বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়াবহ মামলা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X রাত ১২টা। আমি বালিশে হেলান দিয়ে ডয়েলের লেখা একটি অ্যাডভেঞ্চার টাইপ উপন্যাস পড়তেছিলাম। আসলে লোকটার নাম শুধু ডয়েল না, "স্যার আর্থার কোনান ডয়েল"। আমি ছোট করে ডয়েল বললাম; তাতে উনার সম্মানহানী হবে কিনা জানিনা তবে আমার জন্য সুবিধে। উনার লেখা "দি হাউন্ড অব দি বাস্কারভিলস" উপন্যাসটা অন্যসব উপন্যাস থেকে একটু বেশীই ভালো লাগছে। পার্ট বারো'তে আসতেই হঠাৎ আমার ফোন বেঁজে উঠলো! রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন অল্পবয়সী মহিলার কান্নার আওয়াজ! উনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কে আপনি? আর কাঁদছেন কেন?" মহিলাটি চাপা সুরে বললো, "ও আমাকে মেরে ফেলবে! প্লিজ আমাকে বাঁচান; প্লিজ।" - 'ও' কে? - আমার হাজব্যান্ড। - সে আপনাকে মারতে চাচ্ছে কেন? - পরে আপনাকে সব বলবো আগে আমাকে বাঁচান। - ঠিকানা বলুন। - মহিলার দেওয়া ঠিকানাটা নোট করে আসাদ আর তোফায়েলকে ডাক দিলাম। ওরা দুইজন আমার সহযোগী আর আমি গোয়েন্দা অফিসার লাবিব আহমেদ। ওরা দুইজন বসে আরামসে গল্প করছিলো। আমার গম্ভীর ভাব দেখে আসাদ বলে উঠলো, - স্যার এনিথিং রঙ?! আমি বললাম, - আমাদের কাছে রঙ বলতে কিছু নাই সবই ট্রু। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও, এখোনি পুরান ঢাকার লক্ষীবাজার যাব (মহিলার বাসা)। পনের মিনিট গাড়ি চলার পর। গন্তব্যে এসে পৌছালাম। বাসাটা দেখতে বেশ ভয়ংকর। কারেন্ট নেই; আলো নেই। কেমন যেন ভৌতিক একটা পরিবেশ। আসাদ লাইট জ্বালিয়ে সামনে এগোচ্ছে, তোফায়েল চারপাশ খুব সুন্দর করে দেখছে! আমি ডাকছি, "বাসায় কেউ আছেন? থাকলে কথা বলুন।" কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছে না। বাসায় অনেকগুলো রুম। প্রত্যেকটি রুম খুব গোছানো। হঠাৎ তোফায়েল চেচিয়ে উঠলো, "স্যার লাশ! স্যার লাশ!" আমি দ্রুত এগিয়ে গেলাম। দেখি একটি মহিলার লাশ। কিছুক্ষন আগে যিনি আমাকে ফোন করেছিলেন লাশটা হয়তো তারই! কিন্তু মুখে এমনভাবে জখম করা হয়েছে যার কারণে চেহারা চিন্হিত করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ ইন্সপেক্টর তুষারকে ফোন দিলাম। সে মিনিট দশেকের মধ্যেই হাজির। লাশ নিয়ে যাওয়া হল। পোস্টমর্টেম করা হলো। রিপোর্ট দেখে যা বুঝলাম, প্রথমে পিছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয়েছে এবং পরে কপাল ও মুখের মধ্যে। খুনি যে যন্ত্রটা দিয়ে মহিলাটিকে আঘাত করেছে সেটা খুবই শক্ত কোনো বস্তু। অনেকটা হাতুড়ির মতো। পরদিন সকাল ১০টা। এরমধ্যে মহিলার হাজব্যান্ড সাইফুল ইসলাম গ্রেফতার। পুলিশ ইন্সপেক্টর তুষার আমাকে ফোন করে বললো, "স্যার ও তো কিছুই জানে না। গতরাতেই সে সৌদি থেকে দেশে ফিরেছে! আর এসেই দেখে এই অবস্থা!" আমি তুষারকে বললাম, "আপনি ওর পাসপোর্ড এবং সব ডকুমেন্ট চেক করেছেন?" - জ্বি! ব্যাপারটা জটিল মনে হচ্ছে। তাই মহিলার হাজব্যান্ড সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলাম, - আপনার স্ত্রীর কাছে কোনো বন্ধু বান্ধব বা আত্নীয়স্বজন ছিলো না? - নাহ্ স্যার, তবে ওর একটা বান্ধবী ছিলো। - আপনি কি উনাকে জানতেন? - তেমন না। শুধু ফোন নাম্বার আছে। অনেকদিন আগে একবার ওর ফোন ওয়েটিং দেখে রাগ করেছিলাম তারপর ও আমাকে একটা নাম্বার দিয়ে বলছিলো যে এটা নাকি তার বান্ধবী! আর ওর সাথেই কথা বলতেছিলো। - আপনি কি পরবর্তীতে ফোন দিয়ে কনফার্ম হয়েছিলেন? - জ্বি। - তাহলে সেই নাম্বারটা দিন। সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তার স্ত্রীর বান্ধবীর ফোন নাম্বার নিয়ে কল দিলাম। একটি মেয়ে রিসিভ করলো। আমার পরিচয় দিয়ে ঠিকানা নিলাম এবং সাথে সাথেই মেয়েটির বাসায় গেলাম। মেয়েটা আমাদের দেখে ভীতসন্ত্রস্ত। সবকিছু খুলে বললাম এবং তাকে নির্ভয় দিলাম; সে স্বাভাবিক হলো। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, - আপনি কি আপনার বান্ধবী হত্যার ব্যাপারে আমাদের কোনো হেল্প করতে পারেন? মেয়েটি বললো, - ওর সাথে এরকমটা হবে আমি ভাবতেই পারিনি তাহলে কিভাবে এ সমন্ধে আমি জানবো?! - আচ্ছা ওর কি কারো সাথে কোনো অ্যাফেয়ার ছিলো? 'আমি জিজ্ঞেস করলাম।' মেয়েটি দ্বিধায় ভোগছে। কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না। আমি খুব স্বাভাবিকভাবে বললাম, দেখুন বোন আপনি এই মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী! সো প্লিজ বলুন। মেয়েটি জড়তা ভেঙ্গে বলতে লাগলো, "হ্যা ওর একটা ছেলের সাথে অ্যাফেয়ার ছিলো। কিন্তু আমাকে বলতে মানা করছিলো। আজ যখন মরেই গেছে তখন বলতে অসুবিধা কি!" - ছেলেটাকে কি আপনি চিনেন? - জ্বি ওর নাম সিহাব। আর আমার কাছে কিছু সেল'ফি আছে। কিছুদিন আগে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে তুলা। মিতু আমাকে সাথে করে নিয়েই ওখানে গিয়েছিলো। বলে রাখা ভালো মিতু হলো সেই মহিলাটির নাম যার খুনের রহস্য উদঘাটন করতে আমরা ব্যস্ত। ছবিগুলো দেখে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি কি ফটোর এই ছেলেটার অর্থাৎ সিহাবের বাসা চিনেন?" - নাহ্। তবে বেশীদূরে হবে বলে মনেহয় না। - ওহ্। ফোন নাম্বার? - অনেকদিন আগে মিতু আমার ফোন দিয়ে কল করছিলো! দেখি আছে কিনা। মেয়েটি মোবাইলের 'কল-লগ' খুঁজে একটা নাম্বার দিলো। আমি তুষারকে নাম্বারটা দিয়ে বললাম লোকেশন ট্র্যাক করুন। কিছুক্ষন পর পুলিশ অফিসার লোকেশন ট্র্যাক করে জানালো এই নাম্বারের লোকটি এখন কক্সবাজার আছে। রাতে সব গুছিয়ে'গাছিয়ে আমি আর আমার টিম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। সাথে মিতুর (মৃত মহিলার) বান্ধবীকেও নিয়ে নিলাম। এখন আমরা ৬জন। আমি; আমার টিম, মিতুর বান্ধবী আর দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা। মনে হচ্ছে আজ আমরা মামলার আসল রহস্য উদঘাটন করতে যাচ্ছি। রাতের দীর্ঘ ভ্রমনের পর সকালে কক্সবাজার গিয়ে পৌঁছালাম। ওখানকার থানা পুলিশের হেল্প নিয়ে পুনরায় লোকেশন ট্র্যাক করলাম। জানতে পারলাম সিহাব নামক ছেলেটি হোটেল 'বিচ ওয়ে'তে আছে। সাথে সাথে আমরা হোটেল 'বিচ ওয়ে' গেলাম। এবং বুকিং লিস্ট চেক করে দেখি, ২য় তলার ১৯ নাম্বার রুমে সিহাবের বুকিং। ম্যানেজারের কাছ থেকে চাবি নিয়ে রুমের দিকে গেলাম। রুমের দরজায় নক করার কিছুক্ষন পর যে ছেলেটি দরজা খুলে চমকে গেলো সেই হলো 'সিহাব'। তারপর রুমে ডুকে দেখি খুবই নঘণ্য পোশাকে একটি অল্পবয়সী মহিলা। যার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আমরা ব্যস্ত সেই 'মিতু'!!! এমন দৃশ্য চোখের সামনে দেখে সবাই খুব চমকে গেলাম। সাথে সাথে ওদেরকে ধরে ঢাকায় নিয়ে আসা হলো। ঢাকায় আসার পর জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারলাম, সাইফুল ইসলাম প্রবাসে থাকাবস্থায় সিহাব নামক ছেলেটির সাথে মিতুর পরকিয়া প্রেম হয়। এবং দীর্ঘ ১বছর ধরে এই সম্পর্ক চলতে থাকে। গত কিছুদিন আগে মিতু যখন জানতে পারে তার হাজব্যান্ড দেশে ফিরছে! তখন সে সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করলো। যেদিন সাইফুল ইসলাম দেশে ফিরেছে ঠিক সেদিন রাতেই ফোনে আমাকে কল করে মিতু আর একটা নাটক সাঁজায়। সেই নাটকের স্বীকার হয় বাসার কাজের মেয়ে রিতা। মেয়েটিকে খুব নৃশংসভাবে খুন করে সিহাবের সাথে পালিয়ে যায় মিতু! আর ফাঁসিয়ে দিয়ে যায় তার হাজব্যান্ড সাইফুলকে। কি ভয়াবহ মামলা!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভয়াবহ মামলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now