বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#বিদেশী_ভূত
পর্ব-০২
ইশানকে নিয়ে দীপু পাশের হাসপাতালে চলে যায়।কিছুক্ষণের মধ্যেই ইশানের জ্ঞান ফিরে আসলে তাকে নিয়ে বাসায় চলে আসে, দীপু। সবাই জানতে চায় ইশানের কি হয়েছিল? দীপু কোনো জবাব দেয় না।সব প্রশ্নের জবাবে নিরব থাকে সে।
সন্ধ্যার পরে সবাই আবার ঘুরতে বের হয়। এবার সবাই আলাদা আলাদা হয়ে নয়! সবাই একসাথে ঘুরতে বেরিয়েছে। ইশানেরা বিকেলে যে পার্কে এসেছিল তানভির সেই পার্কেই সবাইকে নিয়ে এসেছে।
সবাই বেশ খুশি। এখানকার পরিবেশ সবার বেশ ভালোলাগছে। তবে একই পার্কে দ্বিতীয়বার এসে তেমন ভালো লাগছে না ইশানের। যত তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে যাওয়া যায় ততই ভালো হয় তার জন্য।ইশানেরর মন খারাপ দেখে বাকি সবাই বেশিক্ষন পার্কে থাকে না। সবাই বাসায় চলে আসে।
খেয়েদেয়ে সবাই গল্প করতে বসেছে। সবার সাথে আংকেল আর আন্টিও বেশ জমিয়ে গল্প করছেন।গল্পের এক পর্যায়ে যারিন আর ফারিয়া হঠাৎ ফোর্ট জর্জ কেল্লায় যাবার জন্য বায়না ধরে।
ফোর্ট জর্জ কেল্লা!! নাম শুনেই আংকেল আর আন্টি বেশ চমকে উঠেন।নাম শুনেই দুজনে সেখানে যাবার জন্য মানা করেন। তাছাড়া ফোর্ট জর্জ কেল্লা সেখান থেকে অনেক দূরে।আংকেল-আন্টি বেশিক্ষণ কথা না বলে অন্য রুমে চলে যান। বাকিরা কিছুই বুঝতে পারেনা। আংকেল আর আন্টি সেখানে যেতে মানা করবেন কেনো??
আংকেল-আন্টি চলে যাবার পরেই ফাহিম,তানভির,ইশান, রোহান,লিমন,দীপু সবাই যারিন আর ফারিয়ার কাছে জানতে চায়,, ফোর্ট জর্জ কেল্লায় কি এমন আছে যে সেখানে যেতে হবে??
-আসলে, কানাডার নোভা স্কটিয়ার ফোর্ট জর্জ কেল্লা হচ্ছে কানাডার অন্যতম ভৌতিক স্থানের মধ্যে একটি।(ফারিয়া)
- কেল্লাটি ৩০০ বছর পুরানো। এখানে ১০০ টিরও বেশি ভূত দেখা গিয়েছে । মাঝেমধ্যে এমন কাউকে দেখা যায় যে মুহুর্তের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যায়। কেল্লার ভিতরের বাহিরের আসবাবপত্র ও আপনা আপনি স্থানান্তরিত হয়ে যাবার ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার। তাছাড়া ছোটছোট ছেলেমেয়েদের আত্মা দর্শনার্থীদের পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়াতেও শোনা গেছে। (যারিন)
যারিন আর ফারিয়ার কথা শুনে বাকিদের মনে হচ্ছে দুজনেই কানাডার সব তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করে রেখেছে। ভৌতিক স্থানের কথা শুনতেই,ফাহিম, রোহান,লিমন আর তানভির সেখানে যাবার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। তাদের সকলেরই ভৌতিক স্থান খুব পছন্দ।
তবে ইশান আর দীপু দুজনেই বেশ ভীত। দীপুর তো ভৌতিক স্থানের নাম শুনলেই ভয় লাগে। ইশান যাবার জন্য রাজি হয়ে যেতো যদিনা সে সেদিন "চিত্রা"র মত দেখতে মেয়েটাকে না দেখতো।মেয়েটিকে দেখে এখন তার মনেও ভয় কাজ করছে। তাছাড়া যারিন একটু আগেই বলেছে ফোর্ট জর্জ কেল্লায় মাঝেমধ্যে এমন কাউকে দেখা যায় যে মুহুর্তের মধ্যেই উদাও হয়ে যায়। আর ইশান তো কেল্লায় না গিয়েই চিত্রার মত দেখতে মেয়েটাকে দেখেছে যে মুহুর্তেই উদাও হয়েগিয়েছে!!!
ইশান আর দীপু যেতে মানা করায় সকলের মুখ ম্লান হয়ে যায়। কিছুক্ষণ আগেই যে মুখ গুলোয় হাসি ছিলো সে হাসি উদাও হয়ে গিয়েছে। বন্ধুদের মন খারাপের কথা ভেবে ইশান আর দীপু দুজনেই সেখানে যেতে রাজি হয়ে যায়। তবে আংকেল আর আন্টির কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু উনারা তো একটু আগেই মানা করে দিয়েছেন। এখন কিভাবে রাজি হবেন?
এ দুদিনেই যারিন আর ফারিয়া আন্টির সাথে বেশ ভাব জমিয়ে নিয়েছে।তারা দুজন আন্টিকে বুঝিয়ে বললেই তিনি রাজি হয়ে যাবেন। যারিন আর ফারিয়া দুজনে আন্টির কাছে গিয়ে উনাকে বুঝিয়ে বলতেই উনি রাজি হয়ে যান। তবে আংকেল সবাইকে সাবধানে এবং একসাথে থাকতে বলেন।
তবে সমস্যা হচ্ছে ফোর্ট জর্জ এখান থেকে অনেক দূরে থাকায় একদিনে ওখান থেকে বাসায় ফিরে আসা সম্ভব না। একদিন ওখানেই থাকতে হবে। তবে সবাই যখন যেতে রাজি তখন সেখানে যাওয়া উচিত। তাছাড়া স্থানটা দেখার দ্বিতীয় কোন সুযোগ জীবনে পাওয়া যাবে কিনা তাতেও সন্দেহ আছে। এখন যখন সুযোগ পাওয়া গেছে তখন সে সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়?
যেই ভাবা সেই কাজ। পরের দিন খুব ভোরেই সবাই
কানাডার নোভা স্কটিয়ার ফোর্ট জর্জ কেল্লার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। বিকেলের দিকে সবাই সেখানে গিয়ে পৌঁছে যায়। তানভিরের বাবা আগে থেকেই তাদের জন্য সেখানে ভালো একটা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কাল সকাল হলেই সবাই কেল্লায় যাবে।রাতে যারিন আর ফারিয়া তাদের রুমে ঘুমিয়ে গিয়েছে। লিমন, তানভির আর ফাহিম তাদের রুমে বসে গল্প করছে।এদিকে অন্য রুমে রোহান,ইশান আর দীপু কেউই ঘুমায়নি। ইশান, হোটেলের সুইমিংপুল এ হাঠু ডুবিয়ে বসে আছে। দীপু আর রোহান রুমের জানালা দিয়ে সব কিছু দেখছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে দীপু দেখতে পেলো ইশানের পাশেই কে যেনো বসে আছে।তবে ব্যাপারটা অন্যরকম লাগছে।ইশান হয়তো বুঝতেই পারছে না তার পাশে কেউ বসে আছে।তার কোন সাড়াশব্দ নেই। একমনে বসে আছে। দীপু আরো একটু ভালো করে দেখতে গেলে দেখতে পেলো ইশানের পাশে বসে থাকা মানুষ টা তার অজানা নয়। ইশানের পাশেই বসে আছে "চিত্রা"।রোহান, ব্যাপারটা দেখেই দীপুকে বলে দেয় ইশান এখানে এসেই একটা মেয়ে পটিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যে।পাশের রুম থেকে ফাহিম,তানভির,লিমনকেও ডেকে আনে রোহান। সবাই স্পষ্টই দেখছে ইশানের পাশে একটা পরীর মত মেয়ে বসে আছে।তবে দীপু ছাড়া আর কেউই মেয়েটিকে চিনতে পারেনা।
ইশানের পাশেই চিত্রাকে দেখতে পেয়ে দীপু রীতিমত অবাক হয়ে যায়।রুম থেকে ইশানকে ডাক দিলেও সে শুনতে পারবে না। এত দূরে আওয়াজ ও ঠিক মত যাবে না।দীপু কোনকিছু না ভেবেই নিচে নেমে আসে। আস্তে আস্তে ইশানের কাছে চলে আসে সে। কিন্তু অবাক হবার বিষয় হচ্ছে সে কাছে আসার আগেই ইশানের পাশে বসা "চিত্রা" সুইমিংপুল- এ নেমে মুহুর্তের মধ্যেই কোথায় যেনো উদাও হয়ে গিয়েছে।
আরেকটু কাছে যাওয়ায় তার পায়ের আওয়াজে ইশান পিছনে ফিরে থাকায়।ইশানকে খুবই স্বাভাবিক দেখাচ্ছে।মনে হচ্ছে তার সাথে কিছুই হয়নি। তবে ইশান লক্ষ্য করে দেখতে পেলো যে দীপুর পুরো শরীর ঘেমে গিয়েছে। দীপুকে বেশ ক্লান্ত লাগছে ইশানের। কিছুক্ষণের মধ্যেই দীপু মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায়। ফাহিম আর তানভির উপর থেকে নিচে নেমে আসে। সবাই মিলে দীপুকে রুমে নিয়ে যায়।
চিত্রাকে না চিনলেও একটা বিষয়ে, ফাহিম, তানভির,রোহান,লিমন সবাই বেশ অবাক হয়!!ইশানের পাশে থাকা মেয়েটা হঠাৎ কোথায় উদাও হয়ে গেলো?? ইশানকে জিজ্ঞেস করলে সে এর কিছুই বলতে পারেনা। তার পাশে একটা মেয়ে ছিল? সে নিজেই তো দেখতে পায়নি!!!
রুমে আসার কিছুক্ষণ পরেই দীপুর জ্ঞান ফিরে। ইশানের দিকে একটু সন্দেহের চোখে তাকায় দীপু। ইশান কি আসলেই চিত্রাকে দেখতে পায়নি নাকি সে মিথ্যা বলছে???
(চলবে)
# গল্পটা কেমন হচ্ছে? জানাতে ভুলবেন না....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now