বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভূতের ভয়

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:ভৌতিক হৃদয় [MH2] খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ আছে হুগলিতে। তাই কলকাতা হতে রওনা হয়ে গেলাম হুগলির উদ্দেশ্যে।অফিসের কাজ শেষে রওনা দিয়েছি, তাই পৌছুতে পৌছুতে রাত হয়ে গেল। আমার কাজ হলো সকাল বেলা অফিসে। সকালে গিয়ে ওই জায়গার সকল কাজের দেখাশুনা করতে হবে। কিন্তু এখন এই রাতের বেলায় তো কোথাও থাকতে হবে। রেলস্টেশন এর প্ল্যাটফর্মে থাকা যাবে না,কারণ আমার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজ আর পকেটে থাকা দশ হাজার টাকা চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় আছে। হুগলিতে আমার পরিচিত কেউ নেই,তাই এগুলো চুরি হয়ে গেলে খুব বিপদে পরে যাব।তাই কী আর করা,এক রাত থাকার মতো বাসা বা হোটেল খুঁজতে লাগলাম।জায়গাটা হুগলি সদরের একটু বাইরে।এক রাতের জন্য বাসা ভাড়া কেউ দিবে না,আর রাতের বেলা তো প্রশ্নই উঠে না।আর হোটেলও নাই এ এলাকায়।এভাবে খুঁজতে খুঁজতে একটা বাসার এক লোক বলল, " আপনি এক রাত থাকার মতো বাসা খুঁজছেন,কিন্তু এখানে পাবেন কিনা সন্দেহ।তবে আপনি চাইলে একটা বাসা পেতে পারেন।এই রাস্তা ধরে সামনে যান,দশ মিনিট যাওয়ার পর ওই বাসাটা পাবেন।" " বাসায় কাকে পাব??? আর এক রাতে থাকার জন্য ভাড়া দিবে তো???" " এখন রাত দশটা বাজে,একটু পরেই ওই বাড়ির কেয়ারটেকার চলে যাবে।তাই জলদি যান।আর অবশ্যই ভাড়া দিবে।" " আচ্ছা তাহলে যাচ্ছি।" আমি দ্রুত হাটতে লাগলাম।দশ মিনিট হাটার পর একদম নির্জন জায়গায় চলে এসেছি,কোনো বাড়ি ঘর নাই আশেপাশে।দূরে একটা জায়গায় আলো জ্বলছে।বুঝলাম ওইটাই মনে হয় বাড়ি।চলে গেলাম বাড়িটার কাছে।অনেক বড় বাড়ি, তবে বেশ পুরনো,বাড়ির রং সব কেমন যেন মলিন হয়ে আছে।ধুরর, আমার রং দিয়ে কী দরকার???এক রাত থাকতে পারলেই হলো। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতে যাব,এমন সময় একটা লোক গেট দিয়ে বেরিয়ে আসল।বয়স মনে হয় ষাট হবে লোকটার। লোক: কে আপনি??? এখানে কী দরকার??? আমি: আসলে হুগলি শহরে আমি নতুন আসলাম।একটা রাত থাকা দরকার।বাসা খু্জছিলাম,একটা লোক এ বাড়ির ঠিকানা দিল।এখানে কি রূম পাওয়া যাবে???আর কেয়ারটেকার কে একটু ডাকুন তো। লোক: আমিই কেয়ারটেকার।বাসা ভাড়া নিবেন সমস্যা নাই। বাসা ভাড়া নিতে পারবেন।তবে রাতে রুম হতে বের হবেন না।সমস্যা হতে পারে। আমি: কী সমস্যা???চোর ডাকাতের ভয় নাকি??? আমি আসলে ভেবেছিলাম এমন জঙ্গল ঘেরা বাড়িতে তো চোর কেন ডাকাতের আড্ডা হলেও কেউ বুঝবে না। লোক:চোর ডাকাত নাই এইদিকে।যারা আছে রাতে তাদের কথা বলতে নেই, পুরনো বাড়ি মানে তো বুঝেনই কীসের সমস্যা। বুঝলাম জ্বীন বা এরকম কিছুর সমস্যা।ছোট থেকেই এসবে প্রচুর ভয় পাই আমি।কিন্তু আজ নিজের পরিস্থিতির সামনে এবং প্রয়োজনের সামনে এসব ভয় পাত্তা পেল না।তাই ভাড়া আর সব কাজ মিটিয়ে নিলাম, জ্বীন ভূত যতো থাকার থাকুক,একটা রাত শান্তিতে থাকতে পারলেই হলো। আমাকে একটা রুম দেখিয়ে লোকটা চলে গেল। আমি রুমে আমার জিনিস পত্র রেখে বের হলাম।ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেস হতে গেলাম।ওয়াশরুমে ঢুকার পর দরজা আপনা আপনি আটকে গেল। ভাবলাম হয়তো এরকম সিস্টেম করেই বানানো হয়েছে দরজা।ফ্রেস হয়ে যখন বের হতে যাব,ঠিক তখনই বুঝলাম বাইরে থেকে কেউ একজন দরজাটা লক করে দিয়ে গেছে।দরজা ধাক্কাতে লাগলাম, কিন্তু দরজা খুলছেই না।মনে হচ্ছিল কেও আমার পিছনে দাড়িয়ে আছে, পিছন ফিরলাম, না কেউ নেই আমার পিছনে শুধু আয়নায় আমার অবয়বটা ছাড়া, রাতে আয়নায় খুব একটা তাকাই না আমি।আজ নিজের অবয়বটা দেখেই শরীর শিরশির করতে লাগল,যদিও ভয় পাওয়ার মতো কিছুই নয় এটা।আমি দরজা ঠেলতে লাগলাম। একটু পর এমনিই দরজা খুলে গেল। অবাক হলাম না, কারণ এমন পুরনো বাড়িতে দরজায় সমস্যা হতেই পারে।তবে এতোক্ষণের এসব ঘটনায় ঘেমে গেছি প্রচুর।কিন্তু আর ওয়াশরুমে গেলাম না।সেখান থেকে বের হয়ে নিজের রুমে আসলাম।সব কিছুই স্বাভাবিক লাগছে।তবে ঘুমানোর সময়ও লাইট অফ করলাম না,পুরনো বাড়ি, কখন কী হয়ে যায় বলা যায় না।তাই লাইট অন রেখেই ঘুমিয়ে পড়লাম। মাঝরাতে কারও কান্নার শব্দে আমার ঘুুম ভাঙ্গল, চোখ খোলে দেখি কারেন্ট নেই,কান্নার শব্দ চলছেই, আবার ভূতের ভয় পেয়ে বসল আমাকে।এই বুঝি পায়ে কেউ চিমটি দিয়ে ধরল ভয়ে খাটের এক কোণায় জড়সড় হয়ে বসে পড়লাম।কান্নার শব্দ চলছেই। কতক্ষণ এভাবে বসে ছিলাম জানি না,হঠাৎ কারেন্ট চলে আসল,আর আমার যেন আত্মাটা ফিরে আসল।ভাবলাম এবার ভূতের কান্নার শব্দ কমে যাবে।কিন্তু না,শব্দ কমে নি। মানুষ স্বভাবতই কৌতুহল প্রবণ,আমিও তার ব্যাতিক্রম নই। তাই ওই মূহূর্তে শব্দের উৎস দেখার ইচ্ছা হলো আমার।শত ভয় ঠেলে, হাতে একটা টর্চ নিয়ে উৎস খুঁজতে লাগলাম। খুঁজতে খুঁজতে উৎস পেয়েও গেলাম, সেদিকে অগ্রসর হতে লাগলাম, কিন্তু বুকে হাতুরি পেটানোর মতো শব্দ হতে লাগল, হৃৎস্পন্দনের তীব্র শব্দ শুনতে পারছি,তবুও এগিয়ে চললাম।কিছুটা যাওয়ার পর দেখলাম সামনে একটা ছায়ামূর্তি বসে আছে, ওই ছায়া মূর্তিটাই কান্না করছে।অনেক ভয় পেলাম, হাত কাপছে আমার।কিন্তু তবুও ভয়ে ভয়ে টর্চের আলো ফেললাম ছায়ামূর্তিটার উপর।কিন্তু একি??? এটাতো একটা পাগল,কোনো ভূত নয়। এবার সব কিছু আমার কাছে পরিস্কার হলো।আমি ওয়াশরুমে ঢোকার সময় এই পাগলটাই দরজা আটকে দিয়েছিল, পরে মনে হয় আবার খুলে দিয়েছিল। আর এই পাগলটার কান্না শুনে বাচ্চাদের মতো ভয় পেয়ে গেলাম, এটা ভেবেই আমার তখন প্রচন্ড হাসি পেলlaughlaughlaugh। সেই থেকে আমি আর ভূতের ভয় পাই না। [কেমন লাগল??? আসলে একটানা সব ভূতের গল্প লিখছি, আজ ভাবলাম ব্যাখ্যা আছে এমন একটা ভূতের গল্প লিখি,লিখলাম।জানি না কেমন লিখতে পেরেছি।আমার লেখায় কোনো ভুল নজরে এলে বলবেন] বি.দ্র.: যথেস্ট সময় এবং শ্রম কাজে লাগিয়ে গল্প লিখি।তাই আমার নাম ছাড়া কপি করবেন না। আল বিদা,,, wavecrywavecrywavecry


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তালগাছের ভূতের কাহিনী
→ ভূতের সঙ্গে পরীর বিয়ে
→ একটি ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প
→ ভূতের গল্প
→ ভূতের অস্তিত্ব আছে, কি নেই,সমাধান দিল বিজ্ঞান
→ মিরপুর ভূতের বাড়ি
→ একটি ভূতের গ্রামের গল্প
→ » নীল হাতী » একটি মামদো ভূতের গল্প
→ গেছো ভূতের বিয়ে
→ ভূতের সঙ্গে গুড্ডুবুড়ার সেলফি_লেখক: আনিসুল হক
→ ভূতের বাড়ির মিতং_লেখক: আনিসুল হক
→ ভূতের বাড়ি
→ ভূতের কবলে হুমায়ূন আহমেদ লেখক:শিবব্রত বর্মন
→ ভূতের ভয়
→ ভূতের ভয়ংকর গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now