বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক লোক আঞ্জুমানে মফিদুলের গাড়ি চালায়।মৃত লাশ নিয়ে মাঝে, মাঝেই বিভিন্ন জেলায় যাওয়া হয়। একদিন একটা ফোন পেয়ে সে অফিসে গিয়ে খবর পায় একটা মৃত লাশ নিয়ে তাকে রাজশাহীতে যেতে হবে। লোকটা লাশটাকে দেখল যে,খুব বাজে ভাবে এক্সিডেন্ট হইছে,লাশ একটা মেয়ের, খুব সুন্দরী,মনে হয় কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত।মাথার এক পাশ থেঁতলানো,চুল গুলা এলোমেলো, দেহের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত ঝড়ছে। উনি মাঝে, মাঝেই এমন লাশ নিয়ে প্রায় অনেক জেলাতে গেছেন তাই সাথে একজন কে নিয়ে সন্ধ্যা হয়,হয় ঠিক ওই সময় রওনা দিলেন। একটানা চার,পাচ ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে একটা স্থানে এসে কিছু খাওয়ার জন্য গাড়ি থামালেন তারপর খেয়ে দেয়ে আবার রওয়না দিলেন।কয়েক কিলোমিটার যাওয়া পর হঠাৎ একটা চাকা বাস্ট হয়ে যায়।গাড়ি থেকে নেমে দেখলেন চাকা বাস্ট হয়ে গেছে।এক্সট্রা চাকার জন্য গাড়িতে খোজ করে দেখেন ভুল করে এক্সট্রা চাকা নেয়া হয় নাই।সাথে যে ছিল সে বলল ভাই,চাকা যেহেতু নাই আমরা যেখানে খাওয়া-দাওয়া করছিলাম ওইখানে যাই দেখি চাকা সারাইতে পারি কিনা?এই কথা বলে উনার কাছ থেকে কিছু টাকা আর নষ্ট চাকাটা নিয়ে রওয়না দিলেন।গাড়িটা রাস্তার এক পাশ্বে সাইড করা ছিল। কতক্ষন লাগতে পারে এই কথা চিন্তা করতে, করতে গাড়িতে গিয়ে বসলেন। গাড়িটা হাইড্রোলিক জগ দিয়ে স্ট্যান্ড করা ছিল।তাই এইটাও চিন্তা করছিলেন একা,একা এইভাবে থামানো একটা গাড়ি নিয়ে কতক্ষন অপেক্ষা করবেন।এমনিতেই জায়গাটা নীরব।একটু পর,পর,একটা দুইটা ডিস্ট্রিক বাস সাই,সাই করে যাওয়া ছাড়া আসে,পাশ্বে কোন মানুষজনের চিহ্ন নাই।আর রাত দশটা বাজে কে আসবে হাইওয়েতে। উনি একটা সিগারেট ধরিয়ে একটু পর,পর একটা করে টান দিচ্ছেন আর চাকা আসার ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করছেন।তিনি আসে পাশ্বে তাকিয়ে হঠাৎ ভেতরে থাকা লুকিং গ্লাসে চোখ দিয়ে আটকে গেলেন।চোখটা সরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখেন নাহ কিছুই না, সব ঠিক আছে।আবার যখন সিগারেটে টান দিয়ে লুকিং গ্লাসের দিকে তাকালেন তখন ভয়ে স্থির হয়ে গেলেন।তিনি দেখলেন মেয়েটার লাশটা উঠে বসে আছে।এইবার উনি ঘাড় ঘোরাতে সাহস করলেন না। উনার মনে হচ্ছিল দাতে,দাত লেগে আসবে। হঠাৎ পিছন থেকে মেয়েটা বলে উঠল,ভাইয়া আমি পানি খাব,পিপাসায় গলাটা ফেটে যাচ্ছে। উনি অনিচ্ছা সত্বেও পিছনে তাকিয়ে দেখেন সত্যি মেয়েটা শোয়া থেকে বসে আছে আর ওর শরীরিরের দাগ গুলা নাই থেঁতলানো দিকটা বুজা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে সে অজ্ঞেন ছিল এখন জ্ঞান ফিরেছে। মেয়েটা আবারও বলতে লাগল, ভাইয়া আমার খুব পানির পিপাসা লাগছে আমাকে একটু পানি দেন। মেয়েটাকে দেখতে স্বাভাবিক লাগায় উনি একটা পানির বোতল এগিয়ে দিলেন। পানিটা পেয়ে এক নিশ্বাসে শেষ করে কেমন যেন একটা স্বস্থির নিশ্বাঃস ফেলল।তারপর উনার দিকে মুখ করে বলতে লাগল,জান ভাইয়া এই পানির জন্য আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।আমার ভার্সিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ীতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে বাস স্ট্যান্ড আসি। আমি রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে যখন একটু সামনে আগালাম,খেয়াল করতে পারিনি কখন একটা দ্রতগামী বাস আমার সামনে এসে পরেছে, চোখের পলকে বাসটার আঘাত খেয়ে সামনে পরে যাই আর বাসটা ব্রেক করতে না পেরে আমার মাথার ঠিক বাম সাইড দিয়ে চলে যায়।যাওয়ার সময় আমার সমস্ত শরীরটাকে কয়েকবার রাস্তায় আষ্টেপৃষ্ঠে করে ফেলে যায়। এক্সিডেন্টের বেশকিছু ক্ষন পর পর্যন্ত জীবিত ছিলাম। চিৎকার করে বলতে পারিনি আমাকে কেউ পানি দাও পিপাসায় আমার গলা ফেটে যাচ্ছে। খুব শব্দহীন আর্তনাদ করে পানির জন্য ঘুমরে কেঁদে উঠে ছিলাম কিন্তু আমাকে একফোঁটা পানি কেউ দেয় নি।যখন শেষ নিশ্বাসটা ফেললাম একজন এসে আমাকে পানি খাওয়াতে চাইল কিন্তুু পানির একফোটও গলা দিয়ে নামল না গাল বেয়ে নিচে পরে গেল। আমার নিথর দেহটা এম্বুলেন্সে তুলা হল।আমার আইডি কার্ড দেখে ভার্সিটি থেকে তথ্য নিয়ে আপনার কাছে দিল আমাকে বাড়ী পৌছে দিতে। মেয়েটা এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে একটু চুপ হয়ে আবার বলল,ভাইয়া আমার আব্বা,আম্মা আর ভাই বোনকে বলবেন আমার জন্য যেন না কাঁদে আর আপনাকে অসংখ্য,অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে পানি খাওয়ানোর জন্য।এই কথা বলে মেয়েটা আবার শুয়ে পরে। ততক্ষনে যিনি চাকা ঠিক করতে গেছিল তিনি আইসা বলল ভাই চলেন চাকা ঠিক হয়ে গেছে।উনি সাড়া পেয়ে খেয়াল করলেন উনার পুরা শরীর ঘামে ভেজা।চাকাটা লাগিয়ে আবার রওয়না দিলেন।মেয়েটার গ্রামের বাড়ি যেতে,যেতে পরদিন প্রায় সকাল দশটা বেজে যায়। মেয়ের লাশ পেয়ে মেয়েটার বাবা,মা,ভাই, বোন কান্নাকাটি শুরু করে দিল। উনি ওইখানে বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে পারলেন না।মেয়েটার বলে যাওয়া কথাগুলোও কারও কাছে বলতে পারলেন না।গাড়ি স্ট্রাট দিয়ে ঢাকার দিকে রওয়না দিলেন। মনটা খারাপ করে একটানা গাড়ি চালিয়ে যখন আবার ওই রাস্তায় আসলেন তখন দেখলেন মেয়েটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।সুন্দর একটা হাসি দিয়ে হাত নাড়িয়ে উনাকে বিদায় জানাচ্ছে। এইটা দেখে উনার মনটা ভালো হয়ে গেল।ভাল একটা স্বস্তি নিয়ে ঢাকায় ফিরে চলে আসল। .................... বাংলার ভুত Ashik Sarker
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now