বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃভয়
,
ঘটনাটা দুইবছর আগের।চাকরী নিয়ে।
,
সরকারী চাকুরীর একটাই অসুবিধা। যখন তখন
ট্রান্সফার করে। শেষমেশ আমিও এর স্বীকার
হলাম।ঢাকা থেকে এক্কেবারে চিটাগাং।পুরাই
জঙ্গলী এলাকা।বিদ্যুৎ অফিসে কাজ করি আমি।
ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।
ওভারটাইম নিয়া মাসে প্রায় ২০০০০হাজারের মত টাকা
পাই।ফ্যামিলি ভালভাবেই চলে।যেহেতু অবিবাহিত তাই
চলতে কোন কষ্ট হবার কথাও নাহ।বউয়ের
কসমেটিকসের টাকাটা অন্তত জমা রাখতে পারি।
আমাকে অফিসের ভিতরই একটা রুম দেয়া হলো।
আগে এখানে যিনি কাজ করতো তিনি নাকি
ইলেক্ট্রিক শক খেয়ে মারা গেছেন।সবাই
জানালো অসাবধানতা।তবুও মনের ভিতর প্রথমদিনই
একটা ভয় ডুকে গেল।আমার রুমটাতেই অই
লোকটা থাকতো আগে।চারকোনার একটা
ছোট্ট ঘর।এক কোনায় একটা চৌকি। আর একটা
আলমারি আছে কাঠের।রাতে ডিম আর ভাত রান্না
করেই খেয়ে ঘুমোতে গেলাম।রান্নার ভিতরে
ডিম,রুই মাছ বুনা আর ডাল রান্না করতে পারি।ভাত
অনেক আগে থেকেই রাধতে পারি কিন্তু
কখনো শক্ত হয়না,নরমই থেকে যায়।
মাঝরাতে প্রবল বৃষ্টি নামছে।শো শো করে
চারদিকে তুমুল বাতাস বইছে।জানালাটা চাপানো ছিল।
সেটা থেকে ছিটে ছিটে বৃষ্টির ফোটা ডুকছে
ঘরে।মাথার উপরেই জানালাটা।মানে আমার ওয়াল
ঘেষেই।ঘুম ঘুম চোখে উঠে জানালাটা আটকে
দিলাম।হটাৎ ঘরটা অনেক শীতল মনে হল।আমি
একটু অবাক হলাম।ঘরে কুচকুচে অন্ধকার।আমার
নিজের হাতটা সামনে নিয়ে নিজে দেখতে
পাচ্ছিনা।কেন জানি মনে হল ঘরে আরো কেও
আছে।ঘরটা একটা মৃদু গন্ধে ভরে গেল।বমি
আসছিল।পানি খাওয়ার জন্যে ঘরের কোনে জগটা
আনতে যাবো।মোবাইলটা খুজছি টর্চের জন্যে।
মোবাইলটা পেলামনা।আন্দাজ করে ঘরের
কোনে রাখা কলসের দিকে আগালাম।অইখানে
যেয়ে কলস হাতাচ্ছিলাম।হটাৎ মনে হল সুতোর মত
কিছু বাঝলো হাতে।আমি টান দিলাম।হটাৎ কে যেন
আস্তে চিৎকার দিয়ে উঠল।ভয়ে আমার আত্বা
বের হয়ে গেল সেই মুহুর্তে।'কে এখানে'
বলে এক পা পিছনে সরে এলাম।মোবাইলটা
খুজঁতে যাবো এমন সময় বিজলী চমকে
উঠলো প্রচন্ড আলোতে।ঘরের উপরের ছিপ
দিয়ে আলোটা রুমে চলে আসলো।এক ছোট
বাচ্চা মেয়েকে ঘরের কোনে গুটিশুটি মেরে
বসে থাকতে দেখলাম।চুলগুলো সামনের দিকে
আনা।মুখ ঢেকে রাখছে চুলগুলো।পা ভাজ করে
হাত দিয়ে পেচানো।আমার জান বের হয়ে গেল
একমুহুর্তের জন্যে ভিতর থেকে।এক পা পিছনে
ছিটকে পড়লাম।সেই মুহুর্তে ভয়ে আমার সেন্স
কাজ করা ছেড়ে দিয়েছে।একসময় খেয়াল
হলো আসলে এইসব ভূত প্রেত বলতেত কিছুই
নেই।শরীরটা ছেড়ে দিয়ে ধপাস করে বিছানায়
বসে পড়লাম।তখন খেয়াল হলো কে যেন আমার
দিকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদতে কাদতে অগ্রসর
হচ্ছে।আমি ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে যাই।আমার মাথা
থেকে ঘাম সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল।
পড়নের ছেন্টু গেঞ্জিটা ভিজে ত্যানা ত্যানা হয়ে
গেছে।ঝিমঝিম বৃষ্টিতে আমি চিৎকার করলেও
কেও শোনার সুযোগ নেই।তার উপর ঘর চারদিক
দিয়ে বন্ধ।বিজলী এইবার আরো ভয়ানক ভাবে
চমকালো।আমি পড়ে গেলাম নিচে।সামনে সাতফুট
লম্বা একটা ছায়া।হাতের নকগুলো যেন এক একটাই
একফুট।
আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলামনা।"বাচাঁও বলে
একটা চিৎকার দিয়ে সেন্সলেস হয়ে গেলাম।
পরেরদিন ঘুম ভাঙ্গলে দেখলাম আমি স্বাভাবিক
ভাবে খাটে শুয়ে আছি।আমি সবার আগে কলসের
দিকে তাকালাম।
না কলসটা জায়গাতেই আছে।তাহলে রাতে
সেখানে একটা মেয়ে আসলো কিভাবে। আর
সেই বিশাল মুর্তিটা? সেটাই বা গেল কোথায়?
হুট করে জানালার দিকে তাকালাম।জানালা খোলা।
অনেক ভেবে নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা
করলাম রাতের সব দুঃস্বপ্ন।
সকালের নাস্তা সেড়ে অফিসে গেলাম।রাতের
ঘটনা যতবারই মনে করি ততই অসহায়ের মত লাগল
নিজেকে।একসময় মাথা কাজ করলো।আরেহ
ঘটনাটা যদি সত্যিই হতো তাহলে আমাকে বিছানায়
কে নিল?মেয়েটা আর নয়তো ছায়াটা আমাকে
মেরে ফেলতেওত পারতো।সেতো আর
আমাকে আদর করে বিছানায় রেখে দিবেনা।
সারাটাদিন এইটা ভাবতে ভাবতে খুব অস্বস্তি লাগল।
অফিস থেকে আসার সময় নিরব স্যারের সাথে
দেখা। উনি বললেন,কেমন কাটছে দিনকাল?
আমি বললাম, এইত ভালোই।
উনি আবার বললেন,রাতে ঘুমানোর সময় মাথার
উপরের জানালাটা দিয়ে রাখবেন।নাহলে সে এসে
পড়বে।
আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম,কে আসবে?
আর কেন?
উনি উত্তর দিলেন,জানিনা।তবে ধীরে ধীরে
সব বুঝতে পারবেন।
আমি আগ্রহ নিয়ে বললাম,প্লিজ বলেন নাহ।আমার
জানাটা অনেক দরকার।
নিরব স্যার একটু হতাশা নিয়ে বললেন,তবে
সংক্ষেপে বলছি আপনায়।আমি কাওকে বলিনাই।কিন্তু
আমার এইটাই মনে হয়।
আমি বললাম,কি মনে হয়?
একটু ক্ষিপ্ত হয়ে বলল স্যার,আরেহ আগেত
বলি।এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন?
আমি একটু থেমেই বললাম,আচ্ছা বলেন।
স্যার বলা শুরু করলো,গত বছর এই এলাকায় একটা
বড় রকমের বন্যা হয়।আমাদের অফিসেও
আরেকটু হলে পানি ডুকতো।কিন্তু অনেক
চেষ্টার কারনে তার হাত থেকে রেহাই পেল
অফিস।বুঝেনিত একটা তার ছিড়ে গেলে পুরো
এলাকায় বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পরবে।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম,হ্যা।
উনি আবার বলতে লাগলেন,টানা ১৫দিনের মত বন্যাটা
ছিল।যেদিন বন্যা কিছুটা শান্ত হলো সেদিন আপনার
রুমটার পিছনে একটা মেয়ের লাশ পাওয়া গেছিল।হাত
পা ছিলে গেছে।বারো কি তেরো বছর
হবে,শরীরের কাপড়চোপড় ও ছিরে গেছে।
মেয়েটাকে দেখে বড্ড মায়া লাগছিল।আমার
নিজেরও দশবছরের একটা মেয়ে আছে।ক্লাস
ফোরে পড়ে।সেই মেয়েটাকে পোস্ট
মডেম করানো হয়।দেখার জন্যে যে কেও
ইচ্ছে করে মেরে ফেলেছি কিনা।কারন
কারোই বিশ্বাস হচ্ছিলনা বন্যার পানিতে মারা গেছে।
আমাদের এইখানে পাচঁ বছরের ছেলে মেয়েরা
পর্যন্ত সাতার পারে আর অইটাত ডাঙ্গর মেয়ে।
রিপোর্ট থেকে জানা যায় মেয়েটি একদিন
আগে মারা যায়।সে প্রচন্ড ক্ষুধায় মারা যায়।গত
কয়েকদিন ধরে নাকি কিছুই খায়নি।
কথাটা শুনে বড্ড খারাপ লাগছিল।তারপর থেকে এই
রুমটাতে যারাই থাকে তারা নাকি একটা মেয়েকে
দেখে মাঝে মাঝে।আমার সন্দেহ এই
মেয়েটাই সেই মেয়ে।(স্যার অন্যমনস্ক হয়ে
যায়।)
,
স্যারের কথাশুনে আমার বুক কেপেঁ উঠে।কি
নির্মম কি কষ্ট নিয়েই মেয়েটা মারা যায়।
স্যার হটাৎ থেমে বললেন,তবে চিন্তা করবেন না
আজ অব্দি সে কারো ক্ষতি করেনি।কিন্তু ভয়
পেলে ভয় দেখায়।
আমি বললাম,জানালা আটকালে সে আর আসতে
পারবে?
উনি ভ্রু কুচকে বললেন,আসার কথা নাহ।আগেও
কয়েকজন এইভাবেই থেকেছে।
"আচ্ছা স্যার আমি এখন আসি,আসসালামু
আলাইকুম।"বলেই জায়গাটা প্রস্থান করলাম।বাসায়
এসেই সবার আগে কাধের ব্যাগটা খুলে জানালাটা
লাগিয়ে দেই।তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে
নিজেকে বোকা ভাবতে লাগলাম।সকাল থেকে
যেটাকে স্বপ্ন ভাবছিলাম আর এখন দেখলাম
সেটাই সত্যি।স্যারকি আমার ভয় দেখাচ্ছে?নাহ উনি
ভয় দেখাবে কিভাবে?উনি জানবেই বা কিভাবে যে
আমি কি দেখেছি।নিজেকে অনেক বুঝালাম না
আজ আর আমার কিছু হবেনা।জানালা আটকে দিছি।
স্যার বলেছে জানালা দিলে সে আসবেনা।রাতের
খাবারের জন্যে চুলায় ভাত আর ডিম বসালাম।খাওয়ার
ইচ্ছে নাই সারাদিন ভয় গিলেছি শুধু।কিন্তু
শরীরটাকে শক্তি দিতে হলে খেতেই হবে।
,
খাওয়া দাওয়া শেষ করে মোবাইলটা বালিশের নিচে
রেখে চার কাপড়ের মিশ্রিত একটা খাতা গায়ের উপর
ছেড়ে দিয়ে শরীরটা ডেকে দিলাম।বর্ষাকাল।
সারাদিন বৃষ্টি নেমেছে।তাই শীত শীত লাগছে।
রাতে ভয় নিয়ে ঘুমালেও খাতা গায় দিতে ভালই ঘুম
হয়েছিল।
অফিসে গেলাম। যেয়ে যা শুনলাম তাতে আমি
বিস্মিত না হয়ে পারলামনা।নিরব স্যার নাকি প্যারালাইজড
হয়ে গেছে।গতকাল অনেক রাত পর্যন্তও নাকি
তিনি বাসায় না যাওয়ায় তাকে খুঁজতে বাসা থেকে তার
বাবা বের হয়।বৃদ্ধ লোক।হাতে একটা টর্চ নিয়ে
চোখে চষ্মা পড়ে বেরোতেই নাকি দেখল
পথে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে নিরব স্যার।
স্যারের ফোনটাও অফ।স্যারকে বাসায়।নিয়ে মাথায়
পানি দেওয়া হলো।চোখেও পানি দিল।তখনো
জ্ঞান ফিরেনা।সেই রাতেই মেডিকেলে নেওয়া
হয়।ডাক্তাররা জানায় উনি কোমায় চলে গেছে।সারা
শরীর কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।এখন
একমাত্র আল্লাহই পারেন উনাকে আগেরমত
করতে।স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে।
সারাদিন স্যারের কথা ভাবতে লাগলাম।গতকাল রাতে
তাহলে কি সর্বশেষ আমার সাথেই দেখা হয়।
ভাবতে ভাবতে কাজের প্রতি একরকমের অনীহা
চলে আসলো।
ছয়ফুট লম্বা, সুস্থ সাবলীল লোকটা একরাতের
মধ্যে এমন হয়ে গেল?
না মানতে কষ্ট হল।কিন্তু এটাই চরম সত্য ভেবে
কাজ শেষ করে রুমে গেলাম।রুমটায় ঢুকেই
কেমন জানি একটা অস্বস্তি লাগল।গতকালের মত
আজও জানালাটা লাগিয়ে দিলাম।খাওয়া দাওয়া সেড়ে খাতা
গায় দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।মাঝরাত ছিল সম্ভবত তখন।
হটাৎ মনে হল কেও যেন আমার খাতাটা টানছে।
আমিও টেনে পুরোটা নিজের করে নিলাম।
কিছুক্ষন এরকম করার পর আমি হুশে এলাম।কি
ব্যাপার?আমি তখন খাতাটা আমার কাছে নিয়ে আসলাম।
ভাবলাম এতক্ষন কল্পনা ছিল।না সত্যিই এইবারো কে
যেন টেনে নিল।অন্ধকার রুম।আমি একা।ভয়ে
তখনি আমি কাপঁতে থাকলাম।চৌকিটাও কাপঁতে লাগল।আমি
বালিশের নিচ থেকে মোবাইলটা নিয়ে একটা
বাটনে চাপ দিলাম,তারপর সামনের দিকে ফিরিয়ে
দিলাম।ইচ্ছে করেই খাট থেকে নিচে ঝাপ দিয়ে
পড়লাম।কি বিভৎস চেহারা মেয়েটার।মাথা হাত সব কাটা।
চোখ দুটো সেলাই করা।রক্তে মাখা মুখ।আমার
দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে।বাহিরের
সেদিনের মত আজও প্রচন্ড বৃষ্টি।তীব্র গতিতে
বাতাস বইছে।ডাল পালা সব যেন ভেঙ্গে যাচ্ছে।
হটাৎ বাতাসের বেগে নাকি অন্যকিছুর ধাক্কাতে ঠিক
বুঝলামনা আমার জানালার হুক ভেঙ্গে নিচে পড়ে
গেল।পুরনো জানালা কোন মানুষ জোরে ধাক্কা
দিলে এমনিতেই খুলে পড়ে যাবে।ছিটকানির নাটটা
আমার পায়ের সামনে এসে পড়লো।আমি জানালার
দিকে তাকিয়ে রইলাম।তারপর হটাৎ উঠে সেটা
আটকাতে যাবো।এমন সময় বিছানার মেয়েটি
বলল,ওটা আটকিয়ো নাহ।তাহলে খুব খারাপ হবে।
আমি তবুও আটকাতে গেললাম।জানালার সামনে
যেতেই একটা কালো ধোয়া ভিতরে আসছিল
আমায় ঠেলে যতটুকু বাহিরের আলোতে বুঝলাম।
আমি ছিটকে ঘরের এক কোনায় পড়লাম।
নিজেকে শান্ত করে ঘরের মাঝে আসলাম।
মেয়েটা বিছানার উপর উঠে বসেছে।আমার দিকে
চেয়ে তার বিভৎস মুখকে হাসির মত করল।আমি
অবাক হলাম।আমার সেন্স আবার ভয়ে কাজ করা বন্ধ
করে দিল।ঘামাচ্ছি ইচ্ছেমত।এক গ্লাস পানির
সেইসময় সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল আমার।
আকাশে বিজলী চমকালো। আমি বোকা হয়ে
নিচে বসে ছিলাম।আমার সামনে এক বিশাল ছায়া
দেখতে পেলাম। পিছনে তাকাতেই দেখলাম
সেই ছায়ামুর্তি।সাতফুটের চেয়ে এটা অনেক
লম্বা।তার হাতের নক আমার মাথার আরেকটু উপরে।
"কে আপনি?"বলেই আমি সেইখান থেকে
সড়ে আসলাম।কোন কথা বললোনা ছায়া মুর্তিটি।
বিছানার মেয়েটি হটাৎ কাঁদো গলায় বলল, আমাকে
আশ্রয় দিতে চায়নি এই লোকটি।ওকে শাস্তি দেও।
,
আমি হতবম্ভ হয়ে যাই।মেয়েটির কথায় দাঁড়িয়ে থাকা
ছায়ামানব এগিয়ে আসে আমার দিকে।সেদিন দেখা
যাচ্ছিলনা ভালভাবে কিন্তু আজ দেখলাম বাহিরের
আলোয়।বিচ্ছিরি চেহারা।দেখলেই যে কারো
হার্ট এ্যাটাক হবে।মাথাটা যেন আগুনের তৈরি।ভয়ে
আমি গুজিয়ে গেলাম।মুর্তিটা আমার সামনে এসে
আমায় এক হাত দিয়ে তুলে রুমের অন্যকোনায়
ছুড়ে দেয়।ওয়ালে আমার মাথাটা বারি লাগে।রক্ত
বের হয়।কিন্তু আমি অজ্ঞান হইনা।বিছানার মেয়েটা
হাত তালি দিয়ে আরো উৎসাহ দিচ্ছিল ওইটাকে।
সেটা আবার বড় বড় পা ফেলে আমার কাছে
আসে।এইবার আমার বুকে একটা একটা করে দুইহাত
দিয়ে দুইটা আচড় কাটে তার ধারালো নক দ্বারা।আমি
"বাচাঁও "বলে চিৎকার দিলাম। আমাকে আবার ছুড়ে
ঘরের আরেক কোনায় ফেলে জিনিসটা তার লাভার
মত মুখ থেকে একটা তীব্র আর্তনাদ ছাড়ে।
মনে হয় আমি তার অনেক বড় সর্বনাশ করেছিলাম।
আজ সে প্রতিশোধ নিচ্ছে।আমি নেতিয়ে
পড়লাম।হটাৎ দেখলাম লাইটের সুইচটা আমার মাথার এক
হাত উপরে।অন্যদিকে লোকটা বড় বড় পা
ফেলে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।নিজেকে
অনেকটা কষ্ট করে দাড় করিয়েই লাইটের সুইচটা
টিপে দিলাম।
,
সাথে সাথেই বিছানার মেয়েটা প্রচন্ড গতিতে
গোঙ্গাতে লাগল।উচু জিনিসটা মেয়েটার দিকে
তাকিয়ে দৌড়ে ওর কাছে ছুটে গেল।কিন্তু
সেটাও এইবার জ্বলছে আলোর তাপে।দুজনই
চিৎকার দিতে লাগল জায়গায় দাঁড়িয়ে।একে অপরের
কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু পারলোনা।
কিছুক্ষন পর একটা ধোয়া জানালা দিয়ে বের হয়ে
যেতে দেখলাম।আমার আর কিছু মনে নেই
দাঁড়ানো অবস্থাতেই আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।
.
যখন জ্ঞান ফিরে আমি হাসপাতালে।নিরব স্যার আমার
পাশে বসা।সকালে নিরব স্যার নাকি এমনিতেই
আগেরমত স্বাভাবিক হয়ে গেছে।আমাকে নাকি
সকাল থেকে কেও রুম থেকে বের হতে না
দেখে আর নিরব স্যার সুস্থ হয়ে অফিসে
যেয়ে আমাকে না দেখে আমায় খোজের
জন্যে লোক পাঠায়।তারা আমায় অচেতন আহত
অবস্থায় উদ্ধার করে।
বুকে বেন্ডিজ করা।পা টা ঝুলানো আমার।
পরে নিরব স্যার আমায় জানালো সেইদিন রাতে
বাসায় যাওয়ার সময় তিনি এক বিভৎস চেহারা দেখে
খুব ভয় পায়।আর সেটাকে তার দিকে ক্রোধ
নিয়ে অগ্রসর হতে দেখায় তিনি সেন্সলেস
হয়ে যায়।পরে আমাকে সেইখান থেকে
ট্রান্সফার করে কুমিল্লায় পোস্টিং দেয়া হয়।কিছুদিন
আগে নিরব স্যারকে ফোন দিলে তিনি জানান এখন
আর আগেরমত কিছু হয়না।সব স্বাভাবিক।তখন
নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলাম।তাহলে কি সব
আমিই শেষ করেছি?তবুও আজও সেই লোকটার
কথা ভাবলে নিজের অজান্তেই মনের ভিতর ভয়
চলে আসে।আগুনের চেহারা এই বুঝি আবার
ধারালো নক দিয়ে আছড়ে দিতে আসলো।
,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now