বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভৌতিক গল্প: রাতের আঁধারে (শেষ পর্ব)
যাই হোক, এই সুযোগে আপনাদের বাকি গল্পটা বলে নেই।
ফারিয়া মরে গেছে, আমিই ওকে খুন করেছি-এটা বুঝতে আমার সময় লাগল পাচ মিনিট।এরপর যা করার তাই করার সিদ্ধান্ত নিলাম। লাশ ঠিকানা লাগাতে হবে। ফারিয়ার পরকীয়ার কথা ওর বাসায় সবাই জানে। সুতরাং যদি বলি নাগরের সাথে ফারিয়া পালিয়ে গেছে-কেউ অবিশ্বাস করবে না।
বাসায় যত দা-বটি-ছুরি ছিল, সব শোবার ঘরে নিয়ে এলাম। লাশটা মোট সতের টুকরা করতে আমার সময় লাগল দুঘন্টা, আর সব ধোয়ামোছার পেছনে আরও এক ঘন্টা।
বারটা বাজার পর আমি বস্তাবন্দী লাশ নিয়ে বের হলাম।
গেটের একটা চাবি আমার কাছেই থাকে-দারোয়ানকে আর জাগানোর প্রয়োজন পড়ল না।
পুরো রাস্তা গান শুনতে শুনতে জঙ্গলে এসে পৌছালাম। কেমন যেন নিজেকে হালকা লাগছিল।
গাড়ি থেকে লাশ নামানোর সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামল। বৃষ্টি আমার খুব বেশি প্রিয় না, তবে আজ খুব একটা গায়ে মাখলাম না। বরং ভালই হবে-গায়ে লেগে থাকা সব রক্তের দাগ ধুয়ে যাবে।
কবর খুড়তে বেশি সময় লাগল না। লাশ মাটি চাপা দিয়েই শহরের দিকে রওয়ানা দিলাম।
গল্পটা এতটুকুই। খুন করেছি, লাশ মাটি চাপা দিয়েছি, এখন শহরে ফিরছি, সকালে সবার সামনে এক নষ্টা স্ত্রীর দূর্বল স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করব যে কিনা তার স্ত্রীকে ধরে রাখতে পারেনি।
আশ্চর্য, রেডিওটা এমন করছে কেন? শহরের যত কাছাকাছি আসছি, সিগন্যাল তত দূর্বল হয়ে পড়ছে।
রেগে দুটো বাড়ি দিলাম। এইতো এখন পরিস্কার শোনা যাচ্ছে।
ব্রেকিং নিউজঃ কুখ্যাত স্ত্রী হন্তারক তৈমুর হায়দারের শাস্তি এই মাত্র কার্যকর করা হবে ...
হোয়াট?
আমি তৈমুর হায়দার, আমায় শাস্তি দেবে কোন বাপের ব্যাটা?
রেডিও নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, তাই তখনও খেয়াল করিনি ব্রেক ফেল করা একটা লরি আমার দিকে ছুটে আসছে ফুল স্পীডে ...
।। তিন ।।
-এইতো স্যার, আপনার জ্ঞান ফিরেছে।
আমি চোখ খুললাম, নার্সের পোশাক পড়া একটা মেয়ে হাসি মুখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
তার মানে আমি হাসপাতালে?
-আমার দিকে তাকান স্যার। বলুনতো আমি কে?
-নার্স। আমি কোনরকমে বললাম।
-এইতো আপনি সব চিনতে পারছেন।যা ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন।গত দুই দিন উনি শুধু কান্নাকাটি করেছেন।
-উনি মানে? আমার জন্যতো কান্নাকাটি করার কেউ নেই।
-সেকি স্যার? নিজের স্ত্রীকে এভাবে ভুলে গেলে চলবে? একটু অপেক্ষা করুন, আমি উনাকে ডেকে আনছি।
-সিস্টার ওয়েইট।
-জাস্ট এক মিনিট স্যার।
নার্স বেরিয়ে গেল। আমি উঠে বসার চেষ্টা করলাম, শরীরটা বিদ্রোহ করে বসল।
কান পেতে রইলাম।
ঐতো। বাইরে পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
এজন্যই কি আমি মরে যাইনি? ফারিয়া কি তবে ফিরে এসেছে আমায় শাস্তি দিতে?
(দোয়া করে গল্পটার কোনো পার্ট কেউ কপি করবেন না)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now