হোটেলও যে খালি নেই সেটাও এজেন্সি থেকে তাসনিফকে পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেয়া হলো,কথায় আছে বিপদ যখন আসে তখন একপাশ থেকে নয় বরং চারপাশ থেকেই ঘিরে আসে! তাসনিফেরো হলো সেই একই দশা!,তাসনিফ যখন ম্যাডামের কামরা চেকআউট করে হোটেল থেকে ম্যাডামকে নিয়ে বের হতে যাচ্ছিলো ঠিক তখনি অন্য এক কাঁপল ফ্যামিলি এসে ম্যাডামের কামরা বুক করে নিলো।তাসনিফের অন্তরে এতোক্ষন ম্যাডামের কামরা নিজের জন্য বুক করে নেবার যে ক্ষিণ একটি আশার কিরণ নিভু নিভু আকারে শিখা ছড়াচ্ছিল তা যেন এক নিমেষে ধপ করে কোন এক দমকা হাওয়া এসে নিভেয়ে দিয়ে গেলো!বিধাতা যেন তাসনিফের সাথে চরম উপহাস করে বলছে নাও বৎস!এবার দেখি কি করে ম্যাডামের সাথে রাত্রিযাপন না করে থাকতে পারো!এমনিতেই রাতে ম্যাডামের জ্বালায় আরামের ঘুম হারাম হয়ে গেছে তার উপর এজেন্সির সাথে কথা বলার পর মেজাজ পুরোই খিচড়ে আছে।বাসস্টপে দাঁড়িয়ে দাঁতের সাথে দাঁত পিষে কোনক্রমে রাগ হজম করার চেষ্টা করছে।মেসে লাগাতার ৫ মাসের ভাড়া বাকি, মালিক বারবার এসে মেসের ভাড়া পরিশোধ করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।বলে দিয়েছে এমাসে যদি সমস্ত মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে না পারে তাহলে তাসনিফ যেন নিজের ব্যাবস্থা নিজে করে নেয়, সামনের মাস থেকে তাকে আর মেসে ঢুকতে দেয়া হবেনা।এমন কি তার যতো সামানপাতি আছে তা সবই বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রি করে তারথেকে ভাড়ার টাকা উসুল করে নেয়া হবে।এখন ধরতে গেলে ম্যাডামি তাসনিফের আখেরি ভরসা।....... বেলা ১২টা বেজে ৩৫ মিনিট... চিরচেনা ব্যাস্ত নগরিতে আমজনতার পরম প্রিয় বাহন লোকাল বাসে এই মূহুর্তে পিছনে কোনার এক আসনে তাসনিফ আর ম্যাডাম পাশাপাশি বসে আছে।গন্তব্য শায়েস্তা খানের অসমাপ্ত মোঘল স্থপনা লালবাগ কেল্লা,সময় স্রোতের ন্যায় কুল কুল করে বয়ে চলেছে তার আপন মহিমায়, কিন্তু এই মুহুর্তে তাদের সম্মুখে ভিলেনের ন্যায় আবির্ভাব ঘটেছে ঢাকার অতি পরিচিত মুখ জ্যাম মহাশয় এর!আধাঘণ্টা যাবত বাস একই জায়গায় আটকে আছে কিন্তু কোন প্রকার নিজ জায়গা থেকে সরার নাম পর্যন্ত মুখে আনছেনা,তাসনিফ প্রচন্ত বিরক্তি নিয়ে কোনমতে নিজ আসনে বসে আছে, অন্য কোন সময় একা হলে হয়তো বাস থেকে নেমে পরম বিশ্বস্ত দুই পায়ের উপর ভর করে হাঁটা দিয়ে নিজ গন্তব্য স্থলে পৌঁছে যেতো,কিন্তু আজ সমস্যা হলো এই জ্যামে আটকা পরে তাসনিফ যতোটা না বিরক্ত হচ্ছে তার পাশে বসা ম্যাডাম ঠিক ততোটাই উপভোগ করছেন,কারন আর অন্য কিছু নয় যেভাবে মানুষ ম্যাডামের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ম্যাডামের গতিবিধি লক্ষ করছে সেই তাকিয়ে থাকাটাই ম্যাডাম অনেক বেশি উপভোগ করছেন,অবশেষে অনেক ঝাক্কি ঝামেলা পুহিয়ে লালবাগকেল্লার প্রধান ফটকে তাসনিফ ম্যাডাম নিয়ে উপস্থিত হলো।একটা সময় হয়তো এই জায়গা ঘুরাঘুরি করে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবার একটি একটি আদর্শ জায়গা হিসেবে চিহ্নিত ছিলো, কিন্তু বর্তমানে তা শুধুমাত্র সেলফি এবং প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলের জন্য রোমান্স প্লেইস বলেই বেশি পরিচিত।তাসনিফ দেখতে পেলো মানুষের মধ্যহতে কেউবা হয়তো মোবাইলের মাধ্যমে সেলফি তোলায় অথবা কোন প্রেমিক যুগল কোন এক কোনায় নিজেদের মাঝে রোমান্স এবং নানা রকম খুনসুটি নিয়ে ব্যাস্ত।মাঝে মাঝে এইসব দৃশ্য দেখলে তাসনিফের বুকের মাঝে কেমন যেন একপ্রকার শূন্যতা বিরাজ করে, ম্যাডাম কেল্লার অভ্যন্তরে ঢুকেই পুরাতন স্থাপনাগুলোর আলোকচিত্র নেয়া শুরু করলেন,...... তাসনিফ আজ বড্ড চুপচাপ,সেই সাথে সকালে এজেন্সির কার্জকলাপে যারপরনাই বিরক্ত, ম্যাডাম তাকে বারকয়েক চুপচাপ থাকার কারন জিজ্ঞাসা করেছেন,কিন্তু তাসনিফ কোন একটা জবাব দিয়ে ম্যাডামের কথার পাশ কাটিয়ে গিয়েছে,তবে লালবাগ সম্পর্কে যেটা জানে সেটা তার দায়িত্ববোধ হিসেবে ম্যাডামকে যতোটুকু সংক্ষেপ সেই ব্যাপারে ব্রিফ করেছে। সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৫৬ মিনিট...... লালবাগ দেখা শেষ করে ম্যাডাম আর তাসনিফ ট্যাক্সিতে করে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আজ ম্যাডাম যতোটুকু সম্ভব লালবাগকেল্লা ইনজয় করেছেন,সেইসাথে ক্ষনে ক্ষনে তাসনিফের দির্ঘশ্বাস ছাড়াটাও ম্যাডামের চোখ এড়ায়নি। ম্যাডাম: তাসনিফ!তোমার পরিবারে কে কে আছেন? তাসনিফ: হঠাৎ আমার পরিবার সম্পর্কে জানার আগ্রহ পয়দা হলো কেন জানতে পারি? ম্যাডাম: যার সাথে এতোটা সময় কাটালাম তার সম্পর্কে জানাটা আমার নৈতিক অধিকারের অন্তরভূক্ত বলে আমি মনে করি। তাসনিফ দির্ঘ একটি শ্বাস ছেড়ে বলল এই দুনিয়ায় আমার আপন বলতে কেউ নেই,যারা ছিলো তারা আজ আকাশের তারকা হয়ে আমার আসার জন্য প্রতিক্ষার প্রহর গুনে চলেছে! ম্যাডাম:আই এম ভ্যারি সরি!তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো কিন্তু মনেহয় তা বলার এখনো উপযুক্ত সময় হয়নি।এন্ড থ্যাংকস অর সরি এগেইন!! তাসনিফ:থ্যাংকস এবং সরি কিসের জন্যে? ম্যাডাম:কাল রাতে তোমায় অনেক সমস্যায় ফেলেছি সেজন্য সরি আর আমার অসুস্থতার সময় সারা রাত আমার পাশে থাকার জন্য থ্যাংকস! তাসনিফ:আপনার সুবিধা এবং অসুবিধার সার্বিক দেখাশোনা করার দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত ছিলো, সুতরাং গতোকাল যা করেছি তা আমার একান্ত কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো,আমার জায়গায় আপনি হলে হয়তো সেটাই করতেন যা আমি করেছি, তাই এখানে সরি এবং থ্যাংকস বলার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা! ম্যাডাম:তারপরো তুমি আমার জন্য যা কিছু করেছো তার জন্য তোমায় ধন্যবাদ সরুপ আমার পক্ষ থেকে কিছু একটা দেয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি! তাসনিফ সন্ধ্যার আলো আধারির মাঝে দেখতে পেলো ম্যাডামের মুখে তখনো খেলে বেড়াচ্ছে এক রহস্যময় হাঁসির ঝিলিক যার রেশ কিছুটা হলেও তাসনিফের অন্তর কে শিহরিত করে গেলো। আর সে বুঝতে পারলে যে অচিরেই কোন ঘটানা ঘটতে চলেছে আর সেটা হতে পারে আজ রাতের মধ্যেই কোন এক সময়ে......(চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিধির লিখন ৪র্থ পর্ব
→ বিধির লিখন ৩য় পর্ব
→ বিধির লিখন (২য় পর্ব)
→ বিধির লিখন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now