বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
ঘটনাটা ২০১৪ সালের।
তখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে।
তামাম দুনিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে বুদ
হয়ে আছে।
চাস্টলে চায়ের কাপের আড্ডা
থেকে শুরু করে কলেজ,আদালত
পাড়া,যানবহন সবখানেই আলোচনার
কেন্দ্রবিন্দুতে হলো ফুটবল।
.
রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার মহনপুর
গ্রামের কিশোর নিরব বরাবরই ফুটবল
পাগল।
আর্জেন্টিনা দলের জাত ভক্ত সে।
আর্জেন্টিনার প্রতিটা ম্যাচ
নিরবের দেখা চাইই চাই।
আর এখন তো বিশ্বকাপের খেলা
চলছে তাই ব্যাপারটা আরো
স্পেশাল নিরবের কাছে।
কিন্তু সমস্যাটা হলো নিরবের গ্রাম
এখনো বিদ্যুত সংযোগের আওতাভুক্ত
হয়নি।
তাই খেলা দেখার জন্য তাকে
পাশের গ্রামের কুতুব মিঞার
বাড়িতে যেতে হয়।
.
দেখতে দেখতে বিশ্বকাপ খেলা
প্রায় শেষ হয়ে আসে।কেবল ফাইনাল
খেলাটাই বাকি।
ফাইনাল খেলার দিনও ঘনিয়ে
আসে।
ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা।এজন্য
ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে নিরবের
উত্তেজনা ছিলো বেশ তুঙ্গে।
ফাইনাল খেলার রাতে নিরব
খেলা শুরুর ঘন্টা দুইয়েক আগেই কুতুব
মিঞার বাড়িতে যায়।
কুতুব মিঞা তার বাড়িতে একটা
ছোট খাটো পিকনিকের আয়োজন
করেছে সবার কাছ থেকে চাঁদা
তুলে যারা যারা তার বাড়িতে
খেলা দেখে।
নিরবও চাঁদা দিয়েছে।
রান্নার কিছু আনুসঙ্গিক কাজের
ভার পরেছে
নিরবের ওপর।
নিরব দায়িত্বের সাথে কাজগুলো
করতে থাকে।
রান্না একটা সময় শেষ হয়।
কিন্তু খাওয়ার পর্বটা হবে খেলা
শেষ হবার পরে।
.
যথা সময়ে খেলা শুরু হয়।
ভালো খেলেও খেলার শেষ মুহুর্তে
গোল খেয়ে
ম্যাচটা হেরে বসে আর্জেন্টিনা।
নিরবের মনটা এজন্য বেশ খারাপ
হয়ে যায়।
সে না খেয়েই বাড়ি ফিরতে উদ্যত
হয়।
কিন্তু বাকি সকলের জোর জবরদস্তির
কারনে তাকে
খেতেই হয়।
.
খাওয়া শেষ করতে করতে রাত প্রায়
৩টা বেজে যায়।
সবাই এবার যে যার বাড়ির
উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।
মহনপুর গ্রাম থেকে কেবল নিরব আর
লিমন খেলা
দেখতে এসেছিলো।
নিরব লিমনকে সাথে নিয়ে
এগোতে থাকে বাড়ির
পথে।
চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার।
কোন মানুষ তো দূরের কথা একটা
কুকুরও বুঝি জেগে
নেই।
ঝিঁঝিঁ পোকা গুলোর শব্দও থেমে
গেছে।
কেবল দমকা হাওয়াতে গাছের
পাতা গুলো নড়ছে আর
অদ্ভূদ ধরনের শব্দ হচ্ছে।
রাতে চেনা পথটাও কেমন যেন
অচেনা মনে হচ্ছে।
ছোট্ট একটা টর্চলাইটের আলো ধরে
এগিয়ে চলছে
দুজন।
চলতে চলতে লিমনের বাড়ির কাছে
চলে আছে
তারা।
-একা একা যেতে পারবি তো?
(লিমন)
-হুম পারবো।এর আগে রাতের বেলা
এ পথ দিয়েই
কতো গেছি একা একাই।(নিরব)
-আজ রাতটা না হয় তুই আমার
বাড়িতেই থাক।বাকি
রাতটুকু আমার গল্পে গল্পে কাটিয়ে
দেবো দুজনে।
এতো রাতে না যাওয়াটাই বোধ হয়
ভালো হবে।
-এই তো সামান্য পথ,তার পরেই তো
আমার বাড়ি।
চলে যেতে পারবো একাই।
-আচ্ছা তোকে জোর করবো না।একটু
এগিয়ে দিয়ে
আসি তোকে চল।
-না দরকার নেই।আমার সাথে তো
টর্চলাইটটা
আছেই।
-ঠিক আছে।যা তাহলে।সাবধানে
যাবি কিন্তু।
-হুম।
.
নিরব এবার একা একাই চলতে থাকে
টিমটিম করে
জ্বলা টর্চলাইটটা হাতে নিয়ে।
লিমনের বাড়ির পরে আরো দুটো
বাড়ি।তারপর
একটা ফাঁকা মাঠ।এরপরই নিরবের
বাড়ি।
নিবর বাড়ি দুটো পেরিয়ে ফাঁকা
মাঠের মাঝ দিয়ে
হাঁটতে থাকে।
মাঠের পাশে রাস্তার কোল ঘেঁষে
একটা প্রকান্ড
শিমুল গাছ আছে।
গাছটা বেশ পুরনো।গাছটার শাখা
প্রশাখা গুলো
বেশ বিস্তার জায়গা জুড়ে ছড়ানো।
পাশের গ্রামের হিন্দুরা গাছটার
নীচে পাঁঠা বলি
দেয়।
জনশ্রুত আছে গাছটাতে নাকি কোন
এক গর্ভবতী
মহিলা গলায় ফাঁস নিয়ে মারা
যায়।এরপর থেকে
মাঝেমাঝেই গাছটা হতে গভীর
রাতে কান্নার
আওয়াজ শোনা যায়।
বছর তিনেক আগে একজন পথচারী
গভীর রাতে এ পথ
দিয়ে যাবার সময় নাকি মারাও
গেছে।লোকটার
লাশ পরের দিন সকালে গাছটার
নীচে পাওয়া যায়।
নিরবও শুনেছে শিমুল গাছের
কাহিনী কিন্তু সে
এগুলো বিশ্বাস করেনা।
তাছাড়া এর আগেও সে রাত করে
একাই এপথ দিয়েই
গেছে কিন্তু শিমুল গাছটা তার
কাছে কোনদিনই
অদ্ভূদ বলে মনে হয়নি।
.
কিন্তু আজ কেমন যেন ভয় ভয় অনুভূত
হচ্ছে নিরবের
মনের মধ্যে।
শিমুল গাছটার দিকে যতই এগিয়ে
আসছে অনুভূতিটা
ততই প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে।
এসব ভাবনা ভাবতে ভাবতে নিরব
শিমুল গাছের
নিচের রাস্তায় এসে পরে।
পা দুটো যেন তার নিথর হয়ে
গেছে।
পায়ে মনে হচ্ছে কেউ ভারী শিকল
পড়িয়ে
দিয়েছে।
গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।গা
দিয়ে দরদর করে
ঘাম ঝরছে তার।
হঠাৎ অদ্ভূদ একটা আওয়াজে চমকে
ওঠে নিরব।
হাসি আর কান্না মিশ্রিত
আওয়াজটা।
হঠাৎ নিরবের হাতের টর্চলাইটের
আলোটাও দপ্ করে
নিভে যায়।
আওয়াজটা আরো ভারী হতে
থাকে।
নিরবের দেহ কাঁপতে শুরু করে
দিয়েছে ইত্যিমধ্যেই।
তার চিৎকার করতে ইচ্ছে করছে
কিন্তু গলা দিয়ে
একটা টু পরিমান শব্দও বের হচ্ছে না।
এরপর একটা গরম দমকা বাতাসে শিমুল
গাছের
নীচটা ভারী হয়ে ওঠে।
তারপর কি ঘটেছে নিবর কিছুই মনে
করতে পারে না।
পরের দিন সকালে কিছু লোক
নিরবকে অচেতন
অবস্থায় শিমুল গাছটার নীচ থেকে
উদ্ধার করে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now