বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার বাচ্চাটা আমার কোলে "কুয়া কুয়া" করে কান্না করতেছে। আমি ভাবলাম আজ যদি আমি কোন বিদেশী প্রিন্সেসকে বিয়ে করতাম, তাহলে আমার বাচ্চাটার কান্না হত এরকম "ওয়া ওয়া। আর আমিও তখন প্রাণ ভরে আদর করতাম আমার বাচ্চাকে। কিন্তু এই বাচ্চাটাকে দেখলে আমার গা শিউরে উঠে। কেন জানি মনে হয় এটা আমার বাচ্চা না,, থুক্কু মনে হয় আমি এটার বাপ না।কিন্তু পরিস্থিতির স্বীকার আমি।
এখানে আমার কোন কাজ নেই, শুধু বাচ্চাটা সামলাতে হয়, আর বউকে একটু আদর করতে হয়।
আমার সন্তানের "কুয়া কুয়া" আওয়াজ শুনে পাশের ঘর থেকে আমার শালি এন্জেল শাঁকচুন্নি দৌড়ে এল। আমাকে বলল: দুলাভাই, বাচ্চাটাকে আমাকে দেন।
আমি তাড়াতাড়ি বাচ্চাটা ওকে দিলাম। এই মেয়েটাকে, থুক্কু এই ভূত্নীটাকে আমার একদম সহ্য হয়না। শালিটা শুধু আমার গা ঘেষে থাকতে চাই। আমার তখন বমি চলে আসে। উঠে চলে যেতে চাইলে টেনে রেখে দেয়, বলে : দুলাভাই, আপনি এমন কেন? আপু তো নাই, আরেকটু বসেননা। "
ওর কথা শুনে ইচ্ছে করে তখন বমিটা ওর মুখের উপর করে দিই। তবুও নিজেকে সামলিয়ে বলি: ওরে আমার মিষ্টি শালিরে, আমি একটু আসি, একটু পর তোমার সাথে প্রেম করতে আসব।"
আমার শালি তখন খুশিতে লাফাতে থাকে, আর আমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আমি তখন আড়ালে গিয়ে বমি করি,, আর আসিনা তার কাছে।
একদিন আমার বউ দেখে ফেলে আমি শাঁকচুন্নির কাছে বসে আছি। বউ তখন আমাকে কানে ধরে টেনে নিয়ে আসল, বলল: ঐ তুই আমার ছোট বোনের সাথে কি? তোকে বিয়ে করছি আমি, তুই আমাকে যা খুশি কর। আমার ছোট বোনের সাথে মিশিস কেন?"
বউ এর কথা শুনে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। বললাম: আরে লক্ষী বউ আমার, রাগ করতেছ কেন? আমরা তো তোমার গল্প করতেছিলাম এতক্ষণ। ওকে বলেছি যে , আমি তোমাকে বউ হিসেবে পেয়ে খুব খুশি। তোমার মতো বউ কয়জনে পাই বল? আমাকে খুব ভালোবাস, রাতে খুব আদর কর, এখন আরো কয়েকটা বাচ্চা নেওয়ার প্লানিং চলতেছে। এসব কথা হচ্ছিল আমাদের।"
আমার কথা শুনে বউ এর মুখটা লজ্জায় কালো হয়ে গেল। বলল: যাহহহ দুষ্ট, তুমি ঘরের কথা বাইরে বলতে যাও কেন?"
বউ আমার লজ্জা পেয়ে আমার বুকে মুখ লুকাল। আমার তখন ইচ্ছে হয়েছিল ওর চুলগুলো ধরে আছড়াতে আছড়াতে ওরে মেরে ফেলি। কিন্তু আমার কোন ইচ্ছে এখানে পূরণ হয়না।
বুকে মুখ লুকিয়ে আমার বউ বলল: ওগো, আমি একটা পরিবার পরিকল্পনা করছি , আমাদের সংসারটা হবে ছোট্ট সংসার। আমি ভাবছি, আমরা ৩৫ টা বাচ্চা নেওয়ার পর আর বাচ্চা নেবনা।"
ওর কথা শুনে আমার তো হার্টফেল করার মতো অবস্থা! আমাদের জগতের পরিবার পরিকল্পনার মানুষগুলো এই মুহূর্তে এখানে থাকলে কথাটি শুনে নির্ঘাত মারা পড়ত। মনের জোরে বললাম: হ্যা গো, ৩৫ টা বাচ্চা নিয়ে আমাদের ছোট্ট একটা পরিবার হবে! শুধু তো ৩৫ টা বাচ্চা! বেশি তো আর না।"
এই ভূতের রাজ্য থেকে কবে বের হতে পারব জানিনা। মায়ের মুখটা খুব মনে পড়ে। বউকে বললাম: বউ, আমি একবার আমার নিজের বাসা থেকে ঘুরে আসি না? মায়ের কথা খুব মনে পড়ে।"
আমার কথা শুনে বউ আমার রেগেমেগে তাকাল আমার দিকে, বলল: ঐ আমারও তো মা নেই, মা ছাড়া আমি থাকিনা? আমার মা মরে গিয়ে এতদিনে মানুষ হয়ে গেছে।"
হায়রে! ভূতেরা বুঝি মরে গেলে মানুষ হয়। মনে মনে খুব হাসলাম। বউ এর সামনে এটা নিয়ে হাসা যাবেনা তাই।
আমি বললাম: আরে আমি তো ফান করছি , এই রকম একটা সুন্দরী বউ থাকতে আমার আর কি চাই?"
আমি জানি আমার কথাটি শুনে বউ এর মুখটা লজ্জায় কালো হয়ে যাবে, হয়েছেও তাই। বউ লজ্জা পেয়ে বলল: যা দুষ্ট, তুমি না......এই শুননা, তুমি তো বলেছ আমি খুব সুন্দর, আমি কি সুন্দরী প্রতিযোগিতা করতে পারব?"
--পারবেনা মানে, প্রতিযোগীতায় তুমি প্রথম হবে।"
আবারও বউ আমার লজ্জা পেয়ে দৌড় দিল আমার কাছ থেকে। আমি তখন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম কিছুক্ষণের জন্য, এবার এল আমার শ্রদ্ধেয় শ্বশুর মশায়। উনি এসে আমাকে বললেন: বাবাজি, কি অবস্থা?
আমি বললাম: আমার অবস্থা বাদ দেন, এই শ্বশুরমশাই আপনি কি বলেন তো ? সবসময় ল্যাংটা থাকেন কেন? কাপড় নাই মানলাম, একটা কলাপাতা পেঁচিয়ে রাখলেই তো পারেন।"
আমার কথা শুনে আমার শ্বশুর আমার দিকে চোখ লাল করে তাকাল। আমি কথা ঘুরিয়ে বললাম: না মানে আপনি তো এখানকার সর্দার, ল্যাংটা থাকলে কেমন জানি লাগে।
--ঐ, এটাই সর্দারদের পোশাক।"
মনে মনে অনেক হাসলাম শ্বশুরের কথা শুনে। শালার ভন্ড শ্বশুর, যুবতী ভূতের মেয়েদের দেখানোর জন্য তুই ল্যাংটা থাকিস, এটা বলতে পারিসনা? আমি তখন একটা কল্পনায় হারিয়ে গেলাম। কল্পনাটা এরকম: আমার শ্বশুরকে আমি আমাদের জগতে নিয়ে গেছি, তারপর আমরা সব বন্ধুরা মিলে আমার শ্রদ্ধেয় শ্বশুরকে ধরে আছাড় মারতেছি, আর উল্লাস করতেছি। হা হা হা।
--কি হল বাবাজি?
শ্বশুরের ডাকে কল্পনা থেকে ফিরে এলাম। মনে মনে অনেক রাগ হল, শালার শ্বশুর এত মধুর কল্পনাটা ভেঙে দিলি? ইচ্ছে হল, এখনই কল্পনাটাকে বাস্তবে রূপ দিই।
--কই? কিছু হয়নি তো শ্বশুর। (আমি)
--তাহলে এভাবে হেসে উঠলা যে হঠাৎ?
--আরে একটা কথা মনে পড়ল তাই, হাসছি। কথাটি হল, আমি মহান ভূত রাজার মেয়ের জামাই। ভাবতেই ভালো লাগে।"
আমার কথা শুনে শ্বশুরের বুকটা গর্বে ভরে উঠল। শ্বশুর বলল: তোমার মতো জামাই হয়না। ভাবছি আমার ৬৮ টা ছেলেমেয়েকে মানুষের সাথে বিয়ে দেব।
--কয়টা ছেলেমেয়ে বললেন শ্বশুর???" শুনতে না পাওয়ার ভান করলাম।
--৬৮ টা।
মনে মনে বললাম: তাইতো বলি আমার শ্বাশুড়ি অকালে মারা গেল কেন। এই শয়তানটা তো তার উপর কম অত্যাচার করেনি। এতদিনে বুঝতে পারলাম, শালার শ্বশুর সবসময় ল্যাংটা থাকে কেন......
--বাহ! বাহ! শ্বশুর, খুব ভালো প্রস্তাব। তাহলে আমি আজ থেকেই পৃথিবীতে গিয়ে আমার শালাশালিদের জন্য পাত্র পাত্রী খুঁজা শুরু করে দিই। কি বলেন?"
পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার বউ কথাটি শুনে তেড়ে আসল আমার দিকে। বলল: কি বললি তুই? পৃথিবীতে যেতে চাস? এদিকে আয়।"
বউ আমাকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে গেল। বাহির থেকে দরজা আটকে দিল। হায়রে! আর বুঝি পৃথিবীতে যাওয়া হবেনা আমার। মায়ের মুখটা বুঝি আর কখনো দেখা হবেনা আমার।
.
চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now