বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভৌতিক গল্প

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নয়ন চন্দ্র আচার্য্য (০ পয়েন্ট)

X অনুষ্ঠানে তো কত ছেলেই আছে কিন্তু আমার নজরটা পড়ে রইলো শুধু তারই উপর। সাথে সাথে বাকি মেয়েগুলোরও একই অবস্হা। এত ছেলে থাকতে সবাই একে নিয়েই ব্যস্ত। এটা দেখে আমার শরীরটা আরো জ্বলে গেল।সুপ্রিয়া এসে বলছে -- তিয়াশা চলতো উনার নামটা জেনে আসি! এত কথা বললাম কিন্তু তার নামটাই জানা হলো না বলেই আমার হাতটা টেনে ধরে নিয়ে গেল আমাকে পাশে দাড় করিয়ে সুপ্রিয়া উনাকে বলছে --আমি সুপ্রিয়া, রাইদার বান্ধবী, মানে আপনার বন্ধুর সঙ্গে যার বিয়ে হচ্ছে। আর সেদিন আপনি ট্রেনে আমাদের যে সিটটি দিয়েছেন সেই জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। -- না না, ঠিকাছে, আপনাদের জায়গায় অন্য কেও থাকলে তাদেরও আমি দিয়ে দিতাম। --আপনার নামটা জানতে পারি?( সুপ্রিয়া) -- আহনাফ চৌধুরী। -- ও, আপনি বাংলাদেশে থাকেন, না এখানে??(সুপ্রিয়া) --মূলত আমি বাংলাদেশেই থাকি, কিন্তু এখানে এখন একটা কাজে এসেছি।উনি মানে আপনার বান্ধবীর নামটা জানতে পারি ?? -- জী, ওর নাম হচ্ছে তিয়াশা। -- আপনারা এই দেশেই থাকেন? নাকি বিয়ে এটেন্ড করতে এসেছেন??( আহনাফ) -- না, আমরা বাংলাদেশেই থাকি, আমেরিকায় পড়াশোনা করতে এসেছি! আর এখানে বিয়ে এটেন্ড করতে এসেছি। --ওও আচ্ছা। এভাবে আমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হচ্ছিলাম। কিন্তু এর মাঝেও তিয়াশার বারবার মনে হচ্ছিলো আজ কিছু একটা ঘটবে যা ওর জীবনকে পাল্টে দিবে। সবাই যখন বিয়ে উপভোগ করছিল তার ভিতর আহনাফ আর তিয়াশার মাঝে চোখাচোখির আদানপ্রদান চলছিল। আহনাফ যেমন লাজুক স্বভাবের তিয়াশাও ঠিক তেমন। দুজনের মধ্যে বারবার বাধ সাঝছিল সুপ্রিয়া। সুপ্রিয়া বারবার আহনাফকে টেনে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এতে তিয়াশার খুব রাগ উঠলো যে কেনো আহনাফ সুপ্রিয়াকে কিছু বলছে না। বারবার ওর, মানে আহনাফের হাত স্পর্শ করছে কিন্তু দিব্বি তা সে উপভোগ করছে। কতক্ষণ ওদের দিকে মুখ ভেঙচি কেটে তিয়াশা চলে গেল সম্পুর্ন একটা নিরিবিলি জায়গায়। এখন ওর খুব কান্না পাচ্ছে। দেশে বিদেশে কত কত ছেলের সাথে তিয়াশার বন্ধুত্ব আছে কিন্তু কখনও তিয়াশার এই রকম লাগেনি। তবে আজ কি এমন হলো যে ওর খুব কষ্ট হচ্ছে? কেনো ও সুপ্রিয়াকে আহনাফের পাশে সহ্য করতে পারছে না? ঠিক সেই মুহুর্তে তিয়াশা তার সামনে দেখতে পেলো .... আর ওদিকে শারমিন চৌধুরী দাড়িয়ে দাড়িয়ে পুরোনো সব কথা মনে করছিলেন। তার মনে পড়ে গেল হসপিটালের কথা। মনে পড়ে গেল সেদিন ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো। সেদিন তার একটি মেয়ে হারিয়ে যাওয়ার পর তারিকুল চৌধুরী তিয়াশাকে কোলে তুলে তারই পাশে দাড়িয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেছিলেন।এখুলো চিন্তা করে তার চোখ গড়িয়ে পানি পারছিলেন আর সেটা সে শাড়ির আঁচল দিয়ে মুচ্ছিলো। শারমিন চৌধুরীর মনের জানালায় বার বার উকি দিচ্ছিলো বিয়ের প্রায় তিনমাস আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো। তার মনে পড়ে গেল, কোন এক সন্ধ্যায় তিনি দাড়িয়ে ছিলেন তার ঘরের বেলকুনিতে। শারমিন চৌধুরীর বাবা মা অনেক ধার্মিক। সে হিসেবে তিনি সবসময় পর্দার আড়ালে থাকতেন। সেদিনও তার ব্যাতিক্রম হলো না। বোরখার আড়ালে নিজেকে ঢেকেই তিনি দাড়িয়ে ছিলেন। তার শুধু মুখটা দেখা যাচ্ছে। তাও ভালভাবে না।তখনই হঠাৎ একটা শীতল বাতাস যেনো তাকে এসে ছুঁয়ে গেল।বাতাস টা তার কাছে একটু অন্য রকম মনে হলো।পরে মাগরিবের আযান শুনে তিনি নামাজে দাঁড়ালেন।নামাজে তার বারবারই মনে হচ্ছিলো কেও তাকে দেখছে। যতক্ষণ তিনি নামাজ পড়লেন তার পুরোটা সময়ই তার মনে হলো কেও তাকে দেখছে। এই জন্য তিনি নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে শয়তানের আসওয়াসা থেকে হেফাজতের দোয়া চাইলেন। ইস্তিগফার করলেন তার গুনাহের জন্য। নামাজ শেষে তিনি যখন উঠে দাড়েলেন তখন তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন তার ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় একজন লম্বাদেহী পুরুষ মানুষকে।তিনি দেখলেন লোকটি তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। এতে তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন। কারন তার ঘরে পুরুষ মানুষের প্রবেশ নিষেধ। এমতাবস্থায় তিনি কিভাবে এখানে এলেন! তাছাড়া লোকটি কে তার আত্নীয়ও বলে মনে হচ্ছে না। তিনি সাথেসাথেই উল্টো ঘুরে দেখেন যে পিছনে কেও নেই।এতে তিনি একটু আতংকিত হয়ে যান। তিনি তার মার কাছে ঘটনাটি পুরো খুলে বলেন। তার মা তার উপর খুব রাগ করলেন যে, কেনো শারমিন চৌধুরী সন্ধ্যায় বারান্দায় গিয়ে ছিলেন? দুটি নির্ধারিত সময় বারন করা সত্ত্বেও তিনি কেনো নিজের ঘর ছেড়ে বের হয়েছিলেন! পরবর্তীতে তার মা রাতে তার বাবাকে ঘটনাটি খুলে বললে তিনি খুব ভয় পেয়ে যান। কারন এই রকম করে একটি প্রেমিক জ্বীন তার ভালোবাসার মানুষকে দেখা দেয়। ভয়ে পুরো পরিবার যখন আতংকিত তখন তার প্রেমিক জ্বীন তাকে বিভিন্ন ভাবে তার ভালোবাসার কথা জাহির করছিলো। কখনও স্বপ্নে কখনও বাস্তবে। যদিও এটি তাকে শারিরীক ভাবে আঘাত করছে না কিন্তু বারবার দেখা দিয়ে তাকে বিরক্ত করছে। শারমিন চৌধুরীর শরীর সবসময় বন্ধ থাকতো। তিনি সবসময় পাক পবিত্র থাকতেন। তাই এটি তার কাছে আসার বা তাকে স্পর্শ করার সাহস পেতো না।দুর থেকেই তাকে বিরক্ত করতো। কিন্তু সে এবং তার পরিবার এই বিষয়টি নিয়ে পুরোটা সময় ভয়ে ভয়ে কাঁটাতেন। শীঘ্রই তার বাবা একজন আলেম ব্যক্তির সরণাপন্ন হোন।যার এইসব বিষয় নিয়ে অভিজ্ঞতা আছে। এলাকায় তার নামে এই প্রবাদও আছে যে তিনি জ্বীন পালেন এবং জ্বীনজাতির কিছু জ্বীন, একটি বিশেষ সময় তার পিছনে দাড়িয়ে সালাত আদায় করে। পুরো বিষয়টি শারমিন চৌধুরীর বাবা তাকে খুলে বলেন। তখন ঐ হুজুর বলেন যে জ্বীনটি ভালো এবং সেটি তার মেয়েকে খুব ভালোবাসে। তাকে নিকাহ করতে চান। এই জন্য এখন পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করেনি। তবে তার মেয়েকে যদি সে না পায় তাহলে এইসব ভালো জ্বীনও বদজ্বীনে পরিনত হতে সময় লাগে না। কথাগুলো শুনে তার বাবা ঘাবড়ে যান। শারমিন তার চার সন্তানের মধ্যে একমাত্র মেয়ে। তার মেয়ের যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আল্লাহর কাছে তিনি কি জবাবদিহি করবেন! এই ভেবে অস্হুির হয়ে যান যে আল্লাহর দেওয়া আমানতের তিনি কিভাবে খেয়ানত করতে পারেন ?এই পাপ কাজ তিনি করতেই পারেন না। হুজুরকে বলে এর প্রতিকার চাইলেন। তখন হুজুর তার বাবাকে আশ্বস্ত করলেন যে তিনি সেই জ্বীনটির সাথে কথা বলবেন এবং তাকে ভালোভাবে বোঝাবেন। এগুলো শুনে তার বাবা কিছুটা নিশ্চিন্ত হলেন যে হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না, এতে তার হিতে বিপরীত হওয়া শুরু করলো। জ্বীনটি ক্ষিপ্ত হয়ে এখন তার পরিবারের উপর আঘাত করা শুরু। প্রথমে বিরক্ত করতো বাড়ির ছাদে শব্দ করে, ঘুমের মধ্যে কাওকে টেনে মাটিতে ফেলে, খাবারে বালু ফেলে। যতটা সম্ভব বিরক্ত করা যায় করতো। কিন্তু শারীরিক ভাবে আঘাত করতো না। আর শারমিন চৌধুরীকে স্বপ্নে ভয় দেখাতো। এতে সে ধীরেধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে লাগলেন। বাড়িতে সবাই সার্বক্ষণিক আতংকে থাকতেন। তাদের বাড়িতে জ্বীনদের আনাগোনাও বেড়ে যেতো লাগলো। অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবা ঠিক করলেন হুজুরের কাছে আবার গিয়ে বলবেন জ্বীনকে হাজির করে বন্দী করার জন্য।কারন জ্বীনটির অত্যাচার তার মাত্রা ছাড়াচ্ছে। তার মেয়ে ভয়ে পাগলামি শুরু করেছে। হুজুর তার কথায় রাজি হয়ে বললেন যে সে কাজটি করবেন। কিন্তু জ্বীনকে বন্দী করা চারটে খানিক কথা না। এতে হুজুরের বা তার পরিবারের জীবন নাশের সম্ভাবনাও আছে। সার্বিক কথা চিন্তা করে শারমিন চৌধুরীর বাবা রাজি হয়ে গেলেন। কারন এভাবে এত অত্যাচার সহ্য করে জীবিত থাকা সম্ভব না।রাতে হুজুরসহ আরো পাঁচজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে তার বাড়িতে আসলেন। প্রথমে তারা শারমিন চৌধুরীর ঘরটি দেখলেন। পরে পুরো বাড়িটা তারা ঘুরে ঘুরে দেখলেন। বাড়িতে এত জ্বীনের আনাগোনা হয় যে তারা একটু ভয় পেয়ে গেলেন যদি এখানে সেই জ্বীনকে এখন হাজির করা হয় আর সেটি রেগে কারও জীবন না নিয়ে নেয়! ( চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি ভৌতিক প্রেমের সত্য গল্প
→ ভৌতিক গল্প:ত্রয়ী (পার্ট_৭)
→ ভৌতিক গল্প: রাতের আঁধারে (শেষ পর্ব)
→ ভৌতিক গল্প:ত্রয়ী (পার্ট_৬)
→ ভৌতিক গল্প: রাতের আঁধারে (পার্ট_২)
→ ভৌতিক গল্প: রাতের আঁধারে (পার্ট_১)
→ ভৌতিক গল্প:এয়ী (পার্ট_৫)
→ ভৌতিক গল্প:ত্রয়ী (পার্ট_৪)
→ ভৌতিক গল্প:ত্রয়ী (পার্ট_৩)
→ ভৌতিক গল্প ত্রহী (পর্ব-১)
→ ☠ ছোট কিছু ভৌতিক গল্প ☠
→ ভৌতিক গল্প- মিত্তি (শেষ পর্ব)
→ ভৌতিক গল্প-মিত্তি (পর্ব-৩)
→ ভৌতিক গল্প-মিত্তি (পর্ব-২)
→ ভৌতিক গল্প- মিত্তি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now