বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভূতুরে গল্প

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niloy (০ পয়েন্ট)

X ইউক্রেনের নাতেরা নামক একটি অঞ্চলের এই বাড়িটিকে ঘিরে লোক মুখে নানান কাহিনী প্রচলিত । বলা হয়ে থাকে এই বাড়িতে কেউ রাত কাটাতে পারে না । গভীর রাতে নাকি বাড়িটিতে কোথা থেকে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে আসে । ঘটনা পরীক্ষা করার জন্য আমেরিকার একদল ভৌতিস্ট ঐ বাড়িতে রাত কাটাতে যান । তাদের একজনের জবানবন্দি নিচে দিলামঃ ' বাড়িটিতে আমরা যখন ঢুকি তখন রাত ১১টা । দলে আমরা মোট ১৪ জন ছিলাম । ১৪ আমাদের জন্য লাকি নাম্বার । কারণ এর আগেও আমরা অনেক হাউন্টেড বাড়িতে গিয়েছি, সেখানেও আমরা দলে ১৪ জন ছিলাম । যাই হোক, খাওয়াদাওয়া শেষ করতে করতে আমাদের ১২টার মতো বাজে । আমরা অপেক্ষা করছিলাম কখন ঘটনা ঘটতে শুরু করবে । এভাবে আরো কিছুক্ষণ যায় । হটাত আমাদের মাঝে একজন তার নাম ডেভিড বলল সে নিচু গলায় কোন আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে । তার কোথা শুনে আমরা সবাই গভীর মনোযোগ দিলাম । প্রথমে কিছু শুনতে পারলাম না কিন্তু খানিকবাদেই আমাদের কানে এলো কেউ যেন বিড়বিড় করে কিছু বলছে । অনেকটা গির্জার পাদ্রীরা বিড়বিড় করে যেভাবে সুরা বা দোয়া পড়েন সেরকম আওয়াজ । আমরা সবাই তৈরি হলাম আওয়াজটা লক্ষ্য করে যাওয়ার জন্য । ঠিক খানিকবাদেই হটাত আমাদের সবার একত্রে খুব ঠাণ্ডা লাগা শুরু করলো । আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন ইউক্রেনে সামার সিজন চলছে । এরমাঝে এরকম হাড় কাঁপিয়ে দেয়া বাতাস আসার প্রশ্নই আসে না । আমরা আগেই জানতাম যে এই বাড়িতে এমন হতে পারে, তাই সবাই মোটা কাপড় পড়ে ছিলাম । কিন্তু তাতেও শীত মানল না । আমাদের রক্ত যেন থান্দায় জমে যাবে । তারপরও আমরা ৭জনের দুটো গ্রুপে ভাগ হয়ে এগুতে চাইলাম কিন্তু তার আর দরকার পড়লো না । হটাত আমাদের সামনের একটা দরজা খটাস করে খুলে গেলো । আমরা কেউই এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না । সবাই চমকে উঠলাম । আমাদের আরো চমকে দিয়ে ঘেউ ঘেউ করতে করতে কয়েকটা কুকুর ছুটে এলো ঐ দরজার ওপাশ থেকে । আমরা প্রত্যেকেই দেখলাম কুকুরগুলোর চোখ সেই অন্ধকারেও কেমন সাদা আলোর মতো জ্বলছে । সেই সাদা এর আগে আমরা কেউ দেখি নি । মনে হচ্ছিল কুকুরগুলোর চোখের আলোতে আমরা পাগল হয়ে যাবো । একই সাথে আমাদের সকলের প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হতে লাগলো । আমরা বাড়িতে ঢোকার পর আমাদের চারপাশে একটা বৃত্ত করে নিয়েছিলাম যাকে আমরা গোস্ট হান্টাররা 'নিরাপত্তা বৃত্ত' বলে থাকি । কুকুরগুলো কেন যেন সেই বৃত্তের কাছে এসেই আবার পিছিয়ে যেতে লাগলো । এমন প্রায় ৫ মিনিট চলল । এই পাঁচ মিনিটে ঠাণ্ডায় এবং ভয়ে আমাদের কয়েকজন সাথী জ্ঞান হারায় । আমরা যারা তখনো দাঁড়িয়ে ছিলাম তারা দেখতে পাই কুকুরগুলোর পিছন পিছন কয়েকজন মানুষ এসে দাঁড়ায় । তারা সবাই দেখতে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক লম্বা । তাদের গা থেকেও কুকুরের চোখের মতো সাদা আলো আসছিলো । তারা এসে কিছুক্ষণ আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলো । এরপর কুকুরগুলোকে ডেকে নিয়ে চলে গেলো । আমরা হতবিহবল হয়ে তাকিয়ে থাকি । সেইদিন সকালে আমরা একটা প্লেন ভাড়া করে আমেরিকা চলে আসি । এই ঘটনার পরে আমাদের সবার সাথেই কিছু অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে যার ব্যাখ্যা আমরা কেউ জানি না । তবে গডের ইচ্ছায় আমরা কেউ মারা যাই নি বা বড় দুর্ঘটনার শিকার হই নি । আমরা এরপরেও অনেক হাউন্টেড বাড়িতে গিয়েছি কিন্তু কোথাও এতো ভয়ানক অভিজ্ঞতা হয় নি ।' - রোজমেলি শেরিন পুনশ্চঃ এই বাড়িতে গত ৭৭ বছর যাবত কেউ থাকেন না । তবে বাড়িটার সকল ঘরে সাদা পর্দা লাগানো । কেউ পরিষ্কার করে না কিন্তু সেই কাপড়ে কোন এক অদ্ভুত কারণে কখনো ময়লা জমতে দেখা যায় না ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভূতুরে গল্প (ভয়ংকর জঙ্গল পর্ব-২ শেষ পর্ব)
→ ভূতুরে গল্প (ভয়ংকর জঙ্গল পর্ব-১ )
→ ভূতুরে গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now