বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিবর্তন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বিবর্তন.. . উৎসর্গ: Al Farabee (ক্যাপ্টেন ফারাবী) বড়ভাই . লিখা:Na Zim(শেষ তরীর যাএী) . --নাজিম তুই এমন কেন?(রুবি) --কেমন?(আমি) --নির্দয়, ভালবাসাহীন,নিথর দেহ,অসামাজিক মানুষের মত! --জানিনা। --ভালো হতে পারবি না? --না। --কেন? --তুই তো জানিস ই। --আমায় একবার নিতে পারবি না! --না। --একবার বিশ্বাস করে দেখ। --একজনে সব নিয়ে গেছে। --আমি তো তোকে ভালবাসি নাজিম,অনেকবেশি ভালবাসি। --আমার ভালবাসা যে শেষ রুবি।দিবার মত কিছুই নেই আর। --বিশ্বাসটুকু রাখ না। --বললাম তো, সব মিতু নিয়ে গেছে। --আমায় কখনও মনেপড়ে না! --জানিনা। --কি জানিস? --কিছু না। --ভালো। --হুম। এটা আমার ফ্রেন্ড রুবি,অনেক ভালো একটা মেয়ে। জানি,রুবি আমাকে অনেক ভালবাসে,কিন্তু আমার যে কিছু দিবার নেই,যদি রুবিকে কিছু দিতে হয় তবে নিজের কাছে কিছু নেই।আমার জীবনের সবকিছু যে মিতু নিয়ে গেছে,অনেক আগেই। . ঝিড়িঝিড়ি বৃষ্টি পড়ছে, আমি আছি সিএনজির অপেক্ষায়,মেসে যাব বলে।কিন্তু সিএনজি নেই,যেগুলা আসছে সেগুলাও আবার ভর্তি।ছাতাও নেই,যাব কি করে!!! কিছুদুর থেকে একটা মেয়ে আসছে, হাতে ছাতা মাথার উপরে নিয়ে।পায়ের গতিটা খানিকটা বেশিই।বোধয় কলেজ ফিরত আমার মতই হতভাগী,সি এন জি না পেয়ে একা একাই হাঁটা দিছে।আর আমি বৃষ্টিতে সিঙ্গেলদের কথায় নিজের মনে বলছি.. কে চায় বৃষ্টিতে ভিজতে,যদি না হয় যুগল বন্দী, বৃষ্টিদিনে একলামনে কি করে আর থাকি!! বাহ্,কবিতাও বানিয়ে ফেললাম, একাকী মেয়ে দেখে।যদি কপল হত,তবে নিশ্চয়ই বৃষ্টি পছন্দ করত,হাঁটার ধরন বৃষ্টি না পছন্দ করার কথাই বলছে। যা হোক,আবাল মার্কা চিন্তার শেষ নেই। উঠতি বয়সে খানিকটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, সম্পূর্ণতা আবেগ বলে। . মেয়েটি আসতে আসতে সামনে এসে গেছে,দেখতে কেমন তার বর্ণণা দিতে পারব না, মন যেমন বলে.. . বৃষ্টিদিনে দেখিলাম কাওরে.. এত সুন্দর কেহ নাই রে.. চোখদুটি মোর জুরাইছে.. ও চোখেতে নজর পড়ে.. এত সুন্দর নিজের ভাষায় তুচ্ছ, কিছুই বলার নেই তার চলন আর রুপ দেখে।কিন্তু আমি মেসে যাব, সি এন জি নেই,ছাতা নেই। অতপর মেয়েটির কাছেই.. --হ্যালো,একটু হেল্প করতে পারবেন?(আমি) --সময় নেই,তাড়াতাড়ি বলেন।(মেয়েটি) --আসলে, বৃষ্টি হচ্ছে আবার মেসে যেতে হবে, কিন্তু সি এন জি বা ছাতা কোনটাই নেই,যদি আমায় একটু হেল্প করতেন! --ওহ্,তো আপনার মেস কতদুর? --কিলো খানিক হবে।আপনার বাসা? --একটু দুরেই,এলাকায় নতুন এসেছি পরিবার সহ। --আসতে পারি? --হুম আসেন। বাহ্,মেয়েটা যেমন বিনয়ী তেমন সাহায্যকারী।কিছুই বলার নেই,একসাথে চলছি আর মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি। অনেকটা ভাল লাগছে, আর মনটা যেন বলে উঠছে.. দেখলাম তারে প্রথমবারে.. কেমনজানি লাগছে রে.. মনটা যেন বিভোর হয়ে.. ভালবাসায় মগ্ন হল রে.. কিসের নেশা, ও দু চোখে.. তাকায় যেন আড় করে.. অনুভুতির স্রোত বেড়ে ওঠে.. তার তাকানোর তরে.. . হা হা,মনটাও না!দেখলাম প্রথমবার, একসাথে চলছি প্রথমবার, এতেই এতকিছু!!.. মেয়েটির চোখের দিকে চেয়ে হাঁটছি,অনেক অনেক ভালো লাগছে। মেয়েটি এক দৃষ্টিতে সামনের দিকে হাঁটছে, আর আমার দিকে মাঝে মাঝে আড় চোখে দেখছে.. হঠাৎ করেই,মেয়েটির স্বর.. . --আমার বাসা এসে গেছে(মেয়েটি).. --ওহ্!!(আমি).. --আপনাকে আর কতদুর যেতে হবে? --হাফ কিলোর মতো,যেতে পারব। --বৃষ্টি তো বাড়ছেই,আপনি এটা নিয়ে যেতে পারেন।পরে দিয়ে দেবেন,আমি শাহ্ সুলতান কলেজে পড়ি। --আচ্ছা,ধন্যবাদ। . ও হ্যা, আমি নাজিম।সরকারী কলেজের একটা ছাএ।ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি।তবে কোন ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড জোটেনি, নিজের খানিকটা অপছন্দ বলে, কিন্তু আজ একটা মেয়েকে দেখে আজব মার্কা অনুভুতির জানান দিল।মেয়েটি ভালই সাহায্য করছে, যা কোন মেয়ের থেকে পাওয়া অসম্ভবের বেশি কিছু। অনেকটা অচেনা অচেনা লাগছে সব কিছু, মেয়েটির ছোঁয়া পাওয়া ছাতাটিও যেন আমার কাছে এক অন্যরকম ভালবাসার পাএ হয়ে উঠেছে। প্রেমে পড়লে কি এমনটা হয়! হবে হয়ত, আমি যে দেখাতেই বিভোর। . আমি চলে আসলাম মেসে,বন্ধুরা আমার হাতের ছাতা দেখে প্রশ্ন করতেই,হর হর করে সব বলে দিলাম।অতপর বৃষ্টিভেজা রাতে আমার পকেটের ২৩০টাকায় তিনজনে সুন্দর করে পার্টির ব্যবস্থা করল,সাথে আমাকেও নেওয়া হইছে। . অতপর পরদিন,আমি চলে অাসছি মেয়েটির বাসার সামনে হাতে তার ছাতা নিয়ে। ঠিক কলেজ যাবার ৩০মিনিট আগে, সাধারাণত শাহ্ সুলতান কলেজের ছেলে মেয়েরা ৮:৪৫টায় উপস্থিত হয়, আর এখান থেকে সময় লাগে ১৫মিনিট, বের হবে ৮:৩০টায়,এটাই মূল সময়।এজন্য আমি ৮:০০টায় উপস্থিত। . সময় যেন কাটেনা, মেয়েটিও কেন আসেনা, অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না,কেমন করে থাকি বুঝি না.. . সময় কেটে যাচ্ছে,৮:২৪টায় মেয়েটি বাসা থেকে বের হল,আমার হাতে তার ছাতা, আজও হালকা হালকা বৃষ্টির ছিটে ফোটা পড়ছে।তবে বেশি প্রোব নেই। . আজ যদি একা একা হাঁটা যেত!!,কতই না ভালো হত!!! মেয়েটি আসছে এগিয়ে, হয়ত আমায় দেখছে ছাতা হাতে, তার ছাতা নিবার জন্য।আমি অপেক্ষায় আছি,তার সম্পর্কে কিছু জানার জন্য, যেগুলাে কাল রাতে আমার মনে বার বার এসেছিল। মেয়েটি সামনে এসে গেছে,অতপর.. --আপনার ছাতাখানা নিতে পারেন,সাথে অনেকগুলা ধন্যবাদ(আমি).. --স্বাগতম আপনাকে(মেয়েটি).. --আচ্ছা, আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে পারি কি!! --হুম,করেন পারেন.. --যাওয়া শুরু করা যাক,পরে না হয়। অতপর হাঁটা শুরু,কিছুক্ষন পর নিজে থেকেই.. --আপনার নামটা কি বলা যাবে? --হুম,মিতু। --কিসে পড়েন? --ইন্টার প্রথম বর্ষ। --এখানে কতদিন হল এসেছেন? --১০দিনের মত হবে। --ওহ্। --হুম। . পায়ের চলনে হাঁটছি দুজনে, বেশ ভালই লাগছে।জানিনা,তার প্রেমে কতটুকু পড়লাম,তবে সে যে আমার দেখা রাজকণ্যা তা আমিই জানি। . কিছুক্ষণের মাঝেই আমার কলেজ এ এসে গেছি,মিতুর কলেজ ও অল্পক্ষণের রাস্তা। . এমন করেই দিন পেরিয়ে যাচ্ছে,সি এন জির রাস্তা হেঁটে পার করছি।ভাড়াও বেঁচে যাচ্ছে,মনটাও ভাল থাকছে।আসলে,আমার জানা নেই মেয়েটা হঠাৎ করেই আমার সাথে এত পরিচিত কি করে!.. এ কি ভালবাসা! নাকি বন্ধুত্বের ছোঁয়া। বাস্তবতার স্বপ্ন দেখা, নাকি তার পাশে থাকা। . "হ্যা,"সম্পর্কটা ঠিক বন্ধুত্বেই রুপ নিল.. হাঁটা থেকে বন্ধুত্বতে রুপ নিতে সময় বেশি ক্ষয় হয় নি,মিতুর বন্ধুবেশে নাজিমের প্রবেশ তার জীবনে। . দিন পার হচ্ছে,এমনকরেই একের পর এক দিন পার হচ্ছে।একদিনও যেন কাটে না মিতু ছাড়া,প্রতিটা শুক্রবার নিজের কাছে বড় অসহায় মনেহয়,সেদিন যে মিতুর দেখা নাই। . বন্ধুত্বের অন্তরালে বুকের মাঝে ভালবাসার চাষ যেন বেড়েই যাচ্ছে, দিনের পর দিন।মিতুর প্রতি চাওয়াটা দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে,মিতুহীনা থাকা যে বড় দায়, অনেক বড় দায়। . অবশেষে,বন্ধুত্বের বাঁধা পেরিয়ে ভালবাসার দরগড়ায় পা দিবার চেষ্টা, দিনটা মিতুর জন্মদিন,রাত ১২:০০টা বেজে গেছে, ১১:৫০ থেকে টাইপ করা ম্যাসেজ খানা মিতুর ফোনের ইনবক্রে হয়ত প্রথম জন্মদিনের উইস হয়ে যায়,যেখানে আমার ভেতরের অবক্ত কথা গুলো জমা থাকে। জানিনা, মিতু আশ্চর্য কি না। . রিপ্লাইটা ঠিক পরের দিনের জন্য হলেও,ভালবাসার দারগড়ায় ঠিকই পৌছে গেলাম দুজনেই। অতপর, একসাথে পথচলা।সবকিছু যেন স্বপ্নের মত লাগছে, দিনের শুরু মিতুর কথায়, শেষটাও মিতুর কথায়। . কলেজ পালিয়ে চুপিচুপি প্রেম,চাওয়া পাওয়ার দিকগুলা আবশ্যিক হয়ে গেছে, এ যেন আমার কাছে.. . ভালবাসার এক রুপকথা, একে অপরে হারিয়ে যাওয়া, চোখের ভাষায় বুঝতে পারা, সম্পূর্ণতা বুঝে নেওয়া। . সম্পূর্ণটাই কি আজবের মত ঘটে গেল।কিছু সময় মনটা বলে ওঠে মিতু এত তাড়াতাড়িই এলো খুব সহজসরল ভাবে,নাকি সব আবেগের চাওয়া!,ভালবাসার শেষ কি হবে!!.. দুর,কি ভাবি যে!!!,মিতু তো আমায় ভালবাসে,তার ও চোখ কখনও মিথ্যা বলতে পারে না। . দিন পার হয়ে যাচ্ছে, আমার চাওয়ার গভীরতা যেন বেড়ে যাচ্ছে।কিন্তু আজকাল মিতু কেমন জানি আমায় এড়িয়ে চলছে, আমার কোন গুরুত্ব নেই তার কাছে।বুঝতে পারছি না, কেন এমনটা হচ্ছে!.তবে কি মিতু নেই, মিতু কি অন্যকারো!!. নাহ,মিতু আমার ছিল, আছে, থাকবে। মিতু ছাড়া যে আমি শুণ্য হয়ে যাব। . মন যেমনটা ভেবে যায়, ঠিক তেমনটাই হয়ে যায়।ক'দিন যাবত মিতুর সাথে তার কলেজের একটা ছেলের ভালই আনাগোনা, জানিনা তাদের সম্পর্কটা কি!.তবে আমার প্রতি অবহেলা যে মাএা ছাড়িয়ে যাচ্ছে তার ইয়ওা আমাকে মিতুর সামনে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। . আজও ঠিক মিতুর অপেক্ষায় চেয়ে আছি, এ রাস্তার মাঝে।তবে, ভালবাসার দাবি নয়, অবহেলার কারণ জানতে চাওয়াটাই আমায় আনিয়েছে।মিতুর সামনে খানিকটা উচ্চস্বরেই.. . আমি:আমায় এড়িয়ে চলার মানে কি? মিতু:কই এড়ালাম!!(অবাকতার ছোঁয়া).. ---ডাকলে সাড়া পাই না,ফোন দিলে রিসিভ হয় না, সবসময় ব্যস্ততা।নাজিমের কোন গুরুত্ব নেই তোমার কাছে।আমার দরকার নেই, নাকি আমি পঁচে গেছি? ---কিসব বলছ? ---যা ঘটছে তাই.. ---এগুলা কিছু না.. ---ওহ্, ভাল।তাইলে, কলেজের উনি কে? ---ফ্রেন্ড.. ---ফ্রেন্ডের বাইকে,গা এলিয়ে চলা যায়, তাই না?ফ্রেন্ডের সাথে সারাদিন পার করা যায়,বয়ফ্রেন্ডের কোন গুরুত্ব থাকে না ফ্রেন্ডের জন্য, তাই না? ---ওর কথা বাদ দাও.. ---আবার এড়িয়ে যাচ্ছ,উওর গুলা আজ পেতে চাই।বলো আজ.. ---কি বলব!!..ওর সাথে তোমার যায় না,তুমি কই আর নিশু(কলেজের ছেলেটা) কই?তুমি কি দিতে পেরেছ!.রাস্তার বাদাম আর হেঁটে চলা ছাড়া কি দিতে পেরেছ,যায় না তোমার সাথে আমার,বুঝলা... ---নিশ্চুপ... ---ভালো থেকো,পারলে নিজের টাইপের কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক করতে যেও.. ---নিশ্চুপ.. ---বাই.. . . মিতু চলে যায় ও দক্ষিণে, উওরের বাতাস পিছনে ঝাপটা দিতে থাকে। আমি চেয়ে আছি তার দিকে, একবার ফিরে দেখবে বলে। . নাহ্,মিতু তাকায় না।চলে যাচ্ছে দুরে,বহুদুরে,হৃদয় টাকে ক্ষত বিক্ষত করে। চোখের কোণে জলকণা জমে গেছে, বেরিয়ে আসার ক্ষমতা হারিয়েছে, ঝাপসার মহতায় মিতু হারিয়ে যায় ও দক্ষিণায়, নাজিম শুধু কেঁদে যায় এ অন্তরায়, . শরীর যেন অবশ,নিথর হয়ে এ প্রান্তে আমি, ও প্রান্তে মিতু।সবকিছু যেন ধোয়াশার মত। একফোটা জল আছড়ে পড়ল এ গালে,ঝিড়িঝিড়ি বৃষ্টি নামতে শুরু করছে উওরের বাতাসে।অবাক হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছি,চোখের জল যেন বৃষ্টিতে মিশে যাচ্ছে।সবকিছুই আজ অজানার ছোঁয়ায় মশগুল, . মিতু তো হারাবার নয়, উওরের বাতাস তো বৃষ্টির লক্ষণ নয়, তবে কেন এগুলা হয়! হয়ত,আমি সম্পূর্ণটাই অসহায়!!.. . বুকের বাঁপাশটা ব্যথায় বড়ই কাতর। কেমনজানি লাগছে,অনুভুতি ছোঁয়া যেন নিঃশেষ।বুঝতে পারছি না,কি হল!আর কি হবার আছে!!সবকিছুর মাঝেই যেন নিঃশেষের দিক আবশ্যিক,আমি যেন নির্জীব। একটু ভিজতে চাই, এ সময়টায়।কাঁদতে চাই,বুষ্টিফোটায়।সঙ্গী হতে চাই,আকাশের কান্নায়।একটু ভিজবো,জলগুলো বৃষ্টিতে মিশাব।সব যেন . বৃষ্টিজল, চোখেরজল মিলেমিশে একাকার, .নিঃশ্ব হয়ে নাজিমের বুকে হাহাকার। মিতু যে আর না ফেরার, বাস্তবতায় জীবন্মৃতে হয়েছি সৎকার.. . সময় কেটে যাচ্ছে,নিজের ভেতরের ক্ষত যেন বেড়ে উঠছে, ভালবাসা নামক মায়ার বন্দীতে আটকে ছিলাম যেমন, তেমনি বেরিয়ে আসার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছি। . কলেজের বন্ধুবেশে খুব কম জনের আনাগোনা হয়ে গেছে এ জীবনে, বন্ধু ছাড়া জীবন নাকি অসম্ভব,কান্নার মহোতায় জীবনে কাওকে না জরাতে চাইলেও,ভার্সিটি জীবনে "রিফাত,সাইম,রুব ি"এদের মত কিছু বন্ধুও জুটে গেছে আমার।কষ্টের ভাগীদার স্বরুপ রুবি আমার জীবনের অতীতের সাক্ষী। ধীরে ধীরে অনেকটা আপন হয়ে গেছে আমার, ভালবাসার সেই কাল পরশ আর যে পেতে চাইনা আমি। আমি যে আর মরতে চাইনা,বৃষ্টিজলে চোখের জল মিশাতে চাইনা,অবাকতার মাঝে হারাতে চাইনা।তাই হয়ত,রুবির এত ভালবাসা আমার হৃদয়ে কখনও সাড়া দেয় না।আমি যে মিতুর,শুধু মিতুর। . মিতুর ভালবাসা হয়ত মিছে ছিল, তার ও চোখ তো মিছে বলার নয়। ভালবাসার কঠিন জড়তায় বেধে ছিল, আমি যে আর এ মহতা ছাড়াবার নয়। . "হ্যা"মিতু আমায় চিনতে পারে নি,রুবি ঠিকই চিনেছে।রুবির পানে ভালবাসার টানে, যদি ফিরে তাকাই মেয়েটি যে কিছু পাবে না আমার থেকে, যা দিবার তা তো দিয়েই ফেলছি।কেউ একজন বলেছিল"ভালবাসা নাকি জীবনে একবারই আসে",আমার জীবনেও তো এসেছিল, ভালবাসা।রাখতে পারিনি বাঁচিয়ে,রেখেছি হৃদয়ের গহীনে। . সময়ের স্রোতধারা বেয়ে যায়,ঘড়ির ঠিক ঠিক কাটায়।নাজিমের বিষাদময় জীবনটা ঠিকই পরিবর্তিত হয়ে যায়।অনার্স শেষ,একটা জব পেতেও সময় বেশি ক্ষয়াতে হলো না।জব পেলাম তাও আবার নামীদামী কম্পানীতে,সবে অনার্স শেষ করে।পুরো পরিবারকেই নিয়ে আসলাম এ শহরে।দিন ভালই যাচ্ছে।রুবিও বিয়ের সমন্ধগুলো ফিরিয়ে দিচ্ছে।হয়ত,রুবি আমায় পাবার অপেক্ষায়, অাজও প্রহর গুণে যাচ্ছে।আমি কি দোটানায়!!মিতুর অবহেলায়,রুবির ভালবাসায়।মনেহয়, সম্পূর্ণটাই যে জীবনের খেলাঘড়।কেউ চায়,কেউ হারায়। . আজও ঠিক বৃষ্টি হচ্ছে,অফিসের জানালার গ্লাসের দিকে চেয়ে, বৃষ্টিফোটা অনুভব করে যাচ্ছি।আর বৃষ্টিদিনে দেখা মিতুর কথা মনে নাড়া দিচ্ছে।আজও চোখের কোণে জলকণার আবহ্ এসে গেছে,সময় যেন থেমে গেছে।মনে পড়ছে,সেদিন বলা কথাগুলো।অস্থিরতার ছায়ায় আজও আমি কাতর,মিতুর অবহেলায় হয়েছি পাথর।ভালবাসা আসে না,অনুভুতি যেন বাসা বাঁধে না।বাসায় ফিরতে হবে,ভাললাগছে না কিছু।একটা সিগারেট চাই,কষ্টগুলো হারাতে চাই।কাছে যেন না পাই,কষ্ট আমার বেড়ে যায়। . বাসায় এসে গেছি,চোখ আমার গুটিশালা।এসব কি দেখছ!!,রুবি আর তার পুরো পরিবার।কি করতে এসেছে ইনারা?. হয়ত, বিয়ের প্রস্তাব হবে।কষ্টকণায় বিয়ের ছায়্তলে যেতে হবে কি!!.ধ্যাত,ভাললাগে না।কীভাবে সব করলো রুবি!,বুঝিনা কিছু। . কোন কথা না বলে সোজা নিজের রুমে,ফ্রেস না হয়েই একটা সিগারেট লাগিয়ে ফেলছি।কিছুক্ষণ পর ছোট বোন ইসরাত.. . ---ভাইয়া,ভাইয়া.. ---কি হয়েছে? ---তুই সিগারেট খাচ্ছিস আবার??? ---না তো, আমি ধোয়া টানছি। ---আর তুই খেতে পারবি না,তোর দিন শেষ। ---মানে কি!! ---ভাবী তোর সবকিছু ছাড়াবে। ---কে তোর ভাবী। ---ওই যে মেয়েপক্ষ এসেছে বিয়ের সমন্ধ নিয়ে,তোকে নাকি আগে থেকেই ভাবী চিনে। ---তাতে কি? বিয়ে হলে তো ভাবী ডাকবি।এখন যা,ভাগ... ---আম্মু ডাকছে, ফ্রেস হয়ে চলে আয় তাড়াতাড়ি। ---পারব না। ---আম্মু ডাকছে কিন্তু। ---তুই যা। . ইসরাত চলে গেছে, শান্তিমত সিগারেটও ধরাতে পারি না।এই রে আম্মু ডাকছে.. . ---কি রে,তুই এখনও ফ্রেস হসনি?(আম্মু).. ---হচ্ছি, কিছুক্ষণ পর আসতাছি।(আমি).. ---হুম,তাড়াতাড়ি আয়। ---হুম। . কি করার!,এবার যেতে হচ্ছে।ফ্রেস হয়ে সবার সামনে হাজির।রুবি দেখছে আড় চোখে, ঠিক যেন মিতুর মত।সবাই হাসি খুশি,আমি শুধু অবাক বুণি। বিয়ে যেন সম্পূর্ণ ঠিক,মতামত জানতে চাওয়ায় রুবির সাথে কিছু কথা বলার সুযোগ দেওয়া হল,অতপর ছাদে... . --- এসব কি??(আমি).. --- যা দেখছিস তাই।(রুবি).. --- তুই জানিস আমার থেকে কিছু পাবি না। --- হুম। --- তারপরও এগুলা করার কোন মানে হয়না। --- ভালবাসি বলে। --- আমি বাসি না। --- তুই অন্যজনের জন্য কাঁদতে পারিস,তো তোর জন্য আমার কি হয় বুঝিস? --- কি বুঝব?নিজেই ঠকবি... --- সেটা পরের বিষয়,আগে বিয়ে করে সেই। --- জোর করে নিবি??? --- পরে বুঝবি। --- রুবি??? --- রাগ দেখাবি না,ওকে। --- ঠাস,(বামগালে বসিয়ে).. --- নিশ্চুপ(কান্না করছে)... --- আবেগ তাড়া। --- নিশ্চুপ। ছাদ থেকে রুবি নেমে যাচ্ছে,ও দিগন্তে চেয়ে আছি।আর কল্পনার সাগরে আঁকিভুকি করছি।কি হয়!আর কি হয়ে যায়!!! . রুবিদের বাসা থেকে প্রস্থান, মনেহয় বিয়েটা ভেঙ্গে গেছে।যাক, ভালই হবে। নিচে নামতেই মুখে মিষ্টি গুজে দিল, ইসরাত।তারমানে ভাঙ্গে নি,সব ঠিক করে ফেলছে। . অতপর অনিচ্ছা সত্বেও বিয়ের পিড়িতে বসতে বাধ্য আমি।অবশেষে বিয়ে শেষ। অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে,পড়াশুনার পর্বও বিদায়।রুবির ভালবাসায় আমি পরিপূর্ণ,মাঝে মাঝে মনেপড়ে হারিয়ে যাওয়া মিতুকে।বাস্তবতা য় রুবি আমায় সব ভুলিয়ে দেয়। . রাস্তার দিয়ে হেটে যাচ্ছি।অানমনে একা,সবাই কত ব্যস্ত।কেউ কাজে, কেউ সময় কাটাতে।গাড়িগুলা চলছে,মানুষ হেঁটে যাচ্ছে কেউ দ্রুত,কেউবা সাধারণ গতি,আবার কেউ মন্থর।সবকিছু একই স্রোতে বয়ে যায়। . পিছন থেকে কারো হাতের ছোয়া কাঁধে।খুবকরে চেনা চেনা লাগ ছে।পিছন ফিরে তাকাতেই.. . --- নাজিম, কেমন আছো?(মিতু).. --- হুম,ভাল।তুমি?(আমি).. --- বেঁচে আছি। --- মানে? --- জীবনটা কেমনকরে জানিনা বদলে গেলো। --- তোমার সেই টাকাওয়ালা বয়ফ্রেন্ড? --- হুম আছে,তবে আমায় ছেড়ে। --- গুড,অন্যসব আছে না,তাদের খুজে বেড়াও। --- মানে কি!! --- ভালকরেই জানো। --- পরিবারের সবাই কেমন আছে? --- হুম ভালো,তোমার? --- আছে। --- জীবনটা কি পাল্টে গেছে তোমার? --- অনেকটা। --- ভালো, (চোখের কোনে জলকণার আবেশ).. --- আচ্ছা বাই।ভালো থেকো, ভালো রেখো। --- হুম। . অবাকতা আজও আমায় ছুয়ে গেল।কখন,কীভাবে সময় বদলে যায় তা হয়ত ও বিধাতা ভালো জানে।মিতুর চোখে আজ জলকণা,হয়ত এটাই বাস্তবতা।ও নিয়তির খেলা। . আজ আমি যাই, উওর দিকে।ফিরে তাকাতে পারিনি।হয়ত মিতুও আমার মত কাঁদছে আর আমার হাঁটা দেখছে।চোখের জলে,কষ্ট তাড়াচ্ছে।অর্থলোভে নিঃস্ব হয়ে, একা হয়ে পড়ে রয়েছে।কেমন করে সব বদলে গেল,তাই না!!.ঠিক যেন.. . ধরার খেলায়, মানুষের চাওয়ায়, কে কখন বদলে যায়,ইচ্ছায় অনিচ্ছায়। অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণ করে, বিধাতা দেয়, কর্মগুণে কাজের ফলে। নাটকতার ছায়া,আবর্তনের খেলা, হয়ে যায় সব বিবর্তনের ছায়া। . বিধাতার ইচ্ছা সব,তোমায় নিঃশ্ব করতে সময় নিবে না, আবার গড়ে দিতেও সময় নিবে না।আবর্তনের ছোঁয়ায়, বিবর্তনের খেলায় পৃথিবী আজ সম্পূর্ণ। . খেলে যায় কত খেলা,হেরে যায় কত কথা, সবগুলাকে করে আলিঙ্গন, নেমে আসে "বিবর্তন"...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ড্রাগন মানবের খুলি বদলে দিতে পারে বিবর্তনের ইতিহাস
→ ডারউইনের ১০০০ বছর আগে বিবর্তনবাদের তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে মুসলিম দার্শনিক
→ বিবর্তনবাদ কী? এবং এটার ভুলগুলো।
→ মানুষ এবং বিবর্তনের ভুলগুলো
→ বিবর্তন
→ আমাদের বিবর্তন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now