বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তখন আমার বয়স হবে ১২/১৩।সেই সময়কার একটা গল্প আজ লিখছি।সব কিছুর সুত্রপাত হয়েছিল এইভাবে:সকাল থেকেই ভারী ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল।আমাদের বাড়ি থেকে একটু দুরেই ছিল আমবাগান।ঝড়-বৃষ্টি হলেই আমরা দল বেঁধে গিয়ে আম কুড়াতে হাজির হতাম।তাই নির্দিষ্ট সময়ে আমরা আম কুড়াতে হাজির হলাম।সেই আমবাগানের প্রায় শেষের দিকে একটা যেই আমগাছটা ছিল সেই গাছের তলায় বেশ কয়েকটা পাকা আম পড়েছিল।কিন্তু কোনো কারণে সেই গাছের আম ভুলেও কেউ ছুঁয়ে দেখত না।এমনকি গাছটার ধারে কাছেও কেউ যাওয়ার সাহস পেত না।এর কারণটা আমার জানা ছিল না।তবে বড়দের মুখে শুনতাম গাছটা নাকি ভালো না।খারাপ জ্বীনের বসবাস ওই গাছে।আমি তখন এসব কথা বিশ্বাস করতাম না।যাই হোক,সেই গাছের তলায় বেশ কয়েকটা পাকা আম দেখে আমার তখন লোভ হলো।যেহেতু সেই গাছের আম কেউ নেবে না তাই আমিই সবগুলো আম নিতে পারব ভেবে বেশ খুশি হলাম।আমার বন্ধুরা বেশ কয়েকবার বারণ করল।কিন্তু আমি শুনলাম না।আমি যখন সেই গাছের তলায় আম কুড়াচ্ছিলাম তখন গাছ থেকে বেশ বড়-সর একটা আম মাটিতে পড়ল।মনে হলো মাটিটা যেন কেঁপে উঠল।আমটা অন্যগুলোর থেকে ছিল আকারে বেশ বড়।আমি এত বড় আম দেখে অবাক হলাম ঠিকই।পরে সেটাও সাথে নিয়ে নিলাম।বাড়ি ফিরে সেই বড় আমটাই প্রথমে খেলাম।আর সেটাই হয়তো আমার একটা বড় ভুল ছিল।সেই রাতে আমি এক ভয়ানক স্বপ্ন দেখি।দেখলাম সেই গাছের তলায় আমি আম কুড়াচ্ছি।হঠাৎ মনে গাছের উপর থেকে কেউ হাসছে।উপরে তাকিয়ে দেখি একটা লোক বসে আছে।তবে তার মাথা নেই।বুকের উপর দুটো লাল চোখ আর পেটের উপর মুখ।এই স্বপ্ন দেখে আমি চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠে বসি।আমার চিৎকার শুনে বাবা মা দৌঁড়ে আসে।তাদের স্বপ্নের কথা খুলে বলি।তারা বিষয়টাকে স্রেফ একটা দুঃস্বপ্ন বলে উড়িয়ে দিল।পরদিন থেকে আমার ধুম জ্বর।শরীর কাঁপিয়ে জ্বর এল।পরে আমার মা হঠাৎ আবিষ্কার করে আমার হাত পা কালো হয়ে যাচ্ছে।বাবা তাড়াতাড়ি ডাক্তার নিয়ে আসে।কিন্তু ডাক্তার কিছুই করতে পারেন না।আমার তখন অবস্থা খুবই খারাপ।সারা শরীর কালো বর্ণ ধারণ করছে।প্রচন্ড ব্যাথায় হাঁড় যেন জ্বলে যাচ্ছে।চিৎকার করার শক্তিটুকুও নেই।উপায় না পেয়ে বাবা গ্রামের ওঝাকে নিয়ে আসেন।ওঝা ঘরে ঢুকতেই একটা দমকা হাওয়ায় যেন আমাদের বাড়িটা কেঁপে ওঠে।তিনি বুঝতে পারেন যে আমাদের বাড়িতে কিছু আছে যার উপর খারাপ জ্বীনেদের নজর পড়েছে।তিনি তখন আমার কাছে এসে বসে কিসব মন্ত্র পড়তে লাগলেন।মন্ত্র পড়ে আমার গায়ে হাত রেখে ফুঁ দিলেন।আর তখন আমার মনে হলো গায়ের প্রচন্ড ব্যাথা সামান্য কমেছে।তখনি আমি ওঝাকে গতকাল বিকেলের কথা বলি এবং রাতের স্বপ্নের কথাটাও বলি।তিনি তখন বলেন সেই গাছে এখন কিছু বদ জ্বীন বাস করে।আমি সেই গাছের আম নিয়ে আসায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে।তাই আমার উপর তারা আছর করেছে।এইসব বলে তিনি বাকি যেই আমগুলো ছিল সেইগুলো মন্ত্রপুত আগুনে পুরিয়ে ফেলে।এবং আমায় কিছু পানি পড়া খেতে দেয়।আমার শ্বরীর এবং বারি বন্ধ করে দেয়।এরপর কিছুদিন সব স্বাভাবিক ছিল।কিছুদিন পর থেকে রাতে আমি ভয়ানক স্বপ্ন দেখা শুরু করি।সারাদিন শুধু ভয় পেতাম।বিকেলে বাইরে যেতে পারতাম না।পরে ওঝা আমাদের সেই গ্রাম ছেরে চলে যেতে বলে।কিছুদিন পর আমরা গ্রাম ছেরে চলে আসি।তারপর সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ধীরে ধীরে আমি সুস্থ হয়ে উঠি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now