বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত্রি তখন প্রায় তিনটা। গা ছমছমে অন্ধকার
চারদিকে। রাতের নিস্তব্ধতা চিরে মাঝে মাঝে
বাদুড়ের ডানা ঝাপটানোর শব্দও শোনা যাচ্ছে।
কৃষ্ণপক্ষের চাঁদটা একটু বাদেই উঠবে। শামা
এইমাত্র গোসল শেষে বেরুলো । টাওয়ালে
চুল ঝাড়ছে । শেষ হতে থাকা লালচে চাঁদটার
জন্যেই তার এত আয়োজন। সব রহস্যের
শেষবিন্দু হয়তো গোল চাঁদটাকে ঘিরেই ।
দুর্গোপুজোর পর থেকেই অনবরত দুঃস্বপ্ন
দেখছে শামা । সবগুলোই কোন না কোন
ভাবে শেষ হচ্ছে চাঁদের গায়ে । ভুত
কিংবা অলৌকিক কোন কিছুতে বিশ্বাস নেই শামার ।
দাঁত লম্বা, নখ বড়, উল্টো পায়ের অশরীরি কিছু
একটা এসে তার ঘাড় মটকে দেবে এসব গাঁজাখুরি
গল্প হেসেই উড়িয়ে দেয় সে । তবুও রাতের
পর রাত ভয়ংকর দুঃস্বপ্নগুলো তাকে ভাবিয়ে
তুলছে । বিচ্ছিন্ন
স্বপ্ন নয়। স্বপ্নগুলোর কোথাও
একটা যোগসূত্র আছে ।
স্বপ্নের কথা বলতেই, কোথা থেকে এক
তান্ত্রিক এনে হাজির করেছে তার মা ।
সন্ধ্যেবেলায়
চারপাশে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে কিসব মন্ত্র টন্ত্র
অনবরত আওড়ে একটা তাবিজ বেঁধে দিয়েছে
শামার চুলে । আর
শোবার সময় বিছানার কাছে ধূপকাঠি জ্বালাতে বলে
গিয়েছে । সারারাত জ্বলবে ধূপকাঠি । কিসব আজগুবি
কর্মকান্ড ।
জ্যাঠার শ্বাসের অসুখটা হঠাৎ করেই বেড়ে
যাওয়ায় রাতে শামার মা বাবা জ্যাঠার বাড়িতেই থেকে
যায় । সবাই যাবার পরপরই ধূপকাঠি নিভিয়ে দেয় সে ।
ধোঁয়ায় অ্যালার্জি তার ।গুনগুন করে গাইতে
গাইতে শোবার ঘরের বিশাল আয়নাটার সামনে
বসে শামা । আয়নায় তাকাতেই তান্ত্রিকের বেঁধে
দেওয়া তাবিজটা চোখে পড়ল
চুলে,কি বিচ্ছিরিই না দেখাচ্ছে ।এক টানে তাবিজ
টা ছিড়ে ধূপদানিতে ফেললো ।পটপট শব্দ করে
তাবিজটা পুড়ছে । বিরক্ত চোখে সেদিকে
তাকালো শামা ,এসব কুসংস্কারের কোন মানে
হয় ? তবে একটা ব্যাপার বেশ অবাক করেছে
তাকে । বিসর্জনের দিন নদীর জলে চাঁদ দেখার
জন্যে একটু বেশি ঝুঁকতে গিয়ে যে নৌকা
থেকে পড়ে গিয়েছিলো,
সে কথা তান্ত্রিক ব্যাটা জানলো কিভাবে ? মা
কেও তো কিছু বলেনি সে ।
ধুরো হবে হয়তো ওখানের কেউ
বলে দিয়েছে । আজকে রাতেই কিছু একটা
করতে হবে । এসব দুঃস্বপ্নের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
আছে তো । একটু সাহস করে একদিন
কৃষ্ণপক্ষের চাঁদটা দেখলেই সব ভয় শেষ ।
কৃষ্ণপক্ষের অষ্টম দিন আজ ।
মোটামুটি তিনটার দিকে চাঁদটা উঠবে । এমনিতেই
প্রচন্ড সাহসী শামা । আজ যেনো আরো সাহস
ভর করেছে। একটা চাঁদ ই তো । গোসল
সেরে শামা অজান্তেই বিজয়ার
শাড়িটা পড়ে । একটু ভালো করে খেয়াল
করলেই হয়তো শামার চোখে পড়তো শাড়ির
নিচের দিকটায় সিঁদুরের অনেকটা দাগ লেগে
আছে ,অথচ বিসর্জনের দিন পানিতে পড়ে
যাওয়ায় সে সিঁদুর খেলেনি ।
চাঁদটা উঠেই গেল, আমি আসার আগেই ,
দীর্ঘনিঃশ্বাস
ছেড়ে চাঁদটার দিকে তাকালো শামা । কিছুক্ষণ
পায়চারী করার পর ছাদের রেলিংয়ে হাত রেখে
দাঁড়ালো । এক
দৃষ্টিতে চাঁদটা দেখছে সে ,একে একে
চোখের সামনে ভাসছে বিসর্জনের দৃশ্য,
পরপর দেখা দুঃস্বপ্ন গুলো ।শামা হঠাৎ
করেই চমকে উঠলো আজতো অমাবশ্যা ।
চাঁদের আলোয় কোন ছায়া নেই । সে তারিখ
দেখতে ভুল করেছে নিশ্চয়। তবে চাঁদ এলো
কোথা থেকে ।
এইতো চাঁদটা মিলিয়ে যাচ্ছে , ঠিক স্বপ্ন দৃশ্যের
মতই । সবকিছুই তবে সাজানো । ভুল তারিখ ,জ্যাঠার
অসুখ,ধূপকাঠি সব ভ্রম ।
গোলাপজলের তীব্র গন্ধ নাকে আসলো
শামার । ঠা'ম্মার মৃত্যুর সময় এমনই গন্ধ
পেয়েছিলো সে । দাদাভাই যখন সুইসাইড করে
তখনো এই গন্ধটা পেয়েছিলো । সব কিছুই কি
কেবল কাকতালীয়?
প্রচন্ড ভয়ে শামা কাঁপতে থাকে । ছাদে আর এক
মুহুর্ত ও নয় । রেলিং থেকে হাত সরাতে গিয়ে
শামা আবিষ্কার করে সে শূণ্য ভাসছে । চারদিকে
কেবল অথই শুণ্যতা । রেলিং,ছাদ কোথাও কিছু
নেই । কেবল বিজয়ার দিন যে চাঁদটা দেখতে
গিয়ে জলে পড়ে গিয়েছিলো সেই চাঁদটা
হাসছে । তান্ত্রিকের সাবধানবাণীটা মনে পড়লো
, "বিসর্জনের স্রোতে ডুবেছো
তোমাকেও গ্রাস করবে জল" ।
শামার চারপাশজুড়ে এরপর কেবল ভয়ংকর শূণ্যতা ।
কয়েকদিন আগে ব্রহ্মপুত্রের জলে ডুবিয়ে
দেওয়া প্রতিমার সাথে আটকে ভাসছে
লালপেড়ে সাদা শাড়ির শামা । নতুন চাঁদের ছায়াও
পড়েছে তাতে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now