বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুতুরে হোস্টেল

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাসুদুররহমানসাদিক (০ পয়েন্ট)

X ভূতুড়ে হোস্টেল লেখকঃ Masudur Rahman Sadik গ্রামের স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে আমাকে শহরের স্কুলে ভর্তি হয়ে সেখানকার হোস্টেলের দারস্থ হতে হয় । এভাবেই ধীরে ধীরে আমি সেখানকার হোস্টেলে থাকার অভ্যস্ত হয়ে পড়ি এভাবে ।দেখতে দেখতে চার পাঁচটা মাস কেটে গেছে কোনো রকম কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি । হোস্টেলে সমস্ত ছেলেদের সাথে কমবেশি চেনা পরিচয় প্রায় বেশ ভালই হয়ে গেছিল । এরই মধ্যে এক প্রচন্ড গ্রীষ্মের দিনে একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে আমার সাথে ,যে এই ঘটনার পর থেকেই আমি বদলে গেছি । এবং এত ভয় পেয়েছি এতো ভয় পেয়েছে যে রাতে আর ঘুম আসে না সহজে।আমরা সেদিন রাতে প্রায় দশটা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়ি। মোটামুটি রাত বারোটা নাগাদ আমার ঘুম ভেঙে যায় । তুমি শুনতে পাই যে আমাদের রুমে যে ছেলেটি আছে রাহুল তার প্রচন্ড জল তেষ্টা পেয়েছে সে এদিকে ওদিকে জল খুঁজছে। আমাকে বলছে -"জল আছে নাকি"। আমি বললাম -"দেখ বোতলে আছে" এই বলে আমি ঘুমিয়ে পরলাম। আধা ঘন্টা পর আবার আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। এবার শুনতে পাচ্ছি ঘরের বাইরে থেকে রাহুল দরজা নক করছে , দরজা ঠক ঠক করছে , বলছে -"দরজা খুল দরজা খুল আমার প্রচন্ড জল তেষ্টা পেয়েছে তাড়াতাড়ি দরজা খুল"। কিন্তু আমি তখন বুঝতে পারিনি যে রাহুল বাইরে গেল কি করে আর বাইরে যদি যায় তাহলে দরজা লক করলো কে ? আমাদের রুমে অন্য যে ছেলেটি রাজু আছে সে তো এত ঘুমায় যে তাকে লাথি মেরে নিচে ফেলে দিলেও তো সে বুঝতে পারবে না । আমি ঘুমের ঘোরে তখন সেটা ভাবতে পারিনি । দরজা খুলে দিলে রাহুল ভেতরে ঢুকে বলল -"বোতলে জল আছে নাকি আমার প্রচন্ড জল তেষ্টা পেয়েছে"। বোতল গুলো দেখলাম জল নেই শুধু একটা তে অল্প ছিল যেটা সে এক নিঃশ্বাসে খেয়ে ফেলে বলল -"আমার আরো জল দরকার আর জল নাই কি?" আমি বললাম -"বোতলগুলো নিয়ে নিচের ক্যান্টিনে যা সেখানে জল পাবি নিয়ে আসিস আমারও জন দরকার"। সে বোতল গুলো নিয়ে সেই দিন আমাদের রুমের দুটি ছেলে বাড়ি চলে গেছিল তাই আমরা মোট তিনজন রুমে ছিলাম ।আমি রাহুল আর একটা ছেলে রাজু। এই তিনজন মিলেবেরিয়ে গেল কিন্তু সে যে সিঁড়ি দিয়ে নামছে নিচে তার কোন আওয়াজ আমি পাচ্ছি না । একটু পরই আমার মনে পড়লো আরে সে বাইরে গেল কি করে আর ভেতর থেকে দরজা লক করলো কে ? আমার সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম। আমি ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। অনেকক্ষন হয়ে গেল কিন্তু দেখছি রাহুল এখনও জল নিয়ে আসছে না । আমার মনে খটকা লাগলো এত দেরি হচ্ছে কেন রাহুলের জল নিয়ে আসতে ? তার কি কিছু হলো নাকি ? আমি এবার আমাদের রুমের রাজু নামের ছেলেটিকে ডাকতে শুরু করলাম কিন্তু তার ঘুম এতই গভীর যে তাকে তিন তিনটে লাথি মারার পর তাকে ঘুম থেকে জাগাতে সার্থক হলাম। তাকে জাগিয়ে সমস্ত কথা বলায় সেও অবাক হয়ে গেল । এবার আমরা দুজনে নিচে নামলাম রাহুলকে খোঁজার জন্য । সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় মনে হচ্ছে ক্যান্টিনের কেন্ট থেকে জল পরছে।আমরা ক্যান্টিনে প্রবেশ করে দেখলাম রাহুল কোথাও নেই এবং কেন্ট থেকে সমানে জল পড়ে যাচ্ছে। আমরা গিয়ে কেন্ট তা বন্ধ করে দিলাম। পুরো ক্যান্টিন ভালো করে দেখলাম রাহুল কোথাও নেই । হঠাৎ আমারা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম । কিন্তু আওয়াজটা কোথা থেকে আসছে , না আওয়াজটা বাথরুম থেকে আসছে। আমরা প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম এবার আমরা আস্তে আস্তে বাথরুমের দিকে এগোতে লাগলাম এগোতে এগোতে আওয়াজটা জোরালো হতে শুরু করল । এবার পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছি এটা রাহুলের আওয়াজ রাহুল আওরানি করছে কাতরানি করছে , কেঁদেই চলছে সমানে । আমরা এত ভয় পেয়েছি যে বাথরুমে ঢোকার সাহস পাচ্ছিনা । তবুও সাহস করে দুজনে হাতে হাত চেপে বাথরুমে ঢুকে লাইট টা দিলাম । লাইট দেওয়ার সাথে সাথে কান্নাটা বন্ধ হয়ে গেল। এবার আমরা আস্তে আস্তে নিম্ন কন্ঠে রাহুলকে ডাকছি -" রাহুল এই রাহুল কি হল তোর কি হল রাহুল" । রাহুলের কোন আওয়াজ পেলাম না । বাথরুমের দরজা গুলো ধীরে ধীরে প্রতিটাই খুলে দেখি কোথাও রাহুল নেই ।তাহলে একটু আগেই যে আওয়াজটা পাচ্ছিলাম সেটা কার আওয়াজ ছিল,রাহুল কোথায় ? আবার আওয়াজ টা পাচ্ছি তবে এবার ক্যান্টিন থেকে। এবার সে ছটপট করছে প্রচন্ড ছটপট করছে আমরা তাড়াতাড়ি বাথরুম থেকে বেরিয়ে দৌড়ে ক্যান্টিনে প্রবেশ করলাম । ক্যান্টিনে প্রবেশ করে দেখি যে কেন্ট থেকে সমানে জল পরছে , পুরো ক্যান্টিনে কেউ নেই কোনো আওয়াজ নেই। ক্যান্টিনের যে বড় ডিয়ারগুলো ছিল সেটা দেখছি একটা অনেকটা খোলা আছে। আমরা আবার জলের পাইপ টা বন্ধ করে দিলাম । পুরো ক্যান্টিনে যদি কেউ নেই তাহলে কে কেন্টটা আবার চালু করেছিল ? আবার ডয়ারটাই বা কে খুলল ?আমরা প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেছি এত ভয় পেয়েছি এত ভয় পেয়েছি যে সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যাব ।রাজুও এত ভয় পেয়েছে যে সে বারবার আমাকে বলছে -"চল চল রাহুল কে খুঁজতে হবে না নিজের প্রাণ বাঁচা চল"। আমরা রাহুলকে আর না খুঁজে এক দৌড়ে ঘরে গিয়ে ঢুকে দেখি রাহুল তার নিজের বিছানায় শুয়ে আছে। আমি এত ভয় পেয়েছি এত ভয় পেয়েছি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই। পরদিন সকালে যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি আমি নিজের বিছানায় শুয়ে আছি। দেখছি রাহুল, রাজু আগে থেকেই উঠে বসে আছে । আমি তাদের জিজ্ঞাসা করছিলাম -"এ রাহুল কী হয়েছিল কাল তোর, কেন এমন করছিস" সে বলল - "কি আবার হয়েছিল কিছুই তো হয়নি"। আমি বললাম "কেন তুই যে ক্যান্টিনে জল আনতে গিয়ে ছিলিস তারপর কি হয়েছিল"? সে বললো "পাগল হয়েছিস নাকি আমি গতরাতে তো উঠি নাই ঘুম থেকে"। আমি বললাম "আমি পাগল না তুই রাজু কে জিজ্ঞাসা কর রাজু তো কাল আমার সাথে উঠেছিল গত রাতে"। রাজু বলল "তুমি সত্যিই পাগল হয়েছিস নাকি আমি আবার কোথায় উঠেছিলাম কালকে"।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভুতুরে হোস্টেল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now