বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিচার

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ইমরান হোসেন (০ পয়েন্ট)

X এই গল্প সিলেট জেলার। সিলেট বিল-হাওড়ের দেশ। আর বিল-হাওড় বিস্তর বলেই এককালে তাতে নানা প্রজাতির মাছও ছিল বেশুমার। ফুল কথা, একরকম মাছের রাজত্বেই যেন কায়েম হয়েছিল, হাকালুকিতে, টাঙ্গুয়ার হাওড়ে, স্নানঘাটে, বানিয়া চং আর সুনামগঞ্জের দিরাই-সাল্লার নিম্নাঞ্চলে। তো এমনি এক বিলে এক আজদাহা রাক্ষুসে বোয়াল একটি ভেদা বা মেনি (কোন কোন অঞ্চলে বলে ‘রয়না’) মাছকে মাৎস্যন্যায়ের গা জোয়ারি রীতি অনুযায়ী খাওয়ার জন্য তাড়া করে। প্রাণভয়ে ও আতঙ্কে ভেদা পানি কেটে তীব্র গতিতে ছুটতে থাকে। তার তখন ত্রাহি অবস্থা। হঠাৎ সে দেখে পানিতে ভাসছে এক ‘হাগাটালু’ মাছ। দাড়কিনা প্রজাতির মাছকে সিলেট অঞ্চলে মুন্সিমাছও বলে। আকারে ছোট হলেও এ মাছ বুদ্ধিতে বড়, কূটকৌশলে পারঙ্গম। মুখে কিছু দাড়ি-গোঁফ গোছর উপাদান থাকায় এ মাছকে মুন্সিমাছ নাম দেয়া হয়েছে। ক্ষুধার্ত বোয়ালকে তেড়ে আসতে দেখে বিপন্ন ভেদা বলে : মুন্সি ভাই, মুন্সি ভাই আমাকে বাঁচাও। মুন্সিমাছ এগিয়ে আসে। জিজ্ঞাসা করেঃ ব্যাপার কি? ভেদা : ঐ দেখ না, রাক্ষুসে বোয়াল আমাকে খেতে চায়। মুন্সিমাছঃ কি ব্যাপার ওকে খেতে চাও কেন? বোয়াল : দেখ না, ওর গায়ে-গতরে কত মাংস আর চেকনাই। ওর মাংস যা নরম আর তুলতুলে, খেতে খুব সুস্বাদু। মুন্সিমাছ : তা, আমার সামনে যখন পড়েছ—তখন তো আর খেতে পার না। টঙ্গে চল। সবাই মিলে বিচার-বিবেচনা করে যদি খাওয়ার পক্ষে রায় দেয় তাহলে খাবে। ওকে খাওয়ার হক তোমার আছে। তুমি বড়, ছোট মাছকে খেয়েই তোমার জীবন রক্ষা করতে হবে। এটাই মৎস্য রাজ্যের নিয়ম। তবে নিয়মের ব্যতিক্রম আছে বলেই নিয়মের প্রমাণ মেলে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হচ্ছে। বিচারের পর খাওয়া---সামনে পেয়েই গেলা নয়। বোয়াল : পেটে রাজ্যের ক্ষিদে, এতসব নীতিকথা ভাল লাগছে না। কোথায় তোমার টং না কাছারি সেখানে চল। তাদের কি রায় শুনি। পানি কেটে চলছে প্রথমে ভেদা, পরে মুন্সিমাছ এবং শেষে বোয়াল। পথ দেখিয়ে নিচ্ছে দাড়কিনা মুন্সি। খাড়ির ভেতর চলছে তিন মৎস্যপ্রবর। সেখানে পাতা ছিল ফাক ফাক ঘরের জাল। ভেদা জালের ফোকর গলে বেরিয়ে গেল। মুচকি হেসে এক দৌড়ে বেরিয়ে গেল মুন্সিমাছও। কিন্তু জালের বড় ফাঁকা অংশে আটকে গেল বোয়ালের মাথা। বোয়ালঃ মুন্সি, দেখত আমার গলা আর মুখ আটকে গেল কিসে? মুন্সি : ও কিছু না, টঙ্গে বিচার-বিবেচনা শুরু হয়েছে। তোমার মুখের মাপ নেয়া হচ্ছে। ভেদা যে খাবে—তা খেতে পারবে কিনা সেজন্য মুখের মাপ নিতে হবে না? একটু পরে জালের প্রচণ্ড নড়াচড়া দেখে জেলে দৌড়ে এসে পানিতে ঝাপিয়ে পড়ে বোয়ালের হা করা মুখের দু'পাশের কানকোর ভিতরে হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে। বোয়াল বলে : মুন্সি, এটা কি? আমার দম যে বের হয়ে যাচ্ছে। মুন্সি মাছ : মৎস্য সমাজ বিচার করে বলেছে, তুমি স্বৈরাচারী। তুমি ছোটদের খেয়ে ফেল। তাই রায়ে তোমার ফাসির হুকুম হয়েছে। এখন রায় কার্যকর হচ্ছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চরিএ বিচার
→ বাদশাহর বিচার
→ জিজে থেকে এসব অন্যায়-অত্যাচারের বিচার চাই আমি:p
→ বিচার
→ ন্যায়বিচার ভ্রাতৃত্ব ও ক্ষমা
→ বাদশাহর বিচার
→ বিচার করলেন কিশোর নবী (পর্ব-৩)
→ বিচার করলেন কিশোর নবী (পর্ব-২)
→ বিচার করলেন কিশোর নবী (পর্ব-১)
→ সঠিক বিচার করতে বুদ্ধী প্রয়োজন
→ ন্যায়বিচার ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ব
→ ন্যায় বিচার — খলিফা হারুন অর রশিদের গল্প
→ মুসলিমদের বিচার
→ মগের মুল্লুক(একেই বলে বিচার!!!)......
→ হাদিসের গল্পঃ সুলায়মান (আঃ)-এর হিকমতপূর্ণ বিচার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now