বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভৌতিক আয়নার সামনে"তৃতীয় পর্ব"

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রূপকথার রাজকন্যা (০ পয়েন্ট)

X সুপ্তি তারপরো পরের রাতের জন্য অপেক্ষা করে। আবার ইভান আসে, হাতে হাত রেখে তারা গল্প করে। ইভান চলে যায়। ইভান দিনে দিনে আরো সুন্দর হয়।ফ্যাকাশে গালে গোলাপী ছোপ লাগে। মাত্র ৩ দিনেই সুপ্তির স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে। কিছুতেই সে কোন শক্তি পায় না। চোখের কোণে কালি। তার মা ব্যস্ত হয়। “কি হয়েছে রে সুপ্তি? তুই দেখতে এমন হচ্ছিস কেন? রাতে ঘুমাস না?” সুপ্তি দুর্বল কন্ঠে প্রতিবাদ করে। “কই মা, ঠিকই তো আছি”। তিন পরের দিন ক্লাসে দ্বিতীয় পিরিয়ডেই সুপ্তি মাথা ঘুরে পড়ে যায়। তাড়াতাড়ি তার বন্ধুরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে তার আম্মু আব্বু আর সুকন্যা দৌড়ে যায়। ডাক্তার তাকে পরীক্ষা করে অবাক হয়ে যায়। কোন রক্তপাতের ইতিহাস নেই, কিন্তু কি ভীষন রকম রক্তশূন্যতা। রক্তের রিপোর্টে দেখা যায় হিমোগ্লোবিনের লেভেল কমে ৪গ্রাম/ডিএল এ এসেছে। যেখানে তার থাকার কথা নিদেন পক্ষে ১৩। ডাক্তার বলে এখনি রক্ত দিতে হবে। আম্মুর সাথে রক্তের গ্রুপে তার মিল আছে। বন্ধুরা দৌড়ে আরো দুই ব্যাগ জোগাড় করলো। সুপ্তির আম্মু ক্রমাগত কাঁদতে থাকে, কি অসুখ ডাক্তার তখন কিছুই বলতে পারছে না। এরকম হলে নাকি ক্যান্সারের সম্ভাবনা দেখা যায়। আম্মুর অফিসের কলিগের ফুফাতো ভাইএর ছেলের তো তাই হলো। রাত বাড়ার সাথে সাথেই সুপ্তি অস্থির হয়ে যায় বাসায় যাবার জন্য। ডাক্তারের কড়া নির্দেশ, রক্ত না দিয়ে বাসায় যাওয়া যাবে না। আম্মু আব্বুও কোন রিস্ক নেবেন না। কিন্তু ইভানের যে আসার সময় হয়ে যাচ্ছে। সারাটা রাত সুপ্তির অস্থিরতার সাথে কাটে। পরের দিনই সে কান্নাকাটি করে হাসপাতালে থেকে সন্ধায় বাসায় ফিরে আসে। সে কথা দেয় যে রক্ত নিতে সে কালই আবার আসবে। রাতে আম্মু সাথেই থাকতে চায়, কিন্তু সুপ্তি মানা করে। রাত ২টা বাজতেই সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। কিন্তু ইভান কই? সুপ্তি ইভান কে অনেক ডাকে। অনেকবার করে ক্ষমা চায়, বার বার করে তার অসুস্থতার কথা বলে। কিন্তু ইভান তো আসে না। কাঁদতে কাঁদতে সুপ্তি ঘুমিয়ে পড়ে।রাত সাড়ে তিনটার দিকে তীব্র অস্বস্তির সাথে তার ঘুম ভাঙ্গে। ঘরে বিকট গন্ধ। এত ঠান্ডা যে সুপ্তি কেঁপে কেঁপে উঠে। গন্ধে সুপ্তির বমি চলে আসতে থাকে। অনেক কষ্টে নাকে হাত চাপা দিয়ে সুপ্তি আয়নার সামনে আসে। ভিতরে আবছা একটা ছায়া। সুপ্তি ডাকে, “ইভান?” ছায়ামূর্তি ঘুরে তাকায়। সুপ্তি আতংকে স্তব্ধ হয়ে যায়। এ কে? কি ভীষন চেহারার এক বুড়ী। সাদা শনের মত চুল, চোখ দুটো ধক ধক করে যেন জ্বলছে, কি তীব্র জিঘাংসা তার মাঝে। চামড়া শত শত বছরের পুরনো চামড়ার মত ঝুলে পড়েছে। লাল জিহবা মাঝে মাঝে সাপের মত লকলক করছে। খলখল করে বিশ্রীভাবে হেসে উঠলো বুড়ী। সুপ্তির বোধবুদ্ধি সব লোপ পায়। তার পা কে যেন পাঁচ মণ পাথর দিয়ে আটকে রেখেছে; কন্ঠস্বর হয়েছে রুদ্ধ। সে শুধু ভীত শশকের মত চেয়ে রইলো। আবার হেসে উঠলো বুড়ী। অশ্রাব্য এক গালি দিয়ে বললো্‌, “হাত বাড়া সামনে”। সুপ্তি তীব্র আতংকে মাথা নাড়লো। বুড়ী চিৎকার দিলো, “হাত বাড়া বলছি”। সুপ্তির ডান হাত তার আয়ত্তের বাইরে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করেও তার হাতকে আটকাতে পারলো না, হাত আয়না স্পর্শ করলো। ভীষণ অট্টহাসিতে ঘর ভরে গেলো। এমন জান্তব ভয়ংকর গা শিউরানো হাসির যে পৃথিবীতে অস্তিত্ত আছে সুপ্তি তাই জানে না। এর জন্ম এ পৃথিবীতে না, অন্য কোথাও। অন্য কোন জগতে। পচা মাংসের তীব্র গন্ধ সইতে না পেরে সুপ্তি বমি করে ফেললো ঘরের মাঝেই। বুড়ি খল খল করে হাসতে হাসতে বললো, “ইভান কে পেয়েছিস তুই? তোর প্রাণের ইভান? আমিই তোর ইভান। ১০০ বছর পর আজ আমি মুক্তি পেয়েছি। আমি, আজিনাহা! আহ, কি আনন্দ!” সুপ্তির মাথা কাজ করে না। সে মেঝেতে বসে থর থর করে কাঁপতে থাকে। “আজ থেকে আমি তোর মাঝেই থাকবো। তুই রাতে যখনই ঘুমাবি, আমি তোর মাঝ থেকে জেগে উঠবো। ১০০ বছর আমি কোন রক্তের স্বাদ পাইনি। আজ আমার রক্ত চাই, অনেক অনেক রক্ত”। সুপ্তি জ্ঞান হারানোর আগ মূহুর্তে অনুভব করতে পারে, একটা শীতল ছায়া তার মাঝে ঢুকে যাচ্ছে। সকালে জ্ঞান ফিরে সে দেখতে পায়, আম্মু তাকে নিয়ে আবার হাসপাতালে চলে এসেছে। তবে সে অনেক সুস্থ বোধ করছে। ডাক্তাররা রিপোর্ট দেখে অবাক। মাত্র ৩ ব্যাগ রক্ত পেয়ে হিমোগ্লোবিন লেভেল বেড়ে ১৬তে ওঠা এক কথায় অসম্ভব। বাংলাদেশের রিপোর্টের অবস্থা দেখে ডাক্তাররা ভীষন রাগারাগি করতে লাগলেন। এই রিপোর্ট অবশ্যই ভুল। কিন্তু চোখও তো স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আগের দিন যে মেয়ের চোখ একেবারে কাগজের মত সাদা ছিল, তার তো এখন একদম স্বাভাবিক চোখ। রিপোর্ট নিয়ে আব্বু আম্মুর মাথা ব্যথা নেই। তাদের মেয়ে সুস্থ, তাতেই তারা খুশী। কিন্তু সুপ্তির মাথা এখনো কাজ করছে না। তার সাথে এসব কি হচ্ছে? বাসায় ফিরে সুপ্তি আয়নার দিকে তাকায়। এ যেন একদম স্বাভাবিক আয়না। তার মাঝে কি বুড়ীটা ঢুকে পড়েছে? কই? তার তো একদম স্বাভাবিক লাগছে, যেন কিছুই হয়নি। আর ইভান? ইভানকে কি বুড়ী আয়নায় বন্দি করে রেখেছে? ইভানকে ছাড়া সে বাঁচবে না। রাত বাড়ার সাথে সাথে সুপ্তি অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে। কি যেন তার মাঝে জেগে উঠতে চাইছে। ভীষন ঘুমে তার দুই চোখ জড়িয়ে আসছে। রাত ১২টা বাজতেই সুপ্তি গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। সারাটা রাত সুপ্তি ভয়ংকর ভয়ংকর সব দুঃস্বপ্ন দেখে। সে যেন হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। তার মুখ দিয়ে ভক ভক করে বিশ্রী মাংস পচা গন্ধ বেরুচ্ছে। সে রক্তের স্বাদ পেতে থাকে। সে রক্তে যেন মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে। কি বিশ্রী ভাবেই না সে হাসছে। চিৎকার দিচ্ছে, জান্তব উল্লাসে সে যেন ফেটে পড়ছে। খুব ভোরে তার ঘুম ভাঙ্গে। সারা শরীরে কালসিটে পড়ে গেছে, ভীষন ব্যথা। নিজের দিকে তাকিয়ে তার মাথা ঘুরে ওঠে। টি শার্ট রক্তে মাখা মাখি। বাথরুমে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠে সে, মুখ হাত সবই রক্তে রঞ্জিত। এবং সে জানে অবশ্যই এই রক্ত মানুষের রক্ত। কাঁদতে কাঁদতে সে গোসল করতে থাকে। সে এখন পিশাচীনী। এক ভয়ংকর পিশাচ তার মাঝে ঢুকে পড়েছে। সে যখনই ঘুমাবে, পিশাচ জেগে উঠবে। এখন সে কি করবে? আম্মু দরজা ধাক্কাতে থাকে, “এই সুপ্তি, তোর রুমে নিশ্চই ইঁদুর মরেছে রে, এত বাজে গন্ধ কেন? আজই রুম ফিনাইল দিয়ে পরিস্কার করাবো বুয়াকে দিয়ে। আগে চল বাইরে যাই”। সুপ্তি বলে উঠে, “আমি কোথাও যাবো না আম্মু”। আম্মু ধমকে উঠে, “কথা বাড়াবি না। কত কষ্টে তোর বাবার কাছ থেকে টাকা নিলাম, আর বলিস বাইরে যাবি না?” সুপ্তি রেডি হয়ে ডাইনিং এ আসতেই শুনলো বুয়া আম্মুর সাথে কথা বলছে উত্তেজিত ভাবে। কয়েক গলি পরেই তার বস্তি। সেখানে নাকি আজকে একটা অদ্ভুত লাশ পাওয়া গেছে। কেউ লাশের গলায় কামড় দিয়ে ধমনী ছিড়ে সব রক্ত শুষে নিয়েছে। পুলিশ কোন কিনারাই করতে পারছে না। সুপ্তি ভয়ে থর থর করে কাঁপতে থাকে। এটা অবশ্যই ডাইনী আজিনাহার কাজ। আম্মু তার অবস্থা দেখে বুয়াকে ধমকায়, “যাও তোমার কাজ করো। আমার মেয়েকে ভয় দেখিও না”। আম্মুর সাথে সুপ্তি বেরোয়। আজ থেকে সে আর ঘুমাবে না। রাতে যত কষ্টই হোক সে ঘুমাবে না। ডাইনীটাকে সে জেগে উঠতে দেবে না। সে জিজ্ঞেস করে, “আম্মু কোথায় যাচ্ছি?” আম্মু লাজুক ভাবে বললো, “চায়ের সেটটা খুবই পছন্দ হয়েছে বুঝলি। দেখি ওই বাড়ির চৌকিদার যদি এখনো সেটা বিক্রি না করে থাকে, তবে নিয়েই আসি”। আবার সেই অভিশপ্ত বাড়ি; যেখান থেকে আয়না এসেছে। সুপ্তি আতঙ্কে ফুঁপিয়ে ওঠে, “না না আম্মু, ঐ বাড়িতে যাবো না”। আম্মু অনুনয় করে, “লক্ষী মা, তুই বাইরে থাকিস, আমি যাব আর নিয়ে আসবো”। বাড়িটি আগের মতই আছে, ১৫ দিনে কোন পরিবর্তনই হয় নি; তবে সাবেকী আমলের বৈঠক খানার আসবাবপত্র অনেক কমেছে। ভালোই বিক্রি হয়েছে মনে হয়। তাদের দেখেই চৌকিদার বলে উঠলো, “আমি জানতাম, আপনারা আসবেন। তাই চায়ের সেট তুলে রেখেছি”। চৌকিদার তীব্র দৃষ্টিতে সুপ্তির দিকে তাকালো। সুপ্তির মনে হলো, উনি সব দেখতে পাচ্ছেন। সব কিছু জেনে যাচ্ছেন। ভয়ে কুঁকড়ে গেলো সে ওই অন্তর্ভেদী দৃষ্টির সামনে।_______চলবে__


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভৌতিক আয়নার সামনে"তৃতীয় পর্ব"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now