বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভোরবেলার প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান পারভেজ(guest) (০ পয়েন্ট)

X নাম : ভোরবেলার প্রেম Writer : শাকিল . . . এই মুহূর্তে আমি মৌ"দের বাসায় বসে আছি। খুব ভোরবেলায় বাসার বাইরে আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুব জোড়ে দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। হয়তো আমার উপর যে রাগ আছে সেটাই একটু বুঝিয়ে দিলো। . এক ঘন্টা পরে ওর রুমের বেলকনিতে এসে আমাকে একইভাবে থাকতে দেখে আমার দিকে প্রচন্ড রাগে তাকিয়ে আছে। - একটু নিচে আসবি ? - তুই যা এখান থেকে। আশ্চর্য মেয়ে ! ! একঘন্টা ধরে ওর বাসার সামনে আছি কোনো আদব কায়দা নেই। এখন আর কিছু বলে লাভ নেই। আমি জানি ও খুব রেগে আছে আমার উপর। . . কলিংবেল চাপ দিলাম। আন্টি এসে খুলে দিলো। আন্টি আমাকে খুব পছন্দ করে এইটা ওনার কথাবার্তা, হাবভাবে স্পষ্ট। - ভেতরে এসো বাবা। - আন্টি মৌ কোথায় ? - ওর যে দুইদিন ধরে কি হয়েছে জানিনা। সবার উপরেই রাগ দেখাচ্ছে। - আচ্ছা আমি যাই তাহলে। - এই ছেলে কি বলো এসব !! এতো সকালে এসেছো নাস্তা করে যাবা। অনেকটা জোড় করার কারণেই বসতে হলো। আমার বাসার কেউ যদি জানে আমি মৌ"দের বাসায় তাহলে আমাকে কেউ আর ডাকতে আসে না। তেমনিভাবে মৌ" এর ক্ষেত্রেও একি ব্যপার। . আমি এই সময়টুকু মৌ"য়ের ছোট ভাইটার সাথে কাটাচ্ছি। - এই ইকরাম শোন ? - হুম ভাইয়া !! - তোর আপু কি করছে দেখে আয় তো। - একটু পরে এসে বলছে আপু তোমাকে যে টি- শার্ট দিয়েছিলো সেইটা কাঁচি দিয়ে কাটছে। আজব মেয়ে তো !! তাই তো বলি আমার টি- শার্ট টা গেলো কোথায়.. . - এই তুই আমার কাপড়টা কাঁটছিস কেনো ? - বেরিয়ে যা। আমি তোকে দিয়েছি তাই আমার যা খুশি করবো। - দ্যাখ এতো রাগ ভালো না। - আমার রাগ তোকে দেখতে কে বলেছে ? - শোন তুই যা ভাবছিস তা নয়। রিয়া আমার কাজিন। আমার ছোট বোনের মতো। - ছোট বোনের মতো ?? বোন তো নয়। এখন তো ও আছে। সকালটা ওর সাথেই কাঁটাবি। - মৌ প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা কর। - তুই যাবি এখান থেকে !! - আচ্ছা তুই কি জেলাস হচ্ছিস ? - নাহ। আমি কেনো জেলাস হবো ? তুই কে আমার যে জেলাস হবো। তুই জাস্ট আমার ভালো একটা বন্ধু। ওকে। - আমি একটু হেসে বললাম, অন্য কিছু ভাবলে বলে দিতে পারিস। নইলে পরে আর পাবি না কিন্তু। - আমার হাসি দেখে ও আমাকে ওর রুমের বাইরে নিয়ে এসে দরজা লক করে দিলো। . . . মৌ"য়ের সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিলো শীতের এক কুয়াশাভরা সকালে। গায়ে চাদর জড়িয়ে ঘাসের উপর খালি পায়ে ও তখন হাঁটছিলো। আমি বেঞ্চে বসে ওর মাধুর্যেভরা সৌন্দর্যে তখন খাবি খাচ্ছিলাম। সপ্তমদিনেও একইভাবে চলার পর ও আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করেছিলো, এই আপনি ওইভাবে আমার দিকে কি দেখেন সবসময় ?? আমি জবাবে শুধু হেসেছিলাম। এরপর থেকে প্রায়ই আমাদের দেখা হতে লাগলো। কখনো কখনো ওর আগে এসে বসে থাকতাম শুধুমাত্র ওকে দেখবার জন্য। . একদিন মৌ নিজে এসেই আমাকে বলেছিলো, আমার সাথে হাঁটবেন ? আমি খুব খুশির সাথে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম। ও একটু মুচকি হেসে বলেছিলো, হাঁটতে দিয়েছি বলে ভাববেন না যে আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে। এই শীতের সকালে একজন বডিগার্ড থাকলে ভালো হয়। আমি হাসিমুখে ওর পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ওর বলা প্রত্যেকটা শব্দে আমি উদ্বেলিত হয়ে উঠতাম। ও যখন ঘাসের উপর শিশিরের ফোঁটাগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে দিতো তখন ওর হাসিটা আমার দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম হাসি লাগতো। . - আচ্ছা মৌ আমরা তো বন্ধু হতে পারি !(আমি) - হুম। হওয়া যায়। - মানে কি ? - ও একটু হেসে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে আজ থেকে আমরা বন্ধু। তবে বন্ধু যখন হয়েছি তখন তুই করে বলবো কিন্তু ! - হুম তুই করেই তো বলবো। এরপরের কাহিনী শুধুই বন্ধুত্বের। দুজন দুজনের প্রত্যেকটা জিনিসের খেয়াল রাখতাম। একজনের মনের ভাব অন্যজন খুব সহজেই বুঝতে পারতাম। তবে মৌ আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে। ফোন নং টা ও নিজেই আগে আমাকে দিয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আমাদের বাসা পাশাপাশি হলেও আমরা তা পরে জেনেছি। আর তারপর থেকে ছাদেও আমাদের বন্ধুত্বের চলাচল শুরু হলো। . মৌ আমার এক বছরের জুনিয়র ছিলো। প্রত্যেকটা দিন ওকে ভার্সিটি দিয়ে আসা ছিলো আমার নিত্যদিনের রুটিন। প্রত্যেকটা দিন যেনো আমি ওর সৌন্দর্যে, ওর হাসিতে, ওর মায়াবী কথাবার্তায় আমার আপন সত্তাকে হারিয়ে ফেলছিলাম। মৌ" য়ের সবথেকে ভালোলাগার বিষয়টা হলো ওর তিলওয়ালা ঠোঁটের সেই সম্মোহন করা হাসি। বন্ধুত্বের একবছর পর থেকেই মৌ পাল্টে যেতে থাকে। আমার উপর ছোটখাট সব বিষয় নিয়েই অধিকার ফলাতে থাকে। আমার যে কখনো খারাপ লেগেছে এইটা বলবো না। বরং ওর এমন আচরণটাই ওর প্রতি আমাকে আরো আকৃষ্ট করে ফেলেছে। এখন এক শীতের বন্ধুত্ব পার করে আবারো এক শীতের আগমন ঘটেছে আমাদের জীবনে। . - এই মৌ খেতে আয়। শাকিল তুমিও এসো বাবা। - জি আন্টি। -মৌ ঠিক আমার মুখোমুখি বসলো। - আমি ওর দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছি আর মনে মনে বলছি প্লিজ রাগ করে থেকোনা। - ওর রেগে যাওয়া মুখের ভাষা বলে দিচ্ছে আমার এমন ভাবে তাকিয়ে থাকা ওর রাগ কমাতে পারবে না। - আমি একটু দুষ্টামিভরা হাসি দিয়ে আমার পা দিয়ে ওর পায়ে আলতো করে ছুলাম। - ও দ্বিগুণ জোরে নিউটনের সূত্র জোরালোভাবে প্রমাণ করলো। - ওর চাহনি এমন- কি, কেমন লাগলো ? - আমি অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছি। - আন্টি সবজির বাটি নিতে পিছনের টেবিলে হাত দিলেন। আমি এই সুযোগে ওর গালে একটু জোরেই টিপ দিলাম। ও এবার চরম রেগে আছে। স্বাভাবিক ভাবে এই মেয়েটাও অন্য মেয়েদের মতো হাতের নখ বড় রাখে। আমার হাতে জোরে এক খামচি বসিয়ে দিলো। আরো জোরে জোরে আমার পায়ে আঘাত করতে লাগলো। . খাওয়াদাওয়া শেষ করে ছোট্ট একটা চিরকুটে লিখে দিলো -- "যদি আমার রাগ ভাঙাতে চাস তাহলে কাল ভোরবেলায় আমাকে ঘাসফুল দিয়ে প্রপোজ করতে হবে।" আমি অবাক হলাম কারণ আমিই এটা বলতে চেয়েও পারিনী। . . খুব ভোরেই নির্দিষ্ট জায়গায় চলে এলাম। কিন্তু ঘাসফুলের খুব একটা আধিক্য না থাকায় একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম। মৌ আমার পেছনে এসে বললো ফুল মাত্র এইকটা ?? একটু চমকে উঠলেও নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে মাথা নিচু করে বললাম, আর পাইনি তো। ওর মুখে একটু দুষ্টুমির রেখা ফুটে উঠলো। -ঠিকআছে। এখন সেটা বলো। - এইবার আমি একটু মজা করে বললাম, কোনটা ? - কাল যেটা লিখে দিয়েছিলাম। - এইতো ফুলের কথা লিখেছো তাই ফুল এনেছি। - তুমি কিন্তু আমার রাগ বাড়িয়ে দিচ্ছো। ( রেগে ) - হা হা হা হা আমার হাসি দেখে ও যেতে শুরু করলো। এই এই দাঁড়াও ... স্যরি আর এমন করবো না। তবুও দাঁড়ালো না। - আমার মুখ থেকে ওই কথাটা শুনবা না ? - এইবার পেছন ফিরে বললো, তাহলে বলো। আমি হাঁটু গেড়ে ফুলগুলো সামনে বাড়িয়ে বললাম -- - আই লাভ ইউ মৌ। - হয়নাই। - কিহ ? হয়নাই ? এইটাই তো বলে । - হুম বাট অন্যভাবে বলো। - একটু ভেবে বললাম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। - ও হাতটা নাড়িয়ে, মুখটা বাঁকিয়ে বললো, এভারেজ। - কি বলো এসব ? এই ভোরবেলা এতো কষ্ট করে প্রপোজ করছি আর তুমি উত্তর না দিয়ে ... - যতক্ষণ আমার ভালো লাগবে না ততক্ষণ বলতে হবে। - আমি উপরে তাকিয়ে বললাম, আল্লাহ এটা কেমন মেয়ে ? - আমি এমনই। প্রপোজ করবা নাকি যাবো? - কিছুক্ষণ ভেবে খুব শান্ত আর স্থিরদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, তুমি কি মিসেস শাকিল হতে রাজি আছো ? - ওর মুখে এবার হাসি ফুটে উঠলো। আর আমার হাত থেকে ফুলগুলো নিয়ে বললো, ফুলগুলো আজকে খুব সুন্দর লাগছে। - ওই আমার উত্তর কই ? - উত্তর নিবা ? - হুমমম। - আমার সাথে আসো। - আমার হাত ধরে একটা গাছতলায় নিয়ে গিয়ে বললো, চোখ বন্ধ করো। না বলা পর্যন্ত খুলবা না। - আমি চোখ বন্ধ করলাম। কিছুক্ষণ পর অনুভব করলাম ও আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। তারপর আমার গালে একটা চুমু খেয়ে বললো এরপরেও কি মুখে বলতে হবে ? - আমি বললাম, এখন চোখ খুলবো ? - হুম। - আজকে মৌকে অন্যদিনের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত সুন্দর লাগছে। ভালোবাসার মানুষকে হয়তো এমনই লাগে। - এইবার আমাকে দাও। - ও চোখ বন্ধ করতেই আমি গাছের ডাল ধরে ঝাঁকি দিলাম। - ওর মাথায় গাছের ফোঁটা ফোঁটা জমে থাকা শিশিরবিন্দু পড়তে লাগলো। - ও চোখ খুলতেই আমি দৌঁড় দিলাম। - ও চিৎকার দিয়ে বলছে ওই তুই দাঁড়া। - আমি হাসতে হাসতে বললাম অনেকগুলো চুমু দিলাম তো। - তুই দাঁড়া। আমি তোকে চুমু দিবো এবার। আমি তবুও ছুটছি...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভোরবেলার প্রেম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now