বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
..
ইউনিতে যাচ্ছি। রাতে ঘুম ভাল হয়নি। তাই রিক্সায় বসে একটু ঝিমানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু রিক্সার ঝাঁকুনির যন্ত্রনায় তা সম্ভব হচ্ছে না। চোখদুটো ঘুমের অভাবে জ্বলছে।
ইউনিতে আজ না গেলেও পারতাম। কিন্তু যেতে হচ্ছে বিশেষ কোন একজনের কারনে।
ইউনির সামনে আসতেই দেখা হয়ে গেল বাকের ভাইয়ের সাথে। বাকের ভাই হচ্ছেন আমাদের ইউনির সামনের হোটেলের মালিক। হোটেলটায় জবরদস্ত সিঙ্গারা পাওয়া যায়, একবার খেলে আর অন্য কোন হোটেলের সিঙ্গারা খেতে ইচ্ছেই করবে না।
- কি বাকের ভাই কি খবর?
- ভালই আছি ভাইগনা। তোমার কি অবস্থা?
- আছি ভাই কোনরকম। তা শরীর স্বাস্থ্যের কি অবস্থা?
- নারে ভাইগনা, শরীর ভাল নাই। মুখের রুচি পাল্টাইয়া গেছে।
- কেমনে পাল্টাইলো?
- আগে দুইপ্লেট ভাত আরামসে খাইতে পারতাম আর এখন তিনপ্লেট খাইলেও মন চায় আরো একপ্লেট খাই।
- মাশাল্লাহ, এমন রুচি কয়জনের হয় ভাই? আচ্ছা ভাই আসি।
- আইচ্ছা যাও। আইসো হোটেলে, তোমার লাইগা ইস্পেশাল সিঙ্গারা বানামু।
- আচ্ছা আসবো সময় পেলে।
..
কি ব্যাপার? একটু বোধহয় দ্বন্দে পড়ে গেছেন। আমি ডাকি ভাই আর উনি ডাকেন ভাগ্নে। আসলে উনি এমনই, যে তাকে ভাই ডাকে তাকে তিনি ভাগ্নে বা ভাতিজা বল ডাকে। আর যে তাকে মামা বা চাচা বলে ডাকে তাকে তিনি ভাই বলে ডাকেন।
যাক ফাউ প্যাচাল বাদ দিয়ে কাজের কথা শুনুন।
ইউনিতে ঢুকে আগে চলে গেলাম পুকুরপাড়ের কদম গাছের নীচে। গিয়ে দেখি আমার সেই বিশেষ মানুষটি মনমরা হয়ে বসে আছে।
ধীরে ধীরে গিয়ে তার পাশে বসে পড়লাম। সে এতটাই আনমনা হয়ে আছে যে আমি তার পাশে বসার পরও সে কিছুই টের পেল না। আমি তখন গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলাম।
তখন সে আমার দিকে তাকাল। এবং তাকিয়েই ভূত দেখার মত চমকে উঠলো।
- কিরে ইরা? আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিস যেন স্বয়ং ভূতের সর্দার এসে তোর পাশে বসে আছে?
হ্যা আমার বিশেষ মানুষটির নাম ইরা, মেহেরুন্নেছা ইরা। আমার জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
- কিরে এভাবে হা করে কি দেখছিস ইরা? এই পাগলী কোথাকার, এমন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছিস কেন?
ইরা একদৃষ্টিতে আমার দিেকে তাকিয়ে আছে। ওর চোখে আনি বিস্ময় স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। অবাক ভাবটা খানিকটা কাটিয়ে উঠে ইরা বলে উঠলো " তু..তু..তুই? "
আমি তখন মুচকি হাসি দিলাম শুধু। বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
- কেন কি মনে করেছিলি? ভালবাসিস না বলে দেবদাস হয়ে বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়াবো? তোর আর আমার এতদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা সামান্য ভালবাসার জন্য নষ্ট করে দেব?
ইরা এখনো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার চোখের দিকে। কেউ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমার অস্বস্তি লাগে। কিন্তু ইরা তাকালে অস্বস্তি লাগেনা একটুও।
আমি তখন ওর মুখের সামনে একটা তুড়ি বাজালাম। ইরার ঘোর ভাঙ্গলো। তারপর বললাম,
- ইরা একটা কথা বলে রাখি। তোর আর আমার এই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা চিরদিন টিকে থাকবে। আর গতকাল যেটা হয়েছে সেটা ভূলে যা। একজন ছেলে আর একজন মেয়ে যদি একে অপরের বন্ধু হয় তাহলে একসময় তাদের ভেতর কেউ না কেউ অপরজনের প্রেমে পড়ে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। যেটা গেছে সেটা মন থেকে মুছে ফেল।
- সত্যি বলছিস তো আরমান?
- তুই ভাল করেই জানিস আমি মিথ্যা কম বলি।
- উফ যাক বাবা বাঁচলাম। আমি সত্যিই খুব চিন্তায় ছিলাম তোকে নিয়ে। তোর যেই জেদ, কখন কি করে ফেলিস তাই নিয়েই ভয়ে ছিলাম। তোর কথা শুনে ভয়টা কেটে গেছে রে।
- যাক ভয় কেটে যাওয়াই ভাল।
- আচ্ছা চল ফুচকা খেয়ে আসি।
- পকেটে টাকার কিঞ্চিত অভাব আছেরে।
- হায়রে কিপ্টা, আজীবন কিপ্টামি করে গেলি। চল আমিই বিল দেব।
..
গতকাল ইরাকে আমার ভালবাসার কথা বলেছিলাম। আসলে এতদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা কখন যে ভালবাসায় পরিনত হয়ে মনের কুঠুরিতে জায়গা করে নিয়েছিল তা টেরই পাইনি।
অনেকবার মনের কথা বলতে গিয়েও সাহসের অভাবে তা অব্যক্তই রয়েগেছে।
শেষমেস গতকাল পূর্ন সাহস নিয়েই ইরাকে বলেছিলাম "ভালবাসি"।
কিন্তু মানুষ সবসময় সবকিছু পাওয়ার ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না। আমিও হয়তো ইরাকে পাওয়ার ভাগ্য নিয়ে জন্মাইনি।
ইরা বললো " দেখ আরমান তুই আর আমি বন্ধু, খুব কাছের বন্ধু। এরচেয়ে বেশি কিছু হওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নারে পাগলা। আর তাছাড়া আমি অনেক আগে থেকেই একজনকে ভালবাসি।"
কথাটা শুনে মনে হলো মনের ভেতর শিং এ লাল কাপড় বাঁধা ক্ষ্যাপা ষাড় দৌড়াচ্ছে।
সামনে যা পাচ্ছে তাই বিনাশ করে দিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলছে ষাড়টা।
নিজেকে গতকাল ধরে রাখতে পারিনি। ইরার সামনেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলাম। আমার কান্না দেখেই হয়তো ইরার মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে সোজা বাড়ি চলে আসলাম।
সারারাত দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি। ভেবেছি, শুধুই ভেবেছি আমার ইরার কথা। তারপর ভাবলাম, ও আমাকে ভাল নাই বা বাসলো। আমি তো তাকে ভালবাসি। এখন যদি বন্ধুত্বটা নষ্ট করে দিয়ে ওর সাথে দেখা করা বন্ধ করে দিই তাহলে কষ্টটা আমারই বেশি হবে।
তাই তো সকাল সকাল চলে এলাম ইরার সাথে দেখা করতে।
..
এক সপ্তাহ পর............
ঘুমিয়ে ছিলাম কেলবাশিটকাে পাটিসাপটা বানিয়ে। হঠাৎ বিকট শব্দে বেয়াদব ফোনটা বেজে উঠলো। এত সকালে একমাত্র ইরা ছাড়া আর কেউ ফোন দেওয়ার কথা না। তাই চোখ বন্ধ করেই ফোন ধরলাম,
- হ্যালো ইরা বল।
- আরমান কই তুই?
- ফুটবল খেলি।
- ওই ফাজিল, বিছানায় শুয়ে থেকে বলিস ফুটবল খেলছিস?
- জানিস যখন তখন প্রশ্ন করলি কেন? কি বলবি বল, আমি ঘুমাবো রে।
- আজ বিকালে তোকে একজনের সাথে দেখা করাতে নিয়ে যাবো।
- কার সাথে?
- আছে, এখন বলা যাবে না। এটা টপ সিক্রেট।
- এতই যখন টপ সিক্রেট তাহলে ফোন দিয়ে ঘুমের চোদ্দগুষ্ঠির খেতায় আগুন দেওয়ার মানে কি?
- ধূর বেরসিক কোথাকার। তুই ঘুমা, আর শোন বিকেলে ফোন দিলেই জায়গামত চলে আসবি।
- আচ্ছা ঠিক আছে রাখ এখন।
- আচ্ছা রাখছি।
..
ঘুম আর আসেনি এ দুচোখে,
তারার মেলায় হারিয়ে গেছে ঘুম,
খুঁজে খুঁজে হয়রান এ দুচোখ,
তবুই যদি একটু পেতাম তার দেখা।
..
নাহ এখন আর ঘুম আসবে না। ইরার সাথে ফোনে কথা বলার পরেই মনটা চরমরূপে বিদ্রোহ করে। মনটা বলে উঠে " আরমান কি সমস্যা তোর? কেন তুই এখনো ইরার সাথে কথা বলিস? জানিস না তুই যতই ইরার সাথে কথা বলবি, ততই তোর কষ্ট বাড়বে? "
তখন আমি হাসতে থাকি আর মনকে বলি " আরে পাগল মন, আমার কথা ভাল করে শোন। ইরাকে ছাড়া আমি একমূহুর্তো বাঁচতে পারবো না। যতক্ষন পারি ইরাকে দুচোখ ভরে দেখতে চাই। কারন একসময় ইরা আমাকে ছেড়ে চলে যাবেই। তখন তো আর ইরাকে চাইলেও দেখতে পারবো না।"
এভাবেই প্রতিদিন মনের সাথে তুমুল বাক্যযুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। তবুও এই ক্লান্তির মাঝেও একটা আলাদা সুখ আছে।
..
বিকেলে ইরা দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ি চোরাস্তার মোড়ের ফুচকা স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রায় আধাঘন্টা হলো অপেক্ষা করছি। তবে ইরার দেখা নেই। মেয়েটা পারেও বটে।
প্রায় একঘন্টা পরে ইরা এলো, তবে সে একা আসেনি। তার সাথে আরো একজন এসেছে।
প্রথমে আমি তাকে দেখে একটু অবাক হলাম। এত সুদর্শন কোন ছেলে হতে পারে তা কল্পনাও করতে পারিনি আমি কখনো।
লম্বায় মোটামুটি ছয়ফুট পার হবে। মনে হয় জিম করে, যার ফলে হাতের নাড়াচাড়ায় মাংসপেশিগুলো নেচে উঠছে।
চোখে একটা মাঝারি সাইজের চশমা ছেলেটাকে আরো সুদর্শন করে তুলেছে।
ইরা পরিচয় করিয়ে দিল এভাবে,
" আরমান ও হচ্ছে আমার হবু স্বামী আবির। তোকে বলেছিলাম না যে আমি একজনকে ভালবাসি? ওই হচ্ছে সে।"
আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আবিরের দিকে। সত্যিই একেবারে দারুন মানিয়েছে দুজনকে। ইরার পছন্দের তারিফ না করলে সেটা ইরাকে অপমান করা হবে।
কিছুক্ষন আলাপ করলাম আবিরের সাথে। নাহ ছেলেটা অতিশয় ভদ্র। ইরার জন্য একেবারে মানানসই। ইরা খুবই চঞ্চল স্বভাবের মেয়ে। ওর জন্য আবিরই ঠিক আছে।
আবির হঠাৎ আমাকে বলে উঠলো,
- আরমান ভাই, আসেন ফুচকা খাই।
এই অফার পেয়ে কিছুক্ষন মনে মনে লড়াই করলাম। ফুচকা আমার অতি পছন্দের। এখন যদি আমি ফুচকা খেতে বসে পড়ি তাহলে সমস্যা আছে।
কারন হয়তো আবির ইরাকে ফুচকা খাইয়ে দেবে বা ইরা আবিরকে। এই দৃশ্য দেখা আমার মত দুর্বল মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় মোটেও।
তাই আমি একটা বত্রিশপাটি দাঁত বের করা হাসি দিয়ে আবিরকে বললাম,
- না ভাই আপনারা খান। ফুচকা খেতে আমার একটুও ভাল লাগেনা। আর তাছাড়া আমার একটা কাজ আছে। আজ উঠতে হচ্ছে, অন্য কোন একদিন নিশ্চয়ই খাবো।
সেখান থেকে চলে এলাম। ইরা হয়তো ডেকেছিল, হয়তো ডাকেনি। কানে তখন কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম না। কারন তখন চোখের জল আটকে রাখার জন্য মনকে প্রবোধ দিচ্ছিলাম।
..
ইরাকে পাইনি তাতে আমার কিছুটা কষ্ট হলেও এটাকে মেনে নিতেই হবে। বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মানসিকতাই পারে আমার মত হাজারো দিশেহারা ছেলেদের পথ দেখাতে।
হয়তো আমার বাম পাঁজরের হাড় ইরার কাছে নেই। আছে অন্য কারো কাছে। তবুও আমি দোয়া করি আমার বাম পাঁজরের হাড়ের অধিকারীনি যেন কখনো আমাকে খুঁজে না পায়।
আমি সারাজীবন ইরার স্বপ্ন এবং স্মৃতিগুলো নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই। হয়ে থাকতে চাই ইরাবতীর পাগল হয়ে।
..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now