বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জ্যোৎস্নালোকিত নিঝুম রাত। হাজারো তারার মেলা বসেছে দূর আকাশে। মিটমিট করে জ্বলছে। চাঁদ ও চাঁদনী মেঘে মেঘে লুকোচুরি খেলছে। প্রেম যমুনায় চাঁদের আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখে পড়ছে। যমুনা ও যমুনার তীরে জেলের আলোগুলো অস্পষ্ট। নিভু নিভু পিদিমের আলোতে, সেই সুর খানি বাজছে। কত মধুর সে সুর! চিরচেনা সেই কণ্ঠস্বর। ডাকছে আমায়।
- এসো, চলে এসো, হয়ে যাও শঙ্খচিলের মতো, দিগন্ত থেকে দিগন্তে, খোঁজে নাও আমাকে। ছিঁড়ে ফেলো সব দোয়ার। না হলে আমি রথটি নিয়ে চলে যাবো দূর দিগন্তে, হাত বাড়ালেও আমাকে পাবে না। এই তো হাত বাড়ালাম তোমার দিকে। ধরো, আমাকে আলিঙ্গন করো।
- আমি আসছি। যেও না। তোমাকে আমি কত! যে খোঁজেছি। ধরা দাও আমায়। এখন আমি এই সুরটিকে উপলব্ধি করতে পারছি। এ যেন আমারই গানের সুর। তুমি সেই চপলা মেয়ে। যার তরে আমি আমার ভালবাসার প্রহর গুনছি। আমাকে ফেলে এভাবে হারিয়ে যেও না। এই তো তোমার হাত ধরেছি।
জ্ঞান ফিরে এল। আমি তখন যমুনায় হাবুডুবু খাচ্ছি। পায়ে কি জানি একটা অনুভূতি প্রকাশ পেল। পাত্তা দিলাম না। আবার সেই পরশ, যেন কোন নারীর। মুহূর্তেই ডুব দিলাম পানিতে। উঠিয়ে দেখি একটা চাঁদের মতো মেয়ে। গায়ে বিয়ের শাড়ি। মায়াবী একটি মুখ। মায়ায় পড়ে যাই যেন। আমার ছোট বোন বলল-
- ভাইয়া, এখনো বেঁচে আছে।
- তাহলে শীঘ্রই হাসপাতালে নিতে হয়।
- হুম। মাঝি ভাই সদর হাসপাতালে চলেন। ওকে বাঁচাতেই হবে।
- দেখছো ভাইয়া, ভারি মিষ্টি মেয়ে। এ রকম মেয়ে আমার ভাবি হলে অনেক মজা হতো।
আমার ছোট বোনের কথা ভালই লাগছিল। মনে মনে বলি আল্লাহ আমার জন্য তৈরী করেছে মনে হয়।
সদর হাসপাতাল। কেবিনে ভর্তি। ঘন্টা দেড়েক পর ডাক্তার বলল, মেয়েটির জ্ঞান ফিরেছে। আপনারা দেখে যান।
আমরা ভিতরে গেলাম। মেয়েটি হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। আর বলতে লাগল-
- আমাকে কেন বাঁচালেন? আমি তো মরতে চাই।
- আপনি শান্ত হোন। কি হয়েছিল আপনার? আপনার গায়ে তো বিয়ের শাড়ি। আপনি কেনই বা মরতে গিয়েছিলেন?
- আমি খুব গরীব। টাকা কারণে আমার বিয়ে ভেঙে যায়। বাবা সহ্য করতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক করল। বাবার শোকে মাও গেল। আমি শুধু একা। কিন্তু মা মরা আগে বলেছিল - পুড়ামুখি তুই মরতে পারিস না। আমি কি করব? তাই এই পথ বেছে নিয়েছি।
- সব কথা শুনলাম। চলুন।
- কোনহানে?
- আমাদের বাসায়।
আমরা জোর করে তাকে বাসায় নিয়ে এলাম। মাকে সব কথা জানিয়ে দিলাম।
মা বলে,
- ঠিক করেছিস বাবা, তা না হলে মেয়েটি কোথায় যেত?
- ঠিক বলেছো মা, ও আজ থেকে আমার কাছেই থাকবে। ভাইয়া তুই বাজারে যা। নতুন মেহমান এসেছে। কিছু একটা করতে হবে।
-মা, তোমার নামটা কি?
- আন্টি আমার নাম অপরাজিতা। আপনি আমাকে অপরা বলে ডাকতে পারেন। কোন কিছু না মনে করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করব।
- বলো মা, কি সে প্রশ্ন?
- কিছু খাবার হবে? দুই দিন যাবত কিছু খাই নি। বড্ড ক্ষুধা লেগেছে।
- কি বলো মা অপরা? এটা তোমারই বাসা। আসো আমি নিজ হাতে খাইয়ে দিব।
আমার মা অপরাজিতাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে। নয়ন থেকে টপটপ করে জল পড়ছে।
ভারি মিষ্টি একটা মুখ। যেন জনম জনম ধরে দেখি। আমি যেন আমার অদৃশ্য ভালবাসাকে খোঁজে পেয়েছি।
- এভাবে কেঁদো না। আমরা আছি না।
- যাও শুয়ে পরো। যা ওকে তোর ঘরে নিয়ে যা।
- মা, আমাকেও খাইয়ে দাও।
- কি বলছিস খোকা? তুই কি ছোট আছিস?
- ওকে তো খাইয়ে দিলে আমাকেও দাও।
- মেয়েটিকে আমার পছন্দ হয়েছে। তুই কি বলিস।
- তুমিমি না মা...!
অনন্তকাল যেন তার অপেক্ষায়। হারানো সুর যেন বেজে ওঠে। দিগন্তের শেষ প্রান্তে! যেন মিলে যায় দুটি প্রাণ। খোঁজে পাই আমার সেই অদৃশ্য ভালবাসা!!!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now