বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।। ভুতসংগম ।। পর্ব ২
আজ ৬ মাস হয়েছে পত্রিকা অফিসে আর
যাইনি । সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি পিয়ন
দরজার নীচ দিয়ে দুটি চিঠি দিয়ে গেছে ।
একটিতে লেখা “দেখা হবে নির্জনে, কথা
হবে মনে মনে” প্রাপকে আমার নাম,
ঠিকানা, কিন্তু প্রেরকের কোনো ঠিকানা
দেয়া নেই। খুবই অবাক ব্যাপার । অন্যটা
এসেছে “সূর্যের দিন” পত্রিকা অফিস
থেকে । জরুরী যোগাযোগ করতে বলা
হয়েছে । প্রেরক, সম্পাদক সাহেব, “সূর্যের
দিন” পত্রিকা । চিঠি দুইটি টেবিলের উপর
রেখে বাথরুমে ঢুকে গেলাম ফ্রেশ হয়ে
সোজা নাস্তার টেবিলে, বাবা নাস্তার
টেবিলে অপেক্ষা করছেন তাই আর দেরী
করলাম না । “তোমার পড়ালেখার কি খবর?”
বাবা নাস্তা করতে করতে জিঞ্জেস
করলেন । আমি উত্তর দিলাম “জ্বি ভালো,
দুদিন ছুটি আছে তাই ভাবছি, নানুকে দেখে
আসবো”, বাবা কোনো কথা বললেন না । শুধু
আ্ওয়াজ করলেন “হুম” । নাস্তা সেরে ঠিক
করলাম নানুকে দেখতে যাওয়ার আগে
পত্রিকা অফিস হয়ে যাবো । সাথে কিছু
টাকা, ব্যাগ, টর্চলাইট, সেভিং এর
সরঞ্জাম, মোবাইল চার্জার, প্রয়োজনীয়
আরো কিছু জিনিস নিয়ে নিলাম । সেবার
শ্যামপুরে যাওয়ার সময় অনেক কিছুই সাথে
ছিল না । তাই এবার মনে করে প্রয়োজনীয়
সব জিনিস নিয়ে বাসা থেকে বের হলাম
মগবাজার পত্রিকা অফিসের উদ্দেশ্যে ।
পত্রিকার সম্পাদক সাহেব অত্যন্ত বিরক্ত
আমার উপর, আমি দীর্ঘদিন কোনো প্রকার
যোগাযোগ রাখিনি । তবে আমার ফিচার
শ্যামপুরের সেই ঘটনা নাকি ওনার কাছে খুব
ভালো লেগেছে তাই তিনি আবার আমাকে
ডেকেছেন । বিশেষত আমার বেতন খুব
সামান্য তবে ফিচার জমা দেয়ার পর
এককালীন বিশেষ একটা সম্মাননা ভাতা
দেয়া হয় । আমার মনে হল আসলে আমার
লেখা নয়, অদ্ভুদ ভুতুরে কোন সংবাদ
সংগ্রহের জন্য উনি আমাকে ডেকেছেন ।
আমি জানি আমি ছাড়া আর কেউ এ ধরনের
সংবাদ বা ফিচার সংগ্রহের জন্য রাজি
হবে না । একবার ভাবলাম চাকুরীটা ছেড়ে
দেই কিন্তু সম্পাদক সাহেব বিশেষত আমার
উপর আশা করে আছেন তাই তাকে আর
নিরাশ করলাম না । বললাম “নানুর বাসায়
যাচ্ছি নরসিংদীতে, সেখানে
কালীমন্দিরের কাছে শ্বশানঘাটে নাকি
ভুতুরে সব ঘটনা ঘটে, যদি সময় পাই একবার
যাব, অদ্ভুত ফিচারের জন্য” শুনে সম্পাদক
সাহেব খুব খুশি হলেন বিদায় জানিয়ে
প্রথমে বাসে পরে ট্রেনে ঘোড়াশাল
পৌঁছলাম । সেখান থেকে অটোরিক্সায়
সোজা নানু বাড়িতে । নানু অনেক খুশি
হলেন, দুদিন থাকবো শুনে । বাজার করার
মতো কেউ নেই, তাই পাশের বাড়ির এক
আত্মীয় সম্পর্কে মামা হয়, তাকে নিয়ে
বাজারে গেলাম । তার নাম মোবারক, বয়সে
আমার সমান হবে । নানু কে না বলে আমি
মোবারক মামাকে সাথে নিয়ে রিকসায়
বাজারে চলে এলাম । যাবার সময় অনেক
ব্যাপারে মোবারক মামার সাথে কথা হল ।
কালীমন্দির, শ্বশানঘাট ও বাশঁ ঝাড়ের
নীচে কবরস্থান নিয়েও অনেক কথা হল ।
রীতিমত গাঁ শিউরে উঠে সে গল্প শুনে ।
কিন্তু আমি প্রমানে বিশ্বাসী বেশির ভাগ
ক্ষেত্রে দেখা যায় এগুলো মানুষের ভ্রান্ত
ধারনা । গল্প করতে করতে আবার রিকসা
নিয়ে বাজার করে নানুর বাড়িতে চলে
এলাম । তখন সবেমাত্র দুপুর ১২টা বেঁজেছে ।
মোবারক মামাকে বললাম আমি এখানে
কেনো এসেছি । শুনে উনি হাসলেন । বললেন
অহেতুক ঝামেলায় যাওয়ার দরকার কি ?
বেড়াতে এসেছেন, কয়েকদিন আনন্দ করে
যান । দুপুরে খাওয়ার সময় উনাকে আর খুঁজে
পেলাম না । কিছুক্ষণ পর মোবারক মামা
হাজির, আমি ওনাকে আমার চিঠিটা
দেখালাম যেটাতে লেখা “দেখা হবে
নির্জনে, কথা হবে মনে মনে” সে চিঠিটা
দেখে “থ” হয়ে গেল, এই লেখাটা তো মনে
হয় কোথাও দেখেছি । ওনার ধারনা এ
লেখাটা উনি কোনো একটা কবরের উপর
ফলকে দেখেছেন, তবে কোন কবরে তা আর
এখন মনে করতে পারছেন না । কিন্তু
কবরস্থানের নামটা তার নাম মনে আছে ।
আমি কিছুটা ভয় পেলাম কারণ এ ধরনের
চিঠি আমাকে কোন মৃত মানুষের কবর থেকে
পাঠিয়েছে তা ভেবে । তবে তা সামলে
নিয়ে মোবারক মামাকে বললাম “মামা যদি
কিছু মনে না করেন তাহলে কাল সকালে বা
বিকেলে ওই কবরস্থানে একটু ঘুরে দেখতে
চাই” , তিনি কিছুটা বিমর্ষভাবে আমার
দিকে তাকিয়ে বললেন “আপনার কি মাথা
খারাপ, ওখানে কেউ যায় নাকি? এখন তো
মানুষ কবর দিতেও ওখানে যায় না, তবে যদি
দিনের বেলাতে মানে সকালে যান তাহলে
সাথে যেতে পারি” , আমি তার কথায়
আশ্বস্ত হয়ে পরের দিন সকালে যাব মনস্থির
করলাম । পরদিন সকালে নাস্তা সেরে
বারান্দায় বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম
মোবারক মামার জন্য । নানুকে শুধু বললাম
ঘুরতে যাচ্ছি, বিকেলেই চলে আসবো । নানু
কিছু বললেন না, শুধু বললেন তাড়াতাড়ি
বাড়ি ফিরিস্ । মোবারক অনেক্ষণ পরে এসে
উপস্থিত হল । বললাম এতক্ষণ দেরী হল কেন?
।, সে বলল, ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়েছে
তাই । নানুকে বিদায় জানানোর সময়
মোবারককে বললাম ভিতরে যেতে, নানুর
সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য । সে বলল
“উনি মুরুব্বী মানুষ আমাকে না চিনতে
পারেন, অনেকদিন দেখেন নাতো আর
অহেতুক দেরী করে লাভ কি, আমাদের আগে
আগে ফিরতে হবে” , আমি আগেও লক্ষ্য
করেছি মোবারক মামা নানুর সামনে যেতে
চান না । কেন চান না বুঝতে পারলাম অনেক
পরে । যাই হোক ঘর থেকে বের হলাম, দুপুরে
খাওয়ার জন্য কিছু খাবার নিয়ে ব্যাগে
রাখলাম, সাথে দুই লিটারের এক বোতল
মিনারেল ওয়াটার । মোবারক মামাকে
জিঞ্জেস করলাম রিকসা নিতে হবে
কিনা ? মনে হল তিনি আমার কথায় বেশ
মজা পেয়েছেন । তাই বঁত্রিশ দাঁত বের করে
হাসছেন, বললেন “আপনার কি ধারনা
পরিত্যক্ত একটা কবরস্থানে রিকসা বা
গাড়ী যাওয়ার মনোরম রাস্তা থাকবে, হা…
হা….হা..” , আমি কিছুটা বিব্রত হলাম,
বললাম “ঠিক আছে চলেন যেভাবে যাওয়া
যায়, যদি হেটে যেতে হয় তাহলে আমার
কোন সমস্যা নেই” । আমরা হাটতে থাকলাম
। আমার শরীর ক্লান্ত আর ঘামে ভিজে
চুপসে গেছে সারা শরীর আর জামাকাপড়,
তবুও হাটছি আর হাটছি । মোবারক এ
গ্রামেরই ছেলে তাই হয়তো তার শরীর কোন
ঘাম নেই । সে দিব্যি হেঁটে যাচ্ছে পথ
চিনিয়ে চিনিয়ে । প্রায় দু ঘন্টামত হাটার
পর জন-মানবহীন নীর্জন এক জঙ্গলে এসে
পৌঁছলাম । বড় বড় গাছ আর লতাগুল্ম দিয়ে
ঘেরা । সূর্যের আলো এখানে ঝিমিয়ে
পড়েছে কিন্তু বেলা বাঁজে ১টা মাত্র । দিক
ঠিক করা যাচ্ছে না তবে মোবারক মামার
মনে হচ্ছে দিক ঠিক করতে কোন সমস্যা
হচ্ছে না । আমি কিছুটা সাহস পেলাম এই
ভেবে যে আমি একা নই, মোবারক মামা
সাথে আছেন । আরো প্রায় ১ ঘন্টা হাটার
পর একটা বিশাল বাঁশঝাড়ের সামনে এসে
পৌঁছলাম । আমি দেখলাম এটাকে আসলে
আগে বাঁশবাগান বলা হলেও এখন তা
বাঁশঝাড় বা বাঁশের জঙ্গলে পরিনত হয়েছে ।
যে কেউ এখানে একা থাকলে ভয়ে তার
অঞ্জান হওয়ার মত অবস্থা হবে । চারদিক ঘন
লতাগুল্ম আর বাঁশের ঝোপঝাড় । মোবারক
মামা আমাকে বললেন “এটাই সেই কবরস্থান
এখানে অনেকগুলো কবর আছে তবে কোথায়
যে আপনার সেই কথাটা লেখা আছে তা
আমি বলতে পারবো না, আপনাকে খুঁজে বের
করতে হবে” আমি আশাহতের মত চারদিকে
তাকালাম কারন এখানে কোন কবরই
ভালোমত বোঝা যাচ্ছে না । ঝোপঝাড়ের
কারনে সব ঢেকে গেছে কিছুক্ষন পর মনে
হল আমার পায়ের নীচে একটা কবর, আমি
একটা কবরের উপর দাড়িয়ে আছি । ভয়ে
আমার সারা শরীরে শিড়দাঁড়া বেয়ে একটা
শীতল স্রোত বয়ে গেল । সরে গিয়ে পাশে
দাড়ালাম । দুপুর প্রায় আড়াইটা বাজে,
ক্ষিদে পেয়েছে তাই ব্যাগ খুলে খাবার
বের করলাম মোবারক মামাকে বললাম
“আগে খেয়ে নিই, পরে কাজে নামব” , মনে
হল তিনি আমার কথায় গুরু্ত্ব দিচ্ছেন না ।
অন্য দিকে বিমর্ষভাবে তাকিয়ে আছেন ।
কিছুক্ষণ পর আবার আমি বললাম । মোবারক
মামা এবার শুনতে পেলেন, উত্তর দিলেন
“আমার ক্ষিদে নেই” , আপনি খেয়ে নিন
আমি একটু আসছি, বলে তিনি ঝোপের ভিতর
চলে গেলেন । আমি খাওয়া সেরে অনেক্ষণ
তাকে খুঁজলাম । নাম ধরে বেশ কয়েকবার
ডাকলাম । ভাবলাম হয়ত সে রাস্তা হারিয়ে
ফেলেছে । চলে যাওয়ার সময় হয়েছে, এখন
প্রায় বেলা ৫টা বাঁজছে । সূর্য হেলে
পড়াতে বাঁশঝাড়ের ভিতরে অন্ধকার নেমে
এসেছে । আমি আমার টর্চলাইটটা বের
করলাম ব্যাগ থেকে । অনেক খুঁজেও
মোবারক মামাকে পেলাম না । তাই ঠিক
করলাম বাড়ি ফিরে আসব, হাতে একটা
মার্কার পেন আর একটা টর্চলাইট । মার্কার
পেন দিয়ে বাশ কিংবা গাছে দাগ টেনে
চিহ্ন দিচ্ছিলাম আর সামনে এগুচ্ছিলাম
কিন্তু অন্ধকারে কিছুই ভালো দেখা যাচ্ছে
না । চারদিক এখন ঘোর অন্ধকার তাই
কিছুক্ষণ পরপর টর্চলাইট জ্বালাতে হচ্ছে ।
একটানা জ্বালালে ব্যাটারী শেষ হয়ে
যেতে পারে । এভাবে এগুতে থাকলাম প্রায়
আধঘন্টা । হঠাত পা ফসকে একটা গর্তে পড়ে
গেলাম । চার দিক সমান ভাবে কাটা, চার
দেয়ালে আমি আটকা পড়েছি, আমার আর
বুঝতে বাকি রইল না আমি একটা কবরের
ভিতরে আটকে গেছি …
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now