বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বইঃ- জোছনা ও জননীর গল্প
প্রকাশিতঃ- ফেব্রুয়ারি, ২০০৪
প্রকাশকঃ- অন্যপ্রকাশ
জেনারঃ- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ- ৫০৫
৷
৷
বই সম্পর্কে কিছু কথাঃ-
জোছনা ও জননীর গল্প বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে হুমায়ুন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস। ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে (ফাল্গুন, ১৪০০ বঙ্গাব্দ) একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশের অন্যপ্রকাশ, ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সঙ্ঘটিত তাঁর নিজ জীবনের এবং নিকট সম্পর্কিত ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ব্যক্তির বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তিনি উপন্যাসিক আঙ্গিকে এতে ফুটিয়ে তুলেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ তৎকালীন কিছু উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ঘটনা তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে উঠে এসেছে এই উপন্যাসটিতে।২০০৮ সালে বিটিভিতে এই উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে ধারাবাহিক সম্প্রচার শুরু হয়।[১] হুমায়ুন আহমেদ নিজেই এই ধারাবাহিকের পরিচালক ছিলেন। কিন্তু তিনপর্ব প্রচারিত হবার পরে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় স্থাপিত লালন ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে তিনি এর কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে আবারও এই ধারাবাহিকের কাজ শুরু হয়।
রিভিওঃ-
সাল ১৯৭১, ছোট্ট মেয়েটি পরম বিশ্বাসে বাবার বুকখানা আকড়ে ধরেছে। হাতে একগুচ্ছ রঙ্গিন চূড়ি। বাবার আর মেয়ের নিথর বুলেটবিদ্ধ দেহদুটো নদীগর্ভে ভেসে যাচ্ছে কোন অজানা স্রোতের ঠিকানায়। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে শক্ত করে বাবাকে জড়িয়ে ছিলো নাম না জানা অচেনার ঐ ছোট্ট মৃত্যু পথ যাত্রী। আর বাবাও মেয়েকে আলিঙ্গনে বুলেটের যন্ত্রনায় শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত খুজেছিলো তার সন্তানে বেচে থাকার আশ্রয়। কেন ওদের এভাবে হত্যা করা হলো? কারণ, ওরা অনেক বড় এক অপরাধ করেছিল। ওরা বাচতে চেয়েছিলো স্বাধীনতার জোছনায় এই দেশ জননীর মৃত্তিকায়। আর এমন জানা আর অজানা অসংখ্য রক্ত ঝরা মানুষের উপাখ্যান হলো হয়তো স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে লেখা শ্রেষ্ঠ উপাখ্যান জোছনা ও জননীর গল্প। ২৫ শে মার্চ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত, দীর্ঘ নয় মাস এই দেশের সাধারণ পরিবারগুলোর মাঝে যে বিভীষিকার ঝড় তোলে তেমন কয়েকটি পরিবারের গল্প নিয়ে এই মহান উপন্যাসটি। নীলগঞ্জ (ময়মনসিংহ) হাইস্কুলের শিক্ষক মাওলানা ইরতাজউদ্দিন কাসেমপুরী; তার ভাই শাহেদ এবং স্ত্রী আসমানী , ঢাকায় কর্মরত; পিরোজপুরের পুলিশ অফিসার ফয়জুর রহমান ও তার পরিবার (লেখক পরিবার); ধান্ধাবাজ কবি কলিম এবং ভালো ছাত্র নাইমুল, এই কয়েকটি নিয়ে মূলত এই উপন্যাসটি বিস্তৃতি ঘটে যারা প্রতিনিধিত্ব করে সমগ্র নিপীড়িত জাতিকে। শাহেদের উপর তুচ্ছ কারণে অভিমান করে ২৫ মার্চ রাগ করে আসমানি অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। সমগ্র দেশের ধধংসলীলায় উদভ্রান্ত হয়ে আসমানি দিশেহারা হয়ে ছোট মেয়ে রুনিকে নিয়ে ছুটে চলে বেচে থাকার ছায়াতলে। আর শাহেদ নিজের নিরাপত্তার কথা এক মূহুর্ত চিন্তা না করে নিজের শেষ সামর্থ্যটুকু দিয়ে ওদের খুজে চলে, এক সময় মনে হয় এই খোজ নিরন্তরভাবে ঠিকানাবিহীন হয়ে থাকবে। শাহেদ কি পেয়েছিল পরিবারের সান্নিধ্য আবিষ্কার করতে? শাহেদের বড় ভাই মাওলানা ইরতাজউদ্দিন কাসেমপুরী জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেছেন। এমনি হয়েছিলেন স্থানীয় শান্তি কমিটির প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তার বিবেক, তার ধর্মীয় শিক্ষা যখন তার ভেতরের লালিত দেশপ্রেমের আবেগকে তাড়িত করে তখন উনি পাক হানাদারদের সামনে উদ্ধত কন্ঠে সেই অনুভূতি ঘোষণা করতে পিছপা হয় না। কি হয়েছিলো এই চেতনাধারীর ভাগ্যে? শাহেদের বন্ধু মেধাবী ছাত্র নাইমুল বিয়ের একদিন পর স্ত্রী মরিময়কে রেখে ঝাপিয়ে দেশমাতৃকার মুক্তির আহবানে। নিজের মেধা আর সাহস পুজি করে গড়ে তোলে এক বীর মুক্তিবাহিনী আর হানাদারদের বুকে কাপন ধরিয়ে স্বাধীন করে এক জনপদ থেকে অন্য জনপদ। স্বামী নাইমূল মরিয়মকে কথা দিয়েছিলো, দেশ স্বাধীন হলে সে ফিরে আসবে। সে কি রাখতে পেরেছিলো তার কথা? পিরোজপুরের পুলিশ অফিসার ফয়জুর রহমান ( লেখকের পিতা ) আত্নভোলা একনিষ্ঠ মানুষটি ঠিকই অনুধাবন করেছিলেন তার কর্তব্য। মাটির ঋণ মেটানোর দায়ে পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে প্রাণ দিতে হয়। আর তার পরিবারলে ভোগ করতে মৃত্যু ভয়ের অমানসিক যন্ত্রনা। লেখক এবং লেখকের অনুজ অস্ত্রের প্রশিক্ষন নেবার অপরাধে হানাদারের পাগল কুকুরের মত এই পরিবারের পিছু নিয়েছিলো। এই পরিবারটিকে বাচাতে প্রাণ গিয়েছিলো নিরাপরাধ একটি মানুষের। শেষ পর্যন্ত কি পরিণতি হয়েছিলো এই পরিবারটির ভাগ্যে? লেখার বাকে বাকে আছে, এই দেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আত্নত্যাগের কথা, যিনি তার সমগ্র সত্ত্বাকে দান করেছেন আজকের লাল সবুজের জন্য। অন্ধকার কারাগারেও দেশমাতার মুক্তির জন্য উদ্মাদনায় পাগল হয়েছেন। আছে, বঙ্গমাতা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা যিনি একই সাথে দেশ আর নজরবন্দী পরিবারকে রক্ষার নিরলস সংগ্রামের গল্প। আছে, জেড ফোর্সের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানে হার না মানা বীরত্বের গাথা। ব্যক্তিগত অভিমতঃ মুক্তির মন্দির সোপান তলে কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রুজলে৷ কত বিপ্লবি বন্ধুর রক্তে রাঙা, বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙা তাঁরা কি ফিরবে না আর? তাঁরা কি ফিরবে এই সুপ্রভাতে- যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে৷ মোহিনী চোধুরীর এই গানটি কবিতাকারে উপন্যাসটির শুরুতে দেয়া আছে। কিন্তু পাঠকগণ যখন এই উপন্যাসটি শেষ করে এই কবিতাটি আবার পড়বেন তখন সেই বলিদানের রক্তস্রোত আর মুক্তির প্রতীক্ষিত সেই মন্দিরের স্পর্শে পাবেন। শুধু নিজের জননীকে নিজের করে চাইবার অপরাধে এই দেশের মানুষের উপর বয়ে গেছিলো এই নির্মম বিভীষিকা। আর এই বিভীষিকার নাম পাকিস্তান, একটি সার্বভোম কিন্তু প্রচন্ড স্বার্থন্বেষী এক জাতি। রক্তের এক মহাসাগর নির্মাণ করেছিল এই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। যে নারীর গর্ভে এই নরপশুরা পৃথিবীর আলো দেখেছিলো সেই নারীকে লালসার হিংস্র দাতে চিবিয়ে নিজেদের নগ্ন উল্লাসে মেতেছিলো । কিন্তু তাদের এই উল্লাস দীর্ঘায়িত হয়নি। কারণ সন্তান যখন মাকে বাচাতে অস্ত্র ধরে তখন পৃথিবীর যেকোন শক্তি তার পায়ের নিচে দলিত হয়ে মরে। আমি ভাগ্যবান আমি এই জাতির সন্তান আর আমার দুর্ভাগ্য আমি সেই সময়কে জন্ম দিয়ে দেশপ্রেমকে আমার বুকে ধারণ করতে পারিনি। পাঠকদের যাদের বুকে এই দেশের ভালবাসার স্ফুলিঙ্গ দাবানলে রূপ নিতে মরিয়া তাদের জন্য এই বইটি সংবিধান সমান। প্রিয় উক্তিঃ ♦ “সুসময়ে হাসি সংসারে আরো সুসময় নিয়ে আসে। দুঃসময়ে হাসি আনে ভয়ঙ্কর কোন দুঃসময়।” ♦ "মেয়েরা হচ্ছে জন্মদাত্রী জননী। হাজার ভুল করলেও এদের উপর রাগ করতে নেই। এদের উপর রাগ করাটাই কাপুরুষতা।" ♦ "দুঃসময় মানুষকে অতিদ্রুত দলবদ্ধ করে। অরণ্যচারী মানুষ হিংস্র শ্বাপদের ইশারা পেলেই যূতবদ্ধ হতো। সভ্য মানুষের ভেররেও হয়ত সেই স্মৃতি রয়ে গেছে" ♦ "পরিস্থিতি মানুষকে বদলায়। ভয়াবহ মানুষ হয়ে যায় নিজাম আউলিয়া। বিরাট সাধু সন্ত হয়ে যায় ভয়াবহ খুনি।"
রিভিও টি লিখেছেনঃ-মিঠুন সরকার fb/AuthorArZo
ডকটি তৈরী করছেঃ- রিয়েন সরকার fb/fatin.israk.3
Rean Sharker edited a doc in the group: বাংলা সাবটাইটেল By--RS.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now