বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিবি ফাতেমা (রাঃ)এর নছিহত ৩ বা শেষ পর্ব

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X আসসালামু আলাইকুম।। ২য় পর্বের পর----------- বিবি ফাতেমা (রাঃ) বলেছেন, ১১/প্রিয় ভগ্নিগণ, স্বামী স্ত্রীর জীবন পরস্পর নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ। চির জীবন এই বন্ধন অটুট ও অম্লান থাকে এজন্য স্বামী এবং স্ত্রী উভয়কে পরস্পর ভালোভাবে চিনে নেওয়া একান্ত দরকার।একে অপরের মন মেজাজ এবং আশা-আকাংখার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি না রাখলে যে কোন মুহূর্তে অনর্থ ঘটা অস্বাভাবিক নহে।স্ত্রী লোকের উচিৎ সর্বদা স্বামীর মন ও অভিরুচি অনুসারে চলা এবং স্বামীর প্রতি অচলা ভক্তি প্রদর্শন করা।তা না হলে ইহকাল ও পরকালের সুখ শান্তি ও আরাম চিরতরে বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। পক্ষান্তরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মিল ও পরস্পরের সৌহার্দের মাধ্যমে এমন এক পবিত্র প্রেম ও ভালোবাসা দানা বেঁধে উঠে যার মধুময় পরশে উভয়ের জীবনে এক অনাবিল আনন্দ ও শান্তির নির্ঝড় ধারা প্রবাহিত থাকে।যারা ফলে উভয়ের জীবন এ পরম সৌভাগ্যের দ্বার উন্মুক্ত হয়।জীবন হয় সুখময় ও রসঘন। ১২/ হে স্ত্রীলোক,শুধু স্ত্রীদের নয় স্বামীদেরও নিজ নিজ স্ত্রীর প্রতি বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি অন্যায় অবিচার করেন ও স্ত্রীর হক আদায়ে উদাসীন থাকেন,তাহলে তিনিই স্ত্রীর নিকট দায়ী থাকবেন এবং গোনাহগার হিসেবে চিহ্নিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই।কিন্তু একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে,যদি কোন স্বামী নিজের দোষে গোনাহগার হল বা দোজখী হল তাই বলে তোমরা নিজের কর্তব্য ও দায়িত্ব বিস্মৃত হয়ে দোজখী হবে কেন? তোমাদের উচিৎ নিজে সৎপথ চলা এবং স্বামীকে সৎপথে চালানোর জন্য সাধ্যানুরূপ চেষ্টা করা।আপ্রাণ চেষ্টা করার পরও যদি কোন স্বামী নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন না হন, সে জন্য স্ত্রীদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না। কারণ যে যেরূপ আমল করবে সে তদনুরূপ প্রতিফলন ভোগ করবে। ১৩/হে ভগ্নিগণ! দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ এক দুষ্টক্ষত।এ ক্ষতের উপশম হয় না,এবং এ বেদনার লাঘবও হয়না। স্বামীর সুখ কিংবা স্ত্রীর মনে সামান্যতম সন্দেহ ও অসন্তুষ্টির দরুন সংসারের যাবতীয় সুখ শান্তি ও অনাবিল আনন্দ চিরকালের জন্য নির্বাপিত হয়ে যায়।পরবর্তী জীবনে শত চেষ্টা ও যত্নের সাহায্যেও ইহার নিদারুণ ছোবল থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়না।স্বামীর মন কিংবা স্ত্রীর মন একবার ভেঙে গেলে সংসার জীবনে প্রকৃত সুখ ও শান্তির আস্বাদ লাভ করা একান্তই দুরূহ ব্যাপার!এজন্য স্বামী স্ত্রী উভয়কেই সাবধানে ও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জীবন পরিচালনা করতে হবে।একে অপরকে পূর্ণ বিশ্বাস আস্থার সাথে গ্রহণ করতে হবে।হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে," যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীর সংসারের কোন দ্রব্য সামগ্রী স্বামীর অনুমতি ভিন্ন কাহাকেও দান করে তাহলে আল্লাহর ফেরেশতাগণ তার উপর লানৎ বর্ষণ করতে থাকে এবং আল্লাহর রহমত তার থেকে বহুদূরে সরে যায়।"হাদীস শরীফে আছে,"রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক প্রত্যেক স্ত্রী লোককে নামাজ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবেন এবং তারপর স্বামীর খেদমত সম্বন্ধে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" হাদীস শরীফে আরও বর্নিত আছে,"যদি কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীর কাছে সেচ্ছায় তালাক প্রার্থনা করে,তাহলে রোজকিয়ামতে তার মহখমন্ডলে মাংস থাকবেনা।"হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন," যদি কোন স্ত্রীলোক তার বক্ষস্থলের কিয়দাংশ দ্বারা কাবাব প্রস্তুত করে এবং অপর অংশ দ্বারা কালিয়া প্রস্তুত করে স্বামীর সামনে উপস্থাপিত করে, কিন্তু তার স্বামী তার প্রতি যদি নারাজ থাকে, তথাপিও সে স্ত্রীলোক যতই পুণ্যের অধিকারিণী হোক না কেন,সে ইহুদি খৃষ্টানের সাথে দোজখে অবস্থান করবে।" ১৪/হে স্ত্রীলোক! আপনারা জেনে রাখবেন,প্রত্যেক রমণীর জন্য তার স্বামীর রেজামন্দী(কবুল/স্বীকৃতি) ও খুশি অর্জন করা এক অমূল্য নেয়ামত।এই নেয়ামত হাসিল করা সকলের জন্যই দরকার। কেননা যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট হয় বা ক্রোধাম্বনিত হয়, তবে দয়াময় আল্লাহ পাক তার ওপর অসন্তুষ্ট হন এবং স্বীয় রহমতের ছায়া হতে তাকে দুরে সরিয়ে রাখেন।কিন্তু যখন স্বামী তার স্ত্রীর অপরাধ ক্ষমা করেন ও তার প্রতি সুপ্রসন্ন হন,তখন আল্লাহ পাকও তাকে ক্ষমা করেন ও রহমতের ছায়াতলে স্থান দান করেন।স্বামী তার স্বীয় স্ত্রীকে কোন জিনিস এনে দেয় এবং তা যদি স্ত্রীর পছন্দ না হয় তথাপি ইহার প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা, মনে মুখে বিরক্তিভাব প্রকাশ করা কিংবা অবজ্ঞার ভাব জাহির করা ঠিক নহে।অনেক ক্ষেএে দেখা যায় যে স্ত্রী ইহার রেশ টেনে স্বামীর প্রাণে আঘাত দেয় এবং স্বামীকে একটা অর্থব জ্ঞানহীন অপদার্থ হিসেবে চিহ্নিত করতে সচেষ্ট হয়।ইহা যে কতখানি মারাত্মক তা অনেক নারীই তলিয়ে দেখে না। ১৫/ নারী জীবনের একটি দুর্বলতম অধ্যায় হচ্ছে, হা-পিত্তেশ করা,অতৃপ্ত আকাংখার পেছনে ছুটে চলা।নারী যা কিছুই অভিনব মনে করে ও নতুন বলে ধারণা করে,সে ইহার পেছনে লাগামহীন ঘোড়ার মত ছুটে যায়।পারিপার্শ্বিক অবস্থার রং ঢং কিছুতেই সে সংবরণ করতে পারেনা।কিন্তু ইহা যে তার জন্য নেহায়েত ক্ষতিকর, তা সে উপলব্ধি করতে পারে না।এজন্য প্রত্যেক নারীর একান্ত কর্তব্য এই যে, স্বামীর সাংসারিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্বীয় অদৃষ্টের উপর ছবর করা ও আল্লাহর শুকুর গুজারী করা।অন্যথায় স্বামীর মনে আঘাত দেওয়া হয় ও অন্তরের চঞ্চলতা বৃদ্ধি পায়।সুতরাং এর প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রত্যেক রমণীর উচিৎ যে-"পেলাম না" "পেলাম না" এরকম হা-হুতাশ প্রকাশ না করা ও সংসারে অশান্তির সৃষ্টি না করা।রমণীর উপরই সংসারের সুখ দুঃখ বহুলাংশে নির্ভর করে।নারী ভালো না হলে সংসার হয় অশান্তিকর ও দুঃখের আড্ডাখানা। বিদ্রঃ হযরত ফাতেমা (রাঃ) নছিহতসমূহ জীবনে পালন করতে পারলে জীবন চির সুখের হবে এবং পরকালেও সুখ লাভ করা যাবেgj। ★সমাপ্ত★


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিবি ফাতেমা (রাঃ)এর নছিহত ৩ বা শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now