বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভূতুড়ে কম্পিউটার-০২

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দুই. খাতাটা দেখে পাবন ভাবল ," ও মনে হয় সকালে গান শুনতে এসে ভুলে খাতাটা এইখানে রেখে ক্লাশ করতে চলে গেছে । সবকিছুই ওর কাছে স্বাভাবিক মনে হল । ওই সপ্তাহে আর কোন সমস্যা হল না । শুভ আর অরকিয়ার মাঝেও ঝগড়া মিটে গেল । ওরা চারজন মাঝে মাঝেই কম্পিউটার দিয়ে মুভি , নাটক দেখতো । কম্পিউটারেও কোন সমস্যা দেখা দিল না । ইদানিং পাবনের সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কম্পিউটারে গান শুনাটা একটা অভ্যাস হয়ে দাড়িঁয়েছে । সপ্তাহ ঘুরে বুধবার টা আবার ফিরে আসলো । প্রতিদিনের মত ওইদিনও সকালে পাবন গান শুনার জন্য কম্পিউটার অন করলো । গত সপ্তাহের মত আজও কম্পিউটারের সেই ঘড়িটাতে ১২টা বেজে রক্তের মত লাল হয়ে ঝলঝল করতে লাগল । আগের মতই পাবন কম্পিউটারটা অফ করে আবার অন করল । সবকিছু আবার আগের মতই ঠিক হয়ে গেল । ও গান শুনে ওটা অফ করে কলাশ করতে চলে গেল । সবাই জানে রিক্তি ম্যাডামের ক্লাসে বই না আনলে কান ধরে পুরো ঘন্টা দাড়িঁয়ে থাকতে হবে । তাই পাবন সবার আগে ওই বইটাই ব্যাগে ঢুকায় । কিন্তু আজ ও হাজারো খুজেঁ ওই বই টা ব্যাগে পেল না । ফলশ্রুতিতে কান ধরে দাড়িঁয়ে রইল । শুধু ও না, আজ ওর সাথে বই না আনার জন্য কান ধরল সেতু , জয় আর অরকিয়া । এর মধে্য অরকিয়া বই এনেও কান ধরেছে । কারণ ও ওর বইটা শুভকে দিয়ে দিয়েছে । শুভও ভুলে বইটা আনে নি ওইদিন । অরকিয়া যখন শুভকে বইটা দিয়ে কান ধরে দাড়ালো তখন কে বলবে যে কিছুদিন আগে কেউ কারও মুখও দেখতে পারতো না ।আর শুভ শুধু কৃতজ্ঞতার চোখে অরকিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো ।টিফিনের সময় সেতু ছাড়া ওরা তিনজন বসে কথা বলতে ছিল । পাবন বললো,"আমার তো কোনদিনও এই বইটা আনতে ভুল হয় না ।" আজ কি করে ভুলে গেলাম বুঝতে পারছি না । জয় আর শুভর ও একই কথা । জয় বলল ," মনে হয় আমার বইটা ব্যাগ থেকে কেউ নিয়ে গেছে । আমার স্পষ্ট মনে আছে বইটা আমি আসার সময় ব্যাগে ঢুকিয়েছি । নিশ্চয়ই কিশোর নিয়েছে ।" কিশোর আবার তখন পিছনেই ছিল । জয় ওকে না দেখেই কথাটা বলেছে । জয় আর কিশোরর মধে্য আরও আগে থেকে দ্বন্ধ । কথাটা শুনে তো কিশোর তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল । ধুম ঝগড়া শুরু হল ওদের মাঝে । পাবন আর শুভ ওদের ঝগড়া থামাতে চেষ্টা করলো । তখনই সেতু যেন কোথা থেকে খুড়িয়ে খুড়িয়ে আসলো। ওদের কাছেই আসতেই দেখলো সেতুর পা কেটে অনেক রক্ত বের হচ্ছে । পাবন তাড়াতাড়ি মাঠ থেকে ঘাস এনে ডলে চেপে ধরলো ওর পায়ে । আস্তে আস্তে রক্ত পড়া বন্ধ হল। পরে জানা গেল ও খেলতে গিয়ে পা কেটে ফেলেছে । দারুন বিরক্তিকর একটা দিন কাটলো পাবনের । বিকালে বাসায় এসে ও বইটা খুজঁতে লাগলো । কোথায়ও পেলো না । শেষে একরাশ বিরক্তি নিয়ে ও পাজয়ে ঢুকল । ভাবলো গান শুনলে হয়তো মনটা একটু হালকা হবে । গিয়ে দেখলো কম্পিউটারের পাশে চারটা বই পড়ে আছে ।প্রথমটার ওর । পরের গুলা যথাক্রমে সেতু,জয় আর শুভর । বইগুলার উপর স্পষ্টভাবে ওদের নাম লিখা আছে । অবাক চোখে বইগুলার দিকে তাকিয়ে রইল পাবন । কিভাবে বইগুলো এখানে আসলো ও কিছুতেই বুঝতে পারলো না । তবে তখনই কাউকে কিছু বললো না । চিন্তাটা মাথায় নিয়ে ও গান শুনলো । আর ঠান্ডা মাথায় ও বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলো । পরদিন স্কুলে গিয়ে পাবন বললো ওদের বই গুলো ওর কাছে ছিল । জয় জিজ্ঞেসা করলো," বইগুলো তুই কখন নিলি , কেন নিয়েছিলি , আর একই বিষয়ের চারটা বই দিয়ে তুই কি করেছিস ?" পাবন শুধু বলল ," পরে বলবো ।" ওরা আর কেউ পাবনকে এই বিষয়ে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলো না । ওরা জানে যখন দরকার হবে পাবন ওদেরকে বলবেই । তবে চিন্তটা মাথা থেকে কেউ সরাতে পারলো না । হৈ হুল্লোর আর মজার মধে্যই সাতটা দিন কাটলো । তবে পাবনের মাথায় সেই অজানা চিন্তাটা থেকেই গেলো । ফিরে এলো আর একটি বুধবার । সকালে পাবন গিয়ে কম্পিউটারটা অন করতেই আগের মত সেই ঘড়িটাতে ১২টা বেজে রক্তের মত লাল হয়ে ঝলঝল করতে লাগল ।তবে আজ আর পাবন কম্পিউটারটা অফ করে অন করলো না । গান না শুনেই ওটাকে অফ করে পাজয়ের দরজায় তালা মেরে পাবন ওর রিডিং রুমে গেলো । মনে করে রিক্তি ম্যাডামের বই আর স্যারর নোট খাতা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিল । ধীর পায়ে ও ক্লাশে চলে গেল । বিকালে ও যখন বাসায় আসলো কোনভাবেই ওর বিশ্বাস হচ্ছিল না সারাদিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো । আজও রিক্তি ম্যাডামের ক্লাসে কানে ধরা আর স্যারের মারের হাত থেকে বাচঁতে পারে নি । শুধু ও না । ও সহ সেতু,শুভ আর জয়ও । আজ আর অরকিয়া শুভকে বাচাঁয় নি । কিন্তু পাবন তো যাওয়ার আগে বই আর খাতা মনে করে ব্যাগে নিয়েছিল । কোথায় গেল ওগুলো ? ক্লাশ শেষ করে বাসায় ফিরার পথে ছোট একটা গাছের ডালের সাথে গুতোঁ খেয়ে হাত কেটে এতগুলা রক্ত পড়লো ।কথাগুলো ভেবে ও হাতটাকে ব্যান্ডেজ করে শান্ত আর ধীর পায়ে পাজয়ে গেলো । গিয়ে দেখলো কম্পিউটারটা অন করা । আর মৃদু শব্দে এমন একটা গান বাজছে যেটা ওর জানা মতে ওর কম্পিউটারে নেই । আর ওদের সেই চারটা বই আর খাতা পড়ে আছে কম্পিউটারের পাশে । পাজয়ের চাবি তো পাবনের কাছে । তাহলে পাজয়ে ঢুকে কম্পিউটারটা অন করলো কে ? গান চালালো কে ? আর বইখাতা গুলোই বা এখানে আসলো কিভাবে ????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভূতুড়ে কম্পিউটার-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now