বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়-DARR

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নয়ন চন্দ্র আচার্য্য (০ পয়েন্ট)

X ১৩ই জুলাই, ২০১৩ (ঘটনার শুরু) হটাত করে ঘুম ভেঙে গেল। বিছানায় উঠে বসলাম আমি। টের পেলাম অস্বাভাবিক রকম বেড়ে গেছে হৃদ স্পন্দন। ঘড়ি দেখলাম, রাত ঠিক তিনটা বাজে। লক্ষ্য করেছি ইদানিংকালে প্রায়ই রাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে আমার। এরপর অন্তত ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ঘুম আসছে না। রাতের এই সময়টাতে আসলে করার মতো কিছু থাকে না। তাই ঘুম না আসলে জেগে থাকাটা বেশ অস্বস্তিকর। অনেকক্ষণ বিছানার এপাশ ওপাশ করলাম, ঘুম এলো না। অগত্যা বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লাম। ঘুম না আসলে বিছানায় বেশিক্ষন শুয়ে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমি লাইট অন করে বারান্দার দরজা খুললাম। এলাকাটা বেশ শুনশান তাই এই দরজাটা রাতে বন্ধই থাকে। এখান থেকে স্পষ্ট বাইরের রাস্তাটা দেখা যায়। আজ একদম ফাঁকা রাস্তাটি। নিরব আর জনমানব শূন্য। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক, দিনের বেলাতেও অনেকটা খালি থাকে এই পথটি। মাঝে মধ্যে দুই একটা রিকশা বা মানুষজন ছাড়া চলাচল প্রায় নেই বললেই চলে। হটাতই ব্যাপারটা নজরে এলো আমার। রাস্তায় কোন কুকুর নেই আজ। সাধারনত এক দল কুকুর এই রাস্তাটি চষে বেড়ায়। কোন একটি কারনে এদের কেউ নেই। অনেকক্ষণ বারান্দার গ্রিলে হাত রেখে অন্যমনস্কভাবে কিছু একটা ভাবছিলাম, হটাত একটা অদ্ভুত গন্ধ নাকে এলো। তীব্র এবং ঝাঁঝালো একটা গন্ধ। অদ্ভুত বলেছি কারন পরিচিত কিছুর সাথে মেলাতে পাড়ছিলাম না এই গন্ধটাকে। গন্ধটা এতটাই প্রকট, আমি আর বারান্দায় বসে থাকতে পারলাম না। ভেতরে চলে এলাম। ২০শে জুলাই, ২০১৩ (ঘটনার প্রায় সপ্তাহখানেক পর) আজকেও ঠিক রাত তিনটায় ঘুম ভেঙে গেছে আমার। যথারীতি বারান্দার চেয়ারে বসে আছি। আজো কোন কুকুর দেখতে পেলাম না রাস্তায়। ভাবলাম হয়তো এলাকা ছেড়েই চলে গেছে ওরা। হটাত একটা তীক্ষ্ণ গন্ধ পেলাম। এই গন্ধটা আমার পরিচিত। কিছুদিন আগে রাতের ঠিক এই সময়টাতে এই একই গন্ধটা পেয়েছিলাম। আজকে আরও বেশি প্রকট মনে হল। আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম। বোঝার চেষ্টা করলাম ঠিক কোন দিক থেকে আসছে সেটা। আমি নিশ্চিত কোন ড্রেন বা সুয়েরেজের গন্ধ নয় এটা। ময়লা, আবর্জনাও নয়। তাছাড়া আশেপাশে এরকম কোন জায়গা নেই, আর যদি থাকেও এভাবে ছড়াবে না সেটা। তবুও ভাবলাম কাল সকালে সিটি কর্পোরেশনের কাউকে জানিয়ে রাখব ব্যাপারটা। গন্ধটা বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিল আমাকে, বারান্দা ছেড়ে ভেতরে যাব ঠিক এই মুহূর্তে চোখে পড়ল জিনিসটা। একটা অবয়ব। মানব আকৃতির একটা অবয়ব। আমার বাড়ি থেকে কয়েকটা প্লট দূরে, রাস্তার বিপরীতে একটা লাইট পোস্টের নিচে। আমি বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম জিনিসটার দিকে। ছায়া মতো কিছু একটা, কোন নড়াচড়া নেই, একদম স্থির, যেন কোন জড় পদার্থ। আবার চোর টোর নয়তো? কিন্তু মানুষের পক্ষে এভাবে এতক্ষন স্থির দাড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। হয়তো অন্য কিছু একটা, ছায়ার কারনে দেখতে এমন লাগছে। রাতে কত কিছুই কত রকম লাগে দেখতে। তাই বেশি মাথা ঘামালাম না ব্যাপারটি নিয়ে। রুমে চলে এলাম। ৫ই অগাস্ট, রাত ৮টা (দ্বিতীয় ঘটনাটির বেশ কিছুদিন পরে) অফিস থেকে বাসায় ফিরছি। বাসার গলিতে ঢুকতেই অনেকগুলো কুকুর চোখে পড়ল। এই রাস্তারই কুকুর এগুলো। আমি খুশিই হলাম এদের দেখে। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম হটাত, কুকুরগুলো কোন কারনে চেঁচামেচি বন্ধ করে দিয়েছে। চুপ হয়ে গেছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। একটু ভয় লাগলো আমার, কোন কিছু করে বসবে না তো। কিন্তু কোন রকম শব্দ না করে একে একে সবগুলো কুকুর চলে গেল রাস্তাটি থেকে। বোবা এই প্রাণীগুলোর কাছ থেকে এমন অদ্ভুত আচরণ আশা করিনি আমি। রাত ৩টা হটাত করেই ঘুম ভেঙে গেল। বিছানায় উঠে বসলাম আমি। বুক ধরফর করছিলো। শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো। মনে হচ্ছিলো ঘুমের মধ্যে কেউ আমার শ্বাস চেপে ধরেছে। এই বুঝি মারা যাব আমি। ভয় হচ্ছিলো খুব। একটু সময় লাগলো ধাতস্ত হতে। সে রাতে আর ভাল ঘুম হল না। ভাবলাম কালকে ডাক্তারের কাছে যাব। ১৩ই অগাস্ট (তৃতীয় ঘটনার সাত দিন পর) ল্যাপটপে এক মনে কাজ করছি আমি। রাত প্রায় ১টা বাজে। বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাজ জমে গেছে। কালকের মধ্যে জমা দিতে হবে। হটাতই সেই পরিচিত ঝাঁজালো গন্ধ। গন্ধটা এতো তীব্র মনে হল দরজা জানালা সব বন্ধ করতে হবে। আমি রাস্তার সাথের জানালাটা বন্ধ করতে গেলাম, হটাত চোখে পড়ল আমার বাসার ঠিক সামনেই যে লাইট পোস্টটি রয়েছে তার নিচে কেউ একজন দাড়িয়ে আছে। ঠিক কিছুদিন আগে এরকমই একটা ছায়া দেখেছিলাম আমি, কিন্তু এবার সেটা ঠিক আমার বাসার সামনে। কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম ওটার দিকে, বোঝার চেষ্টা করলাম। আশ্চর্যের ব্যাপার, এতো কাছ থেকেও কোন কিছু স্পষ্ট বোঝা গেল না। একটু ভয় হল আমার। আমি জানালাটা বন্ধ করে দিলাম। পরদিন সকালে যখন অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি, প্রথমেই রাস্তার ওপারে লাইটপোস্টের নিচে গেলাম। এদিক ওদিক তাকালাম ভাল করে। তেমন কিছু একটা চোখে পড়ল না। কাল রাতে দেখা জিনিসটার সাথে কোন কিছু মেলাতে পারলাম না। ভাবলাম আজ অবশয়ই ডাক্তারের কাছে যাব আমি। ১৩ই সেপ্টেম্বর (ঠিক এক মাস পর) অফিস থেকে বাসায় ফিরছি। রাত প্রায় ৯টা বাজে। বাস থেকে নেমে দুটো গলি পরেই আমার গলি। হেটেই যাওয়া যায়। ডাক্তারের দেয়া ওষুধগুলো নিয়মিত খাচ্ছিলাম, তাই আগের চেয়ে অনেকটা ভাল আছি এখন। রাতের সেই সমস্যাটাও কমে গেছে। বাসার গলিতে ঢুকতেই হটাত সেই পুরনো গন্ধটা নাকে এলো। বুকটা ছ্যাদ করে উঠল আমার। ভেবেছিলাম সুস্থ হয়ে উঠছি আমি। গন্ধটাকে পাত্তা দিতে চাইলাম না। এক মনে হেটে চললাম। বাসার সামনে এসেছি, ভেতরে ঢুকতে যাব, হটাত চোখে পড়ল সেই ছায়াটা। সেই পুরনো ছায়াটা। বাসা থেকে একটু দূরেই স্থির দাড়িয়ে আছে। একবার ভাবলাম সামনে যাই, দেখে আসি ব্যাপারটা। কিন্তু পরক্ষনেই সাহস হারিয়ে ফেললাম। এমনিতেই আশেপাশে বাড়িঘর অনেক কম। তাছাড়া রাস্তায় মানুষজনও নেই আজ। কিছু একটা হলে আমার চিৎকারও কেউ শুনতে পাবে না। আর আমি যে বাড়িতে থাকি তার বাড়িওয়ালা বলতেও কেবলমাত্র এক বুড়ি ভদ্রমহিলা। দোতলা বাড়ি, উনি থাকেন নিচতলায়। অগত্যা ভেতরে ঢুকে পড়লাম আমি। বাইরের গেটটি বন্ধ করে দিলাম। বাসায় ঢুকতেই একটা গুমোট গন্ধ নাকে এলো। মনে হল ঘরের জানালাগুলো খুলে দিতে হবে। কিন্তু কেন জানি জানালা খোলার সাহস পেলাম না। একটু ভয় কাজ করছিলো ভেতরে। ল্যাপটপ নিয়ে কাজে বসে পড়লাম, যতটা সম্ভব মনযোগী হবার চেষ্টা করলাম। হটাত খট করে একটা শব্দ হল জানালায়। কেউ যেন ঢিল ছুড়ল। হতবম্ব হয়ে পড়লাম আমি। কি করবো বুঝে উঠতে পাড়লাম না। অগত্যা জানালার সামনে গেলাম। ভয়ে ভয়ে খুললাম জানালাটি। বাইরে তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। এবার বেশ রাগ হল আমার। মনে হল ইচ্ছাকৃতভাবেই কেউ একজন এমন করছে আমার সাথে। বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। সিধান্ত নিলাম আজই বাড়িওয়ালাকে জানাবো ব্যাপারটা। মাথা একটু গরম আছে আমার। নিচতলায় গেলাম, কলিং বেল দিতেই কাজের মেয়েটি দরজা খুলে দিল। ভেতরে ঢুকলাম। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর একজন বয়স্ক ভদ্র মহিলা এলেন। ইনিই বাড়ির মালিক। কোন রকম ভুমিকা ছাড়াই সবকিছু খুলে বললাম তাকে। জানালাম বেশ কিছুদিন ধরে কেউ আমাকে বিরক্ত করছে। ঠাণ্ডা মাথায় সব শুনলেন তিনি। ভেবেছিলাম তিনি হয়তো আমার বর্ণনা শুনে অবাক হবেন। কিন্তু তেমন কিছু ঘটলো না। কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। এরপর শুধু ঘটনা শুরুর তারিখটা জানতে চাইলেন। আমি স্পষ্ট মনে করতে পারলাম না। তবে ওনাকে জানালাম, যেহেতু আমি ডাইরি লিখি, তাই যদি উনি চান তবে তারিখটা জানাতে পারবো। কোন উত্তর দিলেন না উনি। কেবল বললেন আমি যেন এই ঘটনাটিকে কোন রকম পাত্তা না দেই। তার ঘুমানোর সময় হয়ে গেছে জানিয়ে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন যেন অবশ্যই আমি নাস্তা সেরে যাই। বয়স্ক মানুষ তাই আমিও আর কথা বাড়ালাম না। উপরে এসে আমি আমার ডাইরিটা খুললাম। এই ঘটনাটা প্রথম ঘটেছিলো ১৩ই জুলাই। পরের ঘটনাটা ঘটে ২০শে জুলাই, পরবর্তীতে ৫ই অগাস্ট, এরপর আবার ১৩ই অগাস্ট। এই পর্যায়ে থেমে গেলাম আমি। কি ব্যাপার, ১৩ তারিখের সাথে এই ঘটনার একটা মিল রয়েছে। এমনকি আজও ১৩ তারিখ! তারিখগুলো নিয়ে একটু ভাবলাম আমি। এরপর আরও গভীর কিছু একটা আবিষ্কার করলাম। ২০ থেকে ৭ বাদ দিলে থাকে ১৩। ২০শে জুলাই ঘটে দ্বিতীয় ঘটনাটি, জুলাই হচ্ছে ৭ নম্বর মাস। ৫ই অগাস্টের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। অগাস্ট ৮ নম্বর মাস, ৮ আর ৫ এ ১৩। এটা কি কেবলই কাকতালীয় নাকি সত্যি সত্যিই ক্রমানুসারে ঘটছে ঘটনাগুলো। তাহলে কি পরবর্তীটি ঘটনাটি ২২শে সেপ্টেম্বর ঘটতে পারে। যদি তাই হয় তবে ব্যাপারটি অবশ্যয়ই প্রাকৃতিক নয়। সেজন্যই হয়তো ভদ্র মহিলা আমার কাছে ঘটনার তারিখ জানতে চেয়েছিলেন। হয়তো কিছু একটা জানেন তিনি। সামনে কম্পানি থেকে আমার একটা মিটিং রয়েছে, ভাবলাম কাজটি সেরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবো ভদ্রমহিলার সাথে। ২২শে সেপ্টেম্বর, রাত ১১টা আমি এখন ঢাকার বাইরে, একটা মিটিংয়ের কাজে গত সপ্তাহে আমাকে পাঠানো হয় এখানে। একটা হোটেলে উঠেছি আমি। আগামীকাল চলে যাব। মিটিং শেষ করে কেবল আমি হোটেল কক্ষে পৌঁছেছি, হটাতই মনে হল আজ ২২শে সেপ্টেম্বর। তারপরই মনে মনে হাসলাম একটু। বাসায় একা থাকলে কত অদ্ভুত চিন্তা ভাবনাই না মাথায় আসে। আমি খাওয়া দাওয়া সেরে এসেছি। তাই দেরি না করে শুয়ে পড়লাম, কালকে আবার লম্বা জার্নি। শুয়ে শুয়ে কিছু একটা ভাবছিলাম। হটাত কেন যেন মনে হল, হোটেলের জানালা দিয়ে একটু বাইরে তাকানো উচিত। মনে হল আমি দেখব কিছু একটা ওই দূরের রাস্তায় দাড়িয়ে আছে। নাকে আসবে সেই ভয়ঙ্কর গন্ধ। যত সময় যাচ্ছিলো কেন যেন এই ভয়টা মনে দানা বাধছিল। আসলে যতই কাজের মধ্যে ব্যাস্ত থাকি না কেন, মনের গভীরে যে ভয়টা আমার রয়েই গেছে। একা হলেই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে সেটা। ২৩শে সেপ্টেম্বর, দুপুর ২টা বাস থেকে নামলাম আমি। বাসার উদ্দেশ্যে হাঁটছি। বাসায় পৌছাতেই দেখলাম গেটের বাইরে অনেক মানুষের ভিড়। একটা লাশ কাফনের কাপরে ঢাকা, কেউ একজন মারা গেছে। খোজ নিয়ে জানলাম আমাদের বাড়িওয়ালী ভদ্রমহিলা, কাল রাতে হটাত স্ট্রোক করে ইন্তেকাল করেছেন। সবাই বলাবলি করছিলো একদম সুস্থ একটা মানুষ কোন কারন ছাড়াই হটাত করে চলে গেলেন। ইতিমধ্যে তার ছেলেমেয়েরা সবাই এসেছেন। আজই তার জানাজা হবে। ৩রা অক্টোবর, ২০১৩ হটাত করেই ঘুম ভেঙ্গে গেছে আমার। রাত ২টা বাজে। আমি বিছানায় উঠে বসলাম। প্রচন্ড ভয় হল আমার। মনে হল এই এখুনি একটা গন্ধ নাকে আসবে। রাতে আর ঘুম হল না। সাড়া রাত জেগে রইলাম। সকাল হল একটা সময়। ভাবলাম এখানে আর নয়। আজই ওয়ার্নিং দিয়ে দেব। সামনের মাস থেকে নতুন কোন বাসায় উঠবো। তাছাড়া নিচের ফ্ল্যাটটিও খালি। এখনো ভাড়া হয়নি। একা পুরো বাড়িতে এভাবে থাকা সম্ভব নয়। ১৩ই অক্টোবর, ২০১৩ (অবশেষে সেই অশুভ ১৩) অল্পের জন্য বেঁচে গেছি আজ। বাস থেকে নামার সময় পড়ে গিয়েছিলাম, একটা পিকাপ ভ্যান একটুর জন্য চাপা দেয়নি আমাকে। আমাদের দেশের বাস ড্রাইভারগুলো নুন্যতম দায়িত্বজ্ঞানহীন। বাস না থামিয়েই যাত্রী নামিয়ে দিতে চায়। অনেক সময় রাস্তার মাঝেই নামিয়ে দেয়। মৃত্যুকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি আজ, একটা পিকাপ ভ্যানের আকারে। হয়তো এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভয়ের অভিজ্ঞতা। এরপর আর কাজে মন বসাতে পারিনি আজ। দুই দিনের ছুটি নিয়েছি অফিস থেকে। ভাবছি বাড়ি যাব, বাবা মাকে দেখি না অনেক দিন। তাছাড়া কিছুদিন দূরে থাকতে চাই এই পরিবেশ থেকে। রাত ১১টা চোখ লেগে গিয়েছিল, হটাতই তীব্র গন্ধে ঘুম ভেঙে গেল। বিছানায় উঠে বসলাম। গন্ধটা এতই তীব্র, মনে হচ্ছিলো রুম থেকেই আসছে সেটা। কিছুক্ষণ বসে রইলাম মশারির ভেতর। আমার চারিদিকটা ঘুটঘুটে অন্ধকার, স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম না কিছুই। হটাত মশারির বাইরে চোখ যেতেই আঁতকে উঠলাম। ছায়া মতো কিছু একটা, ঠিক বারান্দার দরজার পাশে। স্থির দাড়িয়ে আছে। আমার দেখা সেই ছায়া! অন্ধকারে ঠিক বোঝা যাচ্ছিলো না ওটার চেহারা। তবুও যা দেখলাম তাতে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। কিছু নেই ওই চেহারাটিতে! কিছু নেই মানে কিছুই নেই! চোখ, নাক, মুখ কিছুই নেই। কেউ যেন দোকান থেকে কেনা একটা ডামি রেখে গেছে ঘরে। পার্থক্য শুধু, অনেক বেশি জীবন্ত দেখতে এই ডামিটা! হটাতই একটু নড়ে উঠল সেটা। যেন কেঁপে উঠল। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেলাম। এই প্রথম এটাকে নড়তে দেখেছি আমি। কেন যেন মনে হল আমারই দিকে এগিয়ে আসছে সেটা। আতঙ্কে হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হল। চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। বুঝতে পারছিলাম জ্ঞান হারাতে যাচ্ছি। হয়তোবা মারা যাচ্ছি। শেষবারের মতো সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করলাম, ঠিক যেমনটা করেছিলাম আজ সকালে, মৃত্যুর মুখোমুখি হবার ঠিক আগ মুহূর্তে। উপলব্ধি করার চেষ্টা করলাম সকালের সেই মুহূর্তটি। এই মুহূর্তটি কি তবে তার চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর! উত্তরটা মনে হল জানি আমি। জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্তটি যে ইতিমধ্যেই কাটিয়ে এসেছি! এটাতো তার চেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্ত নয়! এভাবে মরার জন্য তো বেঁচে ফিরে আসিনি আমি! আমি কিন্তু জ্ঞান হারালাম না। বরং মনে হল সাহস ফিরে পেলাম। জানি না ঠিক কতক্ষন কেটেছে এভাবে। হটাত টের পেলাম আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে গন্ধটি। হৃদপিণ্ড স্বাভাবিক হয়ে আসছে আমার। একটা সময় একেবারে কেটে গেল গন্ধটি। চোখ মেলে তাকালাম আমি। অস্বাভাবিক কিছুই আর চোখে পড়ল না। ছায়াটি চলে গেছে। চলে গেছে আমাকে ছেড়ে। আর কোনদিন আসতে পারবে না আমার সামনে। হটাতই বাইরে কুকুরগুলো যেন সরব হয়ে উঠলো। শান্তির একটা পরশ বয়ে গেল আমার ভেতরে। যেন যুদ্ধ জয় করেছি। যুদ্ধই তো, হোক না সেটা মনের ভেতর! পরিশিষ্টঃ এরপর কেটে গেছে অনেকগুলো দিন। আজো আছি এই বাড়িটিতেই। আছে আমার স্ত্রী, বাচ্চা। কেবল নেই আমার মনের সেই ভয়। লেখকঃ নয়ন চন্দ্র আচার্য্য প্রথম প্রকাশঃ ০৫/০৮/২০১৫ বিঃ দ্রঃ এটি একটি কাল্পনিক কাহিনী। এখানে উল্লেখিত সকল চরিত্র কাল্পনিক। লেখক এর সম্পূর্ণ স্বত্বাধিকারী। অনুমুতি ব্যাতিত এর কোন অংশ নকল বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।????????????????????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভয়-DARR
→ ভয়-DARR

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now