বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিদেশী_ভূত

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Abdur Rahman (০ পয়েন্ট)

X বিদেশী_ভূত পর্ব-০১ লেখকঃ মনজুরুল করিম সবাই বেশ বড় হয়ে গিয়েছে! কলেজ জীবন শেষ! এখন যদি কোথাও বেড়াতে যাওয়া না হয় তাহলে কেমন লাগে? অবশ্যই খারাপ লাগবে।পরীক্ষা শেষে সবারই মন মেজাজ বেশ ভালো।হাতে অনেকগুলা সময় আছে। তাই ঘুরতে যেতে কারো মানা নেই। সকলেই রাজি!! কিন্তু কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়?? দেশের ভিতরে অনেক জায়গায় ঘুরাঘুরি হয়ছে এবার দেশের বাহিরে কোথাও ঘুরে আসা যাক!!দেশের বাহিরে? ইশানের, কথায় সবাই বেশ চমকে উঠে। এমনিতে দেশের ভিতরে কোথাও ঘুরতে যেতে যেখানে সবাই ভয় পায় সেখানে দেশের বাহিরে?? বুঝতে শেখার পর থেকেই ইশান শুধুই কানাডার জন্য পাগল।উঠতে/বসতে/খেতে/ঘুমুতে/স্বপ্নে শুধু কানাডা আর কানাডা। কানাডা ছাড়া সে আর কিছুই বুঝে না। তার মুখ থেকে ১০০ টা শব্দ বের হলে ৫০ টা শব্দই "কানাডা" বা "কানাডা" সম্পর্কিত শব্দ থাকে।মোটকথা ইশানের কানাডা যাবার খুব শখ।তবে কানাডা যাবার জন্য এত টাকা আসবে কোথা থেকে? সব সমস্যার সমাধান নিয়ে আসে, তানভির।তানভিরের পরিবারের সবাই কানাডাতে থাকে।শুধু সে বাংলাদেশে তার দাদা-দাদির সাথে থাকে।এবার পরীক্ষা শেষে তার দাদা-দাদি সহ সেও কানাডায় যাবে।তাছাড়া তানভিরের বাবা কানাডার নাগরিকত্ব অনেক আগেই পেয়েছেন। তিনি চাইলেই তানভিরের সব বন্ধুদের সেখানে নিতে পারবেন। তবে তা কেবল ৪ সাপ্তাহের জন্য এবং তাও সব ফ্রিতে। তানভিরের, কথায় যেনো সবাই মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পেয়েগেছে। সকলের মুখেই উৎফুল্লতা দেখা যাচ্ছে।ফাহিম,ইশান,তানভির,যারিন,ফারিয়া, রোহান,লিমন,দীপু সবাই কানাডা যেতে রাজি! রাজি হবে না কেনো?? ফ্রিতে এমন সুযোগ কি বারবার আসে?? এই মাসের প্রথম দিকেই কানাডায় যাবার প্লান করা হলো। কারণ আগামী মাসের প্রথম সাপ্তাহ থেকে আবার ক্লাশ শুরু হয়ে যাবে। যা করার এ মাসেই করতে হবে। তানভির, তার বাবার সাথে কথা বলে আগ থেকেই সব ঠিকঠাক করে রাখে। দু একদিনের মধ্যেই পাসপোর্ট/ভিসা/টিকিট সবকিছু ম্যানেজ করা শেষ হয়ে যায়।যাওয়ার দিন তারিখ ও ঠিক হয়ে গেছে। সবাই যারযার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে এয়ারপোর্ট চলে এসেছে।ফাহিম, তানভির, যারিন, ফারিয়া,রোহান, লিমন,দীপু সবাই চলে আসলেও ইশান আসেনি তখনো। তার নাম্বারে ফোন ও যাচ্ছেনা। সবাই বেশ চিন্তিত। ইশানের আবার কি হলো? ফ্লাইটের ১০ মিনিট আগে ইশান কে দৌঁড়ে আসতে দেখা যায়। তার চোখেমুখে দুঃচিন্তার ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হাতে সময় কম থাকায় ইশানকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করতে যায় না। কিছু সময়ের মধ্যেই ঢাকা থেকে সবাই কানাডার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। প্রথমে ভারতের দিল্লিতে ফ্লাইট ল্যান্ড করবে এবং দিল্লি থেকে সরাসরি কানাডায় যাওয়া হবে। জীবনের প্রথম আকাশপথে যাত্রা! সবাই বেশ উত্তেজিত।কানাডা ভ্রমণের সব মজা যেনো উড়োজাহাজেই পেয়ে যাচ্ছে সবাই। প্রত্যেকের মুখে হাসি থাকলেও ইশানের মুখে হাসির ছিটাফোঁটাও নেই।তার মুখটা কেমন জানি মলিন হয়ে আছে।মন খারাপের কারণ জানতে চাইলে ইশান কিছুই জানায়না বরং বিষয়টা এড়িয়ে চলে। দিল্লিতে নেমে আরো আধাঘণ্টা পরে সরাসরি কানাডার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়।তখনো ইশানের চেহারায় মলিনতা রয়েছে।সবাই যার যার সিটে ঘুমিয়ে পড়ে। দীর্ঘ আট ঘন্টা পর অবশেষে সবাই কানাডায় এসে পৌঁছায়। সবাইকে রিসিভ করতে তানভিরের বাবা এয়ারপোর্ট-এ এসেছেন। কানাডার এয়ারপোর্ট-এ নেমেই সবাই বেশ উৎফুল্ল! সকলের মুখে হাসি থাকলেও ইশানের মুখে তখনো মলিনতা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে সে জোর করে হাসতে চাইলেও কেনো জানি হাসতে পারছে না!!ইশানের মুখের দিকে তাকালে তাকে কেমন জানি অন্যরকম লাগে।কেমন জানি বদলে যাওয়া লাগে। তানভিরের বাবা সবাইকে বাসায় নিয়ে গেলেন। আজ বাসায় সবাই বিশ্রাম নেবে আর আগামীকাল থেকেই শুরু হবে কানাডা ভ্রমণ!!সবাই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ঘুমিয়ে পড়ে। ইশান নাস্তাও করেনি। ঘুমুতেও যায় নি। সবাই বেশ ক্লান্ত থাকায় তাকে কেউ কিছু না বলেই ঘুমিয়ে যায়। ইশান রুমের বেলকনিতে ইজি চেয়ারে বসে কি যেনো ভাবতে থাকে। ঠিক তখনি তার পাশে আসে দীপু।দীপুর ডাকে ইশানের ধ্যান থেমে যায়। -কিরে কিছু খেলি না যে?(দীপু) - ভালোলাগে না কিছু।(ইশান) - কেনো? চিত্রার কথা মনে পড়ছে?(দীপু) -নাহ। যে মরে গেছে তাকে মনে করে কি লাভ?(ইশান) - মরে গেলে কি হবে? তুই তো এখনো তাকে ভুলতে পারিস নি।(দীপু) - এই টপিক ছাড়া কথা বলার আর কিছু নেই??(ইশান) ইশানের মন খারাপ দেখে দীপু আর কোন প্রশ্ন করেনা। ইশানকে নিয়ে খাওয়াদাওয়া করে দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ে।এদিকে ফাহিম,রোহান,লিমন, তানভির সবাই নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে। যারিন আর ফারিয়া আন্টির সাথে এত রাতেও গল্প করতেছে। *** চিত্রা ছিল ইশানের সব থেকে কাছের মানুষ। পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বছর কয়েক আগে কানাডায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় চিত্রার মৃত্যু হয়েছিল।ব্যাপারটা ইশান আর দীপু ছাড়া কেউই জানে না। অনেকদিন পর আজ কানাডায় এসে কেনো জানি চিত্রাকে খুব মনে পড়ছে ইশানের।পরের দিন সকালে খুব ভোরেই ঘুম ভাঙে সবার কিন্তু ইশান আর দীপু তখনো ঘুমুচ্ছে। মনে হচ্ছে যেনো বেশ কয়েকদিনের ঘুম জমা করে একসাথে ঘুম দেয়া হচ্ছে তাদের। বেলা ১১.০০টা হয়ে গেলেও তাদের ঘুম থেকে উটার কোনো নাম গন্ধও নেই। বাকি সবাই তাদের কে আর জাগাতে যায় না। ফাহিম,রোহান,তানভির,লিমন,যারিন আর ফারিয়া সবাই তাদের দুজনকে রুমে রেখেই বাহিরে ঘুরতে বের হয়। ২.০০টার দিকে কারো পায়ের আওয়াজে ঘুম ভাঙে ইশান আর দীপুর। ঘুম থেকে উঠে আন্টির কাছ থেকে জানতে পারে যে সবাই তাদেরকে রেখেই ঘুরতে চলে গেছে। প্রথম দিনেই তাদেরকে রেখে ঘুরতে যাবার জন্য ইশান আর দীপুরর কিছুটা খারাপ লাগে। কিন্তু তারা যে ঘুমে ছিলো সেজন্যই যে তাদের রেখে যাওয়া হয়েছে এটা ভেবেই দুজনের ক্ষোভ মিটে যায়। রুমে যখন কেউ ছিলনা তখন পায়ের আওয়াজ কোথা থেকে আসলো..?হয়তো রুমে আন্টি ছিলেন! এটা ভেবেই আর কিছু ভাবতে যায় না ইশান আর ফাহিম।কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করেই বাহিরে ঘুরতে বের হয়। ইতিমধ্যে ফাহিম,যারিন,ফারিয়া,রোহান, লিমন,তানভির সবাই ঘুরাঘুরি শেষ করে বাসায় চলে এসেছে।তারা বাসায় বসে রেস্ট নিচ্ছে। দীপু আরর ইশান বাহিরে ঘুরতেছে। বেশ কিছুক্ষণ একটা পার্কে ঘুরাঘুরি করে যখন বাসায় ফিরতে যাবে তখন ইশানের চোখ পড়ে একটা মেয়ের দিকে। মেয়েটাকে সরাসরি দেখা যাচ্ছেনা। পিছন থেকে আন্দাজ করেই ইশান,,, দীপুকে বলে,, এটা "চিত্রা" না? দীপু মেয়েটির দিকে না তাকিয়েই ইশানের কথায় হেসে দিয়ে জবাব দেয়,, যে মারা যায় সে আর ফিরে আসেনা।কিন্তু যখনি সে মেয়েটির দিকে তাকায় তখন সেও চমকে উঠে!!! আসলেই তো মেয়েটিকে দেখতে একদম "চিত্রা"র মত লাগতেছে। দুজনেই মেয়েটির কাছে যায়। ইশানের হার্টবিট বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। কাছে গিয়েই দীপু মেয়েটির সাথে কথা বলতে যাবে এমন সময় মেয়েটি পিছনে ফিরে তাকায়। মেয়েটির মুখ দেখেই দীপু,, বলতে থাকে এই মেয়েতো চিত্রার মত না, মনে হচ্ছে এই মেয়েটা স্বয়ং "চিত্রা" নিজেই!!! কথাটা বলেই দীপু,যখন ইশানের দিকে তাকায় ততক্ষণে ইশান বেহুঁশ হয়ে পড়ে গিয়েছে। সামনে থাকা চিত্রার মত দেখতে মেয়েটাও মুহুর্তের মধ্যে উদাও হয়ে যায়।তাকে আশেপাশে কোথাও দেখা গেলো না। দীপু এখন কি করবে বা কি করা উচিত এর কিছুই বুঝতে পারেনা। (চলবে) # নতুন গল্প। কেমন হচ্ছে অবশ্যই কমেন্ট এ জানাবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিদেশী_ভূত
→ বিদেশী_ভূত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now