বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়ংকর পৃথিবী ও আজব ভাইরাস (পর্ব ১)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "" ভয়ংকর পৃথিবী ও আজব ভাইরাস "" লেখক :: swapnil sarowar swapno ============*****============ ০ ঘুম নিয়ন্ত্রণক যন্ত্রটার কাঁটা প্রায় শূন্য ছুঁইছুঁই করছে। আর পাঁচ সেকেন্ড বাকি। মহাজাগতিক তরঙ্গ, বর্হি-আক্রমণ ইত্যাদি নিরোধক দশ ইঞ্চি কাঁচের শামিয়ানার ওপারে বিচ্ছুরিত আলোর অরণ্য। একটা উল্কা ঈগল হয়ে ঠোঁকরে যেতে চায় নিরাপত্তা-কাঁচ; নিজে পুড়ে খাক হয়ে যায় নিমেষেই। ১ ধীরে ধীরে চোখ মেলে সে। ঘুম নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটা অনেক কাজের- বিশেষ করে অরণ্যের মতো নিদ্রাহীনতায় ভোগা মানবদের জন্য। সময় বেঁধে দেয়া যায় কতক্ষণ তন্দ্রায় থাকবে, কতক্ষণ নিদ্রায় থাকবে। যন্ত্রটি শ্রাব্যসীমার নিচে শব্দ-তরঙ্গ সৃষ্টি করে মস্তিষ্কের বাম পাশের নিউরণসমূহকে কর্মশীতল করে দেয়। হালকা মেজাজের আলোক বিচ্ছুরণ চোখের পর্দায় সৃষ্টি করে মুদে থাকার তাড়না। বিছানার ওম ছেড়ে নেমে আসে অরণ্য। পূর্বনির্ধারিত সিকুয়েন্সে গান বাজছে- পাঁচ মিনিট চলবে। এর মাঝে কেন্দ্রীয় তথ্যনিয়ন্ত্রক কম্পিউটার থেকে সর্বশেষ উপাত্ত জমা হবে হাতের কব্জির চামড়ার নিচে আটকানো তরঙ্গ বিশ্লেষক জৈবিক চাকতিটিতে। সব ধরনের তথ্য হালনাগাদ করে চাকতিটি। চাকতিটি সার্বজনীন- সবার বাম হাতের কব্জির চামড়ার নিচে থাকে। থাকতে হয়, রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় তথ্যনিয়ন্ত্রক কম্পিউটারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখে বিশ্লেষক যন্ত্রটি। যে কোন সুযোগ- সুবিধা ব্যবহারে এটি পরিচয় নিশ্চিত করে। কোন মানবশিশু জন্ম গ্রহণ করলে তৃতীয়দিনে এই বিশ্লেষক চাকতিটি শরীরে রোপণ করে দেয়া হয়। ফাঁকিবাজির সুযোগ-ও আছে অবশ্য, কিন্তু ধরা খেলে আন্তর্ছায়াপথ নৈতিক নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে বৃহষ্পতির চাঁদে নির্বাসন দেয়া হয়; যে একবার গিয়েছে সেই জানে মর্মব্যথা। অরণ্য তরঙ্গস্নান করে শরীর জীবাণুমুক্ত করে নিল। ২ ল্যাবে ঢুকতেই চোখে পড়ল ল্যাব- পরিচালক অনন্ত আবিই-০৯২৮৩৭৪৬৫ এর সাথে কথা বলছে। অনন্তের মুখশ্রী দেখে মনে হলো মেজাজ খারাপ। ভারী কাঁচের কারণে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আবিই-০৯২৮৩৭৪৬৫ এসেছে পাশ্ববর্তী ছায়াপথ এন্ড্রোমিডার NGC 185 এর সুদূর একটি গ্রহ থেকে। তৃতীয় শ্রেণীর বুদ্ধির অধিকারী। সে নাইট্রোজেন ব্যবহার করে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য। নিম্নশ্রেণীর প্রাণীগুলোকে সনাক্ত করা হয় সঙখ্যাবাচক কোডিঙের মাধ্যমে। অরণ্য অবশ্য ছোট্ট একটা নাম দিয়েছে আবিই-০৯২৮৩৭৪৬৫-কে: ‘গুটু।’ সে অরণ্যের সহকারী, থাকে অরণ্যের ল্যাবের পাশেই। হালকা শব্দ করে কামরায় প্রবেশ করল অরণ্য। গুটুর উপর থেকে চোখ না সরিয়েই অনন্ত বলল, ‘পাঁচ সেকেন্ড দেরী হয়েছে।’ ‘হে হে। আগে আসলে মনে হয় গুটুরে ধমকানির দৃশ্যটা ধারণ করে রাখতে পারতাম।’ ‘আমি কাউকে ধমকাই না।’ অনন্ত স্বীকার্য পাঠের মতো করে বলল। সে চোখ সুরু করে তাকিয়ে অরণ্যকে দেখল। পুরু চশমার ওপাশে দু’পাটি নদী জেগে উঠল, সেখানে স্রোত নেই। ‘কেন দেখা করতে বললে? তাড়াতাড়ি বলো। আমাকে আজকে আরেকটা সেটাপ দিতে হবে, সময় নেই।’ ‘তোমার কাজ অন্য একটি দল চালিয়ে যাবে। অনির্দিষ্ট কালের জন্য তোমার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।’ অনন্ত থেকে শ্বাস নিল। ‘এই ল্যাবে।’ অরণ্য ঝুঁকে অনন্তের মুখের কাছাকাছি এলো। ‘ঘটনা কী? সাঙঘাতিক কিছু?’ ‘আমরা পৃথিবীতে রওয়ানা দিচ্ছি আগামী পাঁচ মিনিটের মাঝেই।’ ‘সেকি। আমার কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে। আমি পারব না এই মূহুর্তে গ্রহ ত্যাগ করতে।’ ‘কী ধরনের কাজ শুনি বাপু। লিস্ট দিয়ে যাও, সমাধান হয়ে যাবে।’ ‘ইয়ে মানে..না না আমি পারব না। বললামই তো। তাছাড়া আমার চেয়ে-ও ভালো বিশেষজ্ঞ এই ল্যাবেই আছে- তুমি জানো।’ অনন্ত বাতাসে হাত ঝাঁকাল, ‘অরণ্য, পৃথিবীর অনেক বিপদ। মানুষের অনেক বিপদ। মহামারী লেগেছে।’ অরণ্যের শরীরে একটা শীতল স্রোত অনুভব করল। তার পৃথিবী। তার জন্মস্থান! ‘আমাকে সব খুলে বলো।’ অনন্ত উঠে দাঁড়াল। সাড়ে ছয় ফিট শরীরে এটুকু মেদ নেই এই বয়েস পঞ্চাশ উত্তীর্ণ শরীরে। ‘নিচে নেমে শাটল রকেট ইস্টিশনে আসো। কথা হবে যাত্রাপথে।’ অরণ্যকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সে বের হয়ে গেল। তার পিছু পিছু গৃহপালিত ভৃত্যের মতো গুটু-ও। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভয়ংকর পৃথিবী ও আজব ভাইরাস (পর্ব ২)
→ ভয়ংকর পৃথিবী ও আজব ভাইরাস (পর্ব ১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now