বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুতের গল্প

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাদ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X আমার ভাই সৌরভ, ওকে আমি গোল গাপ্পা বলে ডাকি।বয়সে ও আমার তিন বছরের ছোট,হলে কি হবে?ও রিতিমত আমার চে আধ হাত লম্বা,আর দুষ্টুমি তে মাশাল্লাহ,ওর যেদিন জন্ম।হয়,আমাদের হাস্নু হেনা ঝারে,ফুটেছিল শত শত ফুল,আর গন্ধে চারদিক ম ম করছিল,আর ও দেখতে হয়েছিল চাঁদেরকণার মত,সব দেখে শুনে ছোট মামা ওর নাম রেখেছিলেন,সৌরভ. .... যেমন সুন্দর দেখতে তেমন সুন্দর নাম,আমার ছোট বেলা টা কেটেছে ওর দিকে তাকিয়ে আর ওকে পাহারা দিয়ে,মা সব সময় ওকে নজর ফোটা দিয়ে রাখতেন,আমরা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার,বাবা স্কুল মাস্টার,অতি সৎ মানুষ, আর কিছুটা একরোখা। ছোট বেলা থেকে অনেক না পাওয়া আর না দিতে পারার বেদনার সাথে ওকে মানুষ করেছি,ও ছোট ছোট হাত তুলে বলতো,,আপুনি,,,আইইক্রিম,,,পয়সা কোথায় পাবো,ওকে ওখান থেকে সরিয়ে এনে চিনি গোলা পানি আর গাছের লেবু চিপে গুলিয়ে দিতাম,দুই টাকার হরেক মাল যখন দরজায় দারাতো,দেখিয়ে দেখিয়ে চাচাতো ভাইবোনরা কিনতো বাশি,লাটিম,ঘুরনি,,,আম্মার কাছে গিয়ে চুপিচুপি বলতাম,আম্মা দুটো টাকা দিবে?স্কুলে মিলাদের চাঁদা?দুই টাকা পেয়ে ভাই আমার কি খুশী টাই না হতো।বাসার সব শিশিবোতল বদলিয়ে ওকে কিনে দিতাম কটকটি,ওর ভেজা ভেজা হাতে আর মুখ থেকে কটকটির গড়িয়ে পড়া রসের চে সুন্দর দৃশ্য আমার কাছে আর কিছুই ছিলোনা,একবার আমার খুব জ্বর হয় সাথে কাশী, মেয়েটা তো মরে যাবে?আব্বার কাছে কেঁদে পরলেন আম্মা,,,সেদিন ছাত্র পড়িয়ে ফেরার পথে আন্টোবায়োটিক কিনে আনলেন আব্বা,পরদিন হাওয়াই মিঠাই ওয়ালা এসেছে, ভাই দৌড়ে এলো, আপুনি হাওয়াই মিঠাই,!!!!!আমি জানি আমরা গরিব, একটাকাও আমাদের কাছে অনেক,আস্তে করে উঠে জানালা দিয়ে ঢেলে দিলাম,পুরোটা ওষুধ, বোতল টা ওর হাতে তুলে দিলাম,রাতে আম্মা ওষুধ খুজে আর ওষুধ পান না,জ্বর গায়েই আমাকে চুল ধরে দিলেন ঝাকানি আর পিঠে কয়েকটা কিল,রাগে দুক্ষে কেঁদে ফেললেন তিনি,সৌরভ জানিনা কখন পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, ও ছলছলে চোখে একবার শুধু বলেছিল, আপুনি!!!!!!!????? ভাইটি আমার বড় হোলো এক সময় এইচ এস সি পাশ করলো,এই ক বছরে ওকে কখনো বায়না করতে দেখিনি,ভরতি পরীক্ষা দিতে ও যাবে রাজশাহী ওর একটা প্যান্টের খুব দরকার, আব্বা কে বলতেই আব্বা স্রেফ জানিয়ে দিলেন,তাহলে উনি যাতায়াত ভাড়া দিতে পারবেন না,আম্মার গহনা আগেই গেছে,এখন কি উপায়?যাবার আগের দিন ওর চোখে হতাসা,চুপিচুপি গেলাম ছোট মামার কাছে দিলেন ৫০০টাকা,এ টাকায় কি।প্যান্ট হয়?আব্বা আসার আগেই আমি আর আম্মা মিলে বিক্রি করে দিলাম গাছের সব ডাব নারকেল গুলো,ওর হাতে তুলে দিলাম।১২০০টাকা খুশি তে কেঁদে ফেললো ও,নানা জায়গায় খেয়ে না খেয়ে পরীক্ষা দিয়ে ও একটি নামকরা কলেজে ভরতি হোল ঢাকায়।ভরতির টাকা আর পুরো মাসের যাতায়াত খরচ দিলেন ওকে,আম্মা খাওয়ার টাকা?ডুকরে উঠলাম আমি!!!!আম্মা নিরুপায়,বান্ধবীর বাবার জুয়েলারি দোকানে বেচে দিলাম,আমার ক্ষয় হয়ে যাওয়া একমাত্র সোনার রিং জোড়া,মাত্র ১৫০০টাকায়,তাই দিয়ে ওকে পাঠিয়ে দিলাম,অচেনা অজানা শহর ঢাকায়,চোখের জল ফেলতে ফেলতে আমার গোল গাল্পা চলে গেলো,আম্মা আর আমি দুজন কে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে দারিয়ে থাকলাম,যত দূর ওকে দেখা যায়, প্রতিদিন ভাত খেতে নিয়ে আমি আর আম্মা কাদি,ঢাকায় নাকি একবেলা খেতে দুইশ টাকা লাগে ওর হাতে তো টাকা মাত্র ১৫০০..।এর মাঝে একদিন খবর আসে ও নাকি কাকে রক্ত দিয়েছে,সারাদিন চোখের জল ফেলেন আম্মা,আমি চিঠি লিখি গোল গাল্পা বেশি করে পানি আর শরবত খাবি,ওর বন্ধুরা এটা নিয়ে মজা করে,আমি জানি ও কষ্ট পাবে,তবু মুখ দিয়ে কিছু বলবেনা,সাতদিন পর রাতে আমি আর আম্মা শোয়ার আয়োজন করছি,দরজায় ধাক্কা খুলে দেখি,সৌরভ, আমার গোল গাপ্পা,আনন্দে ওকে জড়িয়ে ধরি,শব্দে আব্বাও উঠে আসেন,রাতে ও আমার চোখ চেপে ধরে হাতে কি জেন তুলে দেয়,হাত খুলে দেখি,একটা কিণ্ডার জয় চকলেট,......দুচোখে আমার প্লাবন নামে খুশির না বেদনার,কবে জেন ওকে বলেছিলাম,গুল্টু কি নাকি একটা চকলেট বেরিয়েছে, কিন্ডার জল,ও হাসে,তুই আর আধুনিক হলিনা!!!!আজ আমার হাতে সেই চকলেট,আমি জানি এটি কিনতে ওকে কত কষ্ট করতে হয়েছে,কত বেলা ওকে না খেয়ে থাকতে হয়েছে,একাকী হাটতে হয়েছে কত পথ,,,,সবাই ভালবাসা দিবস,টেডি দিবস,ফুল দিবস,বানিয়েছে,আ মি বাজি ধরে বলতে পারি,ভাইবোন নামের কোনো দিবস নেই,এটা নাড়ীর সম্পর্ক আত্তার সম্পর্ক আজিবনের অনন্ত কালের,তাই এই ভালবাসা দিবস বানিয়ে কেউ ভাই বোনের সম্পর্ক কে একটা দিবসে বেধে দেয়নি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভুত ভুত!!!ভুতের গল্প
→ ইমামের সাথে ঘটে যাওয়া ভুতের গল্প
→ ভুতের গল্প
→ ভুতের একটি মজার গল্প
→ একটি ভয়ংকর ভুতের গল্প
→ ভুতের গল্প
→ সত্যিকার ভুতের গল্প
→ আশ্চর্য ভুতের গল্প
→ ভুতের গল্প
→ অলৌকিক ভুতের গল্প
→ ভুতের গল্প ভয়ংকর এক কাহিনী
→ কাল্পনিক ভুতের গল্প
→ ভুতের গল্প 2
→ ভুতের গল্প
→ উড়ন্ত লামা ও নীলশঙ্খ-ভুতের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now