বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বহুরূপী-২— পর্ব ১০

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤ (পর্ব - ১০) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা। কত্ত আদর যত্ন করে এই লোকটা তিলে তিলে তাকে বড় করে তুলেছিলো। জুবায়েরও লোকটাকে একটু একটূ ভালবাসতে শুরু করেছিলো। কিন্তু যখনই অভি তার সন্তানের আসল পরিচয় জানতে পারলো তখনই পিস্তল নিয়ে সোজা তাকে মারতে ছুটলো। সাতশো বছর ধরে জুবায়েরের হৃদয়টা শুন্য ছিলো। তাতে কোন ভালবাসা বা ঘৃণার ঠাঁই ছিলো না। কিন্তু বিগত এগারো বছর ধরে এই লোকটার সংস্পর্ষে তার হৃদয়ে মুক্তোর দানার মতন বিন্দু বিন্দু ভালবাসা জন্মেছে। কিন্তু যেদিনই এই লোকটাকে তার বুকের উপর পিস্তল তাক করতে দেখেছে সেদিন হঠাত করে সকল ভালবাসা কর্পূরের মতো উবে যায়। শুন্য হৃদয়টা একরাশ ঘৃণায় ভরে উঠে। পৃথিবীর মায়ায় আবিষ্ট হয়ে মানুষ যুগ যুগ ধরে অনন্ত কাল এ গ্রহে বেঁচে থাকতে চায়। এই চাওয়াটা অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু তাদের মাঝে খুব কমই তার মতো বেঁচে থাকতে পারে। বেঁচে থাকা কি অন্যায়? কেবল বেঁচে থাকার অপরাধে একজন বাবা কি করে তার সন্তানের বুকের উপর পিস্তল তাক করতে পারে? আর ভাবতে পারে না জুবায়ের। প্রচন্ড ঘৃণায় অভির লাশের উপর একরাশ থুথু ছিটিয়ে দেয় সে। তারপর একে একে দৃষ্টি নিবন্ধ করে অন্যানো লাশগুলির উপর। সেই প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত সে যতগুলি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তার একটিও অহেতুক ছিলো না। সে বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই অন্যদের বলি দিয়েছে। প্রকৃতির নিয়মকে উপেক্ষা করে কোন একজনকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখতে হলে কিছু না কিছু তো উতসর্গ করতেই হবে। একটা বিখ্যাত উক্তি মনে পড়ে যায় জুবায়েরের, " নান কেন লীভ আনলেস আদার সাক্রিফাইস।" লাশগুলির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই জুবায়েরের দেহটা বদলাতে শুরু করে। জুবায়েরের ছোট্ট শরীর নিয়ে সেই এসব ভারী লাশ গুলি বয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। তাই সে রবার্তোর মাংসল দেহ গঠনে নিজেকে রূপান্তরিত করে। এতক্ষণ বেমানানভাবে ঝুলে থাকা পুলিশের আলখাল্লাটা এবার একদম মাপ মতো দেহে এঁটে যায়। অতপর সে লাশগুলিকে একে একে আলাদা আলাদা স্লিপিং ব্যাগে ঢুকিয়ে চেইন লাগিয়ে দেয়। অভির স্লিপিং ব্যাগের চেইনটা লাগানোর সময় নিজের অজান্তেই একফোঁটা অশ্রু গাল থেকে গড়িয়ে পড়ে ওর। লাশ সহ স্লিপিং ব্যাগগুলিকে এক একটা বিশাল দুর্গন্ধময় মোজার মতো দেখাচ্ছে। তাই কয়েক বোতল এয়ার ফ্রেশনার ঐ ব্যাগগুলির উপর খালি করে তবেই রক্ষে পেলো রবার্তো। পরিশেষে স্লিপিং ব্যাগগুলিকে একে একে নতুন জাগুয়ারের বুটে তুলে ইঞ্জিন স্টার্ট দিলো সে। সন্ধ্যা রাতেই গাড়ি নিয়ে গোরস্থানে পৌছলো রবার্তো। গেইটের দারোয়ানদের নিজের পরিচয় দিতেই তারা সসম্মানে গেট ছেড়ে দাঁড়ালো। ওরা জানে অল্প কদিন আগে এখানে একটা মার্ডার হয়েছে। তাই এখানে রাত বিরাতে পুলিশের বড় কর্তার উপস্থিতি তেমন বিষ্ময়জনক কিছু না। ব্যাপারটা গার্ডদের কাছে এতটাই স্বাভাবিক মনে হয়েছে যে তারা শেরিফের গাড়িটা চেক করারও প্রয়োজন মনে করলো না। যদিও গোরস্থানের ভেতরে লাশবাহী এম্বুলেন্স ব্যাতিত অন্য কোন বাহন প্রবেশ আইনানুসারে সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ, কিন্তু রক্ষিদের উদাসীনতার দরুন বলতে গেলে বিনা বাধায় লাশ বোঝাই গাড়ি নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লো বহুরূপিটা। অতপর ওয়াকওয়ে ধরে একদম শেষ মাথায় যেয়ে গাড়িটা থামালো যেনো গেইট থেকে গাড়িটা দেখা না যায়। কিন্তু ওর ধারনাই ছিলো না এই অন্ধকার রাতেও একজোড়া নীলাভ চোখ তার উপর তীক্ষ্ণ নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। গাড়ি পার্ক করার পর একটা লম্বা বিরতি দিয়ে আগুন্তুক গাড়ি থেকে নামলো। লম্বা দেহ, কালো আলখাল্লা আর বিশাল হ্যাটের দরুন দুর থেকে তার চেহারাটা ভাল মতে দেখতে পেলো না লিয়োরা। কিন্তু তাতে তার উতসাহে এতটুকু ভাটা পড়লো না। ব্যাটা যত বড় সাহসীই হোক না কেন, ঠিক মতো অভিনয় করতে পারলে এই অন্ধকার রাতে গোরস্থানে সে ভয় পেতে বাধ্য। লিয়েরা এখন এক মনে ভেবে চলেছে কি করে আগুন্তুক কে ভয় দেখানো যায়। জম্বি সাজবে? নাকি অশরীরী ভূত? কিন্তু ভূত আর জম্বির মাঝে মূল পার্থক্যটা কোথায়? একজনের কেবল দেহ আছে, আরেকজনের কেবল আত্মা আছে। "দেহ আর আত্মা এই দুটো একসাথে থাকলে সেটা হয় স্বাভাবিক মানুষ আর নয়তো সে হয় জম্বি নয়তো অশরীরী।" সেবার হ্যালুউনের রাতে তার মা এই কথাটা বলে তাকে ভয় দেখাতে চেয়েছিলো। কিন্তু লিয়োরা কোনকালেই ভয় পাবার পাত্রী ছিলো না। সে উত্তর দিয়েছিলো, "তাহলে একটা জম্বি আর একটা অশরীরীকে বিয়ে দিয়ে দিলেই তো হলো। তারা মানুষ হয়ে যাবে!" কথাটা মনে হতেই প্রাণ খুলে হাসি পেলো মেয়েটার। কিন্তু আগুন্তুক শুনে ফেলবে এই ভয়ে কোনমতে হাসি চাপলো। ওদিকে আগুন্তুক ইতিমধ্যেই গাড়ি থেকে নেমে পড়েছে। ও এখন গাড়ির পেছনের বাট খুলে ভেতরে কি যেনো করছে। ব্যাপারটা লিয়েরোকে আরো কৌতুহলী করে তুললো। সে সিদ্ধান্ত নিলো নিজের উপস্থিতি জানান না দিয়েই আগুন্তুকের উপর নিঃশব্দে আরো কিছুক্ষণ নজরদারি চালিয়ে যাবে। অবশেষে আগুন্তুক গাড়ির বাট থেকে দুটো বস্তা বের করে কাঁধে তুলে নিলো। দু হাতে দুটো বস্তা আর দাঁতে কামড়ে একটা বেলচা নিয়ে আগুন্তুক ঘন ঝোঁপের আড়ালে হারিয়ে গেলো। ওর হাটার ভঙ্গিটা কেমন জানি পরিচিত মনে হচ্ছিলো লিয়েরার। পেছন থেকে দেখে মনে হয় লোকটা যেনো তার কত্তদিনের চেনা। কিন্তু তবুও এই মুহুর্তে লোকটার পরিচয় নিয়ে দ্বিধান্বিত সে। কে হতে পারে এই রহস্যময় আগুন্তুক? হয়তো তার গাড়িতেই এর উত্তরটা পাওয়া যাবে।আগুন্তুক ঝোপের ওপাশে হারিয়ে যেতেই গাড়িটার দিকে ধেঁয়ে যায় লিয়েরো। গাড়ির কাছা কাছি যেতেই সেটাকে চিনতে পারলো সে। এমনই একটা গাড়ী আজ বিকালে ওদের গ্যারেজে এসে পৌঁছেছিলো। তবে কি ওটা ওর বাবার গাড়ি। কিন্তু না, গাড়ির বনেটে মালকাওয়ালারুশ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের মনোগ্রাম নেই দেখে মেয়েটা নিশ্চিত হয় গাড়িটা ওর বাবার নয়। ঠিক তখনই ওর মনে পড়ে আগুন্তুক গাড়ির বাট খুলে কি যেনো বের করে নিয়ে গিয়েছিলো। নিতান্ত কৌতুহল বশত গাড়ির বাটটা তুলে ধরে লিয়েরো। ছোট্ট পেন্সিল ব্যাটারির আলোয় ভেতরে একটা স্লিপিং ব্যাগ আবিষ্কার করে সে। ব্যাগের চেইন খুলতেই আঁতকে উঠে দু পা পিছিয়ে আসে লিয়েরো। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৫ (শেষ)
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৪
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৩
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১১
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৯
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৮
→ বহুরূপী-২— পর্ব ২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ৩
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now