বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মিম
আমি আগে গান শিখতাম। যখন ক্লাস এইটে পড়তাম তখন।আগে গান সম্বন্ধে কোনো ধারনা ছিল না তখনই প্রথম।তাই বাদ্যযন্ত্র সম্বন্ধেও কোনো ধারনা ছিল না।গান শিখতে হলে তো হারমোনিয়াম প্রয়োজন। কিন্তু নতুন শিখছিলাম তো তাই সেকেন্ডহ্যান্ড কেনাই ভালো।তাই আমাদের গানের শিক্ষককে বললাম। শিক্ষক এই দিয়িত্ব দিল মোহন দাদার ওপর।
কিছুদিন পর দেখি ভ্যানে করে মোহন দাদা আমাদের বাড়ি হাজির। সাথে আমার হারমোনিয়াম। সেকেন্ডহ্যান্ড হলেও একেবারে নতুন। যে কিনেছিল সে নাকি মাত্র ২ মাস ব্যবহার করেছিল। কিন্তু নতুন হারমোনিয়াম কিনে কেনো এত অল্পদিন ব্যবহার করে বিক্রি করে দিল কে জানে।যাই হোক হারমোনিয়ামটা আমার খুব ভালো লাগল।
কাঠামোর রং একেবারে নতুন। হারমোনিয়ামের স্কেল গুলোর রং নীল। মোহনলালের সুর। হারমোনিয়ামে বেশ কারুকাজ দেখতে পেলাম। মনে মনে ভাবলাম যার হারমোনিয়াম সে নিশ্চয় শিল্পানুরাগি একজন লোক।
সে যাই হোক আমি মনের সুখে হারমোনিয়ামে গান তুলতে লাগলাম। প্রথম প্রথম বেশি অদ্ভুত কিছু ঘটে নি। কিন্তু কিছুদিন যাবার পর দেখি হারমোনিয়ামের ওপরের ঢাকনাটা এমনিই সরে যেত।এটা থুয়ে একটু বাইরে গেলে এসে দেখতাম হারমোনিয়ামের চাবিগুলো খোলা।
কিছুদিন যেতে না যেতে আমরা বাইরে রয়েছি এমন সময় শুনলাম হারমোনিয়ামে লক্ষণ গীতের সুর বাজছে। আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি সেখানে কেউ নেই। তবে হারমোনিয়ামের চাবি খোলা,হাপরে বাতাস রয়েছে তার মানে একটু আগেই কেউ ওটা চালাচ্ছিল। আমি আর আম্মু ছিলাম বাসায় রিতীমত ভয় পেয়ে গেছিলাম আমরা । তারপর মাঝরাতে, ভর দুপুরে,ভর সন্ধ্যেই,একেবারে ভোরে যখনই কেউ ঘরে থাকত না তখনই হারমোনিয়ামটি বেজে উঠত।তবে সবসময় সাধারণ একটা ব্যাপার ছিল যখনই সে ঘরে হারমোনিয়াম বাজত তখনই সেখানে পিপড়া দেখতে পেতাম। পরে পরীক্ষা করে দেখলাম হারমোনিয়াম বাজার পর সেখানে মধুর ফোটা পড়ে থাকে।
আমরা তো পুরো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলাম।তখন আমি মোহন দাদার কাছ থেকে হারমোনিয়াম কেনা বাড়ির ঠিকানা নিলাম। আমি, মিনা, মাহি, রাজু, সাজু আর রবি ৬ জনে গেলাম সেই বাড়ি। যেয়ে দেখি এক বিধবা মহিলা। তার কাছে আমার পরিচয় দিলাম। কিন্তু হারমোনিয়ামের ভূতুড়ে কথাটা বললাম না। তার কাছে এই হারমোনিয়ামের কথা তুলতেই সে মহিলা কেদে দিল।
মহিলা এবার বলতে লাগল,"আমার স্বামী গান খুব পছন্দ করত এবং ছোটবেলা থেকেই গান গাইত। একটা পুরোনো হারমোনিয়ামে শিখেছিল। বহুদিন চলার পর সেটি বেশ নষ্ট হয়ে গেছিল। পরে মোহনলালের বাশির একটা হারমোনিয়াম কিনেছিল।সে লক্ষণ গীত খুব পছন্দ করত। আর গান করার সময় আগে মধু খেয়ে নিত। এতে নাকি গলা ভালো হয়।"
এভাবে আরো নানা কথা বলে মহিলাটি কান্না আরো বাড়িয়ে দিল। তার স্বামী কিছুদিন আগে এক্সিডেন্টে মারা গেছে।
একথা শুনে আমাদের কারোরই বাকি রইল না আমাদের হারমোনিয়ামটার সাথে কেনো এমন ঘটে। আমরা বাড়ি এসেই আমাদের হারমোনিয়ামটা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলাম। যেমন কথা তেমন কাজ। বিক্রির পরের দিন রাতে আমার ভাবনা হল,"যদিও আমরা বেচে গেলাম হারমোনিয়ামের সুর থেকে, কিন্তু যে কিনল ওটা আজকে তাদের বাড়ি কি কান্ড ঘটবে?? "
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now