বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুলে যেতে চাই

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X "জায়গা নাই, জায়গা নাই, পরের টায় আহেন", বাসের হেল্পার যখন নিপাকে এই কথা বলে বাসে উঠতে দিচ্ছে না তখন ওর সামনেই এক লোক হেল্পার কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উঠে পড়লো। "ভাই উঠতে দেন, অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে, আমি তো দাঁড়িয়েই যাব", বলে নিপা। তারপর জোর করে উঠে পড়ে। "লেডিসগুলা বহুত ঝামেলা করে", পিছন থেকে গজগজ করে হেল্পার। "ওই বেটা, এম্নেতেই দাঁড়ানোর জায়গা নাই, এর মাঝে তুই আবার মহিলা উঠাইছিস", ভিতর থেকে বলে ওঠে কেউ। গায়ে মাখে না নিপা। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময়ে একই অবস্থা। বাসে ওঠা নিয়ে মহা ক্যাঁচাল। বাসে ওঠার পর ও ঝামেলা আছে। ভিড়ের ভিতর মেয়েদের গায়ের উপর প্রায় পড়ে যেতে চায় এমন ভদ্রলোকের সংখ্যা ও কম না। শাহবাগ আসতেই নিপা কে বিশ্রীভাবে ধাক্কা দিয়ে নেমে যায় একটা লোক। সব পুরুষ গুলোই কি এক রকম? , মতিঝিলে নেমে হাঁটতে হাঁটতে ভাবে ও।যাই হোক আজ অফিসে দেরি হয় নি। মাঝে মাঝেই নিপার দেরি হয়ে যায়। ওর সেকশন ইনচার্জ কামাল সাহেব সেদিন এমন খারাপ ব্যবহার করেন , বলার মত না। দেরি তো নিপা ইচ্ছা করে ,করে না। তিন বছরের একটা বাচ্চাকে সামলে সকালে অফিসে আসা অনেক কঠিন। এটা বাচ্চার মা ছাড়া কেউ বুঝবে না। অফিসে আসার সময় খুব কান্নাকাটি করে আরিয়ান। মার সাথে সে বাইরে যাবে। অবশ্য একটা দিকে সুবিধা আছে নিপার। ওর মা থাকে ওর সাথে। তিনি আরিয়ানকে দেখে রাখতে পারেন। কিন্তু মা নিজেও অসুস্থ। চোখে কম দেখেন। সারাক্ষণ একটা বাচ্চাকে সামলানো তার জন্য ও কঠিন।দুপুরে লাঞ্ছ আওয়ারে বাসায় ফোন করল ও। বিধি বাম। মোবাইলে ব্যালান্স নাই। অফিসের টেলিফোন থেকে ফোন করা যায়। কিন্তু তাহলে হায়দার সাহেবের টেবিলে যেতে হবে। এই লোকের চোখের দৃষ্টি এত খারাপ যে নিপা পারতপক্ষে ওর টেবিলে যায় না। কাশেম মিয়া কে দেখা যাচ্ছে না, নিপা নিজেই উঠে দাঁড়ালো মোবাইল রিচার্জ করার জন্য।এখন মোবাইলে টাকা দিয়ে এসে বাসায় ফোন করলে আর লাঞ্চ করা হবে না। কিচ্ছু করার নাই। হটপট টা টেবিল থেকে নিচে নামিয়ে রেখে বের হয়ে যায় নিপা। হ্যালো, মা, আরিয়ান খাইছে?। খাবে না বলতিছে?, ঠিক আছে ওর হাতে দাও মোবাইলটা।হ্যালো বাবা, তুমি খাচ্ছ না কেন?, নানু আপুর সাথে দুস্টুমি করে না, খেয়ে নাও, আম্মু আসার সময় তোমার জন্য ক্যাডবেরি নিয়ে আসব। "আম্মু কাক", আরিয়ানের গম্ভীর উত্তর! বাচ্চাটা যে কি! ফোন করলেই বলে, আম্মু কাক! এটা দিয়ে ওর কথা শুরু! "কাকের কি হইছে বাবা?", হাসতে হাসতে বলে নিপা।"আম্মু আমি ওল্যানে(ওয়ান্ডারল্যন্ড ) যাব, শুক্কু বারে। আইস্ক্রিম খাব। ময়নার মা আমাকে পানি দিছে, আমি রাগ করছি", একনাগাড়ে বলে যায় আরিয়ান। হাসতে থাকে নিপা।"ঠিক আছে তোমাকে ওয়ান্ডারল্যান্ডে নিয়ে যাব, আইস্ক্রিম কিনে দেব। ময়নার মাকে আমি বকে দিব, তোমার সাথে আর দুস্টুমি করবে না, তুমি খেয়ে নাও বাবা। আম্মু একটু পরেই চলে আসব", বলে নিপা।"ঠিক আছে, টাটা"। "টাটা বাবা"। ফোনটা রেখে আস্তে একটা দীর্ঘনিঃশাস ছাড়ে নিপা। তূর্যর সাথে নিপার বিয়ে হয়েছিল সাত বছর আগে। মাথা ভর্তি এলোমেলো চুল, বড় বড় চোখ,ভালো গান গাইতে পারত ও। ডিপার্মেন্টে কয়েক দিন দেখার পরই ছেলেটাকে ভীষণ ভালো লেগে গিয়েছিল ওর। এরপর দুই জনের টানা তিন বছরের প্রেম। তিন বছরেও যেই তূর্যকে আবিষ্কার করতে পারে নি নিপা, বিয়ের কয়েক দিন পরই তাকে বুঝতে পারে ও। তূর্যর অসময়ে বাইরে যাওয়া, বাসায় সময় না দেয়া, অচেনা সব নাম্বারে মোবাইলে কথা, নিপার প্রতি উদাসিনতা, এগুলো নিয়ে ঝগড়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যেত নিপা। তবুও চেয়েছিল সংসারটা ধরে রাখতে। ভেবেছিল সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তূর্য নিজেই বলেছিল, "দেখ , তোমাকে আমি বিয়ে করেছি, তোমার প্রতি আমার যা দায়িত্ত তাও পালন করছি। এখন তোমাকে বুঝতে হবে আমার নিজের একটা লাইফ আছে, আর দশটা মানুষের মত সারাক্ষণ সংসার আর বউ নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান করতে পারব না আমি। আমি এমনই। তোমাকে এটা মেনে নিতে হবে"। "তুমি দায়িত্ত পালন করছ? কিছু টাকা দিয়েই দায়িত্ত শেষ?তোমার নিজের লাইফ মানে কি? অন্য মেয়েদের সাথে মোবাইলে কথা বলা? বাসায় সময় না দিয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুড়ে বেড়ান?"। "আমি তোমাকে বলছি ,আমি ওরকম টিপিকাল লাইফ পছন্দ করি না। আমি যেমন তোমাকে তাই ই মেনে নিতে হবে।না হলে তুমি অন্য কিছু ভাবতে পার আমাদের বিয়ে নিয়ে"। হতবাক হয়ে গিয়েছিল নিপা। বিয়ের আগে তূর্যর উদাসিনতাকে তেমন গুরুত্ত দিত না সে। তারপর ও নিপা চেয়েছিল সব ঠিক রাখতে। কিন্তু সায়মার সাথে তূর্যকে জড়িয়ে কথাগুলো শোনার পর আর ঠিক পারে নি নিজেকে। তাই তূর্য যখন ডিভোর্স এর কথা বলল, বাঁধা দেয় নি নিপা। ডাইনে না বামে যামু আপা?, রিকশাওলার কথা শুনে সচকিত হয় নিপা। কলিংবেল চাপতেই মা দরজা খুলে দেয়। দৌঁড়ে এসে আরিয়ান নিপার ব্যাগটা নিয়ে খুলতে শুরু করে।ছেলের হাতে চকলেট দিয়ে বাথরুমে ঢুকে যায় নিপা। হাতমুখ ধুয়ে বিছানায় আসতেই লাফ দিয়ে কোলে উঠে পড়ে আরিয়ান। ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় নিপা। আর সারাদিনের জমানো গল্প শুরু করে আরিয়ান।ক্লান্ত লাগে না নিপার। বরং ভুলে যায় জীবনের অপূর্ণতাটুকু। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভুলে যেতে চাই

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now