বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হঠাৎ কোন এক কারণে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে রুম অন্ধকার মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ৩.০৭মিনিট বাজে,বিষয় কি? এত রাতে আমার তো কখনো ঘুম ভাঙ্গে না, হঠাৎ আমার চোখ গেল রুমের কোণার দিকে তাকিয়ে যা দেখলাম এতেই আমার
সব কিছু ঠান্ডা হয়ে বরফ হবার অবস্থা দেখি সাদা একটা কাপড় রুমের এক কোণা থেকে অন্য কোণায় দৌড় দিচ্ছে অথছ ফ্যান বন্ধ রয়েছে।এতক্ষণে বুঝলাম এত
রাতে ঘুম ভাঙ্গার কারণ এখন সব কিছু আল্লাহর হাতে এমনিতেই আমি ভূত বিশ্বাস করিনা কিন্তু ভূতকে ভয় পাই।আমার চিন্তা ভাবনা হঠাৎ করে সব জগাখিচুড়ি হয়ে যাচ্ছে,কি করব এখন সেটাই ভেবে পাচ্ছিনা, মুখ থেকে হাজার চেষ্টা করেও শব্দ বের করতে পারছিনা,নিজেরে কাঠ মনে
হচ্ছে।এখন এইসব ভাবলে হবে না,হঠাৎ লক্ষ্য করলাম সাদা কাপড় টা আমার দিকে আসছে যাও বাছাধন জীবন এখানেই ইতি, বাঁচার কাজ শেষ।এই মুহূর্তে একটা চিৎকার দিলে কাজ হইত কিন্তু তাও পারছিনা,হঠাৎ করে অনুভব করলাম আমার শরীরে শক্তি চলে এসেছে ,কিভাবে এসেছে নিজেই বুঝতে পারছিনা যাই হউক উঠেই দিলাম এক দৌড় প্রথমে মশারী ছিড়ে সামনে ছিল কাপড় রাখার আলনা ওইটার উপর পরছি,না হয়নাই ওইটার সাথে ধাক্কা খেয়েছি অতঃপর ওইটাই আমার উপর পরেছে তারপর আব্বু বলে বিশাল জোরে একটা চিৎকার দিছি।আমার চিৎকার শুনে সাদা কাপড় থেকে কি যেন বেরিয়ে গেল, বিষয় কি ভূতে চিৎকার ভয় পায় নাকি কিন্তু পরোক্ষনে দেখি মেও,মেও,মেও শব্দ হচ্ছে মানে সাদা কাপড়ের ভিতর বিড়াল ছিল। হায়রে কপাল এটা দেখে আমার জীবনের সাগর শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গিয়েছিল।ভেবেছিলাম আজই শেষ আব্বু এসে আমাকে আলনার নিচ থেকে টেনে তুলে বললেন,
-কিরে কি হয়েছিল?
-জান নিয়ে টানাটানি।
-স্বপ্ন দেখছিস।
-না ভূত দেখছি ইয়া মোটা ভূত আমি ঘুমিয়ে ছিলাম,হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে দেখি আমার পাশে সাদা কাপড় পরা একজন বসে আছেন।তিনি আমাকে মধুর সুরে ডাকছেন, আয় কাছে আয় তকে নিয়া যাব।আমি বললাম,কোথায় নিয়ে যাবেন?তিনি বললেন,ভূতের রাজ্যে।আমি
বললাম,যাব না।ভূত ব্যাটা বলল,তুই যাবি তর বাপও যাবে।সেই জন্যে তোমাকে ডাক দিতে বাধ্য হলাম বাপ ব্যাটা একসাথে ভূত রাজ্যে যাব।
-রাতেও ফাজলামি মন চাচ্ছে তরে ২টা থাপ্পড় দেই কিন্তু দিচ্ছিনা,যা গিয়া ঘুমা মশারীও দেখি ছিড়ে ফেলছিস।
-আমি কি করব ভূত বেটা মশারীর ভিতর আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাটানি লাগিয়েছিল,আমি তো তোমাকে ছাড়া যাব না,সেজন্য মশারি-টশারি নিয়া দৌড় দিছি।
-অনেক বকবক করেছিস এখন গিয়ে ঘুমা সকালে তর খবর আছে।
-আচ্ছা....
.
আব্বু চলে গেলেন আমিও আবার বিছানায় শুয়ে পরলাম,আচ্ছা আব্বু বললেন,খবর আছে তিনাকে তো জিজ্ঞেস করা হল না কোন চ্যানেলে সেটা জানা উচিত ছিল।এবার আপনারা ভাবছেন আমি এইরকম করে ডাক দিলাম শুধু পাশের রুম থেকে আব্বু আসলেন আম্মু কেন আসেন নাই,আসলে আমরা বাপ-ব্যাটা এখন স্বাধীন কারণ আম্মু কিছুদিনের জন্য নানু বাড়ি বেড়াতে গেছেন।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে চারিদিকে একবার তাকালাম যা দেখতে পেলাম তা যদি আমার আম্মু দেখতেন তাহলে নিশ্চিত এতক্ষণে আমি পগারপার হয়ে যেতাম।রুমের কোন
জিনিস ঠিক জায়গায় নেই সব কাপড় পরে আছে ফ্লোরে গতকাল বিড়াল ভূতের ভয়ে আমিই রুমের ১২ থেকে ১৪টা বাজিয়েছি। আচ্ছা মানুষ যেকোন কিছুতেই রেগে বলে, আমি তর ১২টা বাজাব শুধু ১২টা কেন বাজাবেন চাইলে তো মনে হয় ১টা,২টা,৩টা এইভাবে ধারাবাহিক বাজাতে পারার কথা বলতে পারেন কিন্তু তিনি বাকি সব সংখ্যা রেখে শুধু ১২টা বাজাতেই চান কেন?এই ১২টায় কি আছে বিষয় টা আমার মাথায় ঢুকছে না।রুম এখন যেভাবে আছে সেইভাবে থাকুক কারণ আম্মুর উপর রুম ছেড়ে দিলাম তিনি আসলে এই রুম ব্যাটার ব্যাবস্থা হবে।
.
ভূত দেখার পর ২দিন হয়ে গেছে অবশ্য বিড়াল সাহেব এখন আমার রুমে ঢুকতে পারেন না,তিনার জন্য আমার রুমের দরজা চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছ।এই বিড়ালের জন্য আমার জান যায় যায় অবস্থা হয়েছিল।আম্মুও নানু বাড়ি থেকে চলে এসেছেন এসেই আমার রুমে ঢুকে
অজ্ঞান হবার অবস্থা লাঠি দিয়েও আমাকে দৌড়ানি হয়েছে,আম্মুর মাথা ঠান্ডা হবার পর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,
-রুমের এইরকম অবস্থা কি করে হল?
-সবই ভূমিকম্পের কাজ সাথে ভূতও ছিল।
-ভূমিকম্প কিসের ভূমিকম্প আমি তো জানলাম না,টিভিতে নিউজেও দেখলাম না, যে কয়েকদিনের ভিতর ভূমিকম্প হয়েছে এমন খবর প্রচার করতে।
-সব জায়গায় হয় নাই তো শুধু আমাদের বাসায় হয়েছে সেই জন্যই শুধু আমাদের বাসার জিনিস পত্র সব উল্টা-পাল্টা হয়েছে।
-আর ভূত কি?
-সেইটা আব্বুর কাছ থেকে জেনে নিও সে এক বিরাট কাহিনি এই বাসায় থাকা যাবে না,বাসা চেঞ্জ করতে হবে।এইখানে রাতে ভূতেরা তাদের রাজ্যে মানুষ নেয়ার জন্য আসে,আমাকে আর আব্বুকে নিতে এসেছিল তবে অনেক চেষ্টা করেও নিতে পারেনি।আচ্ছা আম্মু ভূতেরা কি তাদের
রাজ্যে কাজ করানোর জন্য আমাদের নিচ্ছে তাহলে তো অবশ্যই বেতন দেয়ার কথা কি বল?
-তর মাথা দিন দিন খারাপ হচ্ছে এমন অবস্থা হবে যে তকে পাবনাতে পাঠাতে হবে।
-সিট কি বুকিং হয়ে গেছে।
-কিসের?
-পাবনায় আমার চিকিৎসার জন্য।
-উফ অসহ্য।
.
বাসায় ভূত নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে বিড়াল ভূত সেটা সত্য কিন্তু আমি তো অন্য ভূতের গল্প সবাইকে বলেছি।হঠাৎ করে বিড়াল ভূতের কথাও সবাইকে বলতে হবে, নিজুকে একটা ফোন করা প্রয়োজন এবং তাকেও এই ভূত বিষয়ে বলা প্রয়োজন কিন্তু কোন ভূতের কথা বলব সেটাই ভেবে পাচ্ছিনা বিড়াল ভূতের নাকি আমার বানানো নিজের ভূতের।
-হ্যালো নিজু।
-হুম বল।
-তুমি একটু সাবধানে থাকবা ইদানিং ভূতরাজ্য থেকে ভূতেরা আসছে তাদের রাজ্যে মানুষ নেয়ার জন্য আমাকেও নিতে
এসেছিল কিন্তু ভাগ্য ভাল থাকায় নিতে পারেনি।
-কি সব আবোল-তাবোল বকছো।
-যাহা বলছি সত্য বলছি অবশ্য তারা যে মানুষ নিবে খাওয়ার জন্য নিবে না,একথা বুঝতে পারছি হয়ত তাদের রাজ্যে কাজ করানোর জন্য নিতে চাচ্ছে।তবে কাজ করানোর পর টাকা দিবে কিনা সন্দেহ ভূত বলে কথা ভাগ্য ভাল থাকলে টাকার বদলে ডলারও দিতে পারে।
-ফাহিম তুমি কি পাগল হয়ে গেছ।
-বুঝতে পারছিনা,যাই হউক সাবধানে থাকবা বাই।
-এই শোন ফোন রাখবা না কিন্তু...
.
লাইন টা কেটে দিলাম কি ভাবছেন নিজু কি আমার ভূত বিষয় এই কথা গুলা বিশ্বাস করবে হয়ত ভাবছেন করবে না,কিন্তু
আমি বলছি সে এই ভূত নিয়েই আগামী ৩-৪দিন ভাবতে থাকবে ভূতের রাজ্য বলে কোন কিছু আছে কিনা সেই সম্পর্কে
জানার জন্য বাংলাদেশে যত ভূত বিষয় বই পাওয়া যাবে তার অর্ধেক কম হলেও পড়বে তারপর মুভি দেখবে,গুগুল সার্চ দিয়ে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।সত্যি মেয়েরা খুব অদ্ভুত আর আমার কাছে এই নিজু মেয়েটাকে আরো বেশি অদ্ভুত লাগে।এবার নিজুর সাথে আমার সম্পর্কের কথা বলি,কি ভাবছেন ভালবাসা জাতীয় কিছু তাহলে ভূল ভাবছেন ওর সাথে এই ধরণের কোন সম্পর্ক আমার নেই তবে নিজু আমাকে ভালবাসে আমিও নিজুর উপর কম হলেও ১৫-১৬বার ক্রাশ খেয়েছি তবে ভালবাসায় জড়াইনি আমি চাইনা আমার এই বাজে লাইফের সাথে অন্য কারোর লাইফ জড়িত হয়ে নষ্ট হয়ে যাক।আমি তো লাইফবয় সাবান নয় যে গায়ে ঘষা দিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
.
রাতে খেতে বসেছি তো আম্মু পাশে বসেছেন অর্থাৎ এই সেই তরকারী প্লেটে তুলে দিচ্ছেন,
-আচ্ছা তুই এত বড় হয়েছিস ঝাল খাওয়া কবে শিখবি?
(আমি ঝাল একদম খেতে পারিনা তবে এটা নিয়ে আমার থেকে আম্মুর বেশি টেনশনে থাকেন।)
-জানিনা।
-এত বড় ছেলে ২দিন পর বিয়া করানো যাবে আর সে ঝাল খেতে পারেনা।
-তাহলে করিয়ে দিচ্ছ না কেন?আমিও আর সিঙ্গেল থাকিনা এবং রাতে ভূতের ভয়ে ঘুমও ভাঙ্গে না।
-কি তর বিয়ার শখ হয়েছে?
-আমার আবার কবে হল তুমিই বললা ২দিন পর বিয়ার বয়স হবে আরও ২টা দিন গেলেই হয়ে যাবে।
-লাঠিটা গেল কই?
অতঃপর দৌড়ানি অবশ্য লাঠি ছাড়াই হাতে চামচ নিয়া দৌড়ানি হয়েছে লাঠি না পাওয়ার কারণ হল ওইটা আমি গুম করে ফেলছি।
.
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর নিজুকে ফোন দিয়ে কিছু সময় বকবক করলাম অর্থাৎ রোমান্টিক কিছু কথা বার্তা এখন ঘুমাব লাইট অফ করার পর ঘুমিয়েও পরলাম।ঘুম ভেঙ্গেছে রাত এখন কয়টা হয়েছে জানিনা, তবে এটা সিওর কেউ আমার রুমে ঢুকেছে এবার তো মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি ভূত চলে এসেছে ইয়া আল্লাহ কোন মুসিবতে পরলাম।যেই আম্মু বলে চিৎকার দিছি
ওমনি ভূত চমকে গেল হঠাৎ দেখি ভূত কথা বলে,এই গাধা এইরকম চিৎকার দিচ্ছস কেন?লাইট টা জ্বলাতে দে মশারী যে ছিড়ে যে গর্ত করে ফেলছো ওইটা সেলাই করতে হবে না,নাকি সারা রাত মশার কামড় খাবি।অতঃপর মনের মধ্যে সাহস আসল ভূত আসে নাই,আম্মু এসেছেন মশারি সেলাই করতে।তখন ফোন বের করে দেখি রাত ১২ টা ৩৩ অর্থাৎ আমি ঘুমিয়ে পরার ৩০মিনিট হয়েছে।আমি তো ভেবেছিলাম মনে হয় রাত ৩টার উপরে ভূত আমার ভিতর ঢুকছে নাকি আমি ভূতের ভিতর ঢুকছি আল্লাহ জানেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now